বৃহস্পতিবার, ২২ অক্টোবর ২০২৬, ৮ কার্তিক ১৪৩৩
বৃহস্পতিবার, ২২ অক্টোবর ২০২৬, ৮ কার্তিক ১৪৩৩

তরুণদের মাঠমুখী করতে কাদরা ডেঞ্জার লায়ন হার্টসের নতুন কমিটি, লক্ষ্য শক্তিশালী ক্রীড়া সংস্কৃতি গড়ে তোলা

নিজস্ব প্রতিনিধি প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ২২ অক্টোবর, ২০২৬, ১১:২৬ পিএম
তরুণদের মাঠমুখী করতে কাদরা ডেঞ্জার লায়ন হার্টসের নতুন কমিটি, লক্ষ্য শক্তিশালী ক্রীড়া সংস্কৃতি গড়ে তোলা

তরুণ সমাজকে খেলাধুলায় উৎসাহিত করা, স্থানীয় প্রতিভাবান ফুটবলারদের বিকাশ এবং এলাকায় সুস্থ ক্রীড়া সংস্কৃতি গড়ে তোলার প্রত্যয়ে নতুন কার্যকরী কমিটি গঠন করেছে কাদরা ডেঞ্জার লায়ন হার্টস (KDL)। ক্লাবের কার্যক্রমকে আরও গতিশীল, শৃঙ্খলাবদ্ধ ও শক্তিশালী করার লক্ষ্যে অভিজ্ঞ ও উদ্যমী সদস্যদের সমন্বয়ে এ কমিটি গঠন করা হয়েছে।

ক্লাবসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা জানান, তরুণদের খেলাধুলার প্রতি আগ্রহী করে তোলা, স্থানীয় পর্যায়ে ফুটবলের মানোন্নয়ন এবং খেলোয়াড়দের প্রতিভা বিকাশের উপযুক্ত পরিবেশ তৈরি করাই তাঁদের অন্যতম লক্ষ্য। পাশাপাশি নিয়মিত ফুটবল অনুশীলন, মানসম্মত ম্যাচ ও টুর্নামেন্ট আয়োজনের মাধ্যমে এলাকায় ক্রীড়াঙ্গনকে আরও প্রাণবন্ত করতে চান তাঁরা।

কাদরা ডেঞ্জার লায়ন হার্টসের নতুন কার্যকরী কমিটি বা পরিচালনা পর্ষদে রয়েছেন—সভাপতি বেলায়েত হোসেন মারুফ,
সহসভাপতি রবিউল হাসান শিবলু, সাধারণ সম্পাদক ইমরান হোসেন, টিম ম্যানেজার ও প্রধান সমন্বয়ক শাফায়াত হোসেন শুভ, ক্যাশিয়ার (অর্থ সম্পাদক) মো. ইমন পাটোয়ারী, সাংগঠনিক সম্পাদক জাহিদুল ইসলাম রিয়াদ, ক্রীড়া সম্পাদক ফয়সাল হোসেন।

নতুন কমিটির অন্যতম অগ্রাধিকার স্থানীয় তরুণ ও উদীয়মান ফুটবলারদের জন্য নিয়মিত অনুশীলন ও নিজেদের দক্ষতা তুলে ধরার সুযোগ তৈরি করা। এ ছাড়া ভবিষ্যতে আরও সুশৃঙ্খল ও জাঁকজমকপূর্ণ ফুটবল ম্যাচ এবং টুর্নামেন্ট আয়োজনের পরিকল্পনা রয়েছে ক্লাবটির।

Model Hospital

ক্লাবের সদস্যদের মধ্যে পারস্পরিক শ্রদ্ধা, শৃঙ্খলা ও ভ্রাতৃত্ববোধ বজায় রাখার ওপরও গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। খেলাধুলার মাধ্যমে তরুণদের মধ্যে দলগত মনোভাব, দায়িত্ববোধ ও ইতিবাচক সামাজিক সম্পর্ক গড়ে তোলার প্রত্যাশা তাঁদের।

ক্লাবের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, উপদেষ্টা, জ্যেষ্ঠ সদস্য, খেলোয়াড় ও সমর্থকদের সহযোগিতা এবং উৎসাহের মাধ্যমে কাদরা ডেঞ্জার লায়ন হার্টস আজকের অবস্থানে পৌঁছেছে। নতুন কমিটির ওপর রাখা আস্থার মর্যাদা রক্ষা করে ক্লাবকে আরও এগিয়ে নিতে সর্বোচ্চ চেষ্টা করা হবে।

ক্লাবের অনুশীলন ও খেলোয়াড়দের সঙ্গে সমন্বয় আরও সহজ করতে এলাকাভিত্তিক দায়িত্বও নির্ধারণ করা হয়েছে। দায়িত্বপ্রাপ্ত সদস্যরা হলেন— কাদরা মাইজপাড়া: শিবলু, কর্ণপাড়া: আরমান, কাদরা পূর্বপাড়া: আরিয়ান শুভ, পঞ্চনগর: রাহাদ।

কাদরা ডেঞ্জার লায়ন হার্টসের প্রকাশিত অফিসিয়াল প্র্যাকটিস প্লেয়ার তালিকায় ৩৬ জনের নাম রয়েছে। তালিকাটি হলো—ইসমাইল, শিবলু, সাব্বির,রবিউল, জাফর, ইমন, রাকিব, হাসান, মহারাজ, সাইমুন, আরমান, মেহেদী, জাবেদ, রায়হান, সিহাব, ফরহাদ, সাকিব, বিজয়, রবিউল, শাঢ্যুলাম, তানভীর হোসেন অয়ন, প্রান্ত, মাহাবুব, রায়হান, হাসান, সজীব, রিফাত, অপু, ফয়সাল, ইব্রাহিম, আজিজুল রাহাত, রফিক, রাতুল, রাসেল, ওসমান, আরিয়ান শুভ।

ক্লাবের পক্ষ থেকে এলাকার ফুটবলপ্রেমী, দর্শক, ক্রীড়ানুরাগী ও গণমাধ্যমকর্মীদের সহযোগিতা কামনা করা হয়েছে। খেলাধুলার ইতিবাচক পরিবেশ গড়ে তোলা এবং তরুণদের মাঠমুখী করতে সবার সম্মিলিত অংশগ্রহণের ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।

ক্লাবসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা আশা প্রকাশ করেন, নতুন কমিটির নেতৃত্বে কাদরা ডেঞ্জার লায়ন হার্টস আরও সুসংগঠিত হবে এবং স্থানীয় ফুটবলে ইতিবাচক অবদান রাখবে। মাঠে ভালো পারফরম্যান্সের পাশাপাশি সামাজিক ঐক্য ও ভ্রাতৃত্বের বন্ধন দৃঢ় করাও হবে তাঁদের অন্যতম লক্ষ্য।

শখ করে বাড়িতে পুষছিলেন বিষধর গোখরা, সেই সাপের ছোবলেই হাসপাতালে চাঁদপুরের কাঠমিস্ত্রি!

নিজস্ব প্রতিনিধি প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৩ অক্টোবর, ২০২৬, ১২:১১ এম
শখ করে বাড়িতে পুষছিলেন বিষধর গোখরা, সেই সাপের ছোবলেই হাসপাতালে চাঁদপুরের কাঠমিস্ত্রি!

চাঁদপুরের মতলব উত্তর উপজেলায় শখ করে বাড়িতে বিষধর গোখরা সাপ পুষছিলেন স্থানীয় কাঠমিস্ত্রি ইকবাল হোসেন (৪৫)। সেই সাপের কামড়েই এখন জীবন-মৃত্যুর সন্ধিক্ষণে তিনি।

বৃহস্পতিবার (২২ অক্টোবর) উপজেলার ভূঁইয়াকান্দি গ্রামে ঘটেছে এই ঘটনায়। রাতের সাড়ে ৯টার দিকে এই রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত মতলব উত্তর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাধীন রয়েছেন ইকবাল হোসেন।

হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, সাপের কামড়ে আক্রান্ত হয়ে বৃহস্পতিবার হাসপাতালে ভর্তি হন ইকবাল। পরপর দুই ডোজ (২০ ভায়াল) অ্যান্টিভেনম দেওয়ার পর এখন তৃতীয় ডোজই রোগীর জীবন রক্ষায় শেষ চেষ্টা। ২৪ ঘণ্টার আগে কোনো কিছুই নিশ্চিত করে বলা যাচ্ছে না বলে জানায় হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, প্রতিদিনের মতো বৃহস্পতিবার সাপটিকে খাবার দিতে বাক্স খুলেছিলেন কাঠমিস্ত্রির ইকবাল। তখন হঠাৎ করেই সাপটি তার হাতে কামড় দিলে অসুস্থ হয়ে পড়া ইকবালকে মতলব উত্তর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে এনে ভর্তি করা হয়। চিকিৎসক পরীক্ষা-নিরীক্ষা ও লক্ষণ দেখে এটি বিষধর সাপের কামড় চিহ্নিত হলে দ্রুত অ্যান্টিভেনম প্রথম ডোজ (১০ ভায়াল) দেওয়ার ব্যবস্থা করা হয়।

Model Hospital

ইকবালের স্ত্রী রিনা আক্তার জানান, পাখি পালনসহ বিভিন্ন প্রাণী লালন-পালনের শখ তার স্বামীর। কয়েক মাস আগে বিল থেকে গোখরা সাপটি ধরে বাড়িতে নিয়ে আসেন তিনি। বিষধর সাপটি বাড়িতে না পুষতে রিনা বারবার নিষেধ করেছিলেন। এ নিয়ে তাদের মধ্যে বিরোধও হয়েছিল। তবে স্ত্রীর নিষেধ উপেক্ষা করে সাপটি পোষা অব্যাহত রাখেন ইকবাল। শেষ পর্যন্ত সেই সাপের কামড়েই গুরুতর অসুস্থ হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ইকবাল।

উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরি বিভাগের চিকিৎসক সাবিন ইসতেহার জানান, তার অবস্থার উন্নতি না হলে ২য় ডোজ টিকা দেওয়া হয়। তবে তিনি এখনও শঙ্কামুক্ত নন। রোগীর অবস্থা আরও অবনতি হলে সর্বশেষ চেষ্টা হিসেবে ৩য় ডোজও দেওয়া লাগতে পারে। প্রতি ডোজে ১০ ভায়াল।