বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১০ আশ্বিন ১৪৩৩
বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১০ আশ্বিন ১৪৩৩

রাজরাজেশ্বর ইউনিয়নে দোয়াত-কলমের গণজোয়ার

পথসভায় দোয়া ও ভোট চাইলেন আইয়ুব আলী বেপারী

নিজস্ব প্রতিনিধি প্রকাশিত: শুক্রবার, ১৭ মে, ২০২৪, ১২:২৬ এম
পথসভায় দোয়া ও ভোট চাইলেন আইয়ুব আলী বেপারী

চাঁদপুর সদর উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে দোয়াত-কলম মার্কার চেয়ারম্যান প্রার্থী আইয়ুব আলী বেপারী রাজরাজেশ্বর ইউনিয়নে গতকাল দিনব্যাপী পথসভা, উঠোন বৈঠক ও গণসংযোগ করেছেন। ইউনিয়ন পরিষদের সম্মুখে, বলাশিয়া ও বাঁশগাড়ি বাজারে পথসভা, চরমুকুন্দপুর, বন্দুকশী বাজার ও তারাবুনিয়ায় উঠোন বৈঠক এবং গণসংযোগ করেছেন।

বৃহস্পতিবার সকাল ১০টা থেকে বিকেল পর্যন্ত রাজরাজেশ্বর ইউনিয়নের প্রায় প্রতিটি ওয়ার্ডে গণসংযোগকালে ভোটারদের কাছ থেকে তিনি ভোট প্রার্থনা করেন ও দোয়াত-কলম মার্কার লিফলেট তাদের হাতে তুলে দেন। চরাঞ্চলের গণসংযোগে দোয়াত-কলম মার্কায় চেয়ারম্যান প্রার্থী আইয়ুব আলী বেপারীর পদচারণা যেখানে পড়েছে সেখানেই শত শত নারী পুরুষের সমাগম হয়েছে। পথসভাগুলোতে নারীদের উপস্থিতি ছিল চোখে পড়ার মতো।

পথসভায় তিনি বলেন, আপনারা আমাকে বিগত উপজেলা নির্বাচনে বিপুল ভোটে ভাইস চেয়ারম্যান পদে ভোট দিয়ে বিজয়ী করেছিলেন। আমি নির্বাচিত হয়ে জনগণের জন্যে আমার সাধ্যমতো কাজ করার চেষ্টা করেছি। কিন্তু ভাইস চেয়ারম্যান পদটিতে থেকে বেশি কিছু করা যায় না। তাই ২১ তারিখে আমাকে ভোট দিয়ে চেয়ারম্যান করলে আমি আপনাদের সেবায় সবসময় নিয়োজিত থাকবো।

তিনি আরও বলেন, আজকে আপনারা এ প্রচণ্ড গরমের মধ্যে বসে থেকে পথসভাকে সফল করেছেন। তেমনি করে ২১ তারিখ একটু কষ্ট করে ভোট কেন্দ্রে গিয়ে ভোট দিবেন বলে আমি বিশ্বাস করি।

Model Hospital

রাজরাজেশ্বরবাসীর কাছে অনুরোধ থাকবে আপনারা আমাকে দোয়াত-কলম মার্কায় ভোট দিয়ে সেবা করার সুয়োগ করে দিবেন। অনেক প্রার্থী অনেক কথা বলবে। সেদিকে কান না দিয়ে সঠিক পথে থেকে দোয়াত-কলমে ভোট দিয়ে উন্নয়ন কাজের সারথী হবেন। একদিনের জন্যে আপনারা ভোট কেন্দ্রে যাবেন। আমি পাঁচ বছরের জন্যে আপনাদের সেবায় থাকবো।

পথসভায় রাজরাজেশ্বর ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি ও ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান হযরত আলী বেপারীর সভাপতিত্বে বক্তব্য রাখেন জেলা যুবলীগের যুগ্ম আহ্বায়ক মাহফুজুর রহমান টুটল, সদর উপজেলা আওয়ামী লীগ নেতা আব্দুস সামাদ টুনু, মনির হোসেন গাজী, জেলা যুবলীগের সদস্য গণি গাজী, জেলা স্বেচ্ছাসেবক লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক কামরুল হাসান কাউছার, ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সিনিয়র সহ-সভাপতি শাহজালাল মোল্লা, অধ্যক্ষ মাওলানা এএইচএম হাবিবউল্যা, আবুল প্রধানীয়া, চাঁদপুর পৌরসভার কাউন্সিলর সফিকুল ইসলাম, সুমন প্রধানিয়া, ৫নং ওয়ার্ডের মেম্বার আবুল বেপারী, ইউনিয়ন মহিলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক রোকেয়া বেগম, যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক শাহজালাল প্রধানীয়া, ৯নং ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সভাপতি শাহজালাল, ছাত্রলীগের যুগ্ম আহ্বায়ক বেলাল আহমেদ, ৯নং ওয়ার্ড যুবলীগের সভাপতি মামুন বেপারী।

বক্তারা বলেন, আমাদের প্রার্থী আইয়ুব আলী ভালো লোক। তার বিরুদ্ধে কোনো খারাপ রেকর্ড নাই। তিনি পাঁচ বছর পর্যন্ত ভাইস চেয়ারম্যান হিসেবে মানুষের সেবা করেছেন।

কিন্তু ভাইস চেয়ারম্যান হিসেবে উন্নয়নমূলক কাজের সীমাবদ্ধতা থাকে। তাই আপনারা ২১ তারিখে দোয়াত কলম মার্কায় ভোট দিয়ে আইয়ুব আলী ভাইকে চেয়ারম্যান নির্বাচিত করবেন।

মতলবে ডেঙ্গুর উপসর্গে হাসপাতালে ভর্তির দুই ঘণ্টার মধ্যেই তরুণের মৃত্যু

নিজস্ব প্রতিনিধি প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৯:১৩ পিএম
মতলবে ডেঙ্গুর উপসর্গে হাসপাতালে ভর্তির দুই ঘণ্টার মধ্যেই তরুণের মৃত্যু

চাঁদপুরের মতলব উত্তর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ডেঙ্গুর উপসর্গ নিয়ে ভর্তির মাত্র দুই ঘণ্টার মধ্যে মো. সিয়াম (২০) নামের এক তরুণের মৃত্যু হয়েছে।

বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর) রাত নয়টার দিকে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মারা যান। সিয়াম উপজেলার খাগুরিয়া গ্রামের কৃষক আবদুস সোবাহানের ছেলে।

স্বজনেরা জানান, প্রায় এক সপ্তাহ ধরে প্রচণ্ড জ্বরে ভুগছিলেন সিয়াম। তবে কোনো চিকিৎসকের কাছে না গিয়ে বাড়িতেই অবস্থান করছিলেন তিনি। গতকাল সন্ধ্যা সাতটার দিকে শারীরিক অবস্থার চরম অবনতি হলে বাবা আবদুস সোবাহান তাকে মতলব উত্তর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরি বিভাগে নিয়ে আসেন।

হাসপাতালে পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর তার শরীরে ডেঙ্গুর উপসর্গ শনাক্ত হয়। এ সময় তার নাক ও মুখ দিয়ে অতিরিক্ত রক্তক্ষরণ হতে থাকে। রোগীর অবস্থার দ্রুত অবনতি ঘটায় কর্তব্যরত চিকিৎসকেরা তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তরের (রেফার) পরামর্শ দেন। ঢাকায় নেওয়ার জন্য অ্যাম্বুলেন্সও প্রস্তুত করা হয়েছিল। তবে রওনা দেওয়ার আগেই রাত নয়টার দিকে হাসপাতালে তার মৃত্যু হয়।

Model Hospital

উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরি বিভাগের চিকিৎসা কর্মকর্তা মো. মোবারক হোসেন মামুন জানান, হাসপাতালে নিয়ে আসার পর দেখা যায় তরুণের নাক ও মুখ দিয়ে রক্তক্ষরণ হচ্ছে এবং রক্তচাপ আশঙ্কাজনকভাবে কমে গেছে। জরুরি ভিত্তিতে ঢাকায় পাঠানোর সব প্রস্তুতি নেওয়া হলেও তার আগেই তার মৃত্যু হয়।

ছেলের মৃত্যুতে ভেঙে পড়ে বাবা আবদুস সোবাহান বলেন, আমার পোলাডার এক সপ্তাহ ধইরা জ্বর আছিল। ওরে কইছিলাম ডাক্তারের কাছে যাইতে, কিন্তু হুনল না। অবস্থা বেশি খারাপ হইলে সন্ধ্যায় হাসপাতালে আনলাম। হাসপাতালে আনার পরই নাক-মুখ দিয়া রক্ত পড়া শুরু হয়। ঢাকা নেওয়ার জন্য অ্যাম্বুলেন্সও ঠিক করছিলাম, কিন্তু তার আগেই আমার সব শ্যাষ অইয়া গেল।