শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১ আশ্বিন ১৪৩৩
শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১ আশ্বিন ১৪৩৩

ফরিদগঞ্জে পৃথক দু’টি ভয়াবহ অগ্নীকান্ডে ৩টি বসতঘর ও ১টি ব্যবসা প্রতিষ্ঠান পুড়ে ছাই

এস এম ইকবাল প্রকাশিত: শুক্রবার, ১৫ মার্চ, ২০২৪, ৪:৪৭ পিএম
ফরিদগঞ্জে পৃথক দু’টি ভয়াবহ অগ্নীকান্ডে ৩টি বসতঘর ও ১টি ব্যবসা প্রতিষ্ঠান পুড়ে ছাই
চাঁদপুরের ফরিদগঞ্জে দুটি পৃথক ভয়াবহ অগ্নীকান্ডে ৩টি বসতঘর এবং ১টি ব্যবসা প্রতিষ্ঠান সম্পূর্ণ পুড়ে গেছে। অগ্নিকান্ডের ঘটনায় ৪ পরিবারের প্রায় অর্ধ কোটি টাকার ক্ষতি হয়েছে।

শুক্রবার (১৫ মার্চ)গভীর রাত (আনুমানিক ১ টার সময়) উপজেলার গোবিন্দপুর দক্ষিণ ইউনিয়নের পশ্চিম লাড়ুয়া মহিলা মাদ্রাসার (মান্নানের দোকানের সামনে) তাকওয়া স্টোরে বিদেশ প্রেরত দুলালের মদি দোকানে ও একই দিনে সকাল (সাড়ে ৬টার সময়)  রূপসা উত্তর ইউনিয়নের ঘোড়াশালা গ্রামের হাজী বাড়িতে তিনটি বসতঘরে এ অগ্নীকান্ডের ঘটনা ঘটে। এত প্রায় অর্ধ কোটি টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে।
উভয়স্থানে সংবাদ পেয়ে ফরিদগঞ্জ ফায়ার সার্ভিস ও হাইমচর ফায়ার সার্ভিস কর্মীরা ঘটনাস্থলে গিয়ে আগুণ নিয়ন্ত্রণে আনে।
তাকওয়া স্টোরের মালিক ক্ষতিগ্রস্থ দুলাল বেপারি জানান, ২৫ বছর প্রবাস জীবন কাটানোর পর গত ২ বছর পূর্বে বাড়িতে এসে মুদি দোকান দেই। পূর্বের মালামালের সাথে রমজান উপলক্ষে নতুন উঠানোসহ প্রায় দোকানে প্রায় ৩০ লক্ষ টাকার মালামাল ছিল। রাত ১টার দিকে হঠাৎ করেই আগুন লেগে আমার সব শেষ হয়ে গেছে।
ফরিদগঞ্জ ও হাইমচর থেকে ফায়ার সার্ভিসের টিম আসলেও ততক্ষণে আমার পুরো দোকান  ও মালামাল পুড়ে গেছে। আগুণে প্রায় ৩০ লক্ষ টাকার মালামাল ও সম্পদ ভষ্মীভূত হয়েছে।
কিভাবে আগুনের সূত্রপাত হয়েছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, আমি রাতে দোকান বন্ধ করার সময় বিদ্যুতের মেইন সুইচ ও সকল ধরনেরর বিদ্যুতের সংযোগ বন্ধ করে দিয়েছি। আমি দোকান বন্ধ করার দুই ঘন্টা পর আগুনের ঘটনাটি সন্দেহজনক।
তিনি আরো বলেন, আমার দোকানে কেউ আগুন লাগিয়ে দিয়েছে। আমি প্রশাসনের কাছে অনুরোধ জানাই, আমার দোকানে আগুনের ঘটনাটি খতিয়ে দেখলে সকল ঘটনা উদঘাটন হবে।
পাশের দোকানের মালিক বোরহান গাজী বলেন, রাত সাড়ে এগারোটায় দোকান বন্ধ করে বাড়ি যাই, এরপর স্থানীয়দের ডাক চিৎকারে রাত ১ টার সময় ছুটে এসে দেখি দুলাল বেপারির দোকানে আগুন জ্বলছে।
একই দিনের শুক্রবার সকালে রূপসা উত্তর ইউনিয়নের ঘোড়াশালা গ্রামের হাজী বাড়ির দিনমজুর খোরশেদ আলম খোকা, বিল্লাল হোসেন ও স্বামী পরিত্যক্তা লিলু বেগমের বসতঘরটি আসবাবপত্রসহ সম্পূর্ণ পুড়ে যায়। ফলে ৩টি পরিবার সর্বশান্ত হয়ে খোলা আকাশের নিছে বসবাস করার উপক্রম হয়েছে। আগুণে অন্তত ১০ লক্ষ টাকার ক্ষতি হয়েছে বলে ক্ষতিগ্রস্থ পরিবারের দাবী।
স্থানীয় ইউপি সদস্য আনোয়ার হোসেন বলেন, আগুনের খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে গিয়ে খোজ খবর নিয়েছি। ক্ষতিগ্রস্থ পরিবার  গুলো একেবারেই নিঃস্ব। রোজার সময় তাদের এমন সর্বনাশ নেমে আসায় চরম দুর্ভোগে পড়তে হলো।
রূপসা উত্তর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান এস এম কাউসার উল আলম কামরুল জানান, ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের সহায়তার জন্য উপজেলা প্রশাসনের কাছে সাহায্য চাওয়া হবে।
ফরিদগঞ্জ ফায়ার সার্ভিসের দলনেতা মো. বিল্লাল হোসেন বলেন, একই দিনে দুটি অগ্নিকান্ডের ঘটনার সংবাদ পেয়ে ঘটনাস্থলে গিয়ে আগুন নিয়ন্ত্রনে আনতে সক্ষম হয়েছি। কিভাবে আগুনের সূত্রপাত হয়েছে জানাতে চাইলে তিনি বলেন, দুটি অগ্নিকান্ডই বৈদ্যুতিক শর্ট থেকে হয়েছে।

৩০ বছর ধরে গাছ লাগিয়ে গ্রামের সড়কের চিত্র বদলে দিলেন মসজিদের ইমাম রেজাউল

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৯:৫৯ পিএম
৩০ বছর ধরে গাছ লাগিয়ে গ্রামের সড়কের চিত্র বদলে দিলেন মসজিদের ইমাম রেজাউল

মসজিদে ইমামতির পাশাপাশি প্রায় ৩০ বছর ধরে বৃক্ষরোপণ করে আসছেন ভোলার চরফ্যাশন উপজেলার ওমরপুর ইউনিয়নের মো. রেজাউল কিবরিয়া বাবুল। নিজের অর্থ ও উদ্যোগে বিভিন্ন সড়কের পাশে হাজার হাজার গাছের চারা রোপণ ও পরিচর্যা করে গড়ে তুলেছেন সবুজের আবরণ। তার লাগানো সারি সারি তালগাছে বদলে গেছে গ্রামের একটি সড়কের চিত্র।

স্থানীয়দের কাছে রেজাউল কিবরিয়া বাবুল একজন ইমাম হিসেবে পরিচিত হলেও বৃক্ষপ্রেমী হিসেবেও রয়েছে তার আলাদা পরিচিতি। তিনি ওমরপুর ইউনিয়নের কালাপানিয়া বাজার বাইতুল মামুর জামে মসজিদের ইমাম। ইমামতির পাশাপাশি অবসর সময়ে গাছ লাগানো ও পরিচর্যায় নিজেকে নিয়োজিত রাখেন তিনি।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, প্রায় তিন দশক আগে বৃক্ষরোপণের উদ্যোগ নেন রেজাউল কিবরিয়া। ১৯৯৩-৯৪ সালের দিকে পৈতৃক সম্পত্তি বিক্রি করে প্রায় ৮ লাখ টাকা ব্যয়ে ভুঁইয়ারহাট এলাকায় একটি নার্সারি গড়ে তোলেন। সেখান থেকে উৎপাদিত ও সংগ্রহ করা বিভিন্ন জাতের গাছের চারা এলাকার সড়কের পাশে রোপণ করতে শুরু করেন। একই সঙ্গে মাইকিং করে স্থানীয়দের গাছ লাগাতে উৎসাহিত করতেন।

তার লাগানো গাছের মধ্যে রয়েছে তাল, ফলজ ও বিভিন্ন ঔষধি গাছ। ওমরপুর গ্রামের বাউল সড়কের দুই পাশে প্রায় দুই দশক আগে লাগানো তালগাছগুলো এখন বড় হয়ে সারি সারি দাঁড়িয়ে আছে। দূর থেকে দেখলে পুরো সড়কটি যেন সবুজে ঘেরা একটি প্রাকৃতিক পথ। গাছের ছায়ায় পথচারী ও কৃষকেরা স্বস্তি পান। স্থানীয়দের পাশাপাশি বাইরের লোকজনও এখন এই সড়কের সৌন্দর্য দেখতে আসেন।

Model Hospital

শুধু বাউল সড়ক নয়, ওমরপুর ইউনিয়নের আরও কয়েকটি সড়কের পাশেও গাছ লাগিয়েছেন তিনি। চারা রোপণের পর নিয়মিত সেগুলোর পরিচর্যাও করেন। অনেক গাছ নষ্ট হয়ে গেলেও বৃক্ষরোপণের কাজ থেকে পিছিয়ে যাননি তিনি।

স্থানীয়দের মতে, সরকারি কোনো প্রকল্পের অপেক্ষায় না থেকে একজন ইমামের ব্যক্তিগত উদ্যোগে দীর্ঘদিন ধরে গাছ লাগানোর এই প্রচেষ্টা শুধু একটি সড়কের সৌন্দর্যই বদলায়নি, বরং স্থানীয়দের মধ্যেও বৃক্ষরোপণের আগ্রহ তৈরি করেছে।

স্থানীয় বাসিন্দা শাহজাহান, লিটন, আলমগীর ও যুবক তুহিন জানান, বাউল সড়কের দুই পাশে এখন শত শত তালগাছ রয়েছে। গাছগুলো বড় হয়ে ওঠায় সড়কটির সৌন্দর্য অনেক বেড়েছে। বিকেল ও সন্ধ্যায় স্থানীয়রা সেখানে সময় কাটান। দূর-দূরান্ত থেকেও অনেকে এই সড়কের সৌন্দর্য দেখতে আসেন। রেজাউল কিবরিয়ার উদ্যোগ দেখে তারাও নিজেদের জায়গায় বেশি করে গাছ লাগাতে উৎসাহিত হয়েছেন।

রেজাউল কিবরিয়া বাবুল বলেন, ‘পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা এবং আল্লাহর সন্তুষ্টির আশায় আমি প্রায় তিন দশক ধরে গাছ লাগিয়ে আসছি। ১৯৯৩-৯৪ সালে এ কাজ শুরু করি। এ পর্যন্ত বিভিন্ন জায়গায় প্রায় ৫০ থেকে ৬০ হাজার গাছের চারা লাগিয়েছি। এর মধ্যে তালগাছের বীজ ও চারা রয়েছে প্রায় ২৫ থেকে ৩০ হাজার।’

তিনি বলেন, সব গাছ টিকিয়ে রাখা সম্ভব হয়নি। তবে গাছ লাগানোর কাজ থেকে কখনো সরে আসেননি। বর্তমানে নিজে নার্সারিতে চারা উৎপাদনের সময় না পাওয়ায় ঝালকাঠির স্বরূপকাঠি থেকে বিভিন্ন ধরনের চারা সংগ্রহ করে রোপণ করছেন।

তালগাছ লাগানোর বিষয়ে তিনি বলেন, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বজ্রপাতের ঘটনা বেড়ে যাওয়ায় তালগাছ লাগানোর ওপর বেশি গুরুত্ব দিচ্ছেন তিনি। পাশাপাশি বন বিভাগের পরামর্শও নিয়ে থাকেন।

রেজাউল কিবরিয়া আরও বলেন, ‘আমি গাছ লাগানোকে সদকায়ে জারিয়া হিসেবে দেখি। একটি গাছ শুধু বর্তমান প্রজন্মের জন্য নয়, ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্যও ছায়া, সৌন্দর্য ও উপকারের উৎস। যতদিন বেঁচে থাকব, ততদিনই গাছ লাগানোর এই কাজ চালিয়ে যেতে চাই।’

তার ভাষ্য, গ্রামের প্রতিটি সড়ক ও আশপাশের এলাকা সবুজে ভরে তোলাই তার লক্ষ্য। একই সঙ্গে তরুণদের খারাপ অভ্যাস থেকে দূরে রাখতে ফল ও ফুলের বাগান করার আহ্বান জানান তিনি।

রেজাউল কিবরিয়ার দীর্ঘদিনের উদ্যোগের বিষয়ে চরফ্যাশন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রুমানা আফরোজ বলেন, ‘গাছ লাগানো অবশ্যই একটি ভালো উদ্যোগ। রেজাউল কিবরিয়া সাহেবের দীর্ঘদিনের এ কাজের বিষয়টি আমার জানা ছিল না। খোঁজ নিয়ে এ বিষয়ে তার পাশে দাঁড়ানোর চেষ্টা করব।’