শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১ আশ্বিন ১৪৩৩
শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১ আশ্বিন ১৪৩৩

উৎসাহ উদ্দীপনা ও সহিসংতার মধ্য দিয়ে ফরিদগঞ্জের নির্বাচন সম্পন্ন

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বুধবার, ৫ জানুয়ারি, ২০২২, ২:৩৬ পিএম
উৎসাহ উদ্দীপনা ও সহিসংতার মধ্য দিয়ে ফরিদগঞ্জের নির্বাচন সম্পন্ন

এস এম ইকবাল : চাঁদপুরের ফরিদগঞ্জে ব্যাপক উৎসাহ আর উদ্দীপনা ও সহিংসতার মধ্যে দিয়ে ৫ই জানুয়ারী বুধবার ৫ম ধাপের অনুষ্ঠিত ১৩টি ইউনিয়নের ইউপি নির্বাচন সম্পন্ন হয়েছে। নির্বাচন অবাধ ও সুষ্ঠু করতে আইন শৃঙ্খলা বাহিনীর ৩৬টি মোবাইল টিম ও ১০টি ষ্টাকিং ফোর্স অবিরাম কাজ করলেও বিভিন্ন ইউনিয়নে জাল ভোটসহ মারামারির ঘটনা ঘটেছে। অনেকেই এবার শান্তিপূর্ন ভাবে ভোট দিতে পেরে স্বস্তিও প্রকাশ করেছে। চাঁদপুরের জেলা প্রশাসক অঞ্জনা খান মজলিশ ও জেলা পুলিশ সুপার মিলন মাহমুদ ফরিদগঞ্জের নির্বাচনী এলাকা পরিদর্শন করেছেন।

১৩টি ইউনিয়ন ঘুরে দেখা গেছে, সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত ভোটারদের বেশ উপস্থিতি দেখা গেলেও দুপুরের পর তেমন ভোটারের উপস্থিতি ছিলনা।

সকালে বয়বৃদ্ধ বেশ কিছু ভোটারের সাথে কথা বলে জানাগেছে, দেশ স্বাধীনের পর থেকে এমন শান্তিপূর্ন ভাবে আমারা ভোট দিতে পারিনি। তাই এবার শান্তি মত ভোট দিতে পেরে আমরা খুশি এবং এসময় নির্বাচন সংশ্লিষ্ট সকলকে ধন্যবাদ জানান ভোটাররা।
জানাগেছে, ১, ৩, ৪, ৯, ১১ ও ১৬নং ইউনিয়নে ছোট- বড় সহিংসতার ঘটনা ঘটেছে।

তবে এবারো উপজেলার রূপসা দক্ষিন সেই পীরের কথায় ৫০ বছর ধরে ভোট না দেয়া নারী ভোটারগন ভোট দেয়নি।
উপজেলা নির্বাচন অফিস সুত্রে জানা গেছে, ১৩ টি ইউনিয়নে এবার চেয়ারম্যান পদে ৭৩ জন,১শ ১৭টি মেম্বার পদে ৪শ ৯৩ জন ও সংরক্ষিত ৩৯টি মহিলা মেম্বার পদে ১২৫ জন নির্বাচনে প্রতিদ্বন্ধীতা করছেন। ১৩ ইউনিয়নে ভোট গ্রহনের কেন্দ্র রয়েছে মোট ১শ ১শ ২২টি ,ভোট গ্রহনের কক্ষের সংখ্যা ৭শ ৭২টি, ১৩ ইউনিয়নে মোট পুরুষ ভোটার সংখ্যা ১ লাখ ৪০ হাজার ৯৭৩ মহিলা ভোটার সংখ্যা ১ লাখ ৩০ হাজার ৪শ ৪১। অর্থাৎ পুরুষ ও মহিলা সহ মোট ভোটারের সংখ্যা হলো ২ লাখ ৭১ হাজার ৪১৪।

Model Hospital

৩০ বছর ধরে গাছ লাগিয়ে গ্রামের সড়কের চিত্র বদলে দিলেন মসজিদের ইমাম রেজাউল

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৯:৫৯ পিএম
৩০ বছর ধরে গাছ লাগিয়ে গ্রামের সড়কের চিত্র বদলে দিলেন মসজিদের ইমাম রেজাউল

মসজিদে ইমামতির পাশাপাশি প্রায় ৩০ বছর ধরে বৃক্ষরোপণ করে আসছেন ভোলার চরফ্যাশন উপজেলার ওমরপুর ইউনিয়নের মো. রেজাউল কিবরিয়া বাবুল। নিজের অর্থ ও উদ্যোগে বিভিন্ন সড়কের পাশে হাজার হাজার গাছের চারা রোপণ ও পরিচর্যা করে গড়ে তুলেছেন সবুজের আবরণ। তার লাগানো সারি সারি তালগাছে বদলে গেছে গ্রামের একটি সড়কের চিত্র।

স্থানীয়দের কাছে রেজাউল কিবরিয়া বাবুল একজন ইমাম হিসেবে পরিচিত হলেও বৃক্ষপ্রেমী হিসেবেও রয়েছে তার আলাদা পরিচিতি। তিনি ওমরপুর ইউনিয়নের কালাপানিয়া বাজার বাইতুল মামুর জামে মসজিদের ইমাম। ইমামতির পাশাপাশি অবসর সময়ে গাছ লাগানো ও পরিচর্যায় নিজেকে নিয়োজিত রাখেন তিনি।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, প্রায় তিন দশক আগে বৃক্ষরোপণের উদ্যোগ নেন রেজাউল কিবরিয়া। ১৯৯৩-৯৪ সালের দিকে পৈতৃক সম্পত্তি বিক্রি করে প্রায় ৮ লাখ টাকা ব্যয়ে ভুঁইয়ারহাট এলাকায় একটি নার্সারি গড়ে তোলেন। সেখান থেকে উৎপাদিত ও সংগ্রহ করা বিভিন্ন জাতের গাছের চারা এলাকার সড়কের পাশে রোপণ করতে শুরু করেন। একই সঙ্গে মাইকিং করে স্থানীয়দের গাছ লাগাতে উৎসাহিত করতেন।

তার লাগানো গাছের মধ্যে রয়েছে তাল, ফলজ ও বিভিন্ন ঔষধি গাছ। ওমরপুর গ্রামের বাউল সড়কের দুই পাশে প্রায় দুই দশক আগে লাগানো তালগাছগুলো এখন বড় হয়ে সারি সারি দাঁড়িয়ে আছে। দূর থেকে দেখলে পুরো সড়কটি যেন সবুজে ঘেরা একটি প্রাকৃতিক পথ। গাছের ছায়ায় পথচারী ও কৃষকেরা স্বস্তি পান। স্থানীয়দের পাশাপাশি বাইরের লোকজনও এখন এই সড়কের সৌন্দর্য দেখতে আসেন।

Model Hospital

শুধু বাউল সড়ক নয়, ওমরপুর ইউনিয়নের আরও কয়েকটি সড়কের পাশেও গাছ লাগিয়েছেন তিনি। চারা রোপণের পর নিয়মিত সেগুলোর পরিচর্যাও করেন। অনেক গাছ নষ্ট হয়ে গেলেও বৃক্ষরোপণের কাজ থেকে পিছিয়ে যাননি তিনি।

স্থানীয়দের মতে, সরকারি কোনো প্রকল্পের অপেক্ষায় না থেকে একজন ইমামের ব্যক্তিগত উদ্যোগে দীর্ঘদিন ধরে গাছ লাগানোর এই প্রচেষ্টা শুধু একটি সড়কের সৌন্দর্যই বদলায়নি, বরং স্থানীয়দের মধ্যেও বৃক্ষরোপণের আগ্রহ তৈরি করেছে।

স্থানীয় বাসিন্দা শাহজাহান, লিটন, আলমগীর ও যুবক তুহিন জানান, বাউল সড়কের দুই পাশে এখন শত শত তালগাছ রয়েছে। গাছগুলো বড় হয়ে ওঠায় সড়কটির সৌন্দর্য অনেক বেড়েছে। বিকেল ও সন্ধ্যায় স্থানীয়রা সেখানে সময় কাটান। দূর-দূরান্ত থেকেও অনেকে এই সড়কের সৌন্দর্য দেখতে আসেন। রেজাউল কিবরিয়ার উদ্যোগ দেখে তারাও নিজেদের জায়গায় বেশি করে গাছ লাগাতে উৎসাহিত হয়েছেন।

রেজাউল কিবরিয়া বাবুল বলেন, ‘পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা এবং আল্লাহর সন্তুষ্টির আশায় আমি প্রায় তিন দশক ধরে গাছ লাগিয়ে আসছি। ১৯৯৩-৯৪ সালে এ কাজ শুরু করি। এ পর্যন্ত বিভিন্ন জায়গায় প্রায় ৫০ থেকে ৬০ হাজার গাছের চারা লাগিয়েছি। এর মধ্যে তালগাছের বীজ ও চারা রয়েছে প্রায় ২৫ থেকে ৩০ হাজার।’

তিনি বলেন, সব গাছ টিকিয়ে রাখা সম্ভব হয়নি। তবে গাছ লাগানোর কাজ থেকে কখনো সরে আসেননি। বর্তমানে নিজে নার্সারিতে চারা উৎপাদনের সময় না পাওয়ায় ঝালকাঠির স্বরূপকাঠি থেকে বিভিন্ন ধরনের চারা সংগ্রহ করে রোপণ করছেন।

তালগাছ লাগানোর বিষয়ে তিনি বলেন, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বজ্রপাতের ঘটনা বেড়ে যাওয়ায় তালগাছ লাগানোর ওপর বেশি গুরুত্ব দিচ্ছেন তিনি। পাশাপাশি বন বিভাগের পরামর্শও নিয়ে থাকেন।

রেজাউল কিবরিয়া আরও বলেন, ‘আমি গাছ লাগানোকে সদকায়ে জারিয়া হিসেবে দেখি। একটি গাছ শুধু বর্তমান প্রজন্মের জন্য নয়, ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্যও ছায়া, সৌন্দর্য ও উপকারের উৎস। যতদিন বেঁচে থাকব, ততদিনই গাছ লাগানোর এই কাজ চালিয়ে যেতে চাই।’

তার ভাষ্য, গ্রামের প্রতিটি সড়ক ও আশপাশের এলাকা সবুজে ভরে তোলাই তার লক্ষ্য। একই সঙ্গে তরুণদের খারাপ অভ্যাস থেকে দূরে রাখতে ফল ও ফুলের বাগান করার আহ্বান জানান তিনি।

রেজাউল কিবরিয়ার দীর্ঘদিনের উদ্যোগের বিষয়ে চরফ্যাশন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রুমানা আফরোজ বলেন, ‘গাছ লাগানো অবশ্যই একটি ভালো উদ্যোগ। রেজাউল কিবরিয়া সাহেবের দীর্ঘদিনের এ কাজের বিষয়টি আমার জানা ছিল না। খোঁজ নিয়ে এ বিষয়ে তার পাশে দাঁড়ানোর চেষ্টা করব।’