শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১ আশ্বিন ১৪৩৩
শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১ আশ্বিন ১৪৩৩

শাহরাস্তিতে উপজেলা প্রশাসনের বিজয় দিবস পালন

মোঃ মাসুদ রানা প্রকাশিত: রবিবার, ১৭ ডিসেম্বর, ২০২৩, ৯:৪২ পিএম
শাহরাস্তিতে উপজেলা প্রশাসনের বিজয় দিবস পালন
শাহরাস্তিতে উৎসবমুখর ভাবে যথাযোগ্য মর্যাদায় জাতীয় বিজয় দিবস উদযাপন করা হয়েছে।
শনিবার (১৬-ডিসেম্বর ২০২৩) দিনব্যাপী উপজেলা প্রশাসনের আয়োজনে পরিষদ কমপ্লেক্স মাঠ এবং পরিষদ মিলনায়তনে এটি অনুষ্ঠিত হয়।
ওইদিন দিবসটি  উপলক্ষে উপজেলার প্রশাসনিক ভবন গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা গুলিকে বর্ণিল সাজে আলোকসজ্জা ও সরকারি আধা সরকারি স্বায়ত্তশাসিত বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে জাতীয় পতাকা উত্তোলন করা হয়।
উপজেলা পরিষদ মিলনায়তনে উপজেলা নির্বাহি অফিসার ও বিজ্ঞ নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. ইয়াসির আরাফাতের সভাপতিত্বে বীর মু‌ক্তি‌যোদ্ধা, যুদ্ধাহত মু‌ক্তি‌যোদ্ধা ও শ‌হিদ মু‌ক্তি‌যোদ্ধা প‌রিবা‌রের সদস‌্যদের সংবর্ধনা উপলক্ষ্যে এক আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, ওইদিন দিবসের প্রথম প্রহরে উপজেলা কমপ্লেক্স চত্বরে ৩১ বার তোপধ্বনি এবং শহীদের স্মরণে স্থাপিত বেদীতে পুষ্পস্তবক অর্পণের মধ্য দিয়ে দিনের কর্মসূচি শুরু হয়।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের পক্ষে উপজেলা নির্বাহী অফিসার, সিনিয়র পুলিশ সুপার চাঁদপুর (কচুয়া সার্কেল) রিজওয়ান সাঈদ জিকু,উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান নাসরিন জাহান চৌধুরী শেফালী ,সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান উপজেলা আ’লীগের সভাপতি মোঃ কামরুজ্জামান মিন্টু, শাহরাস্তি উপজেলা সহকারী ক‌মিশনার (ভূ‌মি) ও এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট রেজওয়ানা চৌধুরী, শাহরাস্তি মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ ওসি তদন্ত পুলিশ পরিদর্শন মো. খাইরুল আলম, পৌর মেয়র আলহাজ্ব আব্দুল লতিফ, উপজেলা পরিষদের প্যানেল চেয়ারম্যান কামরুন্নাহার কাজল, ভাইস চেয়ারম্যান তোফায়েল আহমেদ ইরান, উপজেলা স্বাস্থ্য পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডাঃ মো. নাসির উদ্দিন, উপজেলা প্রকৌশলী মেহেদী হাসান, উপজেলা কৃষি অফিসার আয়সা আক্তার, উপজেলা প্রোগ্রাম অফিসার মোঃ শাহাজান, উপজেলা সমাজসেবা অফিসার মোঃ আবু ইসহাক, পল্লী বিদ্যুতের ডিজিএম মোঃ মোবারক হোসেন, প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা মোঃ সবুজ, মৎস্য অফিসার তৌসিফ উদ্দিন প্রমুখ, মুক্তিযোদ্ধা কমান্ড কাউন্সিলের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি মোহাম্মদ শাহজাহান, উপজেলা মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা মাকসুদা আক্তার, শাহরাস্তি প্রেসক্লাবের পক্ষে মোঃ হাবিবুর রহমান ও সাধারণ সম্পাদক মোঃ নোমান হোসেন আখন্দ, বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ ও তার সহযোগী সংগঠন, অন্যান্য রাজনৈতিক দল, এছাড়া মুক্তিযোদ্ধা কমান্ড কাউন্সিল ও তাদের সদস্য বৃন্দ, শাহরাস্তি মডেল থানার পুলিশ বাহিনী, শাহরাস্তি গনমাধ্যাম কর্মী, শাহরাস্তি রিপোর্টার্স ইউনিটি, অপরূপা নাট্যগোষ্ঠী, চাঁদপুর পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি-শাহরাস্তি জোনাল অফিস, ফায়ার সার্ভিস সিভিল ডিফেন্স, সিএনজি মালিক সমিতি, উপজেলা ইঞ্জিনিয়ারিং এসোসিয়েশন ফোরাম,  সজাগ ফাউন্ডেশন, আমরা মুক্তিযোদ্ধার সন্তান পরিবার, বিভিন্ন দপ্তরের সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারী, বিভিন্ন রাজনৈতিক সামাজিক সংগঠন, স্কুল-কলেজ-মাদ্রাসা, শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন।
ওইদিন সকালে উপজেলা পরিষদ মাঠে উপজেলার পুলিশ প্রশাসন, ফায়ার সার্ভিস, আনসার ভিডিপি, বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণে শরীরচর্চা, কুচকাওয়াজ ও ডিসপ্লে অনুষ্ঠিত হয়।
এতে উপজেলা পরিষদ চত্বরে উপজেলা চেয়ারম্যান নাসরিন জাহান চৌধুরী শেফালী, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ ইয়াসির আরাফাত ও অফিসার ইনচার্জ (তদন্ত) খাইরুল আলম সালাম গ্রহন করেন।
দুপুরে শহিদ ও বীর মুক্তিযোদ্ধাদের স্মৃতির উদ্দেশ্যে শ্রদ্ধাঞ্জলি জ্ঞাপন ও আলোচনা সভা পুরস্কার বিতরণ, স্থানীয় আশ্রয়ন প্রকল্প, আদর্শ গ্রাম,স্থানীয় সরকারী হাসপাতাল, এতিমখানায়  উন্নত মানের খাবার পরিবেশন করা হয়।
বাদ জোহর জাতির শান্তি সমৃদ্ধি ও অগ্রগতি কামনা করে মসজিদ, মন্দির, অন্যান্য উপসানালয়ে প্রার্থণা অনুষ্ঠিত হয়।
ওইদিন বিকেলে উপজেলা পরিষদ মিলনায়তনে প্রশাসনের আয়োজনে ক্রীড়া আয়োজন, স্থানীয় শিক্ষার্থী ও শিল্পীদের অংশগ্রহণ বিজয় দিবসের তাৎপর্যের এক মনমুগ্ধকর সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়, পরে  বিজয়ীদের মাঝে পুরস্কার বিতরণ করা হয়।

৩০ বছর ধরে গাছ লাগিয়ে গ্রামের সড়কের চিত্র বদলে দিলেন মসজিদের ইমাম রেজাউল

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৯:৫৯ পিএম
৩০ বছর ধরে গাছ লাগিয়ে গ্রামের সড়কের চিত্র বদলে দিলেন মসজিদের ইমাম রেজাউল

মসজিদে ইমামতির পাশাপাশি প্রায় ৩০ বছর ধরে বৃক্ষরোপণ করে আসছেন ভোলার চরফ্যাশন উপজেলার ওমরপুর ইউনিয়নের মো. রেজাউল কিবরিয়া বাবুল। নিজের অর্থ ও উদ্যোগে বিভিন্ন সড়কের পাশে হাজার হাজার গাছের চারা রোপণ ও পরিচর্যা করে গড়ে তুলেছেন সবুজের আবরণ। তার লাগানো সারি সারি তালগাছে বদলে গেছে গ্রামের একটি সড়কের চিত্র।

স্থানীয়দের কাছে রেজাউল কিবরিয়া বাবুল একজন ইমাম হিসেবে পরিচিত হলেও বৃক্ষপ্রেমী হিসেবেও রয়েছে তার আলাদা পরিচিতি। তিনি ওমরপুর ইউনিয়নের কালাপানিয়া বাজার বাইতুল মামুর জামে মসজিদের ইমাম। ইমামতির পাশাপাশি অবসর সময়ে গাছ লাগানো ও পরিচর্যায় নিজেকে নিয়োজিত রাখেন তিনি।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, প্রায় তিন দশক আগে বৃক্ষরোপণের উদ্যোগ নেন রেজাউল কিবরিয়া। ১৯৯৩-৯৪ সালের দিকে পৈতৃক সম্পত্তি বিক্রি করে প্রায় ৮ লাখ টাকা ব্যয়ে ভুঁইয়ারহাট এলাকায় একটি নার্সারি গড়ে তোলেন। সেখান থেকে উৎপাদিত ও সংগ্রহ করা বিভিন্ন জাতের গাছের চারা এলাকার সড়কের পাশে রোপণ করতে শুরু করেন। একই সঙ্গে মাইকিং করে স্থানীয়দের গাছ লাগাতে উৎসাহিত করতেন।

তার লাগানো গাছের মধ্যে রয়েছে তাল, ফলজ ও বিভিন্ন ঔষধি গাছ। ওমরপুর গ্রামের বাউল সড়কের দুই পাশে প্রায় দুই দশক আগে লাগানো তালগাছগুলো এখন বড় হয়ে সারি সারি দাঁড়িয়ে আছে। দূর থেকে দেখলে পুরো সড়কটি যেন সবুজে ঘেরা একটি প্রাকৃতিক পথ। গাছের ছায়ায় পথচারী ও কৃষকেরা স্বস্তি পান। স্থানীয়দের পাশাপাশি বাইরের লোকজনও এখন এই সড়কের সৌন্দর্য দেখতে আসেন।

Model Hospital

শুধু বাউল সড়ক নয়, ওমরপুর ইউনিয়নের আরও কয়েকটি সড়কের পাশেও গাছ লাগিয়েছেন তিনি। চারা রোপণের পর নিয়মিত সেগুলোর পরিচর্যাও করেন। অনেক গাছ নষ্ট হয়ে গেলেও বৃক্ষরোপণের কাজ থেকে পিছিয়ে যাননি তিনি।

স্থানীয়দের মতে, সরকারি কোনো প্রকল্পের অপেক্ষায় না থেকে একজন ইমামের ব্যক্তিগত উদ্যোগে দীর্ঘদিন ধরে গাছ লাগানোর এই প্রচেষ্টা শুধু একটি সড়কের সৌন্দর্যই বদলায়নি, বরং স্থানীয়দের মধ্যেও বৃক্ষরোপণের আগ্রহ তৈরি করেছে।

স্থানীয় বাসিন্দা শাহজাহান, লিটন, আলমগীর ও যুবক তুহিন জানান, বাউল সড়কের দুই পাশে এখন শত শত তালগাছ রয়েছে। গাছগুলো বড় হয়ে ওঠায় সড়কটির সৌন্দর্য অনেক বেড়েছে। বিকেল ও সন্ধ্যায় স্থানীয়রা সেখানে সময় কাটান। দূর-দূরান্ত থেকেও অনেকে এই সড়কের সৌন্দর্য দেখতে আসেন। রেজাউল কিবরিয়ার উদ্যোগ দেখে তারাও নিজেদের জায়গায় বেশি করে গাছ লাগাতে উৎসাহিত হয়েছেন।

রেজাউল কিবরিয়া বাবুল বলেন, ‘পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা এবং আল্লাহর সন্তুষ্টির আশায় আমি প্রায় তিন দশক ধরে গাছ লাগিয়ে আসছি। ১৯৯৩-৯৪ সালে এ কাজ শুরু করি। এ পর্যন্ত বিভিন্ন জায়গায় প্রায় ৫০ থেকে ৬০ হাজার গাছের চারা লাগিয়েছি। এর মধ্যে তালগাছের বীজ ও চারা রয়েছে প্রায় ২৫ থেকে ৩০ হাজার।’

তিনি বলেন, সব গাছ টিকিয়ে রাখা সম্ভব হয়নি। তবে গাছ লাগানোর কাজ থেকে কখনো সরে আসেননি। বর্তমানে নিজে নার্সারিতে চারা উৎপাদনের সময় না পাওয়ায় ঝালকাঠির স্বরূপকাঠি থেকে বিভিন্ন ধরনের চারা সংগ্রহ করে রোপণ করছেন।

তালগাছ লাগানোর বিষয়ে তিনি বলেন, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বজ্রপাতের ঘটনা বেড়ে যাওয়ায় তালগাছ লাগানোর ওপর বেশি গুরুত্ব দিচ্ছেন তিনি। পাশাপাশি বন বিভাগের পরামর্শও নিয়ে থাকেন।

রেজাউল কিবরিয়া আরও বলেন, ‘আমি গাছ লাগানোকে সদকায়ে জারিয়া হিসেবে দেখি। একটি গাছ শুধু বর্তমান প্রজন্মের জন্য নয়, ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্যও ছায়া, সৌন্দর্য ও উপকারের উৎস। যতদিন বেঁচে থাকব, ততদিনই গাছ লাগানোর এই কাজ চালিয়ে যেতে চাই।’

তার ভাষ্য, গ্রামের প্রতিটি সড়ক ও আশপাশের এলাকা সবুজে ভরে তোলাই তার লক্ষ্য। একই সঙ্গে তরুণদের খারাপ অভ্যাস থেকে দূরে রাখতে ফল ও ফুলের বাগান করার আহ্বান জানান তিনি।

রেজাউল কিবরিয়ার দীর্ঘদিনের উদ্যোগের বিষয়ে চরফ্যাশন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রুমানা আফরোজ বলেন, ‘গাছ লাগানো অবশ্যই একটি ভালো উদ্যোগ। রেজাউল কিবরিয়া সাহেবের দীর্ঘদিনের এ কাজের বিষয়টি আমার জানা ছিল না। খোঁজ নিয়ে এ বিষয়ে তার পাশে দাঁড়ানোর চেষ্টা করব।’