রবিবার, ২৫ অক্টোবর ২০২৬, ১১ কার্তিক ১৪৩৩
রবিবার, ২৫ অক্টোবর ২০২৬, ১১ কার্তিক ১৪৩৩

শাহরাস্তিতে চিকিৎসা জটিলতায় মা ও শিশু হাসপাতালে প্রসূতির মৃত্যু 

নিজস্ব প্রতিনিধি প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ১৬ জানুয়ারি, ২০২৪, ৮:৪৪ পিএম
শাহরাস্তিতে চিকিৎসা জটিলতায় মা ও শিশু হাসপাতালে প্রসূতির মৃত্যু 
শাহরাস্তিতে মা ও শিশু হাসপাতালে চিকিৎসা জটিলতায় এক প্রসূতি মায়ের মৃত্যু হয়েছে।
ওই মৃত্যু ঘটনায় নিহতের পরিবার ব্যাপক প্রতিবাদ জানালে পুলিশ এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।
সোমবার রাতে শাহরাস্তি পৌরসভার মেহের কালিবাড়ী বাজারের মা ও শিশু হাসপাতালে এ ঘটনা ঘটে।
ক্ষতিগ্রস্ত পরিবার ও স্থানীয় সূত্র জানায়, ওইদিন উপজেলার  চিতোষী পশ্চিম ইউপির হাড়িয়া ভুঁইয়া বাড়ীর মাইক্রোচালক আলম হোসেনের স্রীর ফারজানা আক্তার (২৩) প্রসব ব্যথা উঠলে তাকে স্থানীয় আয়নাতলী বাজারে পল্লী চিকিৎসক কামরুল ইসলামের নিকট নেওয়া হয়। তারপর ওই চিকিৎসক শারীরিক জটিলতা অনুমান করে তাকে শাহরাস্তি মেহের কালিবাড়ি মা ও শিশু হাসপাতালে রেফার করে।
ওইদিন দুপুরে সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক ডাঃ তানিয়া আক্তার প্রসূতি ফারজানার শারীরিক অবস্থা পরীক্ষা-নিরীক্ষা শেষে ভর্তি দেয়। একই দিন বিকেল ৪ টায় প্রসূতী ফারজানার সিজার সম্পন্ন করে। তার কিছুক্ষণ পর তার অবস্থা অবনতি হলে কর্তৃপক্ষ রোগীকে কুমিল্লা রেফার করে।
পরে স্বজনরা তাকে নিয়ে কুমিল্লা যাওয়ার পথে অবস্থার আরো অবনতি হলে পৌর শহরের সুয়াপাড়া বশির উল্লাহ হাসপাতালে প্রসূতির ইসিজি করিয়ে মৃত্যু হয়েছে বলে নিশ্চিত হন।
পরে স্বজনরা দ্রুত মা ও শিশু হাসপাতালে এসে ক্ষিপ্ত হয়ে তর্কে জড়িয়ে হাঙ্গামা শুরু করে দেয়।
ওই সংবাদ চারদিকে ছড়িয়ে পড়লে শাহরাস্তি মডেল থানার ওসি মোহাম্মদ আলমগীর হোসেন সঙ্গীও ফোর্স নিয়ে এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন।
এ প্রসঙ্গে নিহতের স্বামী আলম ও ফারজানার ভাই জহির জানান, আমাদের রোগীর শ্বাসকষ্ট, হিমোগ্লোবিন ও ব্লাড প্রেসার কম ছিল। ওই অবস্থায় অবচেতনকারী ডা: আব্দুল বাসেত ও সিজারিয়ান ডা: শরিফুল ইসলাম রোগীর সিজার সম্পন্ন করেন।
এ প্রসঙ্গে হাসপাতাল এলাকার স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, হাসপাতালটি প্রতিষ্ঠার পর থেকে এ পর্যন্ত অসংখ্য মায়ের মৃত্যু হয়েছে। যার ফলে ২০২২সালে সহকারী কমিশনার( ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট আমজাদ হোসেন এটি সিলগালা করেন। তারপর অজ্ঞাত ইশারায় এটি পুনরায় চালু হয়। এরপরই শুরু হয় মৃত্যুর মিছিল। অবশেষে ওই মিছিলে যুক্ত হন ফারজানা নামের আরেক মা।
এ প্রসঙ্গে শাহরাস্তি স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা: মোঃ নাসিরউদ্দিন জানান, বিষয়টি আমি অবগত আছি, এটি খুবই দুঃখজনক। জনগণের উচিৎ সরকারি হাসপাতালের সেবা গ্রহণ করা।এতে অর্থ অপচয় রোধ ও সুচিকিৎসা নিশ্চিত হবে।
এ প্রসঙ্গে হাসপাতালে চেয়ারম্যান আবুল ফয়েজ মিলন জানান, আমাদের তরফ থেকে কোন গাফিলতি ছিলনা। সিজারে দায়িত্ব ও সংশ্লিষ্ট ডাক্তারের।
এ বিষয়ে শাহরাস্তি মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ ওসি মোহাম্মদ আলমগীর হোসেন জানান, ক্ষতিগ্রস্ত প্রসূতি মায়ের স্বজনদের পক্ষ থেকে কোন অভিযোগ দায়ের করা হয়নি।
এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত প্রসূতি মায়ের প্রসব করা কন্যা সন্তানটি স্বজনদের নিকট সুস্থ রয়েছে বলে জানা যায়।
উল্লেখ্য ওই দম্পতির চার বছরের একটি পুত্র সন্তানও রয়েছে।

১২৯ বছরের জীবনের অবসান! মতলবের প্রবীণ বারেক বেপারীর বিদায়, বয়স নিয়ে চাঞ্চল্য

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: রবিবার, ২৫ অক্টোবর, ২০২৬, ১১:১৬ পিএম
১২৯ বছরের জীবনের অবসান! মতলবের প্রবীণ বারেক বেপারীর বিদায়, বয়স নিয়ে চাঞ্চল্য

দীর্ঘ ১২৯ বছরের জীবনের অবসান। পৃথিবীর আলো-বাতাসে এক শতাব্দীরও বেশি সময় কাটিয়ে না ফেরার দেশে চলে গেলেন চাঁদপুরের মতলব উত্তর উপজেলার মুদাফর গ্রামের প্রবীণ ব্যক্তি বারেক বেপারী। স্থানীয়দের দাবি, মৃত্যুকালে তাঁর বয়স হয়েছিল ১২৯ বছর। তাঁর দীর্ঘায়ু নিয়ে এলাকায় রয়েছে নানা আলোচনা ও কৌতূহল।

রোববার (২৫ অক্টোবর) সকাল সাড়ে ৯টার দিকে রাজধানীতে মেয়ের বাসায় শেষনিশ্বাস ত্যাগ করেন তিনি। তাঁর মৃত্যুর খবরে পরিবার, স্বজন ও এলাকাবাসীর মধ্যে শোকের ছায়া নেমে এসেছে।

বারেক বেপারী মতলব উত্তর উপজেলার মোহনপুর ইউনিয়নের মুদাফর গ্রামের মৃত লতিফ বেপারীর ছেলে। মৃত্যুকালে তিনি দুই ছেলে, দুই মেয়েসহ অসংখ্য আত্মীয়স্বজন ও গুণগ্রাহী রেখে গেছেন।

রোববার বাদ আসর মুদাফর ঈদগাহ মাঠে তাঁর জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। পরে স্থানীয় কবরস্থানে তাঁকে দাফন করা হয়। জানাজায় ইমামতি করেন তাঁর দৌহিত্র হাফেজ মো. হাফিজ উদ্দিন।

Model Hospital

১২৯ বছরের জীবন, স্থানীয়দের মুখে দীর্ঘায়ুর গল্প

স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, বারেক বেপারী প্রায় ১২৯ বছর বয়স পর্যন্ত বেঁচে ছিলেন। তাঁদের দাবি, এত দীর্ঘ জীবন পাওয়ায় তিনি ছিলেন বিশ্বের সবচেয়ে বয়স্ক ব্যক্তিদের একজন। তবে তাঁর বয়সের পক্ষে আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত ও যাচাইকৃত কোনো নথির তথ্য পাওয়া যায়নি। ফলে ১২৯ বছর বয়সের বিষয়টি স্থানীয়দের দাবি হিসেবেই বিবেচিত হচ্ছে।

মানবজীবনে শতবর্ষ পেরিয়ে বেঁচে থাকা অত্যন্ত বিরল ঘটনা। গিনেস ওয়ার্ল্ড রেকর্ডসের তথ্য অনুযায়ী, ফ্রান্সের জ্যাঁ লুইস কালমঁ ১২২ বছর ১৬৪ দিন বেঁচে ছিলেন, যা কোনো মানুষের সর্বোচ্চ যাচাইকৃত আয়ু হিসেবে স্বীকৃত।

বারেক বেপারীর জীবনও স্থানীয়দের কাছে দীর্ঘায়ুর এক বিস্ময়কর গল্প হয়ে থাকবে। এক শতাব্দীরও বেশি সময়ের জীবনের অবসান ঘটিয়ে তিনি চলে গেলেন চিরবিদায়ের পথে। রেখে গেলেন অসংখ্য স্মৃতি, স্বজনদের ভালোবাসা আর দীর্ঘ জীবনের নানা গল্প।

দীর্ঘ জীবনের পথচলা থেমে গেল, কিন্তু স্মৃতিতে বেঁচে থাকবেন বারেক বেপারী।

তাঁর মৃত্যুতে শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানিয়েছেন স্বজন ও এলাকাবাসী। মহান আল্লাহ তাঁকে ক্ষমা করুন, তাঁর কবরকে প্রশস্ত করুন এবং জান্নাতুল ফেরদৌস নসিব করুন। আমিন।