শনিবার, ২৪ অক্টোবর ২০২৬, ১০ কার্তিক ১৪৩৩
শনিবার, ২৪ অক্টোবর ২০২৬, ১০ কার্তিক ১৪৩৩

ছেংগারচর পৌরসভার জনপ্রতিনিধিরা লাপাত্তা, সেবা পেতে ঘুরছে মানুষ

নিজস্ব প্রতিনিধি প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২৭ আগস্ট, ২০২৪, ১১:১৯ পিএম
ছেংগারচর পৌরসভার জনপ্রতিনিধিরা লাপাত্তা, সেবা পেতে ঘুরছে মানুষ

শেখ হাসিনা সরকারের পদত্যাগের পর আত্মগোপনে চলে যান মতলব উত্তর উপজেলার ছেংগারচর পৌরসভার বেশিরভাগ জনপ্রতিনিধি।

কার্যালয় ছাড়ার তিন সপ্তাহ পেরিয়ে গেলেও তাদের অনেকেই এখনো কার্যালয়ে ফেরেননি। ফলে চরম দুর্ভোগে পড়েছেন সেবা প্রত্যাশীদের।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, উপজেলার ছেংগারচর পৌরসভার বেশির ভাগ কাউন্সিলর ছিলেন আওয়ামী লীগ সমর্থিত। সারাদেশের বিভিন্ন পৌরসভার মেয়রদের সাথে ছেংগারচর পৌরসভার মেয়র আরিফ উল্যাহ সরকারকে ১৯ আগষ্ট অপসারণ করা হয়।

এরপর মতলব উত্তর উপজেলা সহকারি কমিশনার (ভূমি) হিল্লোল চাকমাকে প্রশাসক হিসেবে নিয়োগ দেয়া হয়।

Model Hospital

আওয়ামী লীগ সমর্থিত হওয়ায় হাসিনা সরকারের পদত্যাগের পর থেকেই গা-ঢাকা দেন কাউন্সিলররা। সেইসঙ্গে বন্ধ রয়েছে অনেকের মোবাইল ফোন।

নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিরা পরিষদে না থাকায় ব্যাহত হচ্ছে পৌরসভা থেকে দেওয়া বিভিন্ন সনদ ও জন্ম-মৃত্যু নিবন্ধনের মতো নাগরিক সেবা কার্যক্রম। সেবা নিতে আসা সাধারণ জনগণ পড়েছেন চরম বিপাকে।

পৌরসভার একাধিক সেবা প্রার্থীর সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, কাউন্সিলররা না থাকায় তারা দুর্ভোগে পড়েছেন। কাউন্সিলররা উপস্থিত থাকলে বেশিরভাগ সেবা তৎক্ষণাৎ পাওয়া যেত। কাউন্সিলররা অনুপস্থিত থাকায় তার সঙ্গে যোগাযোগ করে তিনি যেখানে বলছেন সেখানে যেতে হচ্ছে। এতে ভোগান্তি যেমন বেড়েছে, সেইসঙ্গে খরচ হচ্ছে বাড়তি অর্থ ও সময়।

১নং ওয়ার্ডের বালুরচর গ্রামের বাসিন্দা মোহাম্মদ হোসেন জানান, জন্ম নিবন্ধনের জন্য পৌরসভায় যান তিনি। পৌরসভা থেকে অনলাইনে নিবন্ধন কার্যক্রম সম্পন্ন করলেও কাউন্সিলর স্বাক্ষর প্রয়োজন। কাউন্সিলর কার্যালয়ে না থাকায় তার বাড়িতে গিয়ে স্বাক্ষর নিতে হবে। জনদুর্ভোগ নিরসনে কাউন্সিলরদের দ্রুত কার্যালয়ে ফেরার দাবি জানান তিনি।

৩নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর জাহাঙ্গীর আলম বলেন, পৌরসভায় উপস্থিত থাকতে না পেরে কার্যক্রম কিছুটা ব্যাহত হচ্ছে।

এ বিষয়ে জেলা প্রশাসক কামরুল হাসান বলেন, রাজনৈতিক কারণে হয়তো অনেকে যাচ্ছেন না। নাগরিক সেবা নিশ্চিত করতে হবে।

কাউন্সিলর ও পৌর নির্বাহী কর্মকর্তা (সচিব) সবার জন্যই নির্দেশনা একই। যারা যাচ্ছেন না আমি উনাদের সঙ্গে কথা বলব, যেন তাঁরা নিয়মিত কার্যালয়ে যান।

উৎপাদনই বদলাবে বাংলাদেশ: দক্ষতা বৃদ্ধিতে চাঁদপুরে ব্যবসায়ী সম্মেলন

নিজস্ব প্রতিনিধি প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৩ অক্টোবর, ২০২৬, ১০:২৭ পিএম
উৎপাদনই বদলাবে বাংলাদেশ: দক্ষতা বৃদ্ধিতে চাঁদপুরে ব্যবসায়ী সম্মেলন

চাঁদপুরে ‘টাকা মাত্র ১০ হাজার, খুলবে ব্যবসার দ্বার’ এই স্লোগানে অনুষ্ঠিত হয়েছে ব্যবসায়ী সম্মেলন। সম্মেলনে দেশের অর্থনৈতিক অগ্রগতি তরান্বিত করতে নতুন উদ্যোক্তা তৈরি, সৎ-আদর্শ ব্যবসায়ী গড়ে তোলা এবং উৎপাদনমুখী শিল্পপ্রতিষ্ঠান প্রতিষ্ঠার ওপর জোর দিয়েছেন বক্তারা।

শুক্রবার (২৩ অক্টোবর) সকালে চাঁদপুর শহরের চেয়ারম্যানঘাট এলাকার ইউরেশিয়া কনভেনশন হলে ইন্ডাস্ট্রিয়ালিস্টস অ্যান্ড বিজনেসমেন ওয়েলফেয়ার ফাউন্ডেশন (আইবিডাব্লিউএফ) চাঁদপুর জেলা শাখা এ সম্মেলনের আয়োজন করে।

সম্মেলনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে সংগঠনটির কেন্দ্রীয় সভাপতি মুহাম্মদ শহিদুল ইসলাম বলেন, ‘২০৫০ সালের বিশ্ব শিল্পবিপ্লবের সঙ্গে তাল মেলাতে হলে আমাদের উৎপাদনে যেতে হবে। শিল্পপ্রতিষ্ঠান গড়ে তোলার কোনো বিকল্প নেই।’

তিনি আরও বলেন, ‘বাংলাদেশ বাণিজ্যিকভাবে সম্ভাবনাময় দেশ। ১৮ কোটি মানুষের বিশাল বাজার থাকায় দেশি-বিদেশি বিনিয়োগকারীদের কাছে বাংলাদেশের গুরুত্ব রয়েছে। এ সম্ভাবনাকে কাজে লাগাতে ব্যবসায়ীদের উৎপাদনমুখী হতে হবে।’

Model Hospital

চীনসহ বিভিন্ন উৎপাদনকারী দেশ সফরের অভিজ্ঞতা তুলে ধরে তিনি বলেন, ‘উৎপাদনই এসব দেশের অর্থনৈতিক পরিবর্তনের অন্যতম প্রধান শক্তি।

তিনি আরও বলেন, সম্পদ অর্জন করতে হবে, তবে তা অবশ্যই সৎ পথে। সংগঠনের সদস্য হওয়ার ক্ষেত্রে ব্যক্তি বা ধর্মীয় পরিচয়ে কোনো বাধা নেই, তবে সততা থাকতে হবে। সঠিক পরিকল্পনা, সততা, সাহস, দক্ষতা ও কঠোর পরিশ্রমের মাধ্যমে চাঁদপুরেও বড় শিল্পোদ্যোক্তা তৈরি করা সম্ভব।’

সম্মেলনে অংশ নেওয়া পাঁচ শতাধিক ব্যবসায়ীর মধ্যে মাত্র ১৬ জন উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে যুক্ত রয়েছেন উল্লেখ করে তিনি বলেন, এই উদ্যোক্তারা চাঁদপুরে শিল্পায়নের সম্ভাবনা জাগিয়ে তুলেছেন। মাত্র তিনটি মেশিন দিয়ে উৎপাদন শুরু করে তিন বছরের মধ্যে একটি প্রতিষ্ঠানকে অর্ধশতাধিক মেশিনে বিভিন্ন পণ্য উৎপাদন করতে দেখেছেন বলেও নিজের অভিজ্ঞতা তুলে ধরেন তিনি। তার মতে, এ ধরনের সাফল্য নতুন উদ্যোক্তাদের অনুপ্রাণিত করতে পারে।

আইবিডাব্লিউএফের চাঁদপুর জেলা শাখার সভাপতি অধ্যাপক শাহ্ আলমের সভাপতিত্বে সম্মেলনে বিশেষ অতিথির বক্তব্য দেন সংগঠনটির কেন্দ্রীয় অর্থ সম্পাদক হুমায়ুন কবির পাটওয়ারী, কুমিল্লা আঞ্চলিক সভাপতি কাজী নজরুল ইসলাম খাদেম এবং জেলা শাখার উপদেষ্টা অধ্যক্ষ মো. হারুন অর রশিদ উসমানী।

জেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক রেজাউল করিমের সঞ্চালনায় শুভেচ্ছা বক্তব্য দেন সহসভাপতি মোজাম্মেল হক পরান ও বাদশা ফয়সাল।

ব্যবসায়ীদের মধ্যে বক্তব্য দেন মাওলানা আবু জাফর সিদ্দিক, শাখাওয়াত হোসেন, আবুবকর সিদ্দিক, হাফেজ তাজবীর ও সাইফুল ইসলাম সবুজ প্রমুখ।

বক্তারা নিজেদের ব্যবসায়িক অভিজ্ঞতা ও সাফল্যের গল্প তুলে ধরে সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গঠনে ব্যবসায়ীদের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকার কথা বলেন। পাশাপাশি নতুন উদ্যোক্তা তৈরি, ব্যবসায়ীদের ঐক্যবদ্ধ করা এবং সততা ও আদর্শের ভিত্তিতে ব্যবসা পরিচালনার আহ্বান জানান।