শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১ আশ্বিন ১৪৩৩
শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১ আশ্বিন ১৪৩৩

কচুয়ায় ড. সেলিম মাহমুদ এমপিকে সংবর্ধনা প্রদান উপলক্ষে প্রস্তুতি সভা

ইসমাইল হোসেন বিপ্লব, কচুয়া প্রকাশিত: শনিবার, ১৭ ফেব্রুয়ারি, ২০২৪, ৮:৩৪ পিএম
কচুয়ায় ড. সেলিম মাহমুদ এমপিকে সংবর্ধনা প্রদান উপলক্ষে প্রস্তুতি সভা

কচুয়া আসনের নব-নির্বাচিত সংসদ সদস্য ও বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের তথ্য ও গবেষণা বিষয়ক সম্পাদক ড. সেলিম মাহমুদকে ইউনিয়ন বাসীর পক্ষ থেকে নাগরিক সংবর্ধনা প্রদান উপলক্ষে প্রস্তুতি সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।

শনিবার বিকেলে উপজেলার সহদেবপুর পশ্চিম ইউনিয়ন আওয়ামী লীগ ও সহযোগী সংগঠনের আয়োজনে দারাশাহী তুলপাই উচ্চ বিদ্যালয়ের হলরুমে এ প্রস্তুতি সভা অনুষ্ঠিত হয়।

ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি ও ইউপি চেয়ারম্যান মোঃ আলমগীর হোসেনের সভাপতিত্বে এবং সাধারণ সম্পাদক সোহরাব হোসেন সুমনের সঞ্চালনায় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখেন-জেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি মোঃ আইয়ুব আলী পাটওয়ারী।

অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন-উপজেলা আওয়ামী লীগের বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিষয়ক সম্পাদক শহীদুল্লাহ বিএসসি, ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি বিলাল হোসেন পাটোয়ারী, মফিজুর রহমান,হাজী আব্দুল কাদের, ইউনুস পাটোয়ারী, ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সদস্য তৌহিদুর রহমান মুন্সি,উপজেলা যুবলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক বোরহান উদ্দিন, চাঁদপুর জেলা ছাত্রলীগের সহ-সভাপতি ইঞ্জি.সোহাগ হোসাইন, ইউপি সদস্য মোঃ আলাউদ্দিন, আব্দুল হান্নান, মোখলেছুর রহমান,ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক কামরুল হাসান, ইউনিয়ন কৃষক লীগের সভাপতি মোস্তফা কামাল,ইউনিয়ন যুবলীগের যুগ্ম আহ্বায়ক আনিসুর রহমান স্বপন, রাসেল আহমেদ ইমন, রুবেল আহমেদ প্রধানসহ প্রমুখ।

Model Hospital

সভায় বক্তাগন, আসছে আগামী ১১ মে কচুয়া উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে উপজেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সভাপতি ও সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান আইয়ুব আলী পাটওয়ারীকে উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে চেয়ারম্যান প্রার্থী হওয়ার জন্য ইউনিয়নবাসীর পক্ষ থেকে সর্ব সম্মতিক্রমে সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে আইয়ুব আলী পাটওয়ারী বলেন, আমি আপনাদের ভালোবাসায় মুগ্ধ। আপনারা ইউনিয়নের নেতৃবৃন্দ একত্রিত হয়ে আজকের এই মতবিনিময় সভায় আমাকে চেয়ারম্যান পদে প্রার্থী হওয়ার জন্য যে সিদ্ধান্ত নিয়েছেন,সে সিদ্ধান্তকে আমি সাধুবাদ জানাই। আমার নেতা কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগের তথ্য ও গবেষণা বিষয়ক সম্পাদক ও এ আসনের এমপি ড. সেলিম মাহমুদ এর কাছে আপনাদের সিদ্ধান্তের কথা জানাবো।নেতার গ্রীন সিগন্যাল পেলে আপনাদের সাথে নিয়ে মাঠে নেমে পড়বো।

সেলিম মাহমুদের কাছ থেকে নির্ধারিত দিন ও সময় নিয়ে সহদেবপুর পশ্চিম ইউনিয়নবাসীর পক্ষ থেকে প্রিয় নেতাকে নাগরিক সংবর্ধনা দেওয়া হবে। সে সংবর্ধনা হবে নজরকাড়া সংবর্ধনা। সংবর্ধনা অনুষ্ঠানটি জমকালো আয়োজনের মধ্য দিয়ে কচুয়াবাসীকে তাক লাগিয়ে দিবে এ ইউনিয়নবাসী।

আমার আশা ও বিশ্বাস নেতা আমাকে বিমুখ করবে না। দলের দু:সময়ে কচুয়ায় আওয়ামী লীগের আমি হাল ধরেছি। দলের দুর্দিনের নেতা আমি। দলের সুদিনে নামধারী অনেক নেতা দলে ভীরে অর্থবিত্তের মালিক হয়েছেন। আমি আইয়ুব আলী পাটওয়ারী চল্লিশ বছর ধরে আওয়ামী লীগের রাজনীতির সাথে সম্পৃক্ত। নিজের পৈত্রিক সম্পত্তি বিক্রি করে দলকে সুসংগঠিত ও শক্তিশালী করেছি।

আজ দলের সুদিনে আমার জীবন সন্ধিক্ষণে এসে ইউনিয়ন বাসীর আশা আকাঙ্খার প্রতিফলন ঘটাবে কচুয়ার অভিভাবক সেলিম মাহমুদ এমপি।

আমার সে আস্থা ও বিশ^াস নেতার উপর আছে।

৩০ বছর ধরে গাছ লাগিয়ে গ্রামের সড়কের চিত্র বদলে দিলেন মসজিদের ইমাম রেজাউল

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৯:৫৯ পিএম
৩০ বছর ধরে গাছ লাগিয়ে গ্রামের সড়কের চিত্র বদলে দিলেন মসজিদের ইমাম রেজাউল

মসজিদে ইমামতির পাশাপাশি প্রায় ৩০ বছর ধরে বৃক্ষরোপণ করে আসছেন ভোলার চরফ্যাশন উপজেলার ওমরপুর ইউনিয়নের মো. রেজাউল কিবরিয়া বাবুল। নিজের অর্থ ও উদ্যোগে বিভিন্ন সড়কের পাশে হাজার হাজার গাছের চারা রোপণ ও পরিচর্যা করে গড়ে তুলেছেন সবুজের আবরণ। তার লাগানো সারি সারি তালগাছে বদলে গেছে গ্রামের একটি সড়কের চিত্র।

স্থানীয়দের কাছে রেজাউল কিবরিয়া বাবুল একজন ইমাম হিসেবে পরিচিত হলেও বৃক্ষপ্রেমী হিসেবেও রয়েছে তার আলাদা পরিচিতি। তিনি ওমরপুর ইউনিয়নের কালাপানিয়া বাজার বাইতুল মামুর জামে মসজিদের ইমাম। ইমামতির পাশাপাশি অবসর সময়ে গাছ লাগানো ও পরিচর্যায় নিজেকে নিয়োজিত রাখেন তিনি।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, প্রায় তিন দশক আগে বৃক্ষরোপণের উদ্যোগ নেন রেজাউল কিবরিয়া। ১৯৯৩-৯৪ সালের দিকে পৈতৃক সম্পত্তি বিক্রি করে প্রায় ৮ লাখ টাকা ব্যয়ে ভুঁইয়ারহাট এলাকায় একটি নার্সারি গড়ে তোলেন। সেখান থেকে উৎপাদিত ও সংগ্রহ করা বিভিন্ন জাতের গাছের চারা এলাকার সড়কের পাশে রোপণ করতে শুরু করেন। একই সঙ্গে মাইকিং করে স্থানীয়দের গাছ লাগাতে উৎসাহিত করতেন।

তার লাগানো গাছের মধ্যে রয়েছে তাল, ফলজ ও বিভিন্ন ঔষধি গাছ। ওমরপুর গ্রামের বাউল সড়কের দুই পাশে প্রায় দুই দশক আগে লাগানো তালগাছগুলো এখন বড় হয়ে সারি সারি দাঁড়িয়ে আছে। দূর থেকে দেখলে পুরো সড়কটি যেন সবুজে ঘেরা একটি প্রাকৃতিক পথ। গাছের ছায়ায় পথচারী ও কৃষকেরা স্বস্তি পান। স্থানীয়দের পাশাপাশি বাইরের লোকজনও এখন এই সড়কের সৌন্দর্য দেখতে আসেন।

Model Hospital

শুধু বাউল সড়ক নয়, ওমরপুর ইউনিয়নের আরও কয়েকটি সড়কের পাশেও গাছ লাগিয়েছেন তিনি। চারা রোপণের পর নিয়মিত সেগুলোর পরিচর্যাও করেন। অনেক গাছ নষ্ট হয়ে গেলেও বৃক্ষরোপণের কাজ থেকে পিছিয়ে যাননি তিনি।

স্থানীয়দের মতে, সরকারি কোনো প্রকল্পের অপেক্ষায় না থেকে একজন ইমামের ব্যক্তিগত উদ্যোগে দীর্ঘদিন ধরে গাছ লাগানোর এই প্রচেষ্টা শুধু একটি সড়কের সৌন্দর্যই বদলায়নি, বরং স্থানীয়দের মধ্যেও বৃক্ষরোপণের আগ্রহ তৈরি করেছে।

স্থানীয় বাসিন্দা শাহজাহান, লিটন, আলমগীর ও যুবক তুহিন জানান, বাউল সড়কের দুই পাশে এখন শত শত তালগাছ রয়েছে। গাছগুলো বড় হয়ে ওঠায় সড়কটির সৌন্দর্য অনেক বেড়েছে। বিকেল ও সন্ধ্যায় স্থানীয়রা সেখানে সময় কাটান। দূর-দূরান্ত থেকেও অনেকে এই সড়কের সৌন্দর্য দেখতে আসেন। রেজাউল কিবরিয়ার উদ্যোগ দেখে তারাও নিজেদের জায়গায় বেশি করে গাছ লাগাতে উৎসাহিত হয়েছেন।

রেজাউল কিবরিয়া বাবুল বলেন, ‘পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা এবং আল্লাহর সন্তুষ্টির আশায় আমি প্রায় তিন দশক ধরে গাছ লাগিয়ে আসছি। ১৯৯৩-৯৪ সালে এ কাজ শুরু করি। এ পর্যন্ত বিভিন্ন জায়গায় প্রায় ৫০ থেকে ৬০ হাজার গাছের চারা লাগিয়েছি। এর মধ্যে তালগাছের বীজ ও চারা রয়েছে প্রায় ২৫ থেকে ৩০ হাজার।’

তিনি বলেন, সব গাছ টিকিয়ে রাখা সম্ভব হয়নি। তবে গাছ লাগানোর কাজ থেকে কখনো সরে আসেননি। বর্তমানে নিজে নার্সারিতে চারা উৎপাদনের সময় না পাওয়ায় ঝালকাঠির স্বরূপকাঠি থেকে বিভিন্ন ধরনের চারা সংগ্রহ করে রোপণ করছেন।

তালগাছ লাগানোর বিষয়ে তিনি বলেন, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বজ্রপাতের ঘটনা বেড়ে যাওয়ায় তালগাছ লাগানোর ওপর বেশি গুরুত্ব দিচ্ছেন তিনি। পাশাপাশি বন বিভাগের পরামর্শও নিয়ে থাকেন।

রেজাউল কিবরিয়া আরও বলেন, ‘আমি গাছ লাগানোকে সদকায়ে জারিয়া হিসেবে দেখি। একটি গাছ শুধু বর্তমান প্রজন্মের জন্য নয়, ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্যও ছায়া, সৌন্দর্য ও উপকারের উৎস। যতদিন বেঁচে থাকব, ততদিনই গাছ লাগানোর এই কাজ চালিয়ে যেতে চাই।’

তার ভাষ্য, গ্রামের প্রতিটি সড়ক ও আশপাশের এলাকা সবুজে ভরে তোলাই তার লক্ষ্য। একই সঙ্গে তরুণদের খারাপ অভ্যাস থেকে দূরে রাখতে ফল ও ফুলের বাগান করার আহ্বান জানান তিনি।

রেজাউল কিবরিয়ার দীর্ঘদিনের উদ্যোগের বিষয়ে চরফ্যাশন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রুমানা আফরোজ বলেন, ‘গাছ লাগানো অবশ্যই একটি ভালো উদ্যোগ। রেজাউল কিবরিয়া সাহেবের দীর্ঘদিনের এ কাজের বিষয়টি আমার জানা ছিল না। খোঁজ নিয়ে এ বিষয়ে তার পাশে দাঁড়ানোর চেষ্টা করব।’