শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১ আশ্বিন ১৪৩৩
শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১ আশ্বিন ১৪৩৩

কচুয়ায় ভূয়া জন্মসনদে বিয়ে পড়ানোর অভিযোগ কাজী শফিকুরের বিরুদ্ধে

নিজস্ব প্রতিনিধি প্রকাশিত: সোমবার, ২১ অক্টোবর, ২০২৪, ৮:০৫ পিএম
কচুয়ায় ভূয়া জন্মসনদে বিয়ে পড়ানোর অভিযোগ কাজী শফিকুরের বিরুদ্ধে
চাঁদপুরের কচুয়ায় ভূয়া জন্মসনদ দিয়ে বিবাহ পড়ানোর অভিযোগ উঠেছে উপজেলাধীন ৩নং বিতারা ইউনিয়নের কাজী শফিকুর রহমানের বিরুদ্ধে উঠেছে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক ইউপি সদস্য ও এলাকাবাসী জানান ,শনিবার (১৯ অক্টোবর) রাত ১১টায় কাজী শফিকুর রহমান শাসনপাড়া গ্রামের তার নিজ বাড়িতে ৫ নং সহদেবপুর পশ্চিম ইউনিয়নের কাদিরখিল গ্রামের তৌহিদ মুন্সির মেয়ে তানজিল ইসলাম (১৭) বছর এর সাথে পালাখাল গ্রামের কামাল হোসেনের ছেলে মহিউদ্দিন চৌধুরীর (১৭) এর বিয়ে সম্পাদন করে।
স্থানীয় নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক লোক জানান , কাজী শফিকুর রহমানের ছেলে আব্দুল্লাহ আল মামুন ভুয়া জন্মসনদ , তালাক সনদ তৈরি করে প্রতিনিয়ত বিবাহ ও তালাক সম্পাদন করে আসছে। দীর্ঘদিন ধরে প্রতিটি সনদ বাবদ ৫ থেকে ১০ হাজার টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে এ জালিয়ত চক্র। পূর্বেও আব্দুল্লাহ আল মামুন কে মতলব (দ:) ইউনিয়নের আশ্বিনপুর গ্রামে এমন ঘটনায় আটক করা হয়েছে,স্থানীয়ভাবে সালিস বিচার করে সাবধান করার পরও সে ভুয়া জন্ম সনদ তৈরি বন্ধ করেনি।
ভুয়া ও জাল জন্ম সনদ দিয়ে বাল্যবিবাহ কিভাবে পড়িয়েছেন- এমন প্রশ্নের জাবাবে কাজী শফিকুর রহমান বলেন, আমার কাছে ডকুমেন্ট আছে, আমি ডকুমেন্ট উপস্থাপন করবো।
ভুক্তভোগী তানজিলা ইসলামের বাবা তৌহিদ মুন্সি ও তার পরিবারের সদস্য মনির হোসেন জানান, তাঁদেরকে চাপ প্রয়োগ করে কাজী শফিকুর রহমান ও এ্যাডভোকেট জসিম উদ্দিন তানজিলা ইসলামকে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ করায় ।। তবে ভূয়া সনদ দিয়ে বাল্যবিবাহ পড়ানোর অভিযোগ অস্বীকার করে কাজী শফিকুর রহমান বলেন, আমার বিরুদ্ধে যে যাই বলুক আমি এ বিবাহ ডকুমেন্ট অনুযায়ী পড়িয়েছি। আমি ডকুমেন্ট উপস্থাপন করবো।
উল্লেখ্য যে, কচুয়া উপজেলাধীন ৩ নং বিতারা ইউনিয়নের কাজী শফিকুর রহমান (বর্তমান) দীর্ঘ ২০ বছর আগে অত্র ইউনিয়নের মূল কাজী আবুল খায়ের এর কাছ থেকে প্রতারণা করে দায়িত্ব ছিনিয়ে নিয়েছেন। দায়িত্ব ছিনিয়ে নিয়ে সে নিজে দায়িত্ব পালন না করে ইউনিয়ন যুবলীগের নেতা তার ছেলে আব্দুল্লাহ আল মামুন কে দিয়ে কাজীর দায়িত্ব পালন করছেন।কাজীর দায়িত্ব ছিনিয়ে নিয়ে সে নিজে দায়িত্ব পালন না করে মোটা অংকের বিনিময়ে ক্ষমতার প্রভাব খাটিয়ে বিগত আওয়ামী সরকারের আমলে বিশাল অর্থের মালিক হয়েছেন।
তাঁর ছেলে আব্দুল্লাহ আল মামুন, আওয়ামী সরকারের আমলে নেতা কর্মীদের সঙ্গে সমন্বয় করে কয়েকশত অবৈধভাবে বিবাহ, তালাক নামা থেকে শুরু করে বিভিন্ন অনিয়ম করে ঢাকায় প্লাট বাড়ির মালিক হয়েছেন।
ফরিদপুর জেলার ভাঙ্গা উপজেলার মানিকদাহ ইউনিয়নের (ইউপি) চেয়ারম্যান বলেন, আমার সাইন জাল করে একটি চক্র ভুয়া জন্ম সনদ তৈরি করে চাঁদপুরের কচুয়ায় জন্মসনদ তৈরি বাল্য বিবাহ দিয়েছে। এ বিষয়ে সুষ্ঠ তদন্ত সাপেক্ষে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়ার জোর দাবি জানাচ্ছি।
কচুয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মুহাম্মদ হেলাল চৌধুরী’র মুঠোফোনে বার বার কল দেয়া স্বত্ত্বেও উনি ফোন রিসিভ না করায় তাঁর বক্তব্য প্রদান করা সম্ভব হয়নি। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা’র সিএ মোঃ জাহাঙ্গীর আলম জানান, ইউএনও স্যার ব্যাস্ত থাকার কারণে ফোন রিসিভ করে নি। তবে বাল্য বিবাহ সংক্রান্ত বিষয়ে একটি অভিযোগ ই-মেইলে পেয়েছি।

৩০ বছর ধরে গাছ লাগিয়ে গ্রামের সড়কের চিত্র বদলে দিলেন মসজিদের ইমাম রেজাউল

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৯:৫৯ পিএম
৩০ বছর ধরে গাছ লাগিয়ে গ্রামের সড়কের চিত্র বদলে দিলেন মসজিদের ইমাম রেজাউল

মসজিদে ইমামতির পাশাপাশি প্রায় ৩০ বছর ধরে বৃক্ষরোপণ করে আসছেন ভোলার চরফ্যাশন উপজেলার ওমরপুর ইউনিয়নের মো. রেজাউল কিবরিয়া বাবুল। নিজের অর্থ ও উদ্যোগে বিভিন্ন সড়কের পাশে হাজার হাজার গাছের চারা রোপণ ও পরিচর্যা করে গড়ে তুলেছেন সবুজের আবরণ। তার লাগানো সারি সারি তালগাছে বদলে গেছে গ্রামের একটি সড়কের চিত্র।

স্থানীয়দের কাছে রেজাউল কিবরিয়া বাবুল একজন ইমাম হিসেবে পরিচিত হলেও বৃক্ষপ্রেমী হিসেবেও রয়েছে তার আলাদা পরিচিতি। তিনি ওমরপুর ইউনিয়নের কালাপানিয়া বাজার বাইতুল মামুর জামে মসজিদের ইমাম। ইমামতির পাশাপাশি অবসর সময়ে গাছ লাগানো ও পরিচর্যায় নিজেকে নিয়োজিত রাখেন তিনি।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, প্রায় তিন দশক আগে বৃক্ষরোপণের উদ্যোগ নেন রেজাউল কিবরিয়া। ১৯৯৩-৯৪ সালের দিকে পৈতৃক সম্পত্তি বিক্রি করে প্রায় ৮ লাখ টাকা ব্যয়ে ভুঁইয়ারহাট এলাকায় একটি নার্সারি গড়ে তোলেন। সেখান থেকে উৎপাদিত ও সংগ্রহ করা বিভিন্ন জাতের গাছের চারা এলাকার সড়কের পাশে রোপণ করতে শুরু করেন। একই সঙ্গে মাইকিং করে স্থানীয়দের গাছ লাগাতে উৎসাহিত করতেন।

তার লাগানো গাছের মধ্যে রয়েছে তাল, ফলজ ও বিভিন্ন ঔষধি গাছ। ওমরপুর গ্রামের বাউল সড়কের দুই পাশে প্রায় দুই দশক আগে লাগানো তালগাছগুলো এখন বড় হয়ে সারি সারি দাঁড়িয়ে আছে। দূর থেকে দেখলে পুরো সড়কটি যেন সবুজে ঘেরা একটি প্রাকৃতিক পথ। গাছের ছায়ায় পথচারী ও কৃষকেরা স্বস্তি পান। স্থানীয়দের পাশাপাশি বাইরের লোকজনও এখন এই সড়কের সৌন্দর্য দেখতে আসেন।

Model Hospital

শুধু বাউল সড়ক নয়, ওমরপুর ইউনিয়নের আরও কয়েকটি সড়কের পাশেও গাছ লাগিয়েছেন তিনি। চারা রোপণের পর নিয়মিত সেগুলোর পরিচর্যাও করেন। অনেক গাছ নষ্ট হয়ে গেলেও বৃক্ষরোপণের কাজ থেকে পিছিয়ে যাননি তিনি।

স্থানীয়দের মতে, সরকারি কোনো প্রকল্পের অপেক্ষায় না থেকে একজন ইমামের ব্যক্তিগত উদ্যোগে দীর্ঘদিন ধরে গাছ লাগানোর এই প্রচেষ্টা শুধু একটি সড়কের সৌন্দর্যই বদলায়নি, বরং স্থানীয়দের মধ্যেও বৃক্ষরোপণের আগ্রহ তৈরি করেছে।

স্থানীয় বাসিন্দা শাহজাহান, লিটন, আলমগীর ও যুবক তুহিন জানান, বাউল সড়কের দুই পাশে এখন শত শত তালগাছ রয়েছে। গাছগুলো বড় হয়ে ওঠায় সড়কটির সৌন্দর্য অনেক বেড়েছে। বিকেল ও সন্ধ্যায় স্থানীয়রা সেখানে সময় কাটান। দূর-দূরান্ত থেকেও অনেকে এই সড়কের সৌন্দর্য দেখতে আসেন। রেজাউল কিবরিয়ার উদ্যোগ দেখে তারাও নিজেদের জায়গায় বেশি করে গাছ লাগাতে উৎসাহিত হয়েছেন।

রেজাউল কিবরিয়া বাবুল বলেন, ‘পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা এবং আল্লাহর সন্তুষ্টির আশায় আমি প্রায় তিন দশক ধরে গাছ লাগিয়ে আসছি। ১৯৯৩-৯৪ সালে এ কাজ শুরু করি। এ পর্যন্ত বিভিন্ন জায়গায় প্রায় ৫০ থেকে ৬০ হাজার গাছের চারা লাগিয়েছি। এর মধ্যে তালগাছের বীজ ও চারা রয়েছে প্রায় ২৫ থেকে ৩০ হাজার।’

তিনি বলেন, সব গাছ টিকিয়ে রাখা সম্ভব হয়নি। তবে গাছ লাগানোর কাজ থেকে কখনো সরে আসেননি। বর্তমানে নিজে নার্সারিতে চারা উৎপাদনের সময় না পাওয়ায় ঝালকাঠির স্বরূপকাঠি থেকে বিভিন্ন ধরনের চারা সংগ্রহ করে রোপণ করছেন।

তালগাছ লাগানোর বিষয়ে তিনি বলেন, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বজ্রপাতের ঘটনা বেড়ে যাওয়ায় তালগাছ লাগানোর ওপর বেশি গুরুত্ব দিচ্ছেন তিনি। পাশাপাশি বন বিভাগের পরামর্শও নিয়ে থাকেন।

রেজাউল কিবরিয়া আরও বলেন, ‘আমি গাছ লাগানোকে সদকায়ে জারিয়া হিসেবে দেখি। একটি গাছ শুধু বর্তমান প্রজন্মের জন্য নয়, ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্যও ছায়া, সৌন্দর্য ও উপকারের উৎস। যতদিন বেঁচে থাকব, ততদিনই গাছ লাগানোর এই কাজ চালিয়ে যেতে চাই।’

তার ভাষ্য, গ্রামের প্রতিটি সড়ক ও আশপাশের এলাকা সবুজে ভরে তোলাই তার লক্ষ্য। একই সঙ্গে তরুণদের খারাপ অভ্যাস থেকে দূরে রাখতে ফল ও ফুলের বাগান করার আহ্বান জানান তিনি।

রেজাউল কিবরিয়ার দীর্ঘদিনের উদ্যোগের বিষয়ে চরফ্যাশন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রুমানা আফরোজ বলেন, ‘গাছ লাগানো অবশ্যই একটি ভালো উদ্যোগ। রেজাউল কিবরিয়া সাহেবের দীর্ঘদিনের এ কাজের বিষয়টি আমার জানা ছিল না। খোঁজ নিয়ে এ বিষয়ে তার পাশে দাঁড়ানোর চেষ্টা করব।’