শনিবার, ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১২ আশ্বিন ১৪৩৩
শনিবার, ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১২ আশ্বিন ১৪৩৩

হাইমচরে ১৭২ জন চেয়ারম্যান-মেম্বার প্রার্থীর মাঝে প্রতীক বরাদ্দ

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: সোমবার, ২০ ডিসেম্বর, ২০২১, ২:২১ পিএম
হাইমচরে ১৭২ জন চেয়ারম্যান-মেম্বার প্রার্থীর মাঝে প্রতীক বরাদ্দ
মোঃ সাজ্জাদ হোসেন রনি : হাইমচর উপজেলায় ৪ ইউনিয়নে চতুর্থ ও পঞ্চম ধাপে ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনকে সামনে রেখে প্রার্থীদের মাঝে বিভিন্ন প্রতীক বরাদ্দ দেয়া হয়েছে।
সোমবার (২০ ডিসেম্বর) সকালে  হাইমচর উপজেলা পরিষদের হল রুমে প্রার্থীদের মাঝে তাদের পছন্দের প্রতীক বরাদ্দ দেওয়া হয়। এসময় উপজেলার ৪টি ইউনিয়নের ২৩ জন চেয়ারম্যান প্রার্থীদের মধ্যে প্রতীক বরাদ্দ সম্পন্ন করেন উপজেলা রিটার্নিং কর্মকর্তা।
এরমধ্যে  ২নং উত্তর আলগী ইউনিয়নে আওয়ামী লীগ মনোনিত প্রার্থী আতিকুর রহমান পাটোয়ারী (নৌকা প্রতীক), স্বতন্ত্র চেয়ারম্যান প্রার্থী মাকসুদ আলম খাঁন ( ঘোড়া), হাবিবুর রহমান বেগ (হোন্ডা), কুদ্দুছ ঢালী (আনারস), ইসলামি আন্দোলন থেকে মাও. রুহুল আমিন( হাতপাখা)।
৩নং আলগী দক্ষিন ইউনিয়নে আওয়ামী লীগ মনোনিত প্রার্থী শাহাউদ্দিন টিটু হাওলাদার (নৌকা প্রতীক), স্বতন্ত্র প্রার্থী সরদার আব্দুল জলিল মাষ্টার ( আনারস), সরদার নুরে আলম জিকু( চসমা), ইসলামি আন্দোলন হাফেজ মো. বেলাল হোসেন সবুজ ( হাতপাখা)।
 ৪নং নীলকমল ইউনিয়নে আওয়ামী লীগ মনোনিত প্রার্থী সালাউদ্দিন সরদার (নৌকা প্রতীক), স্বতন্ত্র চেয়ারম্যান প্রার্থী সাউদ আল নাসের (আনারস), হাজী ইয়াছিন রতন (ঘোড়া), ইসলামি আন্দোলন থেকে মো. রায়হান উদ্দিন ( হাতপাখা), জাতীয় পার্টি থেকে সুফিয়ান মাঝি( নাঙ্গল)।
৫নং হাইমচর ইউনিয়নে আওয়ামী লীগ মনোনিত প্রার্থী জুলফিকার আলী সরকার (নৌকা প্রতীক),  স্বতন্ত্র চেয়ারম্যান প্রার্থী নাঈম সরকার (ঘোড়া), আব্দুল হক মোল্লা ( আনারস), শাহিনুল ইসলাম শাহিন ( চসমা), ইসলামি আন্দোলন থেকে রাজা মিয়া সরদার( হাতপাখা), জাতীয় পার্টি থেকে খোরশেদ আলম(নাঙ্গল) পেয়েছেন।
এছাড়া সংরক্ষিত ৩৪ জন ও সাধারণ সদস্য ১১৯ জনের মাঝে প্রতীক বরাদ্ধ দেয়া হয়েছে।
প্রতীক বরাদ্দকালে উপজেলা নির্বাহী অফিসার চাই থোয়াইহলা চৌধুরী বলেন, নির্বাচনের আচারনবিধি সকল প্রার্থীকে মেনে চলতে হবে। আপনারা ভাল থাকলেই আমরা ভাল থাকবো। আমরা চাই উৎসব মুখর পরিবেশে হাসি খুসি ভাবে নির্বাচন সম্পন্ন করতে। আগামী ৫ জানুয়ারি নির্বাচন সুষ্ঠ, সুন্দর উৎসব মুখর পরিবেশে অনুষ্ঠিত হবে। আপনার এমন কোন আচরন করবেন না যাতে আমাদের কঠোর হতে হয়।

৩০ বছর ধরে গাছ লাগিয়ে গ্রামের সড়কের চিত্র বদলে দিলেন মসজিদের ইমাম রেজাউল

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৯:৫৯ পিএম
৩০ বছর ধরে গাছ লাগিয়ে গ্রামের সড়কের চিত্র বদলে দিলেন মসজিদের ইমাম রেজাউল

মসজিদে ইমামতির পাশাপাশি প্রায় ৩০ বছর ধরে বৃক্ষরোপণ করে আসছেন ভোলার চরফ্যাশন উপজেলার ওমরপুর ইউনিয়নের মো. রেজাউল কিবরিয়া বাবুল। নিজের অর্থ ও উদ্যোগে বিভিন্ন সড়কের পাশে হাজার হাজার গাছের চারা রোপণ ও পরিচর্যা করে গড়ে তুলেছেন সবুজের আবরণ। তার লাগানো সারি সারি তালগাছে বদলে গেছে গ্রামের একটি সড়কের চিত্র।

স্থানীয়দের কাছে রেজাউল কিবরিয়া বাবুল একজন ইমাম হিসেবে পরিচিত হলেও বৃক্ষপ্রেমী হিসেবেও রয়েছে তার আলাদা পরিচিতি। তিনি ওমরপুর ইউনিয়নের কালাপানিয়া বাজার বাইতুল মামুর জামে মসজিদের ইমাম। ইমামতির পাশাপাশি অবসর সময়ে গাছ লাগানো ও পরিচর্যায় নিজেকে নিয়োজিত রাখেন তিনি।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, প্রায় তিন দশক আগে বৃক্ষরোপণের উদ্যোগ নেন রেজাউল কিবরিয়া। ১৯৯৩-৯৪ সালের দিকে পৈতৃক সম্পত্তি বিক্রি করে প্রায় ৮ লাখ টাকা ব্যয়ে ভুঁইয়ারহাট এলাকায় একটি নার্সারি গড়ে তোলেন। সেখান থেকে উৎপাদিত ও সংগ্রহ করা বিভিন্ন জাতের গাছের চারা এলাকার সড়কের পাশে রোপণ করতে শুরু করেন। একই সঙ্গে মাইকিং করে স্থানীয়দের গাছ লাগাতে উৎসাহিত করতেন।

তার লাগানো গাছের মধ্যে রয়েছে তাল, ফলজ ও বিভিন্ন ঔষধি গাছ। ওমরপুর গ্রামের বাউল সড়কের দুই পাশে প্রায় দুই দশক আগে লাগানো তালগাছগুলো এখন বড় হয়ে সারি সারি দাঁড়িয়ে আছে। দূর থেকে দেখলে পুরো সড়কটি যেন সবুজে ঘেরা একটি প্রাকৃতিক পথ। গাছের ছায়ায় পথচারী ও কৃষকেরা স্বস্তি পান। স্থানীয়দের পাশাপাশি বাইরের লোকজনও এখন এই সড়কের সৌন্দর্য দেখতে আসেন।

Model Hospital

শুধু বাউল সড়ক নয়, ওমরপুর ইউনিয়নের আরও কয়েকটি সড়কের পাশেও গাছ লাগিয়েছেন তিনি। চারা রোপণের পর নিয়মিত সেগুলোর পরিচর্যাও করেন। অনেক গাছ নষ্ট হয়ে গেলেও বৃক্ষরোপণের কাজ থেকে পিছিয়ে যাননি তিনি।

স্থানীয়দের মতে, সরকারি কোনো প্রকল্পের অপেক্ষায় না থেকে একজন ইমামের ব্যক্তিগত উদ্যোগে দীর্ঘদিন ধরে গাছ লাগানোর এই প্রচেষ্টা শুধু একটি সড়কের সৌন্দর্যই বদলায়নি, বরং স্থানীয়দের মধ্যেও বৃক্ষরোপণের আগ্রহ তৈরি করেছে।

স্থানীয় বাসিন্দা শাহজাহান, লিটন, আলমগীর ও যুবক তুহিন জানান, বাউল সড়কের দুই পাশে এখন শত শত তালগাছ রয়েছে। গাছগুলো বড় হয়ে ওঠায় সড়কটির সৌন্দর্য অনেক বেড়েছে। বিকেল ও সন্ধ্যায় স্থানীয়রা সেখানে সময় কাটান। দূর-দূরান্ত থেকেও অনেকে এই সড়কের সৌন্দর্য দেখতে আসেন। রেজাউল কিবরিয়ার উদ্যোগ দেখে তারাও নিজেদের জায়গায় বেশি করে গাছ লাগাতে উৎসাহিত হয়েছেন।

রেজাউল কিবরিয়া বাবুল বলেন, ‘পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা এবং আল্লাহর সন্তুষ্টির আশায় আমি প্রায় তিন দশক ধরে গাছ লাগিয়ে আসছি। ১৯৯৩-৯৪ সালে এ কাজ শুরু করি। এ পর্যন্ত বিভিন্ন জায়গায় প্রায় ৫০ থেকে ৬০ হাজার গাছের চারা লাগিয়েছি। এর মধ্যে তালগাছের বীজ ও চারা রয়েছে প্রায় ২৫ থেকে ৩০ হাজার।’

তিনি বলেন, সব গাছ টিকিয়ে রাখা সম্ভব হয়নি। তবে গাছ লাগানোর কাজ থেকে কখনো সরে আসেননি। বর্তমানে নিজে নার্সারিতে চারা উৎপাদনের সময় না পাওয়ায় ঝালকাঠির স্বরূপকাঠি থেকে বিভিন্ন ধরনের চারা সংগ্রহ করে রোপণ করছেন।

তালগাছ লাগানোর বিষয়ে তিনি বলেন, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বজ্রপাতের ঘটনা বেড়ে যাওয়ায় তালগাছ লাগানোর ওপর বেশি গুরুত্ব দিচ্ছেন তিনি। পাশাপাশি বন বিভাগের পরামর্শও নিয়ে থাকেন।

রেজাউল কিবরিয়া আরও বলেন, ‘আমি গাছ লাগানোকে সদকায়ে জারিয়া হিসেবে দেখি। একটি গাছ শুধু বর্তমান প্রজন্মের জন্য নয়, ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্যও ছায়া, সৌন্দর্য ও উপকারের উৎস। যতদিন বেঁচে থাকব, ততদিনই গাছ লাগানোর এই কাজ চালিয়ে যেতে চাই।’

তার ভাষ্য, গ্রামের প্রতিটি সড়ক ও আশপাশের এলাকা সবুজে ভরে তোলাই তার লক্ষ্য। একই সঙ্গে তরুণদের খারাপ অভ্যাস থেকে দূরে রাখতে ফল ও ফুলের বাগান করার আহ্বান জানান তিনি।

রেজাউল কিবরিয়ার দীর্ঘদিনের উদ্যোগের বিষয়ে চরফ্যাশন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রুমানা আফরোজ বলেন, ‘গাছ লাগানো অবশ্যই একটি ভালো উদ্যোগ। রেজাউল কিবরিয়া সাহেবের দীর্ঘদিনের এ কাজের বিষয়টি আমার জানা ছিল না। খোঁজ নিয়ে এ বিষয়ে তার পাশে দাঁড়ানোর চেষ্টা করব।’