শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১ আশ্বিন ১৪৩৩
শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১ আশ্বিন ১৪৩৩

চাঁদপুরে কিন্ডারগার্টেন এসোসিয়েশনের বৃত্তি পরীক্ষার সনদ ও সম্মানী বিতরণ

সাইদ হোসেন অপু চৌধুরী প্রকাশিত: শনিবার, ২৫ মে, ২০২৪, ৮:৪৮ পিএম
চাঁদপুরে কিন্ডারগার্টেন এসোসিয়েশনের বৃত্তি পরীক্ষার সনদ ও সম্মানী বিতরণ

বাংলাদেশ কিন্ডারগার্টেন এসোসিয়েশন চাঁদপুর সদর উপজেলা শাখার আয়োজনে মেধা বৃত্তি পরীক্ষা -২০২৩ এর সনদ ও সম্মানী বিতরণ করা হয়েছে।

২৫ মে শনিবার বেলা ১১টায় চাঁদপুর শহরের এ্যারোমা রেস্টুরেন্টে উৎসবমুখর পরিবেশে এ আয়োজন সম্পন্ন হয়। অনুষ্ঠানে চাঁদপুর সদর উপজেলার থেকে মেধাবৃত্তি পরিক্ষায় অংশ নেয়া প্রায় ১৭শ’ শিক্ষার্থীর সনদ ও সম্মানী তাদের প্রতিষ্ঠান প্রধানদের হাতে হস্তান্তর করা হয়।

একই অনুষ্ঠানে বাংলাদেশ কিন্ডারগার্টেন এসোসিয়েশন চাঁদপুর সদর উপজেলা শাখার পক্ষ থেকে নব-নির্বাচিত সদর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান, ভাইস চেয়ারম্যান এবং মহিলা ভাইস চেয়ারম্যানকে সংবর্ধনা প্রদান করা হয়।

অনুষ্ঠানে সংবর্ধিত অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন, নব-নির্বাচিত সদর উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান অ্যাড. হুমায়ুন কবির সুমন, ভাইস চেয়ারম্যান নুরুল হায়দার সংগ্রাম, মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান রেবেকা সুলতানা মুন্না।

Model Hospital

বাংলাদেশ কিন্ডারগার্টেন এসোসিয়েশন চাঁদপুর সদর উপজেলা শাখার সভাপতি লায়ন মো. গোলাম হোসেনের সভাপতিত্বে এবং সাধারণ সম্পাদক মৃণাল কান্তি দাসের পরিচালনায় অনুষ্ঠানে আমন্ত্রিত অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন, চাঁদপুর ড্যাফোডিল ইন্টার ন্যাশনাল স্কুল এন্ড কলেজের অধ্যক্ষ মো. নূর খান, উপজেলা শিক্ষা অফিসার (ভারপ্রাপ্ত) মো. মজিবুর রহমান, হাজী লোকমান পাবলিক স্কুলের প্রতিষ্ঠাতা রোটারিয়ান মো. রোকনুজ্জামান রোকন, বাংলাদেশ কিন্ডারগার্টেন এসোসিয়েশন চাঁদপুর জেলা শাখার সহ-সভাপতি আল্লামা মাহফুজউল্লাহ ইউসুফি, মতল দক্ষিণ উপজেলা শাখার সভাপতি ফারুক আহমেদ বাদল, হাজীগঞ্জ উপজেলা শাখার সভাপতি মো. আক্তার হোসেন, কচুয়া উপজেলা শাখার সভাপতি মানিক ভৌমিক, শাহরাস্তি উপজেলা শাখার সভাপতি আলী আজগর মিয়াজী, হাইমচর উপজেলা আর্দশ শিশু নিকেতনের প্রতিষ্ঠাতা মাজহারুল ইসলাম শফিক, মতলব দক্ষিণ উপজেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক মো. মোস্তফা কামাল, কচুয়া উপজেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক মো. আমির হোসেন, হাইমচর উপজেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক মাওলানা মো. হাফিজুর রহমান, সদর শাখার সহ-সভাপতি মাহমুদা খানম, আইভি হিরা, নাজমুন নাহার, কোষাদক্ষ মো. কাউসার পাটওয়ারী।

অনুষ্ঠানে আমন্ত্রিত শিক্ষকদের উদ্দেশ্যে দিক-নির্দেশনামূলক বক্তব্য রাখেন, বাংলাদেশ কিন্ডারগার্টেন এসোসিয়েশন চাঁদপুর জেলা শাখার সভাপতি মো. ওমর ফারুক ও সাধারণ সম্পাদক সবুজ ভদ্র।

অনুষ্ঠানে আমন্ত্রিত অতিথিবৃন্দ তাদের বক্তব্য বলেন, বাংলাদেশের অন্যতম বৃহৎ শিক্ষক সংগঠন বাংলাদেশ কিন্ডারগার্টেন এসোসিয়েশন। কেজি স্কুলের শিক্ষকদের স্বার্থ রক্ষায় এই সংগঠনটি সারা দেশে কাজ করে যাচ্ছে। পাশাপাশি ক্ষুধে শিক্ষার্থীদের প্রতিভা বিকাশে মেধাবৃত্তি পরীক্ষা আয়োজনসহ সামাজিক এবং মানবিক কাজ করে যাচ্ছে। চাঁদপুরে এই সংগঠনটি অনেক ঐক্যবদ্ধ এবং শক্তিশালী। আমরা এই সংগঠনটির উত্তরোত্তর সাফল্য কামনা করছি।

এসময় উপস্থিত ছিলেন, আবু হুরাইরা মডেল একাডেমির অধ্যক্ষ সুমাইয়া বেগম, চাঁদপুর ল্যাবরেটরি স্কুলের পরিচালক মৃদুল কান্তি দাস, মৈশাদী মডেল একাডেমির অধ্যক্ষ ফারহানা ইভা, ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল স্কুলের সহকারি শিক্ষক আবুল কালাম আজাদ, কালেক্টরেট স্কুল এন্ড কলেজের শিক্ষক মো. ওয়ালি উল্লাহ, ওয়াইডব্লিউসি স্কুলের শিক্ষক সোমা দত্ত, বদরখোলা মডেল একাডেমির মহিউদ্দিন নাদিম, তরপুরচন্ডি মালেক স্মৃতি একাডেমির অধ্যক্ষ ফেরদৌসি বেগম, বাংলাবাজার আদর্শ একাডেমির অধ্যক্ষ মাসুদ কবিরাজ, তাকওয়া মডেল একাডেমির অধ্যক্ষ মো. আবুল বাসার, লাইসিয়াম কিন্ডারগার্টেনের অধ্যক্ষ মো. ফজলুর রহমান রুবেল, ক্যামব্রিয়ান স্কুলের অধ্যক্ষ মোবাশ্বেরা রানী, হাজী আমজাদ আলী স্কুলের পরিচালক ইসলাম হায়দার চৌধুরী, আল হেরা পাবলিক স্কুলের অধ্যক্ষ মো. হাজবুল্লাহ, অনুষ্ঠানের শুরুতেই পবিত্র কোরআন থেকে তেলাওয়াত করেন খাজা এনায়েত উল্লাহ একাডেমির অধ্যক্ষ মো. খাজা জুবায়ের, গীতা পাঠ করেন পুরাণবাজার মার্চেন্ট একাডেমির অধ্যক্ষ শতাব্দী আচার্যী।

৩০ বছর ধরে গাছ লাগিয়ে গ্রামের সড়কের চিত্র বদলে দিলেন মসজিদের ইমাম রেজাউল

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৯:৫৯ পিএম
৩০ বছর ধরে গাছ লাগিয়ে গ্রামের সড়কের চিত্র বদলে দিলেন মসজিদের ইমাম রেজাউল

মসজিদে ইমামতির পাশাপাশি প্রায় ৩০ বছর ধরে বৃক্ষরোপণ করে আসছেন ভোলার চরফ্যাশন উপজেলার ওমরপুর ইউনিয়নের মো. রেজাউল কিবরিয়া বাবুল। নিজের অর্থ ও উদ্যোগে বিভিন্ন সড়কের পাশে হাজার হাজার গাছের চারা রোপণ ও পরিচর্যা করে গড়ে তুলেছেন সবুজের আবরণ। তার লাগানো সারি সারি তালগাছে বদলে গেছে গ্রামের একটি সড়কের চিত্র।

স্থানীয়দের কাছে রেজাউল কিবরিয়া বাবুল একজন ইমাম হিসেবে পরিচিত হলেও বৃক্ষপ্রেমী হিসেবেও রয়েছে তার আলাদা পরিচিতি। তিনি ওমরপুর ইউনিয়নের কালাপানিয়া বাজার বাইতুল মামুর জামে মসজিদের ইমাম। ইমামতির পাশাপাশি অবসর সময়ে গাছ লাগানো ও পরিচর্যায় নিজেকে নিয়োজিত রাখেন তিনি।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, প্রায় তিন দশক আগে বৃক্ষরোপণের উদ্যোগ নেন রেজাউল কিবরিয়া। ১৯৯৩-৯৪ সালের দিকে পৈতৃক সম্পত্তি বিক্রি করে প্রায় ৮ লাখ টাকা ব্যয়ে ভুঁইয়ারহাট এলাকায় একটি নার্সারি গড়ে তোলেন। সেখান থেকে উৎপাদিত ও সংগ্রহ করা বিভিন্ন জাতের গাছের চারা এলাকার সড়কের পাশে রোপণ করতে শুরু করেন। একই সঙ্গে মাইকিং করে স্থানীয়দের গাছ লাগাতে উৎসাহিত করতেন।

তার লাগানো গাছের মধ্যে রয়েছে তাল, ফলজ ও বিভিন্ন ঔষধি গাছ। ওমরপুর গ্রামের বাউল সড়কের দুই পাশে প্রায় দুই দশক আগে লাগানো তালগাছগুলো এখন বড় হয়ে সারি সারি দাঁড়িয়ে আছে। দূর থেকে দেখলে পুরো সড়কটি যেন সবুজে ঘেরা একটি প্রাকৃতিক পথ। গাছের ছায়ায় পথচারী ও কৃষকেরা স্বস্তি পান। স্থানীয়দের পাশাপাশি বাইরের লোকজনও এখন এই সড়কের সৌন্দর্য দেখতে আসেন।

Model Hospital

শুধু বাউল সড়ক নয়, ওমরপুর ইউনিয়নের আরও কয়েকটি সড়কের পাশেও গাছ লাগিয়েছেন তিনি। চারা রোপণের পর নিয়মিত সেগুলোর পরিচর্যাও করেন। অনেক গাছ নষ্ট হয়ে গেলেও বৃক্ষরোপণের কাজ থেকে পিছিয়ে যাননি তিনি।

স্থানীয়দের মতে, সরকারি কোনো প্রকল্পের অপেক্ষায় না থেকে একজন ইমামের ব্যক্তিগত উদ্যোগে দীর্ঘদিন ধরে গাছ লাগানোর এই প্রচেষ্টা শুধু একটি সড়কের সৌন্দর্যই বদলায়নি, বরং স্থানীয়দের মধ্যেও বৃক্ষরোপণের আগ্রহ তৈরি করেছে।

স্থানীয় বাসিন্দা শাহজাহান, লিটন, আলমগীর ও যুবক তুহিন জানান, বাউল সড়কের দুই পাশে এখন শত শত তালগাছ রয়েছে। গাছগুলো বড় হয়ে ওঠায় সড়কটির সৌন্দর্য অনেক বেড়েছে। বিকেল ও সন্ধ্যায় স্থানীয়রা সেখানে সময় কাটান। দূর-দূরান্ত থেকেও অনেকে এই সড়কের সৌন্দর্য দেখতে আসেন। রেজাউল কিবরিয়ার উদ্যোগ দেখে তারাও নিজেদের জায়গায় বেশি করে গাছ লাগাতে উৎসাহিত হয়েছেন।

রেজাউল কিবরিয়া বাবুল বলেন, ‘পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা এবং আল্লাহর সন্তুষ্টির আশায় আমি প্রায় তিন দশক ধরে গাছ লাগিয়ে আসছি। ১৯৯৩-৯৪ সালে এ কাজ শুরু করি। এ পর্যন্ত বিভিন্ন জায়গায় প্রায় ৫০ থেকে ৬০ হাজার গাছের চারা লাগিয়েছি। এর মধ্যে তালগাছের বীজ ও চারা রয়েছে প্রায় ২৫ থেকে ৩০ হাজার।’

তিনি বলেন, সব গাছ টিকিয়ে রাখা সম্ভব হয়নি। তবে গাছ লাগানোর কাজ থেকে কখনো সরে আসেননি। বর্তমানে নিজে নার্সারিতে চারা উৎপাদনের সময় না পাওয়ায় ঝালকাঠির স্বরূপকাঠি থেকে বিভিন্ন ধরনের চারা সংগ্রহ করে রোপণ করছেন।

তালগাছ লাগানোর বিষয়ে তিনি বলেন, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বজ্রপাতের ঘটনা বেড়ে যাওয়ায় তালগাছ লাগানোর ওপর বেশি গুরুত্ব দিচ্ছেন তিনি। পাশাপাশি বন বিভাগের পরামর্শও নিয়ে থাকেন।

রেজাউল কিবরিয়া আরও বলেন, ‘আমি গাছ লাগানোকে সদকায়ে জারিয়া হিসেবে দেখি। একটি গাছ শুধু বর্তমান প্রজন্মের জন্য নয়, ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্যও ছায়া, সৌন্দর্য ও উপকারের উৎস। যতদিন বেঁচে থাকব, ততদিনই গাছ লাগানোর এই কাজ চালিয়ে যেতে চাই।’

তার ভাষ্য, গ্রামের প্রতিটি সড়ক ও আশপাশের এলাকা সবুজে ভরে তোলাই তার লক্ষ্য। একই সঙ্গে তরুণদের খারাপ অভ্যাস থেকে দূরে রাখতে ফল ও ফুলের বাগান করার আহ্বান জানান তিনি।

রেজাউল কিবরিয়ার দীর্ঘদিনের উদ্যোগের বিষয়ে চরফ্যাশন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রুমানা আফরোজ বলেন, ‘গাছ লাগানো অবশ্যই একটি ভালো উদ্যোগ। রেজাউল কিবরিয়া সাহেবের দীর্ঘদিনের এ কাজের বিষয়টি আমার জানা ছিল না। খোঁজ নিয়ে এ বিষয়ে তার পাশে দাঁড়ানোর চেষ্টা করব।’