মঙ্গলবার, ২৭ অক্টোবর ২০২৬, ১৩ কার্তিক ১৪৩৩
মঙ্গলবার, ২৭ অক্টোবর ২০২৬, ১৩ কার্তিক ১৪৩৩

শাহরাস্তিতে চির নিদ্রায় বীর মুক্তিযোদ্ধা সিরাজুল ইসলাম মোল্লা

মোঃ মাসুদ রানা প্রকাশিত: রবিবার, ৩ নভেম্বর, ২০২৪, ৮:১৫ পিএম
শাহরাস্তিতে চির নিদ্রায় বীর মুক্তিযোদ্ধা সিরাজুল ইসলাম মোল্লা
শাহরাস্তিতে চির নিদ্রায় শায়িত হলেন বীর মুক্তিযোদ্ধা মোঃ সিরাজুল ইসলাম মোল্লা (৮০)।
তিনি দীর্ঘদিন যাবৎ কিডনি সহ বার্ধক্যজনিত বিভিন্ন জটিল রোগে ভুগছিলেন।
শনিবার দিবাগত রাত ১:৪০ টায় কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল থেকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় নেয়ার পথে পথিমধ্যে বীর মুক্তিযোদ্ধা মোঃ সিরাজুল ইসলাম মোল্লা মৃত্যুবরণ করেন (ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)।
তিনি শাহরাস্তি পৌরসভার ৪নং ওয়ার্ডের সোনাপুর মহল্লার মোল্লা বাড়ির মৃত আকিয়ত উল্লাহ মোল্লার পুত্র ছিলেন।
নিহতের পরিবার ও স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, তিনি মহান মুক্তিযুদ্ধকালীন সময়ে ১নং সেক্টরের অধীন হাজীগঞ্জ-শাহরাস্তি এলাকার যুদ্ধে অংশগ্রহণ করেন।
রবিবার সকাল ১১টায় তার নিজ গ্ৰাম সোনাপুরের ঈদগাঁও মাঠে রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় গার্ড অব অনারের মাধ্যমে তাঁকে জাতীয় পতাকা এবং উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে  মরহুমের কফিনে ফুলেল শ্রদ্ধা জানিয়ে এক মিনিট নীরবতা পালনের মাধ্যমে শেষ বিদায় জানানো হয়।
এসময় শাহরাস্তি উপজেলা নির্বাহী অফিসারের পক্ষে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা মৎস সম্পদ অফিসার তৌসিফ উদ্দিন ও শাহরাস্তি মডেল থানার একদল সুসজ্জিত পুলিশ বাহিনীর সদস্য।
রাষ্ট্রীয় আনুষ্ঠানিকতা শেষে জানাজার পর মরহুমকে তার পারিবারিক গোরস্থানে সমাহিত করা হয়।
তাঁর জানাজায় বীর মুক্তিযোদ্ধা সহ এলাকার বিভিন্ন গ্ৰামের গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন।
প্রসঙ্গত উল্লেখ্য যে, মৃতকালে বীর মুক্তিযোদ্ধা মরহুম মোঃ সিরাজুল ইসলাম স্ত্রী, এক পালিত কন্যা সন্তান, ছোট ভাই সহ বহু আত্মীয়-স্বজন, বন্ধু-বান্ধব ও শুভার্থী রেখে যান।

কেএফটিতে ‘আব্দুর রহমান মোল্লা লাইব্রেরি’ উদ্বোধন

মোজাম্মেল প্রধান হাসিব প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২৭ অক্টোবর, ২০২৬, ৮:২৩ পিএম
কেএফটিতে ‘আব্দুর রহমান মোল্লা লাইব্রেরি’ উদ্বোধন
চাঁদপুরের মতলব দক্ষিণ উপজেলা সদরের ঢাকিরগাঁওয়ে অবস্থিত কেএফটি কলেজিয়েট স্কুলের বয়েজ উইংয়ে ‘আব্দুর রহমান মোল্লা লাইব্রেরি’ উদ্ধোধন করা হয়েছে।
সোমবার (২৬ অক্টোবর) দুপুরে আব্দুর রহমান মোল্লা লাইব্রেরি ফিতা কেটে উদ্ধোধন করেন বিশিষ্ট দানবীর ও সমাজসেবক আলহাজ্ব এম.এ বারী।উদ্বোধন শেষে দোয়া ও মোনাজাত পরিচালনা করেন কেএফটি কলেজিয়েট স্কুলের ধর্মীয় শিক্ষক আব্দুল মালেক মিয়াজী।
পরে কেএফটি কলেজিয়েট স্কুলের অডিটোরিয়ামে আব্দুর রহমান মোল্লা লাইব্রেরির উদ্ধোধনী অনুষ্ঠিত হয়। কেএফটি কলেজিয়েট স্কুলের প্রতিষ্ঠাতা বেলায়েত হোসেন জুলহাসের পরিচালনায় প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন, বিশিষ্ট দানবীর ও সমাজসেবক আলহাজ্ব  এম.এ বারী। প্রধান অতিথির বক্তব্যের শুরুতেই তিনি তার মরহুম পিতা আব্দুর রহমান মোল্লার নামে লাইব্রেরিটি করায় মহান আল্লাহ তায়ালার প্রতি শোকরিয়া আদায় করেন। তিনি বলেন, আমি আমার  জীবদ্দশায় অসহায় গরীব দুঃখী মানুষের কল্যানে কাজ করেছি। শুধু তাই নয়, বিভিন্ন ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান, স্কুল, কলেজ, মাদ্রাসার ছাত্র-ছাত্রীদের লেখাপড়া, চিকিৎসা, বাস্থান ও বিয়ের জন্য আর্থিক সহায়তা করেছেন তিনি। মৃত্যুর আগ পর্যন্ত মানুষের এবং সমাজের কল্যাণে কাজ করে যাবো ইনশাআল্লাহ।
কেএফটি কলেজিয়েট স্কুলের বিষয়ে তিনি বলেন, এ কলেজটি একদিন দেশের অন্যতম শিক্ষা প্রতিষ্ঠান এবং বিশ্ববিদ্যালয় হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হবে। দেশ-বিদেশের ছাত্র ছাত্রীরা ভর্তি হয়ে পড়াশোনা করবে। মতলববাসীর নিকট আকুল আবেদন আপনারা কেএফটি কলেজিয়েট স্কুলের সাথে ছিলেন, আছেন এবং ভবিষ্যতেও থাকবেন।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক মেসবাহ উদ্দিন সরকার, মতলব দক্ষিণ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা কে.এম ইশমাম এবং জাপান অধিবাসী ইয়াসুও হিরায়ামা।
বক্তব্যে অতিথিরা লাইব্রেরির গুরুত্ব, বই পড়ার অভ্যাস গড়ে তোলা এবং শিক্ষার্থীদের জ্ঞান ও মননশীলতা বিকাশে পাঠাগারের ইতিবাচক ভূমিকা তুলে ধরেন। তাঁরা শিক্ষার্থীদের নিয়মিত বই পড়তে এবং জ্ঞান অর্জনের এই সুযোগ কাজে লাগাতে উৎসাহিত করেন।
একটি সমৃদ্ধ লাইব্রেরি শিক্ষার্থীদের জ্ঞানচর্চা, সৃজনশীলতা ও সুন্দর ভবিষ্যৎ গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে এমন প্রত্যাশা সবার। বই হোক জ্ঞানের আলো, লাইব্রেরি হোক আলোকিত ভবিষ্যতের সোপান।
অনুষ্ঠানের শুরুতে স্বাগত বক্তব্য রাখেন কেএফটি কলেজিয়েট স্কুলের প্রিন্সিপাল ও সাবেক সচিব মো. জাকির হোসেন কামাল।
অনুষ্ঠানের পূর্বে স্কাউট, গার্লস গাইড ও রেড ক্রিসেন্টের সদস্যরা অতিথিদের ফুল দিয়ে বরণ করে নেন। অনুষ্ঠানের শুরুতে প্রতিষ্ঠানের  বিভিন্ন শ্রেণির সেরা পারফরমার ও ক্লাস ক্যাপ্টেনদের উপস্থিতিতে অতিথিদের ফুল, উত্তরীয় ও উপহারসামগ্রী দিয়ে বরণ করা হয়।