শনিবার, ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১২ আশ্বিন ১৪৩৩
শনিবার, ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১২ আশ্বিন ১৪৩৩

প্রধানমন্ত্রীর কার‌নেই‌ বছরের শুরুতে শিক্ষার্থীদের হাতে নতুন বই ; দুলাল পাটওয়ারী

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শনিবার, ১ জানুয়ারি, ২০২২, ১২:২২ পিএম
প্রধানমন্ত্রীর কার‌নেই‌ বছরের শুরুতে শিক্ষার্থীদের হাতে নতুন বই ; দুলাল পাটওয়ারী

সাইদ হোসেন অপু চৌধুরী : চাঁদপু‌রে স্বাস্থ‌্যবি‌ধি মে‌নে বি‌ভিন্ন প্রাথ‌মিক ও হাই স্কু‌লে চার রঙ্গের নতুন বই বিতরণ করা হ‌য়ে‌ছে। নতুন বছ‌রের প্রথম দি‌নে নতুন বই পে‌য়ে‌ ছাত্র ছাত্রীরা বেজায় খু‌শি।

১ জানুয়া‌রি শ‌নিবার সকাল ১০ টায় আ‌জি‌মিয়া সরকা‌রি প্রথ‌মিক বিদ‌্যালয়, আক্কাছ আলী ‌রেলও‌য়ে সরকা‌রি প্রথ‌মিক বিদ‌্যালয় ও আক্কাছ আলী রেলও‌য়ে হাই স্কু‌লে শিক্ষার্থী‌দের মা‌ঝে নতুন বই‌ তু‌লে দি‌য়ে বই বিতরণ কার্যক্রমের শুভ উ‌দ্বোধন ক‌রেন বিদ‌্যালয় ম‌্যা‌নে‌জিং ক‌মি‌টির সভাপ‌তি ও জেলা আওয়ামীলী‌গের সাধারণ সম্পাদক বীর মু‌ক্তি‌যোদ্ধা আবু নঈম পাটওয়ারী দুলাল।

তি‌নি শিক্ষার্থী‌দের উ‌দ্দে‌শ্যে ব‌লেন, বিনামূ‌ল্যে কোন দেশে বই বিতরণ ক‌রে এ ন‌জির নেই। প্রধানমন্ত্রী শেখ হা‌সিনার কার‌নেই‌ তোমরা নতুন বছ‌রের প্রথম দি‌নে বই‌ পাচ্ছ। তোমরা নিয়‌মিত স্কু‌লে আস‌বে, ভালভাবে পড়ালেখা কর‌বে। সা‌থে শরীর সুস্থ রাখ‌তে খেলাধুলাও কর‌বে। ক‌রোনাকা‌লে প্রতি‌দিন স্কু‌লে আস‌তে মাস্ক অবশ‌্যই প‌রিধান কর‌বে, এ বিষ‌য়ে প্রত্যেক অ‌বিভাবক নিজ নিজ সন্তা‌নের প্রতি নজর রাখ‌বে। বাসায় গি‌য়ে প্রথ‌মে হাত, মুখ ভালভা‌বে সাবান দি‌য়ে ধু‌য়ে তারপর সকল কাজ কর‌বে।

Model Hospital

বই বিতরন উৎসবে বক্তব্য রা‌খেন আক্কাছ আলী রেলও‌য়ে হাই স্কু‌লের প্রধান শিক্ষক মোঃ গোফরান হো‌সেন, আ‌জি‌মিয়া সরকা‌রি প্রথ‌মিক বিদ‌্যালয়ের প্রধান শিক্ষক র‌ফিকুল ইসলাম ও আক্কাছ আলী ‌রেলও‌য়ে সরকা‌রি প্রথ‌মিক বিদ‌্যালয়ের প্রধান‌ শিক্ষিকা রু‌বিনা রহমান।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন সদর উপ‌জেলা শিক্ষা কর্মকর্তা আব্দুল হাই, আক্কাছ আলী রেলও‌য়ে হাই স্কু‌লের সহকা‌রি শিক্ষক আবুল কাশেম মিয়াজী, সহকা‌রি শিক্ষক ফ‌রিদ আহ‌মেদ পাটওয়ারী, ম‌রিয়ম বেগম, মোঃ আবুল কা‌শেম, তানিয়া জেস‌মিন, বদরু‌ন্নেচ্ছা বিথী, মোঃ শাহাদৎ হো‌সেন, শিউলী রানী আযার্চী মোঃ ইমরান হোসাইন, সায়মা আহ‌মেদ চৌধুরী, মোঃ জা‌কির হো‌সেন গাজী, বিষ্ণুদি আ‌জি‌মিয়া সরকা‌রি প্রথ‌মিক বিদ‌্যালয়ের পি‌টিআই ক‌মি‌টির সহ সভাপ‌তি আতাউর রহমান পাটওয়ারী, সহকা‌রি শিক্ষক মাহবুবা সুলতানা, না‌র্গিস বেগম, অর্পণা বিশ্বাস, শাহনাজ পারভীন, আছমা আক্তার রুনা, মুহাম্মদ আ‌নোয়ার হোসাইন. আ‌বিদা সুলতানা কেয়া, না‌ছির আজম, আক্কাছ আলী ‌রেলও‌য়ে সরকা‌রি প্রথ‌মিক বিদ‌্যালয়ের সহকারী শিক্ষক কা‌নিজ ফা‌তেমা, সা‌বিনা ইয়াছ‌মিন, সা‌হেলা সুলতানা, রন‌জিৎ কুমার চক্রবর্তী, ইয়াছ‌মিন সুলতানা, শি‌রিন সুলতানা, লায়লা বিল‌কিস, রো‌জিনা হা‌বিব, স্রোব হো‌সেন, রেশমা, আফরুজা সুলতানা, ম‌রিয়ম আক্তার, মিজানুর রহমান।

৩০ বছর ধরে গাছ লাগিয়ে গ্রামের সড়কের চিত্র বদলে দিলেন মসজিদের ইমাম রেজাউল

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৯:৫৯ পিএম
৩০ বছর ধরে গাছ লাগিয়ে গ্রামের সড়কের চিত্র বদলে দিলেন মসজিদের ইমাম রেজাউল

মসজিদে ইমামতির পাশাপাশি প্রায় ৩০ বছর ধরে বৃক্ষরোপণ করে আসছেন ভোলার চরফ্যাশন উপজেলার ওমরপুর ইউনিয়নের মো. রেজাউল কিবরিয়া বাবুল। নিজের অর্থ ও উদ্যোগে বিভিন্ন সড়কের পাশে হাজার হাজার গাছের চারা রোপণ ও পরিচর্যা করে গড়ে তুলেছেন সবুজের আবরণ। তার লাগানো সারি সারি তালগাছে বদলে গেছে গ্রামের একটি সড়কের চিত্র।

স্থানীয়দের কাছে রেজাউল কিবরিয়া বাবুল একজন ইমাম হিসেবে পরিচিত হলেও বৃক্ষপ্রেমী হিসেবেও রয়েছে তার আলাদা পরিচিতি। তিনি ওমরপুর ইউনিয়নের কালাপানিয়া বাজার বাইতুল মামুর জামে মসজিদের ইমাম। ইমামতির পাশাপাশি অবসর সময়ে গাছ লাগানো ও পরিচর্যায় নিজেকে নিয়োজিত রাখেন তিনি।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, প্রায় তিন দশক আগে বৃক্ষরোপণের উদ্যোগ নেন রেজাউল কিবরিয়া। ১৯৯৩-৯৪ সালের দিকে পৈতৃক সম্পত্তি বিক্রি করে প্রায় ৮ লাখ টাকা ব্যয়ে ভুঁইয়ারহাট এলাকায় একটি নার্সারি গড়ে তোলেন। সেখান থেকে উৎপাদিত ও সংগ্রহ করা বিভিন্ন জাতের গাছের চারা এলাকার সড়কের পাশে রোপণ করতে শুরু করেন। একই সঙ্গে মাইকিং করে স্থানীয়দের গাছ লাগাতে উৎসাহিত করতেন।

তার লাগানো গাছের মধ্যে রয়েছে তাল, ফলজ ও বিভিন্ন ঔষধি গাছ। ওমরপুর গ্রামের বাউল সড়কের দুই পাশে প্রায় দুই দশক আগে লাগানো তালগাছগুলো এখন বড় হয়ে সারি সারি দাঁড়িয়ে আছে। দূর থেকে দেখলে পুরো সড়কটি যেন সবুজে ঘেরা একটি প্রাকৃতিক পথ। গাছের ছায়ায় পথচারী ও কৃষকেরা স্বস্তি পান। স্থানীয়দের পাশাপাশি বাইরের লোকজনও এখন এই সড়কের সৌন্দর্য দেখতে আসেন।

Model Hospital

শুধু বাউল সড়ক নয়, ওমরপুর ইউনিয়নের আরও কয়েকটি সড়কের পাশেও গাছ লাগিয়েছেন তিনি। চারা রোপণের পর নিয়মিত সেগুলোর পরিচর্যাও করেন। অনেক গাছ নষ্ট হয়ে গেলেও বৃক্ষরোপণের কাজ থেকে পিছিয়ে যাননি তিনি।

স্থানীয়দের মতে, সরকারি কোনো প্রকল্পের অপেক্ষায় না থেকে একজন ইমামের ব্যক্তিগত উদ্যোগে দীর্ঘদিন ধরে গাছ লাগানোর এই প্রচেষ্টা শুধু একটি সড়কের সৌন্দর্যই বদলায়নি, বরং স্থানীয়দের মধ্যেও বৃক্ষরোপণের আগ্রহ তৈরি করেছে।

স্থানীয় বাসিন্দা শাহজাহান, লিটন, আলমগীর ও যুবক তুহিন জানান, বাউল সড়কের দুই পাশে এখন শত শত তালগাছ রয়েছে। গাছগুলো বড় হয়ে ওঠায় সড়কটির সৌন্দর্য অনেক বেড়েছে। বিকেল ও সন্ধ্যায় স্থানীয়রা সেখানে সময় কাটান। দূর-দূরান্ত থেকেও অনেকে এই সড়কের সৌন্দর্য দেখতে আসেন। রেজাউল কিবরিয়ার উদ্যোগ দেখে তারাও নিজেদের জায়গায় বেশি করে গাছ লাগাতে উৎসাহিত হয়েছেন।

রেজাউল কিবরিয়া বাবুল বলেন, ‘পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা এবং আল্লাহর সন্তুষ্টির আশায় আমি প্রায় তিন দশক ধরে গাছ লাগিয়ে আসছি। ১৯৯৩-৯৪ সালে এ কাজ শুরু করি। এ পর্যন্ত বিভিন্ন জায়গায় প্রায় ৫০ থেকে ৬০ হাজার গাছের চারা লাগিয়েছি। এর মধ্যে তালগাছের বীজ ও চারা রয়েছে প্রায় ২৫ থেকে ৩০ হাজার।’

তিনি বলেন, সব গাছ টিকিয়ে রাখা সম্ভব হয়নি। তবে গাছ লাগানোর কাজ থেকে কখনো সরে আসেননি। বর্তমানে নিজে নার্সারিতে চারা উৎপাদনের সময় না পাওয়ায় ঝালকাঠির স্বরূপকাঠি থেকে বিভিন্ন ধরনের চারা সংগ্রহ করে রোপণ করছেন।

তালগাছ লাগানোর বিষয়ে তিনি বলেন, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বজ্রপাতের ঘটনা বেড়ে যাওয়ায় তালগাছ লাগানোর ওপর বেশি গুরুত্ব দিচ্ছেন তিনি। পাশাপাশি বন বিভাগের পরামর্শও নিয়ে থাকেন।

রেজাউল কিবরিয়া আরও বলেন, ‘আমি গাছ লাগানোকে সদকায়ে জারিয়া হিসেবে দেখি। একটি গাছ শুধু বর্তমান প্রজন্মের জন্য নয়, ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্যও ছায়া, সৌন্দর্য ও উপকারের উৎস। যতদিন বেঁচে থাকব, ততদিনই গাছ লাগানোর এই কাজ চালিয়ে যেতে চাই।’

তার ভাষ্য, গ্রামের প্রতিটি সড়ক ও আশপাশের এলাকা সবুজে ভরে তোলাই তার লক্ষ্য। একই সঙ্গে তরুণদের খারাপ অভ্যাস থেকে দূরে রাখতে ফল ও ফুলের বাগান করার আহ্বান জানান তিনি।

রেজাউল কিবরিয়ার দীর্ঘদিনের উদ্যোগের বিষয়ে চরফ্যাশন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রুমানা আফরোজ বলেন, ‘গাছ লাগানো অবশ্যই একটি ভালো উদ্যোগ। রেজাউল কিবরিয়া সাহেবের দীর্ঘদিনের এ কাজের বিষয়টি আমার জানা ছিল না। খোঁজ নিয়ে এ বিষয়ে তার পাশে দাঁড়ানোর চেষ্টা করব।’