শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১ আশ্বিন ১৪৩৩
শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১ আশ্বিন ১৪৩৩

বিদ্রোহী প্রার্থীদেরকে আওয়ামীলীগে জায়গা দেয়া হবে না; জিল্লুর রহমান জুয়েল

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শুক্রবার, ৩১ ডিসেম্বর, ২০২১, ৩:৩৭ পিএম
বিদ্রোহী প্রার্থীদেরকে আওয়ামীলীগে জায়গা দেয়া হবে না; জিল্লুর রহমান জুয়েল
মোঃ সাজ্জাদ হোসেন রনি : ৫ই জানুয়ারি ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন উপলক্ষে হাইমচর উপজেলার ২নং অালগী উত্তর ইউনিয়ন ৬নং ওয়ার্ড ১৪নং পশ্চিমচর কৃষ্ণপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় মাঠে নৌকা প্রতিকের চেয়ারম্যান প্রার্থী অাতিকুর রহমান পাটওয়ারীকে বিজয় করার লক্ষ্যে কর্মী সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
৩১ডিসেম্বর উপজেলার উত্তর অালগী গ্রামের ১৪নং পশ্চিমচর কৃষ্ণপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় মাঠে ৬নং ওয়ার্ডের কেন্দ্র কমিটির অাহবায়ক বিল্লাল হোসেন মাঝির সভাপতিত্বে এবং উপজেলা যুবলীগ যুগ্ন-অাহবায়ক কামরুল ইসলামের সঞ্চালনায় প্রধান অতিথি’র অাসন অলংকৃত করেন চাঁদপুর জেলার পৌর মেয়র জিল্লুর রহমান জুয়েল। প্রধান অতিথি’র বক্তব্যে জিল্লুর রহমান জুয়েল বলেন, অাগামী ৫ই জানুয়ারি ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে বাংলাদেশ অাওয়ামীলীগ সভানেত্রী ও গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা মনোনীত অালগী উত্তর ইউনিয়নের নৌকা’র প্রার্থী অাতিকুর রহমান পাটওয়ারীর বিজয় নিশ্চিত করতে অাপনারা এক ও অভিন্ন হয়ে কাজ করবেন। এবং অাজকের এই কর্মী সভায় সকলের উপস্থিতিতে বলতে চাই নৌকা বিরুদ্ধে যারা বিদ্রোহী প্রার্থী হিসেবে দাঁড়িয়েছেন তাদেরকে বাংলাদেশ অাওয়ামীলীগে কখনই স্থান দেওয়া হবে না।
এই সময় তিনি হাইমচর উপজেলার উন্নয়নের রুপকার সংসদ সদস্য শিক্ষামন্ত্রী ডাঃ দীপু মনি’র উন্নয়নের চিত্র তুলে ধরে বলেন, চাঁদপুর জেলায় ডাঃ দীপু মনি (এমপি’র) নির্দেশ অমান্যকারীরা অাওয়ামীলীগ থেকে চিরতরে বহিস্কার হবেন।
অন্যান্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন নৌকা প্রতিকের চেয়ারম্যান প্রার্থী অাতিকুর রহমান পাটওয়ারী, জেলা অাওয়ামীলীগ সাংগঠনিক সম্পাদক তোফাজ্জল হোসেন এসডু পাটোয়ারী, সাংগঠনিক সম্পাদক এড. মুজিবুর রহমান মুজিব, হাইমচর উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান ও উপজেলা অাওয়ামীলীগ সাধারণ সম্পাদক নূর হোসেন পাটোয়ারী, জেলা যুবলীগ যুগ্ন-অাহবায়ক মাহফুজুর রহমান টুটুল, উপজেলা অাওয়ামীলীগ তথ্য ও গভেষণা বিষয়ক নজরুল ইসলাম ভোলা মাঝি, অাওয়ামীলীগ নেতা ও শাহঅালম পাটোয়ারী, ছাত্রলীগ সাধারণ সম্পাদক নজরুল ইসলাম রনি, ৬নং ওয়ার্ডের সাবেক মেম্বার নাছির অাহমেদ বেপারি, ৬নং ওয়ার্ড অাওয়ামীলীগ সাধারণ সম্পাদক অাবুল হোসেন পাটোয়ারী, অাওয়ামীলীগ নেতা জুলিয়াস সর্দার।
উপস্থিত ছিলেন, চাঁদপুর জেলার প্যানেল মেয়র মোঃ অালী মাঝি, হাইমচর উপজেলা অাওয়ামীলীগ সভাপতি হুমায়ুন প্রধানীয়া, জেলা যুবলীগ সদস্য জিয়াউল অামীন, জেলা সাবেক সেচ্ছাসেবকলীগ সদস্য এমএ  হাসান লিটন, জেলা পৌরসভার সাবেক কমিশনার অাসলাম গাজী, উত্তর অালগী ইউনিয়ন যুবলীগ সভাপতি জাহাঙ্গীর সিকদার, সাধারণ সম্পাদক মুজিবুল্লাহ্ মানিক প্রমূখ।

৩০ বছর ধরে গাছ লাগিয়ে গ্রামের সড়কের চিত্র বদলে দিলেন মসজিদের ইমাম রেজাউল

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৯:৫৯ পিএম
৩০ বছর ধরে গাছ লাগিয়ে গ্রামের সড়কের চিত্র বদলে দিলেন মসজিদের ইমাম রেজাউল

মসজিদে ইমামতির পাশাপাশি প্রায় ৩০ বছর ধরে বৃক্ষরোপণ করে আসছেন ভোলার চরফ্যাশন উপজেলার ওমরপুর ইউনিয়নের মো. রেজাউল কিবরিয়া বাবুল। নিজের অর্থ ও উদ্যোগে বিভিন্ন সড়কের পাশে হাজার হাজার গাছের চারা রোপণ ও পরিচর্যা করে গড়ে তুলেছেন সবুজের আবরণ। তার লাগানো সারি সারি তালগাছে বদলে গেছে গ্রামের একটি সড়কের চিত্র।

স্থানীয়দের কাছে রেজাউল কিবরিয়া বাবুল একজন ইমাম হিসেবে পরিচিত হলেও বৃক্ষপ্রেমী হিসেবেও রয়েছে তার আলাদা পরিচিতি। তিনি ওমরপুর ইউনিয়নের কালাপানিয়া বাজার বাইতুল মামুর জামে মসজিদের ইমাম। ইমামতির পাশাপাশি অবসর সময়ে গাছ লাগানো ও পরিচর্যায় নিজেকে নিয়োজিত রাখেন তিনি।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, প্রায় তিন দশক আগে বৃক্ষরোপণের উদ্যোগ নেন রেজাউল কিবরিয়া। ১৯৯৩-৯৪ সালের দিকে পৈতৃক সম্পত্তি বিক্রি করে প্রায় ৮ লাখ টাকা ব্যয়ে ভুঁইয়ারহাট এলাকায় একটি নার্সারি গড়ে তোলেন। সেখান থেকে উৎপাদিত ও সংগ্রহ করা বিভিন্ন জাতের গাছের চারা এলাকার সড়কের পাশে রোপণ করতে শুরু করেন। একই সঙ্গে মাইকিং করে স্থানীয়দের গাছ লাগাতে উৎসাহিত করতেন।

তার লাগানো গাছের মধ্যে রয়েছে তাল, ফলজ ও বিভিন্ন ঔষধি গাছ। ওমরপুর গ্রামের বাউল সড়কের দুই পাশে প্রায় দুই দশক আগে লাগানো তালগাছগুলো এখন বড় হয়ে সারি সারি দাঁড়িয়ে আছে। দূর থেকে দেখলে পুরো সড়কটি যেন সবুজে ঘেরা একটি প্রাকৃতিক পথ। গাছের ছায়ায় পথচারী ও কৃষকেরা স্বস্তি পান। স্থানীয়দের পাশাপাশি বাইরের লোকজনও এখন এই সড়কের সৌন্দর্য দেখতে আসেন।

Model Hospital

শুধু বাউল সড়ক নয়, ওমরপুর ইউনিয়নের আরও কয়েকটি সড়কের পাশেও গাছ লাগিয়েছেন তিনি। চারা রোপণের পর নিয়মিত সেগুলোর পরিচর্যাও করেন। অনেক গাছ নষ্ট হয়ে গেলেও বৃক্ষরোপণের কাজ থেকে পিছিয়ে যাননি তিনি।

স্থানীয়দের মতে, সরকারি কোনো প্রকল্পের অপেক্ষায় না থেকে একজন ইমামের ব্যক্তিগত উদ্যোগে দীর্ঘদিন ধরে গাছ লাগানোর এই প্রচেষ্টা শুধু একটি সড়কের সৌন্দর্যই বদলায়নি, বরং স্থানীয়দের মধ্যেও বৃক্ষরোপণের আগ্রহ তৈরি করেছে।

স্থানীয় বাসিন্দা শাহজাহান, লিটন, আলমগীর ও যুবক তুহিন জানান, বাউল সড়কের দুই পাশে এখন শত শত তালগাছ রয়েছে। গাছগুলো বড় হয়ে ওঠায় সড়কটির সৌন্দর্য অনেক বেড়েছে। বিকেল ও সন্ধ্যায় স্থানীয়রা সেখানে সময় কাটান। দূর-দূরান্ত থেকেও অনেকে এই সড়কের সৌন্দর্য দেখতে আসেন। রেজাউল কিবরিয়ার উদ্যোগ দেখে তারাও নিজেদের জায়গায় বেশি করে গাছ লাগাতে উৎসাহিত হয়েছেন।

রেজাউল কিবরিয়া বাবুল বলেন, ‘পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা এবং আল্লাহর সন্তুষ্টির আশায় আমি প্রায় তিন দশক ধরে গাছ লাগিয়ে আসছি। ১৯৯৩-৯৪ সালে এ কাজ শুরু করি। এ পর্যন্ত বিভিন্ন জায়গায় প্রায় ৫০ থেকে ৬০ হাজার গাছের চারা লাগিয়েছি। এর মধ্যে তালগাছের বীজ ও চারা রয়েছে প্রায় ২৫ থেকে ৩০ হাজার।’

তিনি বলেন, সব গাছ টিকিয়ে রাখা সম্ভব হয়নি। তবে গাছ লাগানোর কাজ থেকে কখনো সরে আসেননি। বর্তমানে নিজে নার্সারিতে চারা উৎপাদনের সময় না পাওয়ায় ঝালকাঠির স্বরূপকাঠি থেকে বিভিন্ন ধরনের চারা সংগ্রহ করে রোপণ করছেন।

তালগাছ লাগানোর বিষয়ে তিনি বলেন, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বজ্রপাতের ঘটনা বেড়ে যাওয়ায় তালগাছ লাগানোর ওপর বেশি গুরুত্ব দিচ্ছেন তিনি। পাশাপাশি বন বিভাগের পরামর্শও নিয়ে থাকেন।

রেজাউল কিবরিয়া আরও বলেন, ‘আমি গাছ লাগানোকে সদকায়ে জারিয়া হিসেবে দেখি। একটি গাছ শুধু বর্তমান প্রজন্মের জন্য নয়, ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্যও ছায়া, সৌন্দর্য ও উপকারের উৎস। যতদিন বেঁচে থাকব, ততদিনই গাছ লাগানোর এই কাজ চালিয়ে যেতে চাই।’

তার ভাষ্য, গ্রামের প্রতিটি সড়ক ও আশপাশের এলাকা সবুজে ভরে তোলাই তার লক্ষ্য। একই সঙ্গে তরুণদের খারাপ অভ্যাস থেকে দূরে রাখতে ফল ও ফুলের বাগান করার আহ্বান জানান তিনি।

রেজাউল কিবরিয়ার দীর্ঘদিনের উদ্যোগের বিষয়ে চরফ্যাশন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রুমানা আফরোজ বলেন, ‘গাছ লাগানো অবশ্যই একটি ভালো উদ্যোগ। রেজাউল কিবরিয়া সাহেবের দীর্ঘদিনের এ কাজের বিষয়টি আমার জানা ছিল না। খোঁজ নিয়ে এ বিষয়ে তার পাশে দাঁড়ানোর চেষ্টা করব।’