শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১ আশ্বিন ১৪৩৩
শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১ আশ্বিন ১৪৩৩

শাহতলীতে শিক্ষার্থীদের মাঝে বই বিতরণ সম্পন্ন

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শনিবার, ১ জানুয়ারি, ২০২২, ২:২৫ পিএম
শাহতলীতে শিক্ষার্থীদের মাঝে বই বিতরণ সম্পন্ন

শাহতলী জিলানী চিশতী উবি ও উত্তর শাহতলী জোবাইদা বালিকা উবি’র যৌথ আয়োজনে শিক্ষার্থীদের মাঝে বই বিতরণ করেন, বিদ্যালয়দ্বয়ের ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি ও দৈনিক চাঁদপুর খবর পত্রিকার প্রতিষ্ঠাতা সম্পাদক ও প্রকাশক সোহেল রুশদী।

স্টাফ রিপোর্টার : চাঁদপুর সদর উপজেলার ৪নং শাহমাহমুদপুর ইউনিয়নের শাহতলী জিলানী চিশতী উচ্চ বিদ্যালয় ও উত্তর শাহতলী জোবাইদা বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের যৌথ আয়োজনে শিক্ষার্থীদের মাঝে নতুন বছরের বই বিতরণ করা হয়েছে।

১জানুয়ারী (শনিবার) দুপুর সাড়ে ১১টায় বিদ্যালয় মিলনায়তনে উত্তর শাহতলী জোবাইদা বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক নয়ন চন্দ্র দাসের সভাপতিত্বে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন, বিদ্যালয়দ্বয়ের ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি ও দৈনিক চাঁদপুর খবর পত্রিকার প্রতিষ্ঠাতা সম্পাদক ও প্রকাশক সোহেল রুশদী।

তিনি বক্তব্যে বলেন, মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও শিক্ষামন্ত্রী ডা: দীপু মনি এমপি’র প্রতি কৃতজ্ঞ। বছরের প্রথম দিনেই শিক্ষার্থীদের মাঝে বই পৌঁছে দেওয়ায়। আমি অভিনন্দন জানাই এ প্রতিষ্ঠান গুলোর শিক্ষকবৃন্দের প্রতি। তাদের পরিশ্রমে এ প্রতিষ্ঠানগুলো এবারের এসএসসি পরীক্ষায় জিপিএ-৫সহ সাফল্যজনক ফলাফল অর্জন করেছে। এ বিদ্যালয়েগুলোতে যে রেজাল্ট হয়েছে এটা বিদালয়ের জন্য মাইল ফলক। এ ইউনিয়নের মধ্যে সেরা ফলাফল অর্জন করেছে এ বিদ্যালয়। আমি খুবই খুশি ও আনন্দিত হয়েছি যে এমন একটি রেজাল্ট আমাদের উপহার দিয়েছে বিদ্যালয়গুলো।

তিনি বলেন, ভালো ফলাফল যেকোন প্রতিষ্ঠানের প্রান। ভালো রেজাল্ট করলে প্রতিষ্ঠানের সুনাম বৃদ্ধি পায়। এ প্রতিষ্ঠানগুলোর শিক্ষকরা খুবই দক্ষ ও মেধাবী। ভালো রেজাল্ট ছাড়া কোন প্রতিষ্ঠান উন্নতি করতে পারেনা। এ অবদান সকল শিক্ষকদের।

Model Hospital

২৯নং উত্তর শাহতলী জোবাইদা বালক সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো: আবুল কালাম আজাদ এর পরিচালনায় অন্যান্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন, শাহতলী জিলানী চিশতী কলেজের অধ্যক্ষ মো: হারুন-অর রশিদ, জিলানী চিশতী উচ্চ বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক মো: সাহাদাৎ হোসেন, ৩০নং মধ্য শাহতলী কাদেরিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মোসা: তহমিনা আক্তার, উত্তর শাহতলী জোবাইদা বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের সহকারি প্রধান শিক্ষিকা নাজমা আক্তার।

এসময় অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন, জিলানী চিশতী উচ্চ বিদ্যালয়ের সিনিয়র শিক্ষক মো: রফিকুল ইসলাম তালুকদার, সিনিয়র শিক্ষিকা ফাহিমা জাহান, উত্তর শাহতলী জোবাইদা বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের সিনিয়র শিক্ষক মো: রফিকুল ইসলাম পাটওয়ারী, সহকারি শিক্ষক মো: সোহরাব হোসেন, সহকারি শিক্ষক মো: ইদ্রিস আলী, সহকারি শিক্ষিকা মোসা: রুবিনা আক্তার, মেহেরুন নেছা সহকারি শিক্ষক দীপঙ্কর চন্দ্র দে, সহকারি শিক্ষক মো: নেছার আহমেদ খান, ৪নং শাহমাহমুদপুর ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের তথ্য ও প্রযুক্তি বিষয়ক সম্পাদক মো: সফিক কারী, বিদ্যালয়ের অভিভাবক ও বিশিষ্ট সমাজসেবক মো: নুরুজ্জামান মুন্সি, জিলানী চিশতী উবির সহকারি শিক্ষিকা রাবেয়া আক্তার, সহকারি শিক্ষক মাওলানা শহিদুল ইসলাম, সহকারি শিক্ষক লুৎফুর রহমান, সহকারি শিক্ষক বিপুল চন্দ্র নন্দী, সহকারি শিক্ষক মো: ফজলুল করিম খান, সহকারি শিক্ষক মো: সাইফুল ইসলাম, সহকারি লাইব্রেরীয়ান মাওলানা আব্দুল মান্নান, মো: রবিউল আউয়াল খানসহ অন্যান্য অতিথিবৃন্দ।

অনুষ্ঠানের শিক্ষার্থীদের মাঝে নতুন বছরের বই বিতরণ করেন, প্রধান অতিথি বিদ্যালয়দ্বয়ের ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি ও দৈনিক চাঁদপুর খবর পত্রিকার প্রতিষ্ঠাতা সম্পাদক ও প্রকাশক সোহেল রুশদীসহ অতিথিবৃন্দ।

অনুষ্ঠানে সভাপতি বক্তব্য রাখেন, উত্তর শাহতলী জোবাইদা বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক নয়ন চন্দ্র দাস। তিনি বক্তব্যের মাধ্যমে অনুষ্ঠানের সমাপ্তি ঘোষনা করেন।

৩০ বছর ধরে গাছ লাগিয়ে গ্রামের সড়কের চিত্র বদলে দিলেন মসজিদের ইমাম রেজাউল

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৯:৫৯ পিএম
৩০ বছর ধরে গাছ লাগিয়ে গ্রামের সড়কের চিত্র বদলে দিলেন মসজিদের ইমাম রেজাউল

মসজিদে ইমামতির পাশাপাশি প্রায় ৩০ বছর ধরে বৃক্ষরোপণ করে আসছেন ভোলার চরফ্যাশন উপজেলার ওমরপুর ইউনিয়নের মো. রেজাউল কিবরিয়া বাবুল। নিজের অর্থ ও উদ্যোগে বিভিন্ন সড়কের পাশে হাজার হাজার গাছের চারা রোপণ ও পরিচর্যা করে গড়ে তুলেছেন সবুজের আবরণ। তার লাগানো সারি সারি তালগাছে বদলে গেছে গ্রামের একটি সড়কের চিত্র।

স্থানীয়দের কাছে রেজাউল কিবরিয়া বাবুল একজন ইমাম হিসেবে পরিচিত হলেও বৃক্ষপ্রেমী হিসেবেও রয়েছে তার আলাদা পরিচিতি। তিনি ওমরপুর ইউনিয়নের কালাপানিয়া বাজার বাইতুল মামুর জামে মসজিদের ইমাম। ইমামতির পাশাপাশি অবসর সময়ে গাছ লাগানো ও পরিচর্যায় নিজেকে নিয়োজিত রাখেন তিনি।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, প্রায় তিন দশক আগে বৃক্ষরোপণের উদ্যোগ নেন রেজাউল কিবরিয়া। ১৯৯৩-৯৪ সালের দিকে পৈতৃক সম্পত্তি বিক্রি করে প্রায় ৮ লাখ টাকা ব্যয়ে ভুঁইয়ারহাট এলাকায় একটি নার্সারি গড়ে তোলেন। সেখান থেকে উৎপাদিত ও সংগ্রহ করা বিভিন্ন জাতের গাছের চারা এলাকার সড়কের পাশে রোপণ করতে শুরু করেন। একই সঙ্গে মাইকিং করে স্থানীয়দের গাছ লাগাতে উৎসাহিত করতেন।

তার লাগানো গাছের মধ্যে রয়েছে তাল, ফলজ ও বিভিন্ন ঔষধি গাছ। ওমরপুর গ্রামের বাউল সড়কের দুই পাশে প্রায় দুই দশক আগে লাগানো তালগাছগুলো এখন বড় হয়ে সারি সারি দাঁড়িয়ে আছে। দূর থেকে দেখলে পুরো সড়কটি যেন সবুজে ঘেরা একটি প্রাকৃতিক পথ। গাছের ছায়ায় পথচারী ও কৃষকেরা স্বস্তি পান। স্থানীয়দের পাশাপাশি বাইরের লোকজনও এখন এই সড়কের সৌন্দর্য দেখতে আসেন।

Model Hospital

শুধু বাউল সড়ক নয়, ওমরপুর ইউনিয়নের আরও কয়েকটি সড়কের পাশেও গাছ লাগিয়েছেন তিনি। চারা রোপণের পর নিয়মিত সেগুলোর পরিচর্যাও করেন। অনেক গাছ নষ্ট হয়ে গেলেও বৃক্ষরোপণের কাজ থেকে পিছিয়ে যাননি তিনি।

স্থানীয়দের মতে, সরকারি কোনো প্রকল্পের অপেক্ষায় না থেকে একজন ইমামের ব্যক্তিগত উদ্যোগে দীর্ঘদিন ধরে গাছ লাগানোর এই প্রচেষ্টা শুধু একটি সড়কের সৌন্দর্যই বদলায়নি, বরং স্থানীয়দের মধ্যেও বৃক্ষরোপণের আগ্রহ তৈরি করেছে।

স্থানীয় বাসিন্দা শাহজাহান, লিটন, আলমগীর ও যুবক তুহিন জানান, বাউল সড়কের দুই পাশে এখন শত শত তালগাছ রয়েছে। গাছগুলো বড় হয়ে ওঠায় সড়কটির সৌন্দর্য অনেক বেড়েছে। বিকেল ও সন্ধ্যায় স্থানীয়রা সেখানে সময় কাটান। দূর-দূরান্ত থেকেও অনেকে এই সড়কের সৌন্দর্য দেখতে আসেন। রেজাউল কিবরিয়ার উদ্যোগ দেখে তারাও নিজেদের জায়গায় বেশি করে গাছ লাগাতে উৎসাহিত হয়েছেন।

রেজাউল কিবরিয়া বাবুল বলেন, ‘পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা এবং আল্লাহর সন্তুষ্টির আশায় আমি প্রায় তিন দশক ধরে গাছ লাগিয়ে আসছি। ১৯৯৩-৯৪ সালে এ কাজ শুরু করি। এ পর্যন্ত বিভিন্ন জায়গায় প্রায় ৫০ থেকে ৬০ হাজার গাছের চারা লাগিয়েছি। এর মধ্যে তালগাছের বীজ ও চারা রয়েছে প্রায় ২৫ থেকে ৩০ হাজার।’

তিনি বলেন, সব গাছ টিকিয়ে রাখা সম্ভব হয়নি। তবে গাছ লাগানোর কাজ থেকে কখনো সরে আসেননি। বর্তমানে নিজে নার্সারিতে চারা উৎপাদনের সময় না পাওয়ায় ঝালকাঠির স্বরূপকাঠি থেকে বিভিন্ন ধরনের চারা সংগ্রহ করে রোপণ করছেন।

তালগাছ লাগানোর বিষয়ে তিনি বলেন, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বজ্রপাতের ঘটনা বেড়ে যাওয়ায় তালগাছ লাগানোর ওপর বেশি গুরুত্ব দিচ্ছেন তিনি। পাশাপাশি বন বিভাগের পরামর্শও নিয়ে থাকেন।

রেজাউল কিবরিয়া আরও বলেন, ‘আমি গাছ লাগানোকে সদকায়ে জারিয়া হিসেবে দেখি। একটি গাছ শুধু বর্তমান প্রজন্মের জন্য নয়, ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্যও ছায়া, সৌন্দর্য ও উপকারের উৎস। যতদিন বেঁচে থাকব, ততদিনই গাছ লাগানোর এই কাজ চালিয়ে যেতে চাই।’

তার ভাষ্য, গ্রামের প্রতিটি সড়ক ও আশপাশের এলাকা সবুজে ভরে তোলাই তার লক্ষ্য। একই সঙ্গে তরুণদের খারাপ অভ্যাস থেকে দূরে রাখতে ফল ও ফুলের বাগান করার আহ্বান জানান তিনি।

রেজাউল কিবরিয়ার দীর্ঘদিনের উদ্যোগের বিষয়ে চরফ্যাশন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রুমানা আফরোজ বলেন, ‘গাছ লাগানো অবশ্যই একটি ভালো উদ্যোগ। রেজাউল কিবরিয়া সাহেবের দীর্ঘদিনের এ কাজের বিষয়টি আমার জানা ছিল না। খোঁজ নিয়ে এ বিষয়ে তার পাশে দাঁড়ানোর চেষ্টা করব।’