শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১ আশ্বিন ১৪৩৩
শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১ আশ্বিন ১৪৩৩

বিষপানে স্বামীর আত্মহত্যা

চাঁদপুরে বিয়ের ৫ দিনের মাথায় প্রেমিকের সাথে নববধূ উধাও

মো. মাসুদ হোসেন প্রকাশিত: বুধবার, ১৩ মার্চ, ২০২৪, ১০:২৪ পিএম
চাঁদপুরে বিয়ের ৫ দিনের মাথায় প্রেমিকের সাথে নববধূ উধাও
চাঁদপুরে পরকীয়ার জেরে সাবেক প্রেমিকের সাথে নববধূ চলে যাওয়ার খবর শুনে শশুর বাড়িতেই প্রাণ দিলেন স্বামী। ঘটনাটি ঘটেছে চাঁদপুর সদর উপজেলার ৫নং রামপুর ইউনিয়নের আলগী পাঁচগাঁও এলাকায়।
পুত্রহারা মা বাবার আহাজারিতে ভারী হয়েছে আশপাশের পরিবেশ। এলাকায় নেমে আসে এক শোকের ছায়া।
পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, চাঁদপুর শহরের কোড়ালিয়া রোডের বিআইডব্লিওটিএ এর চাঁদপুর শাখার পরিদর্শক পাইলট দিদারুল আলম এর মেয়ে খাদিজা আক্তার সাথে গত বৃহস্পতিবার (৭ মার্চ) রামপুর ইউনিয়নের আলগী পাঁচগাঁও খান বাড়ীর খোরশেদ আলম খানের বড় ছেলে ইবাদ খানের পারিবারিকভাবে বিয়ে হয়। বিয়ের রাতেই বাসর ঘরে স্বামী ইবাদ খানকে কাছে আসতে দেয়নি নববধূ খাদিজা আক্তার। যা পরদিন সকালেই তার মা সুলতানা বেগমকে জানায় ইবাদ খান।
তার মা সব ঠিক হয়ে যাবে বলে ইবাদকে ধৈর্য ধরে থাকতে বলেন। কিন্তু একই ঘটনা ঘটে পরবর্তী দিনগুলোতে। এরপর নববধূ খাদিজা আক্তার তার বাবার বাড়িতে গেলে গত সোমবার (১১ মার্চ) স্বামীর বাড়ীতে আসার কথা থাকলেও সে অসুস্থ দাবী করে পরদিন মঙ্গলবার আসবে বলে জানান। কিন্তু সোমবার রাতেই সে একটি চিঠি লিখে তার প্রেমিকার কাছে চলে যায়।
এ খবর পেয়ে ইবাদ খান মঙ্গলবার (১২ মার্চ) তার শ্বশুর বাড়িতে গিয়ে বাবা মাকে বিষয়টি অবগত করে। পরে এদিন বিকেলে ইবাদের বাবা খোরশেদ আলম খান ও মা সুলতানা বেগম তার শ্বশুর বাড়িতে যায়। পরে খাদিজার বাবা ইবাদের বাবাকে উভয় পক্ষ থানায় গিয়ে অভিযোগ করার জন্য বলে।
এসময় ইবাদ খান অন্য কক্ষে ছিলেন। সন্ধ্যা সোয়া ৬টার দিকে হঠাৎ কিছু চেঁছামেছির শব্দ শুনে গিয়ে দেখে ইবাদ বিষ খেয়ে চটপট করছে। হাসপাতালে নেওয়ার আগেই সে মারা যায় বলে ইবাদের মা সুলতানা বেগম জানান। ময়নাতদন্ত শেষে বুধবার (১৩ মার্চ) বাদ আছর জানাজা শেষে নিজ বাড়ীর কবরস্থানে তাকে দাফন করা হয়। এ ঘটনায় নববধূ খাদিজা আক্তারের উপযুক্ত বিচার চেয়েছেন ইবাদ খানের পরিবার সহ এলাকাবাসী।
উল্লেখ্য, নিহত ইবাদ খান চাঁদপুর সদর উপজেলার ৫নং রামপুর ইউনিয়ন পরিষদের সংরক্ষিত মহিলা মেম্বার সুলতানা বেগম ও ইউনিয়ন যুবলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক মোঃ খোরশেদ আলম খানের ছেলে। সে পেশায় একটি প্রাইভেট হাসপাতালের মার্কেটিং এ কাজ করতেন। দুই ভাই বোনের মধ্যে সবার বড়।

৩০ বছর ধরে গাছ লাগিয়ে গ্রামের সড়কের চিত্র বদলে দিলেন মসজিদের ইমাম রেজাউল

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৯:৫৯ পিএম
৩০ বছর ধরে গাছ লাগিয়ে গ্রামের সড়কের চিত্র বদলে দিলেন মসজিদের ইমাম রেজাউল

মসজিদে ইমামতির পাশাপাশি প্রায় ৩০ বছর ধরে বৃক্ষরোপণ করে আসছেন ভোলার চরফ্যাশন উপজেলার ওমরপুর ইউনিয়নের মো. রেজাউল কিবরিয়া বাবুল। নিজের অর্থ ও উদ্যোগে বিভিন্ন সড়কের পাশে হাজার হাজার গাছের চারা রোপণ ও পরিচর্যা করে গড়ে তুলেছেন সবুজের আবরণ। তার লাগানো সারি সারি তালগাছে বদলে গেছে গ্রামের একটি সড়কের চিত্র।

স্থানীয়দের কাছে রেজাউল কিবরিয়া বাবুল একজন ইমাম হিসেবে পরিচিত হলেও বৃক্ষপ্রেমী হিসেবেও রয়েছে তার আলাদা পরিচিতি। তিনি ওমরপুর ইউনিয়নের কালাপানিয়া বাজার বাইতুল মামুর জামে মসজিদের ইমাম। ইমামতির পাশাপাশি অবসর সময়ে গাছ লাগানো ও পরিচর্যায় নিজেকে নিয়োজিত রাখেন তিনি।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, প্রায় তিন দশক আগে বৃক্ষরোপণের উদ্যোগ নেন রেজাউল কিবরিয়া। ১৯৯৩-৯৪ সালের দিকে পৈতৃক সম্পত্তি বিক্রি করে প্রায় ৮ লাখ টাকা ব্যয়ে ভুঁইয়ারহাট এলাকায় একটি নার্সারি গড়ে তোলেন। সেখান থেকে উৎপাদিত ও সংগ্রহ করা বিভিন্ন জাতের গাছের চারা এলাকার সড়কের পাশে রোপণ করতে শুরু করেন। একই সঙ্গে মাইকিং করে স্থানীয়দের গাছ লাগাতে উৎসাহিত করতেন।

তার লাগানো গাছের মধ্যে রয়েছে তাল, ফলজ ও বিভিন্ন ঔষধি গাছ। ওমরপুর গ্রামের বাউল সড়কের দুই পাশে প্রায় দুই দশক আগে লাগানো তালগাছগুলো এখন বড় হয়ে সারি সারি দাঁড়িয়ে আছে। দূর থেকে দেখলে পুরো সড়কটি যেন সবুজে ঘেরা একটি প্রাকৃতিক পথ। গাছের ছায়ায় পথচারী ও কৃষকেরা স্বস্তি পান। স্থানীয়দের পাশাপাশি বাইরের লোকজনও এখন এই সড়কের সৌন্দর্য দেখতে আসেন।

Model Hospital

শুধু বাউল সড়ক নয়, ওমরপুর ইউনিয়নের আরও কয়েকটি সড়কের পাশেও গাছ লাগিয়েছেন তিনি। চারা রোপণের পর নিয়মিত সেগুলোর পরিচর্যাও করেন। অনেক গাছ নষ্ট হয়ে গেলেও বৃক্ষরোপণের কাজ থেকে পিছিয়ে যাননি তিনি।

স্থানীয়দের মতে, সরকারি কোনো প্রকল্পের অপেক্ষায় না থেকে একজন ইমামের ব্যক্তিগত উদ্যোগে দীর্ঘদিন ধরে গাছ লাগানোর এই প্রচেষ্টা শুধু একটি সড়কের সৌন্দর্যই বদলায়নি, বরং স্থানীয়দের মধ্যেও বৃক্ষরোপণের আগ্রহ তৈরি করেছে।

স্থানীয় বাসিন্দা শাহজাহান, লিটন, আলমগীর ও যুবক তুহিন জানান, বাউল সড়কের দুই পাশে এখন শত শত তালগাছ রয়েছে। গাছগুলো বড় হয়ে ওঠায় সড়কটির সৌন্দর্য অনেক বেড়েছে। বিকেল ও সন্ধ্যায় স্থানীয়রা সেখানে সময় কাটান। দূর-দূরান্ত থেকেও অনেকে এই সড়কের সৌন্দর্য দেখতে আসেন। রেজাউল কিবরিয়ার উদ্যোগ দেখে তারাও নিজেদের জায়গায় বেশি করে গাছ লাগাতে উৎসাহিত হয়েছেন।

রেজাউল কিবরিয়া বাবুল বলেন, ‘পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা এবং আল্লাহর সন্তুষ্টির আশায় আমি প্রায় তিন দশক ধরে গাছ লাগিয়ে আসছি। ১৯৯৩-৯৪ সালে এ কাজ শুরু করি। এ পর্যন্ত বিভিন্ন জায়গায় প্রায় ৫০ থেকে ৬০ হাজার গাছের চারা লাগিয়েছি। এর মধ্যে তালগাছের বীজ ও চারা রয়েছে প্রায় ২৫ থেকে ৩০ হাজার।’

তিনি বলেন, সব গাছ টিকিয়ে রাখা সম্ভব হয়নি। তবে গাছ লাগানোর কাজ থেকে কখনো সরে আসেননি। বর্তমানে নিজে নার্সারিতে চারা উৎপাদনের সময় না পাওয়ায় ঝালকাঠির স্বরূপকাঠি থেকে বিভিন্ন ধরনের চারা সংগ্রহ করে রোপণ করছেন।

তালগাছ লাগানোর বিষয়ে তিনি বলেন, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বজ্রপাতের ঘটনা বেড়ে যাওয়ায় তালগাছ লাগানোর ওপর বেশি গুরুত্ব দিচ্ছেন তিনি। পাশাপাশি বন বিভাগের পরামর্শও নিয়ে থাকেন।

রেজাউল কিবরিয়া আরও বলেন, ‘আমি গাছ লাগানোকে সদকায়ে জারিয়া হিসেবে দেখি। একটি গাছ শুধু বর্তমান প্রজন্মের জন্য নয়, ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্যও ছায়া, সৌন্দর্য ও উপকারের উৎস। যতদিন বেঁচে থাকব, ততদিনই গাছ লাগানোর এই কাজ চালিয়ে যেতে চাই।’

তার ভাষ্য, গ্রামের প্রতিটি সড়ক ও আশপাশের এলাকা সবুজে ভরে তোলাই তার লক্ষ্য। একই সঙ্গে তরুণদের খারাপ অভ্যাস থেকে দূরে রাখতে ফল ও ফুলের বাগান করার আহ্বান জানান তিনি।

রেজাউল কিবরিয়ার দীর্ঘদিনের উদ্যোগের বিষয়ে চরফ্যাশন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রুমানা আফরোজ বলেন, ‘গাছ লাগানো অবশ্যই একটি ভালো উদ্যোগ। রেজাউল কিবরিয়া সাহেবের দীর্ঘদিনের এ কাজের বিষয়টি আমার জানা ছিল না। খোঁজ নিয়ে এ বিষয়ে তার পাশে দাঁড়ানোর চেষ্টা করব।’