বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১০ আশ্বিন ১৪৩৩
বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১০ আশ্বিন ১৪৩৩

পাঁচটি গ্রুপে জেলার সেরা দশটি বিতর্ক দল ফাইনালে

দ্বাদশ পাঞ্জেরী-চাঁদপুর কণ্ঠ বিতর্ক প্রতিযোগিতার সেমি-ফাইনাল সম্পন্ন

নিজস্ব প্রতিনিধি প্রকাশিত: শনিবার, ১১ মে, ২০২৪, ১১:৩৯ পিএম
দ্বাদশ পাঞ্জেরী-চাঁদপুর কণ্ঠ বিতর্ক প্রতিযোগিতার সেমি-ফাইনাল সম্পন্ন

পর্বটির নাম ছিলো জয়ধ্বনি, আর সেটি ছিলো সেমি-ফাইনাল। দ্বাদশ পাঞ্জেরী-চাঁদপুর কণ্ঠ বিতর্ক প্রতিযোগিতার সেই জমজমাট পর্বটি অনুষ্ঠিত হয় গতকাল শনিবার (১১ মে ২০২৪)। সকাল ৯টা থেকে বিকেল সোয়া ৩টা পর্যন্ত একটানা এ পর্বটি যুগপৎভাবে চলে চাঁদপুর প্রেসক্লাব ভবনের তিন তলাস্থ মিলনায়তনে এবং চাঁদপুর রোটারী ভবনের ডাঃ নুরুর রহমান কনফারেন্স হলে। এ প্রতিযোগিতায় সেমি-ফাইনালে পাঁচটি গ্রুপে চারটি করে ২০টি বিতর্ক দল অংশ নেয় এবং বিজয়ী হয় সেরা ১০টি দল, যারা আগামী ৮জুন ২০২৪ শনিবার ‘উল্লাস’ (ফাইনাল) পর্বে অংশ নেবে।

প্রাথমিক বিদ্যালয় গ্রুপে হাজীগঞ্জ সরকারি বালিকা প্রাথমিক বিদ্যালয় ও ফরিদগঞ্জের ইকরা মডেল একাডেমি, মাধ্যমিক (হাইস্কুল) গ্রুপে হাজীগঞ্জের বলাখাল চন্দ্রবান বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় ও চাঁদপুর সদরের বাবুরহাট হাইস্কুল এন্ড কলেজ, কলেজ গ্রুপে চাঁদপুর মেডিকেল কলেজ ও চাঁদপুর সরকারি মহিলা কলেজ, সংসদীয় গ্রুপে চাঁদপুর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ^বিদ্যালয় ও চাঁদপুর সরকারি কলেজ এবং ইংরেজি গ্রুপে চাঁদপুর জেলা সদরের মাতৃপীঠ সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় ও ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল স্কুল সেমি-ফাইনালে বিজয়ী হয়ে ফাইনালে অবতীর্ণ হবার টিকেট পেয়েছে।

চাঁদপুর কণ্ঠ বিতর্ক ফাউন্ডেশন (সিকেডিএফ) ও চাঁদপুর বিতর্ক একাডেমির ব্যবস্থাপনায় পাঞ্জেরী-চাঁদপুর কণ্ঠ বিতর্কের দ্বাদশ আয়োজন অর্থাৎ যুগপূর্তি গত ২০২০ সালে ১৫০টি দল নিয়ে সম্পন্ন হবার কথা থাকলেও বৈশি^ক মহামারী করোনার কারণে তখন সেটি সম্ভব হয় নি। সে কারণে ২০২৩ সালের অক্টোবর থেকে যুগপূর্তির আয়োজনটি শুরু হয় এবং যেটি প্রান্তিক, অভিযাত্রা, অগ্রযাত্রা, জয়যাত্রা (কোয়ার্টার ফাইনাল), জয়ধ্বনি (সেমি-ফাইনাল) পর্ব ধাপে ধাপে অতিক্রম করে চলতি ২০২৪ সালের জুনে উল্লাস (ফাইনাল) পর্বের মধ্য দিয়ে সফল সমাপ্তির দিকে গেলো।

শনিবারের সেমি-ফাইনাল পর্বটি শেষে চাঁদপুর প্রেসক্লাব মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত হয় পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠান। এতে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন চাঁদপুর জেলা পরিষদের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মোঃ মনোয়ার হোসেন। সিকেডিএফ সভাপতি কাজী শাহাদাতের সভাপ্রধানে এবং চাঁদপুর বিতর্ক একাডেমির উপাধ্যক্ষ রাসেল হাসানের সঞ্চালনায় স্বাগত বক্তব্য রাখেন দ্বাদশ পাঞ্জেরী-চাঁদপুর কণ্ঠ বিতর্ক প্রতিযোগিতার আহ্বায়ক ও চাঁদপুর বিতর্ক একাডেমির অধ্যক্ষ ডাঃ পীযূষ কান্তি বড়ুয়া।

Model Hospital
দ্বাদশ পাঞ্জেরী-চাঁদপুর কণ্ঠ বিতর্ক প্রতিযোগিতার পাঁচটি গ্রুপে ফাইনালে উত্তীর্ণ ১০টি বিতর্ক দলের বিতার্কিকরা প্রধান অতিথিসহ অন্যদের সাথে।

সেমি-ফাইনালে প্রধান অতিথি জনাব মোঃ মনোয়ার হোসেন মাধ্যমিক পর্যায়ের একটি বিতর্ক প্রতিযোগিতা উপভোগ করেন এবং এর রেশ ধরে তাঁর বক্তব্যে বলেন, আমি এ আয়োজনটি দেখে ভীষণ অভিভূত, যেটি জাতীয় মানের। এতো বড় পরিসরে দীর্ঘদিন ধরে আয়োজিত এ প্রতিযোগিতার উপর ‘ইত্যাদি’তে ফিচার প্রচারিত হওয়ার যোগ্য। চাঁদপুরের মতো এতো বুদ্ধিবৃত্তিক, এতো মনস্তাত্ত্বিক চর্চা তিনি আর কোথাও দেখেননি এবং তিন নদীর মিলনস্থলের কারণে এখানে মানুষের সংস্কৃতি চর্চা অত্যন্ত বেগবান বলে মন্তব্য করেন।

তিনি তাঁর ছাত্রজীবন ও কর্মজীবনের কথা উল্লেখ করে বলেন, যখনই আমার কোনো বুদ্ধিদীপ্ত বন্ধুর বাড়ি কোথায় জিজ্ঞেস করেছি, তখনই জেনেছি তার বাড়ি চাঁদপুর। তিনি খুদে বিতার্কিকদের কৃতিত্বে মুগ্ধ হয়ে বলেন, আমার কাছে যারা বিজয়ী হয়েছে বা এতোদূর পর্যন্ত এসেছে তাদের চেয়ে যারা উপজেলা লেভেলে প্রতিযোগিতা করে এখানে আসতে পারেনি, তাদের মূল্য অনেক বেশি। কেননা তারা সেই ব্যর্থতা হতে শিক্ষা নিয়ে জীবনে সফলতাকে জয় করবে। তিনি ভালোভাবে কথা বলতে পারা এবং নিজের অভিমত প্রকাশ করতে পারার ওপর গুরুত্ব আরোপ করে বলেন, যারা সরকারি চাকুরিতে আসে তাদের বিতর্ক বিষয়ে দক্ষতা থাকাটা খুবই জরুরি। বিতর্কের সাথে স্মার্ট বাংলাদেশ বিনির্মাণের যোগসূত্র উল্লেখ করে তিনি বলেন, মাননীয় প্রধানমন্ত্রী যে স্মার্ট বাংলাদেশের কথা বলছেন, তা গঠন করতে হলে আমাদের স্মার্ট সিটিজেন দরকার আর বিতর্ক শিল্পের মাধ্যমে আমরা স্মার্ট বাংলাদেশের গুরুত্বপূর্ণ দুটো উপাদান স্মার্ট সিটিজেন এবং স্মার্ট সোসাইটি গঠন করতে সক্ষম হবো। তিনি আট উপজেলার সেরা বিতার্কিক ও বিতর্ক দলের জন্যে প্রণোদনা প্রদানের অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন।

সেমি-ফাইনালের ১০টি বিতর্কে বিচারকের দায়িত্ব পালন করেন ডাঃ পীযূষ কান্তি বড়ুয়া, অধ্যাপক রাধেশ্যাম কুরী, অধ্যাপক মোঃ আবুল কালাম, সামীম আহমেদ খান, এএইচএম আহসান উল্লাহ, অধ্যাপক হাবিবুর রহমান পাটওয়ারী, রাজন চন্দ্র দে, মাসুদুর রহমান, মোঃ হানিফ, সৈকত অধিকারী, সাইফুল ইসলাম, রাসেল হাসান, মুক্তা পীযূষ, আনাছ আল জায়েদ প্রমুখ। মডারেটর ছিলেন মোঃ আবু সালেহ, শামীম হাসান ও কাজী আজিজুল হাকিম নাহিন।

গতকালকের সেমি-ফাইনালে পাঁচটি গ্রুপে সর্বোচ্চ নাম্বারপ্রাপ্ত তিনটি বিতর্ক দল হচ্ছে : হাজীগঞ্জের বলাখাল চন্দ্রবান বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় (২৭৫), ফরিদগঞ্জের ইকরা মডেল একাডেমি (২৭৪.৫) ও হাজীগঞ্জ সরকারি বালিকা প্রাথমিক বিদ্যালয় (২৭৪)। সেরা বক্তাগণ হচ্ছে : প্রাথমিকে সায়মা হোসেন সারা ও মাহবুবা আক্তার মাহেরা, মাধ্যমিকে ইসরাত জাহান ইফা ও রিউনা তাহরিন, কলেজে মোঃ সৌরভ হাসান ও উম্মে হাবিবা মুমু, ইংরেজিতে প্রখর পীযূষ বড়ুয়া ও সায়রা ইসলাম এবং সংসদীয় ধারায় মোসাম্মৎ অবণী খন্দকার ও মুনিরা আক্তার পল্লবী।

মতলব দক্ষিণে অগ্নিকান্ডস্থল পরিদর্শন করলেন চেয়ারম্যান প্রার্থী সুলতান কাজী

মোজাম্মেল প্রধান হাসিব প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৯:২১ পিএম
মতলব দক্ষিণে অগ্নিকান্ডস্থল পরিদর্শন করলেন চেয়ারম্যান প্রার্থী সুলতান কাজী

মতলব দক্ষিণ উপজেলার মাছুয়াখাল জমাদার বাড়িতে ঘটে যাওয়া ভয়াবহ অগ্নিকান্ডস্থল পরিদর্শন করেছেন ৩নং খাদেরগাঁও ইউনিয়ন বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম আহবায়ক ও চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী মো. সুলতান কাজী।

বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) বিকেল ৪টায় দলীয় নেতাকর্মী ও ইউনিয়নের গন্যমান্য ব্যক্তিদের নিয়ে পরিদর্শনে যান তিনি। এসময় তিনি আগুনে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর খোঁজখবর নেন এবং ভুক্তভোগীদের সান্ত্বনার পাশাপাশি মানবিক সহায়তা হিসেবে নগদ অর্থ প্রদান করেন। এসময় তিনি ক্ষতিগ্রস্তদের প্রতি গভীর সমবেদনা জানান।

খাদেরগাঁও ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী মো. সুলতান কাজী বলেন, দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের পাশে থাকা আমাদের নৈতিক দায়িত্ব। ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর পুনর্বাসনে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আমাদেরও সমন্বয় করা উচিত। যে কোনো দুর্যোগে খাদেরগাঁও ইউনিয়নবাসীর পাশে থাকার জন্য আমি প্রস্তুত আছি।

পরিদর্শনকালে খাদেরগাঁও ইউনিয়ন যুবদলের আহবায়ক ও ইউপি সদস্য শহীদ মিয়াজী, খাদেরগাঁও ইউনিয়ন যুবদলের সদস্য সচিব মিঞা মো. ফারুক, উপজেলা ছাত্রদলের সদস্য সচিব সোহেল রানা, বিএনপি নেতা তাজুল ইসলাম, ইউনিয়ন যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ক সাখাওয়াত হোসেন সুমন, মো. সুমন মোল্লা, যুবদল নেতা রুবেল কাজী, কামাল প্রধান, মিজান কাজী, ছাত্রদল নেতা রাশেদ কাজী, সমাজসেবক আলি আক্কাস মিয়াজীসহ এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ ও দলীয় নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।

Model Hospital

উল্লেখ্য, গত বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর) সকালে সংঘটিত অগ্নিকাণ্ডে ৫টি বসতঘর ও ৫টি রান্নাঘর, স্বর্ণালাংকার, নগদ অর্থ পুড়ে যায়, এতে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে পরিবারগুলোর। বসতঘর পুড়ে যাওয়ার পর খোলা আকাশের নিচেই মানবেতর জীবনযাপন করছে ভুক্তভোগী পরিবারগুলো।