শনিবার, ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১২ আশ্বিন ১৪৩৩
শনিবার, ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১২ আশ্বিন ১৪৩৩

৭ তারিখের নির্বাচনে নৌকার বিজয় হবে ইনশাআল্লাহ : মোফাজ্জল হোসেন চৌধুরী মায়া বীরবিক্রম

মনিরুল ইসলাম মনির প্রকাশিত: বুধবার, ২০ ডিসেম্বর, ২০২৩, ১০:৩৯ পিএম
৭ তারিখের নির্বাচনে নৌকার বিজয় হবে ইনশাআল্লাহ : মোফাজ্জল হোসেন চৌধুরী মায়া বীরবিক্রম
চাঁদপুরের মতলব উত্তরের ছেংগারচর পৌরসভায় ঢাকা মহানগর দক্ষিণ আওয়ামী লীগের সদস্য প্রয়াত সাজেদুল হোসেন চৌধুরী দিপুর আত্মার মাগফেরাত কামনায় মিলাদ ও দোয়া ও আসন্ন৷ দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে চাঁদপুর -২ আসনে আওয়ামী লীগের নৌকা প্রতিকের প্রার্থী মোফাজ্জল হোসেন চৌধুরী মায়া বীরবিক্রমের নির্বাচনী পথসভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
বুধবার ২০ ডিসেম্বর বিকেলে পৌরসভার ৭ নং ওয়ার্ডের জীবগাঁ স্টানে ও সহযোগী অঙ্গ সংগঠনের উদ্যেগে এ মিলাদ ও দোয়া অনুষ্ঠিত হয়েছে। এতে প্রধান অতিথির বক্তব্যে দেন- বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য, সাবেক মন্ত্রী, স্বাধীনতা পদক প্রাপ্ত ও চাঁদপুর -২ আসেন আওয়ামী লীগের মনোনীত নৌকার প্রার্থী মোফাজ্জল হোসেন চৌধুরী মায়া বীরবিক্রম।
তিনি বলেন, আপনারা আরো দুইবার আমাকে নির্বাচিত করেছেন। এই দুইবারে যে উন্নয়ন করেছি অন্য কেউ তা করতে পারেনি আর পারবেও না। কথা দিলাম যদি এবারও আমাকে নির্বাচিত করেন তা হলে মতলবের অসমাপ্ত কাজগুলো সমাপ্ত করে দিব। ৭ তারিখের নির্বাচনে নৌকার বিজয় হবে ইনশাআল্লাহ। যদি দেশের উন্নয়ন চান, শেখ হাসিনাকে আবারও প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দেখতে চান, যদি মানুষের ভাগ্য পরিবর্তন করতে চান তাহলে নৌকাকে বিজয়ী করুন।
তিনি আরো বলেন, আমার বড় ছেলে আপনাদের প্রিয় নেতা প্রয়াত সাজেদুল হোসেন চৌধুরী দিপু গত ২রা ডিসেম্বর মারা গেছে। তার আত্মার মাগফেরাত কামনায় আজ দোয়ার আয়োজন করা হয়েছে। আপনারা সবাই মনখুলে দোয়া করবেন, আল্লাহ তাকে জান্নাতবাসী করে।
বিশেষ অতিথির বক্তব্য দেন এফবিসিসিআই এর সহ-সভাপতি ও আওয়ামী লীগের শিল্প ও বানিজ্য বিষয়ক উপকমিটির সদস্য রাশেদুল হোসেন চৌধুরী রনি।
প্রধান আলোচক হিসেবে বক্তব্য দেন- পৌরসভার সাবেক মেয়র রফিকুল আলম জর্জ।
৭ নং ওয়ার্ড আওয়মীলীগের সভাপতি আবুল বাশারের সভাপতিত্বে ও ছেংগারচর সরকারি ডিগ্রি কলেজ ছাত্রলীগের সভাপতি মনির হোসেনের পরিচালনায় আরো বক্তব্য দেন- ছেংগারচর পৌরসভার মেয়র লায়ন আরিফ উল্লাহ সরকার, পৌর আওয়ামী লীগের সভাপতি মনির হোসেন বেপারি, উপকমিটির সদস্য শাহআলম সিদ্দিকী, পৌর যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক জাকির খান, পৌরসভার সাবেক প্যানেল মেয়র রুহুল আমিন মোল্লা, কাউন্সিলর আনোয়ার হোসেন, আল-আমীন সরকার, জীবগাঁ জেনারেল হক উচ্চ বিদ্যালয় এন্ড কলেজের অধ্যক্ষ মো. আলী হোসেন, উপজেলা ছাত্রলীগের সাবেক আহবায়ক মিনহাজ উদ্দিন খান, সাবেক কাউন্সিলর রুহুল কুদ্দুস, উপজেলা শ্রমিকলীগ নেতা শামীম প্রধান, পৌর স্বেচ্ছাসেবক লীগের সভাপতি রফিকুল ইসলাম রিপন, স্কৃষক লীগের সভাপতি আব্দুস ছাত্তার বাবু, যুবলীগ নেতা হাসান।
পরে ঢাকা মহানগর দক্ষিণ আওয়ামী লীগের সদস্য প্রয়াত সাজেদুল হোসেন চৌধুরী দিপুর আত্মার মাগফেরাত কামনায় মিলাদ ও দোয়া করেছেন তাদের কাছে কৃতজ্ঞ ও ধন্যবাদ।
এসময় উপস্থিত ছিলেন, উপজেলা সংরক্ষিত মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান শাহিনা আক্তার, উপজেলা আওয়ামীলীগ নেতা বোরহান চৌধুরী, কাউন্সসিলর আমান উল্লাহ, বোরহান উদ্দিন, সাবেক কাউন্সিলর বোরহান প্রধান, পৌর যুবলীগ নেতা নাজমুল খান, ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি তোফায়েল আহমেদ, ছেংগারচর কলেজ ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি মানিক বেপারি ,ছাত্রলীগ নেতা সুমন বেপারিসহ আওয়ামী লীগ অঙ্গ সংগঠন ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা।

৩০ বছর ধরে গাছ লাগিয়ে গ্রামের সড়কের চিত্র বদলে দিলেন মসজিদের ইমাম রেজাউল

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৯:৫৯ পিএম
৩০ বছর ধরে গাছ লাগিয়ে গ্রামের সড়কের চিত্র বদলে দিলেন মসজিদের ইমাম রেজাউল

মসজিদে ইমামতির পাশাপাশি প্রায় ৩০ বছর ধরে বৃক্ষরোপণ করে আসছেন ভোলার চরফ্যাশন উপজেলার ওমরপুর ইউনিয়নের মো. রেজাউল কিবরিয়া বাবুল। নিজের অর্থ ও উদ্যোগে বিভিন্ন সড়কের পাশে হাজার হাজার গাছের চারা রোপণ ও পরিচর্যা করে গড়ে তুলেছেন সবুজের আবরণ। তার লাগানো সারি সারি তালগাছে বদলে গেছে গ্রামের একটি সড়কের চিত্র।

স্থানীয়দের কাছে রেজাউল কিবরিয়া বাবুল একজন ইমাম হিসেবে পরিচিত হলেও বৃক্ষপ্রেমী হিসেবেও রয়েছে তার আলাদা পরিচিতি। তিনি ওমরপুর ইউনিয়নের কালাপানিয়া বাজার বাইতুল মামুর জামে মসজিদের ইমাম। ইমামতির পাশাপাশি অবসর সময়ে গাছ লাগানো ও পরিচর্যায় নিজেকে নিয়োজিত রাখেন তিনি।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, প্রায় তিন দশক আগে বৃক্ষরোপণের উদ্যোগ নেন রেজাউল কিবরিয়া। ১৯৯৩-৯৪ সালের দিকে পৈতৃক সম্পত্তি বিক্রি করে প্রায় ৮ লাখ টাকা ব্যয়ে ভুঁইয়ারহাট এলাকায় একটি নার্সারি গড়ে তোলেন। সেখান থেকে উৎপাদিত ও সংগ্রহ করা বিভিন্ন জাতের গাছের চারা এলাকার সড়কের পাশে রোপণ করতে শুরু করেন। একই সঙ্গে মাইকিং করে স্থানীয়দের গাছ লাগাতে উৎসাহিত করতেন।

তার লাগানো গাছের মধ্যে রয়েছে তাল, ফলজ ও বিভিন্ন ঔষধি গাছ। ওমরপুর গ্রামের বাউল সড়কের দুই পাশে প্রায় দুই দশক আগে লাগানো তালগাছগুলো এখন বড় হয়ে সারি সারি দাঁড়িয়ে আছে। দূর থেকে দেখলে পুরো সড়কটি যেন সবুজে ঘেরা একটি প্রাকৃতিক পথ। গাছের ছায়ায় পথচারী ও কৃষকেরা স্বস্তি পান। স্থানীয়দের পাশাপাশি বাইরের লোকজনও এখন এই সড়কের সৌন্দর্য দেখতে আসেন।

Model Hospital

শুধু বাউল সড়ক নয়, ওমরপুর ইউনিয়নের আরও কয়েকটি সড়কের পাশেও গাছ লাগিয়েছেন তিনি। চারা রোপণের পর নিয়মিত সেগুলোর পরিচর্যাও করেন। অনেক গাছ নষ্ট হয়ে গেলেও বৃক্ষরোপণের কাজ থেকে পিছিয়ে যাননি তিনি।

স্থানীয়দের মতে, সরকারি কোনো প্রকল্পের অপেক্ষায় না থেকে একজন ইমামের ব্যক্তিগত উদ্যোগে দীর্ঘদিন ধরে গাছ লাগানোর এই প্রচেষ্টা শুধু একটি সড়কের সৌন্দর্যই বদলায়নি, বরং স্থানীয়দের মধ্যেও বৃক্ষরোপণের আগ্রহ তৈরি করেছে।

স্থানীয় বাসিন্দা শাহজাহান, লিটন, আলমগীর ও যুবক তুহিন জানান, বাউল সড়কের দুই পাশে এখন শত শত তালগাছ রয়েছে। গাছগুলো বড় হয়ে ওঠায় সড়কটির সৌন্দর্য অনেক বেড়েছে। বিকেল ও সন্ধ্যায় স্থানীয়রা সেখানে সময় কাটান। দূর-দূরান্ত থেকেও অনেকে এই সড়কের সৌন্দর্য দেখতে আসেন। রেজাউল কিবরিয়ার উদ্যোগ দেখে তারাও নিজেদের জায়গায় বেশি করে গাছ লাগাতে উৎসাহিত হয়েছেন।

রেজাউল কিবরিয়া বাবুল বলেন, ‘পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা এবং আল্লাহর সন্তুষ্টির আশায় আমি প্রায় তিন দশক ধরে গাছ লাগিয়ে আসছি। ১৯৯৩-৯৪ সালে এ কাজ শুরু করি। এ পর্যন্ত বিভিন্ন জায়গায় প্রায় ৫০ থেকে ৬০ হাজার গাছের চারা লাগিয়েছি। এর মধ্যে তালগাছের বীজ ও চারা রয়েছে প্রায় ২৫ থেকে ৩০ হাজার।’

তিনি বলেন, সব গাছ টিকিয়ে রাখা সম্ভব হয়নি। তবে গাছ লাগানোর কাজ থেকে কখনো সরে আসেননি। বর্তমানে নিজে নার্সারিতে চারা উৎপাদনের সময় না পাওয়ায় ঝালকাঠির স্বরূপকাঠি থেকে বিভিন্ন ধরনের চারা সংগ্রহ করে রোপণ করছেন।

তালগাছ লাগানোর বিষয়ে তিনি বলেন, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বজ্রপাতের ঘটনা বেড়ে যাওয়ায় তালগাছ লাগানোর ওপর বেশি গুরুত্ব দিচ্ছেন তিনি। পাশাপাশি বন বিভাগের পরামর্শও নিয়ে থাকেন।

রেজাউল কিবরিয়া আরও বলেন, ‘আমি গাছ লাগানোকে সদকায়ে জারিয়া হিসেবে দেখি। একটি গাছ শুধু বর্তমান প্রজন্মের জন্য নয়, ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্যও ছায়া, সৌন্দর্য ও উপকারের উৎস। যতদিন বেঁচে থাকব, ততদিনই গাছ লাগানোর এই কাজ চালিয়ে যেতে চাই।’

তার ভাষ্য, গ্রামের প্রতিটি সড়ক ও আশপাশের এলাকা সবুজে ভরে তোলাই তার লক্ষ্য। একই সঙ্গে তরুণদের খারাপ অভ্যাস থেকে দূরে রাখতে ফল ও ফুলের বাগান করার আহ্বান জানান তিনি।

রেজাউল কিবরিয়ার দীর্ঘদিনের উদ্যোগের বিষয়ে চরফ্যাশন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রুমানা আফরোজ বলেন, ‘গাছ লাগানো অবশ্যই একটি ভালো উদ্যোগ। রেজাউল কিবরিয়া সাহেবের দীর্ঘদিনের এ কাজের বিষয়টি আমার জানা ছিল না। খোঁজ নিয়ে এ বিষয়ে তার পাশে দাঁড়ানোর চেষ্টা করব।’