শাহরাস্তিতে পুরো সম্পত্তি লিখে বাবা-মা’কে ঘর ছাড়া, শাশুড়ির মরদেহ দাফনে পূত্রবধূর বাঁধা
শাহরাস্তিতে পারিবারিক গৃহদাহে শ্বশুর ঘর ছাড়া, শাশুড়ির মরদেহ দাফনে নিজ পুত্রবধূর বাঁধা কাণ্ডে চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়েছে।

সোমবার সকালে চাঁদপুরের শাহরাস্তি উপজেলার টামটা উত্তর ইউপির বলশীদ দৈল বাড়ি গ্রামের প্রধানিয়া বাড়িতে এ লোম হর্ষকর এ ঘটনাটি ঘটে।

পরে বিষয়টি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে সমগ্র এলাকা থেকে হাজার হাজার মানুষ ওই বাড়িতে ভিড় জমায়।

ক্ষতিগ্রস্ত বৃদ্ধ ও স্থানীয় বাসিন্দারা জানায়,ওই বাড়ির হাবিবুর রহমানের (৮০) স্ত্রী রহিমা বেগম (৭৫) রবিবার চাঁদপুর মৃত্যুবরণ করেন। পরে তার স্বজনরা সোমবার গ্রামের বাড়ি শাহরাস্তিতে মৃতদেহ দাফনের জন্য নিয়ে আসে।

ওই সময় গ্রামের বাড়িতে বসবাস করা বৃদ্ধের ছোট সন্তান ওমান প্রবাসী পুত্র মোঃ মীর হোসেনের স্ত্রী ফারিয়া বেগম আফসানা শ্বশুরকে ঘরে প্রবেশ করতে না দিয়ে ঘরের দরজায় তালা ঝুলিয়ে ঘরের ভিতর অবস্থান করে। ওই সময় পুত্রবধূ আফসানা শ্বশুরকে ঘরে ঢুকতে না দিয়ে শ্বাশুড়ির মরদেহ দাফনে অসহযোগিতা করার সংবাদটি চারদিকে চাউর হতে থাকে।
পরের স্থানীয়রা ছুটে এসে পুত্রবধূ আফসানার এমন কাণ্ডে সবাই ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠে। ওই সংবাদে ঘটনাস্থলে শাহরাস্তি মডেল থানার ওসি তদন্ত মো খায়রুল আলম (ভারপ্রাপ্ত ওসি) ঘটনাস্থলে আসেন এবং একই সঙ্গে ইউনিয়ন চেযারম্যান মোঃ ফারুক দর্জি পরিস্থিতি সামাল দিলে স্থানীয়রা শান্ত হন। এ কাণ্ডের রহস্য উন্মোচনে জানা যায় বৃদ্ধ হাবিবুর রহমানের ব্যক্তি জীবনে অক্ষর জ্ঞানহীন, টিপসই ব্যতীত পড়ালেখা আর জানেন না তিনি।
কর্মজীবনে তিনি ঢাকায় চাকরি করে ছোট সন্তানকে একটি একতলা পাকা বাড়ি নির্মাণ করে দেন বলশীদ দৈলবাড়ি গ্রামে।
২০১৫ সালে হঠাৎ করে ছোট পুত্র মীর হোসেন বাবার নিকট তিন শতক ভূমি আবদার করে বসেন। পরে বাবা সন্তানের কথায় বিশ্বাস রেখে পুত্র মীর হোসেনকে ৩ তিন শতক সম্পত্তি হেবা দলিলমূলে দান করেন। ওই সময় সূচতুর পুত্র মীর হোসেন বাবার লেখাপড়া না থাকার সুযোগে সকল স্থাবর অস্থাবর সম্পত্তি নিজ নামে লিখে নেয়।
ওই সময় বিষয়টি জানাজানি হলে বাকি তিন সন্তান ভাই মীর হোসেন এর বিরুদ্ধে বিরুদ্ধে সম্পত্তি নিয়ে জালিয়াতি করার দায়ে বিজ্ঞ আদালতে মামলা করেন। মামলা নিষ্পত্তির জন্য ছোট ছেলে মীর হোসেন বাবার কাছ থেকে ৩ লাখ টাকা নিয়ে পুনরায় বাবাকে ২৩ শতক সম্পত্তি দলিল রেজিষ্ট্রির মাধ্যমে ফেরত দেয়। এরপরেই শুরু হয় পিতা-মাতার বিরুদ্ধে নির্যাতন।
এক পর্যায়ে হাবিবুর রহমান সন্তান মীর হোসেন ও স্ত্রী আফসানা নির্যাতনে বাড়ি থেকে বিতাড়িত হন।পরে পিতামাতার এমন কষ্টের কথা বাকি৩ সন্তান জেনে অসহায় বৃদ্ধ বাবা মাকে চাঁদপুরে পুরান বাজার ভাড়া বাড়িতে নিয়ে আশ্রয় দেয়।
এদিকে হঠাৎ করে ১৭ ডিসেম্বর রবিবার রাত মায়ের মৃত্যু হলে ১৮ ডিসেম্বর সোমবার সন্তানরা বাবাকে সহ মায়ের মৃত লাশ নিয়ে বাড়ি আসলে এই ঘটনার অবতারণা হয় ।
পরে পুলিশ প্রশাসন জনপ্রতিনিধি স্থানীয়দের দেন দরবারে মৃত্যুর ৩০ ঘন্টা এবং বাড়িতে ৫ ঘন্টা রাখার পর দাফন সম্পূর্ণ করে বৃদ্ধ পিতা হাবিবুর রহমানকে নিয়ে স্বজনরা ওই বাড়ি ত্যাগ করেন।
এদিকে বৃদ্ধ পিতা-মাতার প্রতি সন্তান ও পুত্রবধূর এমন বৈষম্য মূলক আচরণে সংবাদটি গণমাধ্যমের কল্যাণে সমগ্র দেশে চাঞ্চল্য সৃষ্টি করেছে।








