শনিবার, ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১২ আশ্বিন ১৪৩৩
শনিবার, ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১২ আশ্বিন ১৪৩৩

মরহুম তাজুল ইসলাম মুন্সির ১২ তম মৃত্যুবার্ষিকী

নিজস্ব প্রতিনিধি প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ৭ ডিসেম্বর, ২০২৩, ৭:৪৩ পিএম
মরহুম তাজুল ইসলাম মুন্সির ১২ তম মৃত্যুবার্ষিকী

সাংবাদিক মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম এর বাবা মরহুম তাজুল ইসলাম মুন্সী ২০১১ সালের ৭ ডিসেম্বর বুধবার বিকেল পাঁচ টায় ঢাকা আয়শা মেমোরিয়াল হাসপাতালে পৃথিবীর মায়া ত্যাগ করে পরপারে মহান আল্লাহ রাব্বুল আলামিনের ডাকে সাড়া দিয়ে পরিবারের ৭ মেয়ে ও ২ ছেলেকে সহ অন্যান্য সবাইকে অশ্রু সাগরে ভাসিয়ে চলে গেছেন।

গতকাল ৭ ডিসেম্বর ২০২৩ বৃহস্পতিবার মরহুম তাজুল ইসলাম মুন্সির মৃত্যুর পর ১২ বছর পূর্ণ হল।

মরহুম তাজুল ইসলাম মুন্সী হাজীগঞ্জ উপজেলার ৬নং বড়কুল পূর্ব ইউনিয়নের ঐতিহ্যবাহী আড়ুলি মুন্সি বাড়ির মরহুম মোহাম্মদ উল্লা মুন্সির ৬ ছেলে ও এক মেয়ের মধ্যে মরহুম তাজুল ইসলাম মুন্সী দ্বিতীয়। বাবা মায়ের একমাত্র আদরের দ্বিতীয় পুত্র মরহুম তাজুল ইসলাম মুন্সী।

যেমনি ছিলেন পরিবারের মাঝে আদরের। তেমনি এলাকায়ও ছিলেন বেশ প্রশংসনীয়, আমলি দ্বীনদার ব্যক্তি। ন্যায়-নীতি ও নিষ্ঠার সাথে যার ক্ষুদ্র দুনিয়ার সংক্ষিপ্ত জীবনের কেটেছে ৬০ বছর। তার জানাযায় নামাজে মুসল্লিদের ব্যাপক উপস্থিতি ছিল চোখে পড়ার মত।

Model Hospital

দৈনিক সুদীপ্ত চাঁদপুর পত্রিকার নিজস্ব প্রতিনিধি, হাজীগঞ্জ প্রেসক্লাব এর কার্যকারী সদস্য, মরহুম তাজুল ইসলাম মুন্সি ফাউন্ডেশন এর চেয়ারম্যান, হাজীগঞ্জ রিপোর্টার্স ইউনিটির সদস্য, হাজীগঞ্জ সাংবাদিক ইউনিয়নের সাংগঠনিক সম্পাদক, হাজীগঞ্জ সাংবাদিক কল্যাণ সমিতির সাবেক সভাপতি, আড়ুলি স্পোর্টিং ক্লাবের সাবেক সভাপতি সাংবাদিক মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম এর বাবা মরহুম তাজুল ইসলাম মুন্সী।

মরহুম তাজুল ইসলাম মুন্সীরর দুনিয়ার জীবন কেটেছে আমল ও আখলাকের সাথে। আজানের ধবনি কানে আসার সাথে সাথে মসজিদের দিকে রওয়ানা হতেন তিনি।

সাদাসিধে জীবন যাপন করতে পছন্দ করতেন তিনি। তার বাড়ির মসজিদ আড়ুলি মুন্সিবাড়ি বাইতুল আমান জামে মসজিদে ইমাম ছুটিতে থাকলে বা ব্যস্ততার সময় তিনি মসজিদের ইমাম, মুয়াজ্জিনের দায়িত্ব পালন করতেন।

যার আযানের সুর ছিল মধুর। ছোট বড় সবাইকে আগে সালাম দিতেন, হাত মোসাফা করে হাসিমুখে কথা বলতেন।

৩০ বছর ধরে গাছ লাগিয়ে গ্রামের সড়কের চিত্র বদলে দিলেন মসজিদের ইমাম রেজাউল

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৯:৫৯ পিএম
৩০ বছর ধরে গাছ লাগিয়ে গ্রামের সড়কের চিত্র বদলে দিলেন মসজিদের ইমাম রেজাউল

মসজিদে ইমামতির পাশাপাশি প্রায় ৩০ বছর ধরে বৃক্ষরোপণ করে আসছেন ভোলার চরফ্যাশন উপজেলার ওমরপুর ইউনিয়নের মো. রেজাউল কিবরিয়া বাবুল। নিজের অর্থ ও উদ্যোগে বিভিন্ন সড়কের পাশে হাজার হাজার গাছের চারা রোপণ ও পরিচর্যা করে গড়ে তুলেছেন সবুজের আবরণ। তার লাগানো সারি সারি তালগাছে বদলে গেছে গ্রামের একটি সড়কের চিত্র।

স্থানীয়দের কাছে রেজাউল কিবরিয়া বাবুল একজন ইমাম হিসেবে পরিচিত হলেও বৃক্ষপ্রেমী হিসেবেও রয়েছে তার আলাদা পরিচিতি। তিনি ওমরপুর ইউনিয়নের কালাপানিয়া বাজার বাইতুল মামুর জামে মসজিদের ইমাম। ইমামতির পাশাপাশি অবসর সময়ে গাছ লাগানো ও পরিচর্যায় নিজেকে নিয়োজিত রাখেন তিনি।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, প্রায় তিন দশক আগে বৃক্ষরোপণের উদ্যোগ নেন রেজাউল কিবরিয়া। ১৯৯৩-৯৪ সালের দিকে পৈতৃক সম্পত্তি বিক্রি করে প্রায় ৮ লাখ টাকা ব্যয়ে ভুঁইয়ারহাট এলাকায় একটি নার্সারি গড়ে তোলেন। সেখান থেকে উৎপাদিত ও সংগ্রহ করা বিভিন্ন জাতের গাছের চারা এলাকার সড়কের পাশে রোপণ করতে শুরু করেন। একই সঙ্গে মাইকিং করে স্থানীয়দের গাছ লাগাতে উৎসাহিত করতেন।

তার লাগানো গাছের মধ্যে রয়েছে তাল, ফলজ ও বিভিন্ন ঔষধি গাছ। ওমরপুর গ্রামের বাউল সড়কের দুই পাশে প্রায় দুই দশক আগে লাগানো তালগাছগুলো এখন বড় হয়ে সারি সারি দাঁড়িয়ে আছে। দূর থেকে দেখলে পুরো সড়কটি যেন সবুজে ঘেরা একটি প্রাকৃতিক পথ। গাছের ছায়ায় পথচারী ও কৃষকেরা স্বস্তি পান। স্থানীয়দের পাশাপাশি বাইরের লোকজনও এখন এই সড়কের সৌন্দর্য দেখতে আসেন।

Model Hospital

শুধু বাউল সড়ক নয়, ওমরপুর ইউনিয়নের আরও কয়েকটি সড়কের পাশেও গাছ লাগিয়েছেন তিনি। চারা রোপণের পর নিয়মিত সেগুলোর পরিচর্যাও করেন। অনেক গাছ নষ্ট হয়ে গেলেও বৃক্ষরোপণের কাজ থেকে পিছিয়ে যাননি তিনি।

স্থানীয়দের মতে, সরকারি কোনো প্রকল্পের অপেক্ষায় না থেকে একজন ইমামের ব্যক্তিগত উদ্যোগে দীর্ঘদিন ধরে গাছ লাগানোর এই প্রচেষ্টা শুধু একটি সড়কের সৌন্দর্যই বদলায়নি, বরং স্থানীয়দের মধ্যেও বৃক্ষরোপণের আগ্রহ তৈরি করেছে।

স্থানীয় বাসিন্দা শাহজাহান, লিটন, আলমগীর ও যুবক তুহিন জানান, বাউল সড়কের দুই পাশে এখন শত শত তালগাছ রয়েছে। গাছগুলো বড় হয়ে ওঠায় সড়কটির সৌন্দর্য অনেক বেড়েছে। বিকেল ও সন্ধ্যায় স্থানীয়রা সেখানে সময় কাটান। দূর-দূরান্ত থেকেও অনেকে এই সড়কের সৌন্দর্য দেখতে আসেন। রেজাউল কিবরিয়ার উদ্যোগ দেখে তারাও নিজেদের জায়গায় বেশি করে গাছ লাগাতে উৎসাহিত হয়েছেন।

রেজাউল কিবরিয়া বাবুল বলেন, ‘পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা এবং আল্লাহর সন্তুষ্টির আশায় আমি প্রায় তিন দশক ধরে গাছ লাগিয়ে আসছি। ১৯৯৩-৯৪ সালে এ কাজ শুরু করি। এ পর্যন্ত বিভিন্ন জায়গায় প্রায় ৫০ থেকে ৬০ হাজার গাছের চারা লাগিয়েছি। এর মধ্যে তালগাছের বীজ ও চারা রয়েছে প্রায় ২৫ থেকে ৩০ হাজার।’

তিনি বলেন, সব গাছ টিকিয়ে রাখা সম্ভব হয়নি। তবে গাছ লাগানোর কাজ থেকে কখনো সরে আসেননি। বর্তমানে নিজে নার্সারিতে চারা উৎপাদনের সময় না পাওয়ায় ঝালকাঠির স্বরূপকাঠি থেকে বিভিন্ন ধরনের চারা সংগ্রহ করে রোপণ করছেন।

তালগাছ লাগানোর বিষয়ে তিনি বলেন, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বজ্রপাতের ঘটনা বেড়ে যাওয়ায় তালগাছ লাগানোর ওপর বেশি গুরুত্ব দিচ্ছেন তিনি। পাশাপাশি বন বিভাগের পরামর্শও নিয়ে থাকেন।

রেজাউল কিবরিয়া আরও বলেন, ‘আমি গাছ লাগানোকে সদকায়ে জারিয়া হিসেবে দেখি। একটি গাছ শুধু বর্তমান প্রজন্মের জন্য নয়, ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্যও ছায়া, সৌন্দর্য ও উপকারের উৎস। যতদিন বেঁচে থাকব, ততদিনই গাছ লাগানোর এই কাজ চালিয়ে যেতে চাই।’

তার ভাষ্য, গ্রামের প্রতিটি সড়ক ও আশপাশের এলাকা সবুজে ভরে তোলাই তার লক্ষ্য। একই সঙ্গে তরুণদের খারাপ অভ্যাস থেকে দূরে রাখতে ফল ও ফুলের বাগান করার আহ্বান জানান তিনি।

রেজাউল কিবরিয়ার দীর্ঘদিনের উদ্যোগের বিষয়ে চরফ্যাশন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রুমানা আফরোজ বলেন, ‘গাছ লাগানো অবশ্যই একটি ভালো উদ্যোগ। রেজাউল কিবরিয়া সাহেবের দীর্ঘদিনের এ কাজের বিষয়টি আমার জানা ছিল না। খোঁজ নিয়ে এ বিষয়ে তার পাশে দাঁড়ানোর চেষ্টা করব।’