শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১ আশ্বিন ১৪৩৩
শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১ আশ্বিন ১৪৩৩

চাঁদপুরের গুয়াখোলায় পৌরসভার নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে বহুতল ভবন ‌নির্মাণ

নিজস্ব প্রতিনিধি প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ১২ মার্চ, ২০২৪, ৯:৪২ পিএম
চাঁদপুরের গুয়াখোলায় পৌরসভার নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে বহুতল ভবন ‌নির্মাণ

চাঁদপুর শহরের গুয়াখোলা এলাকায় পৌরসভার নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে বহুতল ভবন নির্মাণ করা হচ্ছে।  তারা স্থানীয় বাসিন্দারদের কথা চিন্তা না করে নিজেদের খামখেয়ালি মতো  নির্মাণ কাজ চালিয়ে যাচ্ছে। এতে করে স্থানীয় বাসিন্দাররা নানাবিধ সমস্যার সম্মুখিন হচ্ছে।

জানাযায়, বিল্লাল খান নামের জনৈক ব্যক্তি শহরের গুয়াখোলায় জমি কিনে তাতে প্রথমে একটি টিনসেড ঘর নির্মাণ করে বসবাস শুরু করেন। গত কিছুদিন ধরে সেই  টিনসেড ঘরটি ভেঙ্গে  বহুতল ভবন নির্মাণ করছে। এ ভবন নির্মাণ করতে সে চাঁদপুর পৌরসভা থেকে কোনো ধরনের নকশা বা প্লান পাশ না করে ভবন নির্মাণ করে যাচ্ছে। বিল্লাল খান তার পাশের ভবন মালিক ইউসুব আলী বেপারীর কথা বিবেচনা না করে তার ভবনের উপর নবনির্মিত ভবনটি নিয়ে গেছে। এ বিষয়ে বিল্লাল খানকে ডাক দিলে তার ছেলে রাজন তাদেরকে অকর্থ‌্য ভাষায় গাল মন্দ করে। পরে ইউসুব আলী বেপারী বিষয়টি চাঁদপুর পৌরসভা কর্তৃপক্ষকে বিষয়টি অবগত করে। জানতে পেরে প্যানেল মেয়র অ্যাডঃ হেলাল হোসাইন ঘটনাস্থলে এসে বিল্লাল খানকে বাড়ির কাজ বন্ধ রাখার জন্য নির্দেশ দেন। তারপরও বাইরের কাজ না করে চুপুচুপি ভেতরের কাজ এখনো চালিয়ে যাচ্ছে।

জন নিরাপত্তার কথা না ভেবে বিল্লাল খান এ ভবন নির্মাণ কাজ করে যাচ্ছে।স্থানীয় বা‌সিন্দারা এ সড়কটি দিয়ে যাতায়াত করতে গিয়ে ময়লা পানি ও বালু সিমেন্ট গায়ে পরে জামা কাপড় নষ্ট পর্যন্ত হচ্ছে প্রতিনিয়ত। নাম মাত্র সাপোটিং দিয়ে এ বহুতল ভবনের নির্মাণ কাজ চালিয়ে যাচ্ছে বলে স্থানীয় ভোক্তভোগিরা জানায়।

ভোক্তভোগি ইউসুব আলী বেপারী জানান, তারা সম্পূর্ন বেআইনি ভাবে ভবন নির্মান করে আমার ঘরের মালামাল নষ্ট করে দিচ্ছে। সে আমার সাইডে কোনো ধরনের সাপোটিং না দিয়ে আস্তর করছে।তাতে সম্পূর্ন ময়লা আবর্জনা আমার ঘরে ও ভাড়াটিয়াদের কক্ষে ধুলাবালির প্রবেশ আসবাবপত্র নষ্ট হচ্ছে। আমরা পৌরসভায় লিখিত অভিযোগ করি। পৌরসভা থেকে নিষেধ করা সত্বে ও বিল্লাল খান বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে ভেতরে কাজ করে যাচ্ছে। তিনি আরো বলেন, আমার জায়গা দখল করে সে ভবন করছে। আমি বাসাটি দেখভাল না করে আমার মেয়ে সেখানে থেকে বাসাটি পরিচালনা করে। আমার বাসার পৌরসভার হোল্ডিং ০৬৫১/১।পার্শ্ববর্তী নবনির্মিত ভবনের মালিক বিল্লাল খানের বাসার পৌরসভার হোল্ডিং ০৬৫১।

Model Hospital

এ‌বিষ‌য়ে চাঁদপুর পৌরসভার প‌্যা‌নেল মেয়র ও ৮নং কাউ‌ন্সিলর অ্যড‌ঃ  হেলাল হো‌সাইন জানান, গুয়া‌খোলা রোড‌ে যেদু‌টি ভবন নি‌য়ে সমাস‌্যা, তারা উভয় পৌরসভার বি‌ল্ডিং কোড অমান‌্য ক‌রে নির্মাণ কাজ চা‌লি‌য়ে যা‌চ্ছে।

এ‌বিষ‌য়ে ভবন মা‌লিক রাজন ব‌লেন, যখন তারা বি‌ল্ডিংএর কাজ ক‌রেছে তখন আমা‌দের জায়গা ব‌্যবহার ক‌রে‌ছে। বর্তমান সম‌য়ে আমার বি‌ল্ডিংএর কাজ করার সময় তা‌দের জায়গা ব‌্যবহার কর‌তে দি‌চ্ছে না।

৩০ বছর ধরে গাছ লাগিয়ে গ্রামের সড়কের চিত্র বদলে দিলেন মসজিদের ইমাম রেজাউল

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৯:৫৯ পিএম
৩০ বছর ধরে গাছ লাগিয়ে গ্রামের সড়কের চিত্র বদলে দিলেন মসজিদের ইমাম রেজাউল

মসজিদে ইমামতির পাশাপাশি প্রায় ৩০ বছর ধরে বৃক্ষরোপণ করে আসছেন ভোলার চরফ্যাশন উপজেলার ওমরপুর ইউনিয়নের মো. রেজাউল কিবরিয়া বাবুল। নিজের অর্থ ও উদ্যোগে বিভিন্ন সড়কের পাশে হাজার হাজার গাছের চারা রোপণ ও পরিচর্যা করে গড়ে তুলেছেন সবুজের আবরণ। তার লাগানো সারি সারি তালগাছে বদলে গেছে গ্রামের একটি সড়কের চিত্র।

স্থানীয়দের কাছে রেজাউল কিবরিয়া বাবুল একজন ইমাম হিসেবে পরিচিত হলেও বৃক্ষপ্রেমী হিসেবেও রয়েছে তার আলাদা পরিচিতি। তিনি ওমরপুর ইউনিয়নের কালাপানিয়া বাজার বাইতুল মামুর জামে মসজিদের ইমাম। ইমামতির পাশাপাশি অবসর সময়ে গাছ লাগানো ও পরিচর্যায় নিজেকে নিয়োজিত রাখেন তিনি।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, প্রায় তিন দশক আগে বৃক্ষরোপণের উদ্যোগ নেন রেজাউল কিবরিয়া। ১৯৯৩-৯৪ সালের দিকে পৈতৃক সম্পত্তি বিক্রি করে প্রায় ৮ লাখ টাকা ব্যয়ে ভুঁইয়ারহাট এলাকায় একটি নার্সারি গড়ে তোলেন। সেখান থেকে উৎপাদিত ও সংগ্রহ করা বিভিন্ন জাতের গাছের চারা এলাকার সড়কের পাশে রোপণ করতে শুরু করেন। একই সঙ্গে মাইকিং করে স্থানীয়দের গাছ লাগাতে উৎসাহিত করতেন।

তার লাগানো গাছের মধ্যে রয়েছে তাল, ফলজ ও বিভিন্ন ঔষধি গাছ। ওমরপুর গ্রামের বাউল সড়কের দুই পাশে প্রায় দুই দশক আগে লাগানো তালগাছগুলো এখন বড় হয়ে সারি সারি দাঁড়িয়ে আছে। দূর থেকে দেখলে পুরো সড়কটি যেন সবুজে ঘেরা একটি প্রাকৃতিক পথ। গাছের ছায়ায় পথচারী ও কৃষকেরা স্বস্তি পান। স্থানীয়দের পাশাপাশি বাইরের লোকজনও এখন এই সড়কের সৌন্দর্য দেখতে আসেন।

Model Hospital

শুধু বাউল সড়ক নয়, ওমরপুর ইউনিয়নের আরও কয়েকটি সড়কের পাশেও গাছ লাগিয়েছেন তিনি। চারা রোপণের পর নিয়মিত সেগুলোর পরিচর্যাও করেন। অনেক গাছ নষ্ট হয়ে গেলেও বৃক্ষরোপণের কাজ থেকে পিছিয়ে যাননি তিনি।

স্থানীয়দের মতে, সরকারি কোনো প্রকল্পের অপেক্ষায় না থেকে একজন ইমামের ব্যক্তিগত উদ্যোগে দীর্ঘদিন ধরে গাছ লাগানোর এই প্রচেষ্টা শুধু একটি সড়কের সৌন্দর্যই বদলায়নি, বরং স্থানীয়দের মধ্যেও বৃক্ষরোপণের আগ্রহ তৈরি করেছে।

স্থানীয় বাসিন্দা শাহজাহান, লিটন, আলমগীর ও যুবক তুহিন জানান, বাউল সড়কের দুই পাশে এখন শত শত তালগাছ রয়েছে। গাছগুলো বড় হয়ে ওঠায় সড়কটির সৌন্দর্য অনেক বেড়েছে। বিকেল ও সন্ধ্যায় স্থানীয়রা সেখানে সময় কাটান। দূর-দূরান্ত থেকেও অনেকে এই সড়কের সৌন্দর্য দেখতে আসেন। রেজাউল কিবরিয়ার উদ্যোগ দেখে তারাও নিজেদের জায়গায় বেশি করে গাছ লাগাতে উৎসাহিত হয়েছেন।

রেজাউল কিবরিয়া বাবুল বলেন, ‘পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা এবং আল্লাহর সন্তুষ্টির আশায় আমি প্রায় তিন দশক ধরে গাছ লাগিয়ে আসছি। ১৯৯৩-৯৪ সালে এ কাজ শুরু করি। এ পর্যন্ত বিভিন্ন জায়গায় প্রায় ৫০ থেকে ৬০ হাজার গাছের চারা লাগিয়েছি। এর মধ্যে তালগাছের বীজ ও চারা রয়েছে প্রায় ২৫ থেকে ৩০ হাজার।’

তিনি বলেন, সব গাছ টিকিয়ে রাখা সম্ভব হয়নি। তবে গাছ লাগানোর কাজ থেকে কখনো সরে আসেননি। বর্তমানে নিজে নার্সারিতে চারা উৎপাদনের সময় না পাওয়ায় ঝালকাঠির স্বরূপকাঠি থেকে বিভিন্ন ধরনের চারা সংগ্রহ করে রোপণ করছেন।

তালগাছ লাগানোর বিষয়ে তিনি বলেন, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বজ্রপাতের ঘটনা বেড়ে যাওয়ায় তালগাছ লাগানোর ওপর বেশি গুরুত্ব দিচ্ছেন তিনি। পাশাপাশি বন বিভাগের পরামর্শও নিয়ে থাকেন।

রেজাউল কিবরিয়া আরও বলেন, ‘আমি গাছ লাগানোকে সদকায়ে জারিয়া হিসেবে দেখি। একটি গাছ শুধু বর্তমান প্রজন্মের জন্য নয়, ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্যও ছায়া, সৌন্দর্য ও উপকারের উৎস। যতদিন বেঁচে থাকব, ততদিনই গাছ লাগানোর এই কাজ চালিয়ে যেতে চাই।’

তার ভাষ্য, গ্রামের প্রতিটি সড়ক ও আশপাশের এলাকা সবুজে ভরে তোলাই তার লক্ষ্য। একই সঙ্গে তরুণদের খারাপ অভ্যাস থেকে দূরে রাখতে ফল ও ফুলের বাগান করার আহ্বান জানান তিনি।

রেজাউল কিবরিয়ার দীর্ঘদিনের উদ্যোগের বিষয়ে চরফ্যাশন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রুমানা আফরোজ বলেন, ‘গাছ লাগানো অবশ্যই একটি ভালো উদ্যোগ। রেজাউল কিবরিয়া সাহেবের দীর্ঘদিনের এ কাজের বিষয়টি আমার জানা ছিল না। খোঁজ নিয়ে এ বিষয়ে তার পাশে দাঁড়ানোর চেষ্টা করব।’