মঙ্গলবার, ২৭ অক্টোবর ২০২৬, ১৩ কার্তিক ১৪৩৩
মঙ্গলবার, ২৭ অক্টোবর ২০২৬, ১৩ কার্তিক ১৪৩৩

ফেনীর বানভাসী মানুষের পাশে ত্রাণ নিয়ে হাজির চাঁদপুরের মানবতার বন্ধন সামাজিক সংগঠন

মো. মাসুদ হোসেন প্রকাশিত: শনিবার, ৩১ আগস্ট, ২০২৪, ৮:৪৫ এম
ফেনীর বানভাসী মানুষের পাশে ত্রাণ নিয়ে হাজির চাঁদপুরের মানবতার বন্ধন সামাজিক সংগঠন
টানা বৃষ্টি ও উজানের ঢলে বন্যার কবলে পড়েছে দেশের কয়েকটি জেলা ও উপজেলা। স্বরণকালের ভয়াবহ বন্যায় আক্রান্ত ফেনীতে বন্যার্তদের পাশে ত্রাণ সামগ্রী নিয়ে হাজির হয়েছেন চাঁদপুরের মতলব দক্ষিণ উপজেলার স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন মানবতার বন্ধন এর সদস্যরা।
মঙ্গলবার (২৭ আগস্ট) ফেনী শহর, ছাগলনাইয়া ও পশুরাম উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় পানিবন্দি হয়ে পড়া অসহায় মানুষের মাঝে ত্রাণ সামগ্রী পৌঁছে দেন স্বেচ্ছাসেবী এই সংগঠনটি।
পাঁচটি প্যাকেজে ত্রাণ সামগ্রীর মধ্যে ১ম প্যাকেজে ছিল মুড়ি ১কেজি, বিস্কিট ৫০০ গ্রাম, চানাচুর ৫০০ গ্রাম, মোমবাতি ২পিস, কয়েল ২পিস, লাইটার ১পিস ও মিনারেল পানি ২ লিটার করে ৩ শতাধিক মানুষের মাঝে এই পণ্যগুলো দেয়া হয়।
২য় প্যাকেজে ছিল চাল ৩ কেজি, ডাল- ৫০০গ্রাম, তেল আধা লিটার, পেঁয়াজ ১কেজি, আলু ২কেজি, হলুদ ১০০গ্রাম, মরিচ ১০০গ্রাম ও মিনারেল পানি ৫ লিটার।
এছাড়াও ৩য় প্যাকেজে প্রয়োজনীয় ঔষধের মধ্যে নাপা এক্সট্রা, টাপনিল, ওমিডন, মোনাস-১০, ডক্সিভা-২০০, জিঙ্ক, স্যালাইন ও স্যানেটারী ন্যাপকিন।
৪র্থ প্যাকেজে আশ্রয়কেন্দ্রে থাকা দুই হাজার ব্যক্তির জন্য বিরিয়ানি বিতরণ করা হয়। সেই সাথে ৫ম প্যাকেজে ছোট বড় প্রায় দেড়শ মানুষের জন্য প্রয়োজনীয় জামা কাপড় বিতরণ করেন সংগঠনের সদস্যরা।
মানবতার বন্ধন সংগঠনের সভাপতি মো. মেহেদী হাসান হৃদয় বলেন, আমাদের এই সংগঠনটি বিভিন্ন সময়ে, বিভিন্ন দুর্যোগে অসহায় ও দুঃস্থ মানুষের পাশে থেকে আর্তমানবতার সেবায় নিয়োজিত থেকে কাজ করে যাচ্ছে। দেশের বিভিন্ন এলাকায় এই সংগঠন মানবতার কল্যাণে কাজ করে যাচ্ছে। এর ধারাবাহিকতায় আজকের এই ত্রাণসামগ্রী প্রদান কর্মসূচির আয়োজন করা হয়। এতে বন্যাকবলিত প্রায় আড়াই শতাধিক অসহায় মানুষের মাঝে ত্রাণ সামগ্রী হিসেবে বিভিন্ন প্রকার শুকনা খাদ্যসামগ্রী প্রদান করা হয়।
তিনি আরো বলেন, বন্যাকবলিত মানুষের পাশে দাঁড়াতে পেরে মনের আত্মতৃপ্তি পেয়েছি৷ কারন আমরা নিজেরাই সকল ত্রাণ সামগ্রী অসহায় মানুষের কাছে পৌঁছে দিয়েছি। আমাদের এই মানবিক কাজে সংগঠন এবং সংগঠনের বাইরে এলাকাবাসী অনেকেই সহযোগিতা করেছেন। আমরা তাদের সকলের প্রতি আন্তরিক ধন্যবাদ এবং কৃতজ্ঞতা জানাচ্ছি। মানুষ এবং মানবতার কল্যাণে আমাদের এসব কার্যক্রম চলমান থাকবে।
সংগঠনটির উপদেষ্টা মোবারক খান ও সভাপতি মেহেদী হাসান হৃদয়ের নেতৃত্বে উক্ত ত্রাণ বিতরণ কার্যক্রমে উপস্থিত ছিলেন মানবতার বন্ধন সংগঠনের সদস্য নুর আলম খাঁন, আল আমিন মিজি, মো. রাজন, এমরান হোসেন, মিরন, রাজু, নাজমুল সহ বিভিন্ন নেতৃবৃন্দ।

কেএফটিতে ‘আব্দুর রহমান মোল্লা লাইব্রেরি’ উদ্বোধন

মোজাম্মেল প্রধান হাসিব প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২৭ অক্টোবর, ২০২৬, ৮:২৩ পিএম
কেএফটিতে ‘আব্দুর রহমান মোল্লা লাইব্রেরি’ উদ্বোধন
চাঁদপুরের মতলব দক্ষিণ উপজেলা সদরের ঢাকিরগাঁওয়ে অবস্থিত কেএফটি কলেজিয়েট স্কুলের বয়েজ উইংয়ে ‘আব্দুর রহমান মোল্লা লাইব্রেরি’ উদ্ধোধন করা হয়েছে।
সোমবার (২৬ অক্টোবর) দুপুরে আব্দুর রহমান মোল্লা লাইব্রেরি ফিতা কেটে উদ্ধোধন করেন বিশিষ্ট দানবীর ও সমাজসেবক আলহাজ্ব এম.এ বারী।উদ্বোধন শেষে দোয়া ও মোনাজাত পরিচালনা করেন কেএফটি কলেজিয়েট স্কুলের ধর্মীয় শিক্ষক আব্দুল মালেক মিয়াজী।
পরে কেএফটি কলেজিয়েট স্কুলের অডিটোরিয়ামে আব্দুর রহমান মোল্লা লাইব্রেরির উদ্ধোধনী অনুষ্ঠিত হয়। কেএফটি কলেজিয়েট স্কুলের প্রতিষ্ঠাতা বেলায়েত হোসেন জুলহাসের পরিচালনায় প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন, বিশিষ্ট দানবীর ও সমাজসেবক আলহাজ্ব  এম.এ বারী। প্রধান অতিথির বক্তব্যের শুরুতেই তিনি তার মরহুম পিতা আব্দুর রহমান মোল্লার নামে লাইব্রেরিটি করায় মহান আল্লাহ তায়ালার প্রতি শোকরিয়া আদায় করেন। তিনি বলেন, আমি আমার  জীবদ্দশায় অসহায় গরীব দুঃখী মানুষের কল্যানে কাজ করেছি। শুধু তাই নয়, বিভিন্ন ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান, স্কুল, কলেজ, মাদ্রাসার ছাত্র-ছাত্রীদের লেখাপড়া, চিকিৎসা, বাস্থান ও বিয়ের জন্য আর্থিক সহায়তা করেছেন তিনি। মৃত্যুর আগ পর্যন্ত মানুষের এবং সমাজের কল্যাণে কাজ করে যাবো ইনশাআল্লাহ।
কেএফটি কলেজিয়েট স্কুলের বিষয়ে তিনি বলেন, এ কলেজটি একদিন দেশের অন্যতম শিক্ষা প্রতিষ্ঠান এবং বিশ্ববিদ্যালয় হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হবে। দেশ-বিদেশের ছাত্র ছাত্রীরা ভর্তি হয়ে পড়াশোনা করবে। মতলববাসীর নিকট আকুল আবেদন আপনারা কেএফটি কলেজিয়েট স্কুলের সাথে ছিলেন, আছেন এবং ভবিষ্যতেও থাকবেন।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক মেসবাহ উদ্দিন সরকার, মতলব দক্ষিণ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা কে.এম ইশমাম এবং জাপান অধিবাসী ইয়াসুও হিরায়ামা।
বক্তব্যে অতিথিরা লাইব্রেরির গুরুত্ব, বই পড়ার অভ্যাস গড়ে তোলা এবং শিক্ষার্থীদের জ্ঞান ও মননশীলতা বিকাশে পাঠাগারের ইতিবাচক ভূমিকা তুলে ধরেন। তাঁরা শিক্ষার্থীদের নিয়মিত বই পড়তে এবং জ্ঞান অর্জনের এই সুযোগ কাজে লাগাতে উৎসাহিত করেন।
একটি সমৃদ্ধ লাইব্রেরি শিক্ষার্থীদের জ্ঞানচর্চা, সৃজনশীলতা ও সুন্দর ভবিষ্যৎ গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে এমন প্রত্যাশা সবার। বই হোক জ্ঞানের আলো, লাইব্রেরি হোক আলোকিত ভবিষ্যতের সোপান।
অনুষ্ঠানের শুরুতে স্বাগত বক্তব্য রাখেন কেএফটি কলেজিয়েট স্কুলের প্রিন্সিপাল ও সাবেক সচিব মো. জাকির হোসেন কামাল।
অনুষ্ঠানের পূর্বে স্কাউট, গার্লস গাইড ও রেড ক্রিসেন্টের সদস্যরা অতিথিদের ফুল দিয়ে বরণ করে নেন। অনুষ্ঠানের শুরুতে প্রতিষ্ঠানের  বিভিন্ন শ্রেণির সেরা পারফরমার ও ক্লাস ক্যাপ্টেনদের উপস্থিতিতে অতিথিদের ফুল, উত্তরীয় ও উপহারসামগ্রী দিয়ে বরণ করা হয়।