শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১ আশ্বিন ১৪৩৩
শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১ আশ্বিন ১৪৩৩

ভবিষ্যতে বাজারের ৩ কিলো মিটারের মধ্যে মেলা হলে কঠোর আন্দোলন

হাজীগঞ্জে শুক্রবারের মধ্যে মেলা বন্ধ না হলে শনিবার মানববন্ধন ও রবিবার সড়ক অবরোধ

নিজস্ব প্রতিনিধি প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ১৪ মার্চ, ২০২৪, ১১:৪৮ পিএম
হাজীগঞ্জে শুক্রবারের মধ্যে মেলা বন্ধ না হলে শনিবার মানববন্ধন ও রবিবার সড়ক অবরোধ

হাজীগঞ্জ বাজারস্থ বালুর মাঠে (গাজীর খাদা) মাসব্যাপী অনুষ্ঠিত মেলা বন্ধের আলটিমেটাম দিয়েছেন, হাজীগঞ্জ বাজার ব্যবসায়ী সমিতির নেতৃবৃন্দ।

বৃহস্পতিবার (১৪ মার্চ) সন্ধ্যায় সমিতি কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত এক প্রতিবাদ সভায় এই আলটিমেটাম দেন ব্যবসায়ীরা।

সভায় বাজারস্থ বিভিন্ন মার্কেটের পক্ষে বক্তব্য শেষে দুই দিনের কর্মসূচি ঘোষণা করেন, অনুষ্ঠানের সভাপতি ও বাজার ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি আলহাজ্ব আসফাকুল আলম চৌধুরী। তিনি বলেন, শুক্রবারের মধ্যে মেলার সকল কার্যক্রম বন্ধ না হলে শনিবার মানববন্ধন ও রবিবার সড়ক অবরোধ করা হবে।

বাজার ব্যবসায়ী সমিতির সাধারণ সম্পাদক হায়দার পারভেজ সুজনের উপস্থাপনায় সভায় ব্যবসায়ীরা বলেন, মহামারি করোনার প্রভাবে বাজারে প্রায় ৪ হাজার ব্যবসায়ী মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছেন। এ ক্ষতি পুষিয়ে ওঠাতে ব্যবসায়ীরা ব্যাংক ও এনজিও থেকে ঋণ নিয়ে এবং ধারদেনা করে ব্যবসা পরিচালনা করে আসছেন।

Model Hospital

এছাড়াও বছরের ১১টি মাস ব্যবসায়ীরা লসে-লাভে ব্যবসা করে থাকে। তারা ঈদকে সামনে রেখে ঋণ ও ধার-দেনা করে দোকানে মালামাল মজুদ করে। কিন্তু মেলার কারণে ব্যবসায়ীরা আবারও ক্ষতির সম্মুখিন হচ্ছে। টানা একমাস মেলা হয়েছে। এখন সময় শেষ, মেলার আনুষ্ঠানিকতা সমাপ্ত করা হবে। অথচ মেলা বন্ধ না করে মেয়াদ বৃদ্ধি কিংবা বস্ত্র প্রদশর্নী বা অন্য নামে মেলার চালিয়ে যাওয়ার পায় পাঁয়তার চলছে বলে আমরা জানতে পেরেছি।

এ সময় ব্যবসায়ীরা বলেন, আমরা দোকানের এ্যাডভান্স ও ভাড়া দিয়ে, ভ্যাট, ট্যাক্স, ট্রেড লাইসেন্স, বিভিন্ন লাইসেন্সসহ লাখ লাখ টাকা খরচ করে ব্যবসা করছি। অথচ বহিরাগতরা এসে ব্যবসা করে যাবে, তা হতে পারে না। এখানে ২/১ জন লোক ৩/৪ হাজার ব্যবসায়ীকে জিম্মি করে ব্যবসা করার সুযোগ নেই।

আমারদেরকে (ব্যবসায়ীদের) রাস্তায় নামতে বাধ্য করবেন না উল্লেখ করে সরকারের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন ব্যবসায়ীরা। তারা আরও বলেন, আমরা চাই এ মেলা দ্রুত বন্ধ করা হোক এবং ভবিষ্যতে হাজীগঞ্জ বাজারের ৩ কিলোমিটারের মধ্যে আর কোন মেলা যেন না হয় এবং কর্তৃপক্ষ যেন তাদের অনুমতি না দেন।

এ সময় রয়েল রওশন মার্কেটের পক্ষে বক্তব্য দেন কাজী গোলাম সরোয়ার দিদার, ফুলেল সুপার মার্কেটের পক্ষে মজিবুর রহমান, হকার্স মার্কেটের পক্ষে খোরশেদ আলম, হাজীঞ্জ প্লাজার মার্কেটের পক্ষে জিয়াউল হক জিয়া, হাজীগঞ্জ টাওয়ার মার্কেটের পক্ষে জিসান আহমেদ, পৌর বিপনী বিতান মার্কেটের পক্ষে আব্দুল হাই, নূর আহমেদ প্লাজা মার্কেটের পক্ষে আশ্রাফ উদ্দিন, আহমেদ প্লাজা মার্কেটের পক্ষে জসিম উদ্দিন, বিজনেস পার্ক মকিমউদ্দিন শপিং সেন্টার মার্কেটের পক্ষে মানিক সরকার প্রমুখ।

সভায় বিভিন্ন মার্কেটের অর্ধ-শতাধিক ব্যবসায়ী উপস্থিত ছিলেন।

৩০ বছর ধরে গাছ লাগিয়ে গ্রামের সড়কের চিত্র বদলে দিলেন মসজিদের ইমাম রেজাউল

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৯:৫৯ পিএম
৩০ বছর ধরে গাছ লাগিয়ে গ্রামের সড়কের চিত্র বদলে দিলেন মসজিদের ইমাম রেজাউল

মসজিদে ইমামতির পাশাপাশি প্রায় ৩০ বছর ধরে বৃক্ষরোপণ করে আসছেন ভোলার চরফ্যাশন উপজেলার ওমরপুর ইউনিয়নের মো. রেজাউল কিবরিয়া বাবুল। নিজের অর্থ ও উদ্যোগে বিভিন্ন সড়কের পাশে হাজার হাজার গাছের চারা রোপণ ও পরিচর্যা করে গড়ে তুলেছেন সবুজের আবরণ। তার লাগানো সারি সারি তালগাছে বদলে গেছে গ্রামের একটি সড়কের চিত্র।

স্থানীয়দের কাছে রেজাউল কিবরিয়া বাবুল একজন ইমাম হিসেবে পরিচিত হলেও বৃক্ষপ্রেমী হিসেবেও রয়েছে তার আলাদা পরিচিতি। তিনি ওমরপুর ইউনিয়নের কালাপানিয়া বাজার বাইতুল মামুর জামে মসজিদের ইমাম। ইমামতির পাশাপাশি অবসর সময়ে গাছ লাগানো ও পরিচর্যায় নিজেকে নিয়োজিত রাখেন তিনি।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, প্রায় তিন দশক আগে বৃক্ষরোপণের উদ্যোগ নেন রেজাউল কিবরিয়া। ১৯৯৩-৯৪ সালের দিকে পৈতৃক সম্পত্তি বিক্রি করে প্রায় ৮ লাখ টাকা ব্যয়ে ভুঁইয়ারহাট এলাকায় একটি নার্সারি গড়ে তোলেন। সেখান থেকে উৎপাদিত ও সংগ্রহ করা বিভিন্ন জাতের গাছের চারা এলাকার সড়কের পাশে রোপণ করতে শুরু করেন। একই সঙ্গে মাইকিং করে স্থানীয়দের গাছ লাগাতে উৎসাহিত করতেন।

তার লাগানো গাছের মধ্যে রয়েছে তাল, ফলজ ও বিভিন্ন ঔষধি গাছ। ওমরপুর গ্রামের বাউল সড়কের দুই পাশে প্রায় দুই দশক আগে লাগানো তালগাছগুলো এখন বড় হয়ে সারি সারি দাঁড়িয়ে আছে। দূর থেকে দেখলে পুরো সড়কটি যেন সবুজে ঘেরা একটি প্রাকৃতিক পথ। গাছের ছায়ায় পথচারী ও কৃষকেরা স্বস্তি পান। স্থানীয়দের পাশাপাশি বাইরের লোকজনও এখন এই সড়কের সৌন্দর্য দেখতে আসেন।

Model Hospital

শুধু বাউল সড়ক নয়, ওমরপুর ইউনিয়নের আরও কয়েকটি সড়কের পাশেও গাছ লাগিয়েছেন তিনি। চারা রোপণের পর নিয়মিত সেগুলোর পরিচর্যাও করেন। অনেক গাছ নষ্ট হয়ে গেলেও বৃক্ষরোপণের কাজ থেকে পিছিয়ে যাননি তিনি।

স্থানীয়দের মতে, সরকারি কোনো প্রকল্পের অপেক্ষায় না থেকে একজন ইমামের ব্যক্তিগত উদ্যোগে দীর্ঘদিন ধরে গাছ লাগানোর এই প্রচেষ্টা শুধু একটি সড়কের সৌন্দর্যই বদলায়নি, বরং স্থানীয়দের মধ্যেও বৃক্ষরোপণের আগ্রহ তৈরি করেছে।

স্থানীয় বাসিন্দা শাহজাহান, লিটন, আলমগীর ও যুবক তুহিন জানান, বাউল সড়কের দুই পাশে এখন শত শত তালগাছ রয়েছে। গাছগুলো বড় হয়ে ওঠায় সড়কটির সৌন্দর্য অনেক বেড়েছে। বিকেল ও সন্ধ্যায় স্থানীয়রা সেখানে সময় কাটান। দূর-দূরান্ত থেকেও অনেকে এই সড়কের সৌন্দর্য দেখতে আসেন। রেজাউল কিবরিয়ার উদ্যোগ দেখে তারাও নিজেদের জায়গায় বেশি করে গাছ লাগাতে উৎসাহিত হয়েছেন।

রেজাউল কিবরিয়া বাবুল বলেন, ‘পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা এবং আল্লাহর সন্তুষ্টির আশায় আমি প্রায় তিন দশক ধরে গাছ লাগিয়ে আসছি। ১৯৯৩-৯৪ সালে এ কাজ শুরু করি। এ পর্যন্ত বিভিন্ন জায়গায় প্রায় ৫০ থেকে ৬০ হাজার গাছের চারা লাগিয়েছি। এর মধ্যে তালগাছের বীজ ও চারা রয়েছে প্রায় ২৫ থেকে ৩০ হাজার।’

তিনি বলেন, সব গাছ টিকিয়ে রাখা সম্ভব হয়নি। তবে গাছ লাগানোর কাজ থেকে কখনো সরে আসেননি। বর্তমানে নিজে নার্সারিতে চারা উৎপাদনের সময় না পাওয়ায় ঝালকাঠির স্বরূপকাঠি থেকে বিভিন্ন ধরনের চারা সংগ্রহ করে রোপণ করছেন।

তালগাছ লাগানোর বিষয়ে তিনি বলেন, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বজ্রপাতের ঘটনা বেড়ে যাওয়ায় তালগাছ লাগানোর ওপর বেশি গুরুত্ব দিচ্ছেন তিনি। পাশাপাশি বন বিভাগের পরামর্শও নিয়ে থাকেন।

রেজাউল কিবরিয়া আরও বলেন, ‘আমি গাছ লাগানোকে সদকায়ে জারিয়া হিসেবে দেখি। একটি গাছ শুধু বর্তমান প্রজন্মের জন্য নয়, ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্যও ছায়া, সৌন্দর্য ও উপকারের উৎস। যতদিন বেঁচে থাকব, ততদিনই গাছ লাগানোর এই কাজ চালিয়ে যেতে চাই।’

তার ভাষ্য, গ্রামের প্রতিটি সড়ক ও আশপাশের এলাকা সবুজে ভরে তোলাই তার লক্ষ্য। একই সঙ্গে তরুণদের খারাপ অভ্যাস থেকে দূরে রাখতে ফল ও ফুলের বাগান করার আহ্বান জানান তিনি।

রেজাউল কিবরিয়ার দীর্ঘদিনের উদ্যোগের বিষয়ে চরফ্যাশন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রুমানা আফরোজ বলেন, ‘গাছ লাগানো অবশ্যই একটি ভালো উদ্যোগ। রেজাউল কিবরিয়া সাহেবের দীর্ঘদিনের এ কাজের বিষয়টি আমার জানা ছিল না। খোঁজ নিয়ে এ বিষয়ে তার পাশে দাঁড়ানোর চেষ্টা করব।’