শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১ আশ্বিন ১৪৩৩
শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১ আশ্বিন ১৪৩৩

হাজীগঞ্জ দক্ষিণ অঞ্চলের আতঙ্ক ছাত্রলীগ নেতা গোলাম কিবরিয়া গ্রেফতার

প্রিয় চাঁদপুর ডেস্ক প্রকাশিত: বুধবার, ৪ সেপ্টেম্বর, ২০২৪, ১২:০৩ এম
হাজীগঞ্জ দক্ষিণ অঞ্চলের আতঙ্ক ছাত্রলীগ নেতা গোলাম কিবরিয়া গ্রেফতার

হাজীগঞ্জ উপজেলার দক্ষিণ অঞ্চলের নিরিহ লোকজনের কাছে আতঙ্কের নাম ছাত্রলীগ নেতা গোলাম কিবরিয়া। তাঁর আতঙ্কে এলাকার মানুষ প্রতিবাদ করতে পারতো না। বহু হামলা ও মামলা দিয়ে মানুষকে হয়রানি করা তার পেশা হয়ে দাঁড়িয়ে ছিলো।

হাজীগঞ্জের বড়কুল পূর্ব ইউনিয়নের এন্নাতলি গ্রামের ছৈয়াল বাড়ির মিজানুর রহমানের উপর হামলা ও মারধরের ঘটনায় গোলাম কিবরিয়াকে ২ বছর ও তার ভাই গোলাম রাব্বানীকে ৫ বছর কারাদণ্ড এবং তাদের বাবা মহিউদ্দিন দুলালকে খালাস দিয়েছে আদালত। মঙ্গলবার (৩ সেপ্টেম্বর) সকালে এ রায় ঘোষণা করেন বিচারক। এসময় বিচারকের নির্দেশনায় আদালতে উপস্থিত গোলাম কিবরিয়াকে গ্রেফতার করে জেলহাজতে পাঠায় পুলিশ।

এর আগে ২০২০ সালে গোলাম কিবরিয়া, গোলাম রাব্বানি ও মহিউদ্দিন দুলালের বিরুদ্ধে হাজীগঞ্জ থানায় একটি মামলা (৩২৬/২০) দায়ের করেন মিজানুর রহমান। ওই সময়ে পুলিশ আসামিদের গ্রেফতার করে জেলহাজতে পাঠায়। পরে তারা জামিনে বের হয়ে আসেন। পরবর্তীতে পুলিশ চার্জশীট দিলে আদালত শুনানী ও স্বাক্ষীগ্রহণ শেষে কিবরিয়াকে ২ বছর ও রাব্বানীকে ৫ বছর কারাদণ্ড এবং মহিউদ্দিন দুলালকে খালাস দেন বিচারক।

বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন, মামলার বাদী মিজানুর রহমান। তিনি বলেন, হত্যার উদ্দেশ্যে কিবরিয়া, রাব্বানি ও দুলাল আমার উপর অতর্কিত হামলা ও মারধর করে। পরে আমি গুরুতর আহত হয়ে হাসপাতালে চিকিৎসা নেই এবং থানায় তাদের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করি। ওই মামলায় রায় হয় এবং বিচারক দুইজনকে সাজা, একজনকে খালাস দেন। এর মধ্যে ৫ বছরের সাজাপ্রাপ্ত আসামি গোলাম রাব্বানি পলাতক রয়েছেন।

Model Hospital

এ দিকে সাজার ঘটনায় আসামিরা আপিল করবেন বলে জানা গেছে। এর আগে গত ২৫ সেপ্টেম্বর, রোববার বিকালে গোলাম কিবরিয়া ও তার বাবা মহিউদ্দিন দুলালের বিরুদ্ধে মানববন্ধন করেন এলাকাবাসী। প্রতিবন্ধী নুরু হত্যায় জড়িত মূল আসামিদের দ্রুত গ্রেফতার ও ফাঁসির দাবিতে এন্নাতলি গ্রামের দক্ষিণ-পূর্ব ঈদগাহ মাঠের সামনে এ মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়। ২০২০ সালে ২৮ মে সকালে প্রতিবন্ধী নুরুর মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ।

ব্যানারে মহিউদ্দিন দুলাল ও গোলাম কিবরিয়াকে খুনি উল্লেখ করে তদন্তপূর্বক তাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়ে মানববন্ধনে হত্যাকাণ্ডের শিকার নুরুর পরিবার ও নুরু হত্যা মামলার আসামি, রাজনৈতিক প্রতিহিংসার শিকার বিএনপির নেতাকর্মী ও সমর্থকসহ এলাকার লোকজন অংশগ্রহণ করেন।

এসময় বক্তব্য রাখেন, হত্যাকাণ্ডের শিকার প্রতিবন্ধী নুরুর চাচা আবুল খায়ের পাটওয়ারী, হত্যা মামলার আসামি ইউসুফ পাটওয়ারী, এলাকাবাসীর পক্ষে সমাজসেবক ও শিক্ষানুরাগী হুমায়ুন কবির, ইয়াছিন পাটওয়ারী, রাজনৈতিক প্রতিহিংসার শিকার নূরে আলম ফরাজী।

বক্তারা বলেন, শান্ত এন্নাতলি, বড়কুল ও রায়চোঁ গ্রামকে প্রতিবন্ধী নুরু ও পরবর্তীতে জোড়া খুনের মাধ্যমে অশান্ত করে তোলা হয়। রাজনৈতিক প্রতিপক্ষ দলের নেতাকর্মী ও সমর্থকসহ নিরিহ মানুষকে আসামি করে কিংবা আসামি করার ভয় দেখিয়ে হয়রানি ও টাকার বানিজ্য করা হয়।

প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর দৃষ্টি আকর্ষণ করে বক্তারা আরও বলেন, মহিউদ্দিন দুলাল ও গোলাম কিবরিয়া এই এলাকার নিরিহ লোকজনকে আসামি করেছে এবং আসামি করার ভয় দেখিয়ে বানিজ্য করেছে। আমরা চাই, সুষ্ঠ ও নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে জড়িতদের দ্রুত গ্রেফতার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি এবং যারা হয়রানি শিকার হয়েছে তাদেরকে মুক্তির ব্যবস্থা করা হোক।

মতলব দক্ষিণে অগ্নিকান্ডে ক্ষতিগ্রস্ত ৫ পরিবারের পাশে মিজানুর রহমান সরকার ও সুলতান কাজী

মোজাম্মেল প্রধান হাসিব প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১২:৩২ এম
মতলব দক্ষিণে অগ্নিকান্ডে ক্ষতিগ্রস্ত ৫ পরিবারের পাশে মিজানুর রহমান সরকার ও সুলতান কাজী

মতলব দক্ষিণে অগ্নিকান্ডে ক্ষতিগ্রস্ত ৫ পরিবারের পাশে দাঁড়ালেন চাঁদপুর জেলা বিএনপির সদস্য, মতলব দক্ষিণ উপজেলা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক মিজানুর রহমান সরকার এবং ৩নং খাদেরগাঁও ইউনিয়ন বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম আহবায়ক ও আসন্ন ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে চেয়ারম্যান প্রার্থী মো. সুলতান কাজী।

গত বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) বিকেল ৪টায় দলীয় নেতাকর্মী ও ইউনিয়নের গন্যমান্য ব্যক্তিদের নিয়ে পরিদর্শনে যান তারা। এসময় তারা আগুনে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর খোঁজখবর নেন এবং ক্ষতিগ্রস্তদের সান্ত্বনার পাশাপাশি মানবিক সহায়তা হিসেবে নগদ অর্থ ও প্রত্যেক পরিবারের মাঝে চালের বস্তা প্রদান করেন।

পরিদর্শনকালে খাদেরগাঁও ইউনিয়ন যুবদলের আহবায়ক ও ইউপি সদস্য শহীদ মিয়াজী, খাদেরগাঁও ইউনিয়ন যুবদলের সদস্য সচিব মিঞা মো. ফারুক, উপজেলা ছাত্রদলের সদস্য সচিব সোহেল রানা, বিএনপি নেতা তাজুল ইসলাম, ইউনিয়ন যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ক সাখাওয়াত সুমন, মো. সুমন মোল্লা, যুবদল নেতা রুবেল কাজী, কামাল প্রধান, মিজান কাজী, ছাত্রদল নেতা রাশেদ কাজী, সমাজসেবক আলি আক্কাস মিয়াজীসহ এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ ও দলীয় নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।

উল্লেখ্য, গত বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর) সকালে সংঘটিত অগ্নিকাণ্ডে ৫টি বসতঘর ও ৫টি রান্নাঘর, স্বর্ণালাংকার, নগদ অর্থ পুড়ে যায়, এতে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে পরিবারগুলোর। বসতঘর পুড়ে যাওয়ার পর খোলা আকাশের নিচেই মানবেতর জীবনযাপন করছে ভুক্তভোগী পরিবারগুলো।

Model Hospital