রবিবার, ২৫ অক্টোবর ২০২৬, ১১ কার্তিক ১৪৩৩
রবিবার, ২৫ অক্টোবর ২০২৬, ১১ কার্তিক ১৪৩৩

ডা. সফিউর রহমান ভূইয়ার বিরুদ্ধে

কচুয়া স্বাস্থ্য কর্মকর্তার বিরুদ্ধে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরে অভিযোগ

মো. রাছেল, নিজস্ব প্রতিনিধি প্রকাশিত: বুধবার, ৬ নভেম্বর, ২০২৪, ৬:৫৭ পিএম
কচুয়া স্বাস্থ্য কর্মকর্তার বিরুদ্ধে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরে অভিযোগ

কচুয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স। ইনসেটে অভিযুক্ত ডা. সফিউর রহমান।

চাঁদপুরের কচুয়া উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. সফিউর রহমান ভূইয়ার বিরুদ্ধে বিভিন্ন অনিয়ম ও স্বেচ্ছা চারিতার অভিযোগ উঠেছে।

বুধবার (৬ নভেম্বর) উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের বিভিন্ন দপ্তরের ৫০জন কর্মকর্তা কর্মচারী স্বাক্ষরিত চাঁদপুরের সিভিল সার্জনের মাধ্যম, স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহা পরিচালক, মহাখালী বরাবর এ লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন।

অভিযোগ সুত্রে জানা যায়, ডা. সফিউর রহমান ভূইয়া চলতি বছরের ১৬ এপ্রিল কচুয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে যোগদান করেন। যোগদান করার পর তিনি বরিশাল মেডিকেল কলেজের সাবেক ছাত্রলীগের ক্রীড়া সম্পাদকের পরিচয় দেন এবং আওয়ামী লীগের নেতাদের সাথে সখ্যতার কথা বলে প্রভাব বিস্তার শুরু করেন।

স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের কর্মকর্তা কর্মচারীদের বিভিন্ন অজুহাত দেখিয়ে নানান হয়ারানী, অসদাচারণ, গালমন্দ করে হেস্তনেস্ত শুরু করেন।

Model Hospital

গত ৫ আগষ্ট ছাত্র-জনতার পটপরিবর্তনের পর তিনি ভীত ও কিছুটা শান্ত থাকেন। সম্প্রীতি নতুন সিভিল সার্জন যোগদান করার পর তিনি নিজেকে সিভিল সার্জনের বন্ধু পরিচয় দিয়ে ক্ষমতার প্রভাব খাঁটিয়ে কর্মকর্তা কর্মচারীদের বিভিন্নভাবে বদলীর হুমকি, হয়রানী, গালমন্দ ও অসধাচারনের মাত্রা বাড়িয়ে দেয়। তিনি হাসপাতালের ভিতরে তার চেম্বারে ৪০০টাকা ভিজিটের বিনিময়ে রোগী দেখার জন্য রিপাত ও কাউছার নামে দুইজন দালাল নিয়োগ দেন।

হাসপাতালের জরুরী বিভাগে কোন রোগী সেবা নিতে আসলে জরুরী বিভাগের সেকমো সেলিমের মাধ্যমে বড় ডাক্তার দেখানের কথা বলে তার ব্যাক্তিগত চেম্বারে নিয়ে যান। তার ব্যাক্তিগত চেম্বারে রোগী পাঠানের জন্য হাসপাতালের সকল কর্মকর্তা কর্মচারীদের সব সময় চাপ প্রয়োগ করে থাকেন। রোগী দিতে না পারলে তার অফিস কক্ষে ডেকে নিয়ে কর্মকর্তা কর্মচারীদের মানষিকভাবে হেনস্তা করেন।

ইতিপূর্বে রোগী দেখার ঘটনাকে কেন্দ্র করে বহিরাগত এক দালাল রাছেলকে দিয়ে হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার ডা. সোহেল রানাকে লাঞ্চিত করেন। এ ঘটনায় হাসপাতালের সকল কর্মকর্তা কর্মচারীগন ওই সময় মানববন্ধন করে এবং তৎকালীন সিভিল সার্জন মো. শাহাদাত হোসেনকে অবহিত করেন।

হাসপাতালের হিসাব রক্ষক জান্নাতুল তার অসুস্থ্য বৃদ্ধা মাকে নিয়ে হাসপাতালে প্রবেশ করতে গেলে তার দালাল জান্নাতুলকে বাধা প্রদান করেন। এ বিষয়টি ডা. সফিউর রহমানকে অবহিত করলে তিনি হিসাব রক্ষককে অকথ্য ভাষায় গালমন্দ করেন। এছাড়া প্যাথলজি বিভাগের এমটি ল্যাব ফাতেমা খাতুন দাপ্তরিক কাজে তার অফিস কক্ষে গেলে দীর্ঘক্ষন তাকে দাঁড় করিয়ে রাখেন। অসুস্থ্য আর্থাইটিস রোগে আক্রান্ত ফাতেমা একসময় বসে পড়লে অনুমতি ব্যতিত বসার অজুহাত দেখিয়ে গালমন্দ করে অফিস কক্ষ থেকে বের করে দেন।

ডা. সফিউর রহমান সরকারি নিয়ম নীতি উপেক্ষা করে সরকারি এম্বুলেন্স দাপ্তরিক কাজের বাহিরে ব্যাক্তিগত কাজে তার ঢাকার বাসা শাহজাহানপুর, কুমিল্লা ও চাঁদপুরে বহুবার ব্যবহার করেছেন। যার তৈল খারচ বাবদ ২৪ হাজার ৬শত টাকা ব্যায় হয়েছে বলে জানান এম্বুলেন্স ড্রাইভার। ওই টাকা তিনি পরিশোধ করেন নাই। নিজের ব্যাক্তিগত প্রয়োজনে হাসপাতালের এম্বুলেন্স ব্যবহার করে আসছেন।

তাছাড়া ওষুধ কোম্পানীর প্রতিনিধিদের নিকট থেকে বনভোজনের কথা বলে ১০লক্ষ চাঁদা দাবী করেন। টাকা দিতে অপারগত প্রকাশ করায় ওষুধ কোম্পানীর প্রতিনিধিদের হাসপাতালে প্রবেশ করতে নিষেধ করে দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়।

এ ব্যাপারে অভিযুক্ত উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. সফিউর রহমানের কাছে বক্তব্য জানতে চাইলে তিনি ফোন রিসিভ না করায় তার বক্তব্য নেওয়া যায়নি।

জেলা সিভিল সার্জন নুর আলমগীর হোসেন বলেন, কচুয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তার বিরুদ্ধে আমার মাধ্যমে যে অভিযোগটি এসেছে সেটি আমি স্বাস্থ্য অধিদপ্তরে পাঠিয়ে দিয়েছি। আর কোন বলতে অপারগতা প্রকাশ করেন।

১২৯ বছরের জীবনের অবসান! মতলবের প্রবীণ বারেক বেপারীর বিদায়, বয়স নিয়ে চাঞ্চল্য

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: রবিবার, ২৫ অক্টোবর, ২০২৬, ১১:১৬ পিএম
১২৯ বছরের জীবনের অবসান! মতলবের প্রবীণ বারেক বেপারীর বিদায়, বয়স নিয়ে চাঞ্চল্য

দীর্ঘ ১২৯ বছরের জীবনের অবসান। পৃথিবীর আলো-বাতাসে এক শতাব্দীরও বেশি সময় কাটিয়ে না ফেরার দেশে চলে গেলেন চাঁদপুরের মতলব উত্তর উপজেলার মুদাফর গ্রামের প্রবীণ ব্যক্তি বারেক বেপারী। স্থানীয়দের দাবি, মৃত্যুকালে তাঁর বয়স হয়েছিল ১২৯ বছর। তাঁর দীর্ঘায়ু নিয়ে এলাকায় রয়েছে নানা আলোচনা ও কৌতূহল।

রোববার (২৫ অক্টোবর) সকাল সাড়ে ৯টার দিকে রাজধানীতে মেয়ের বাসায় শেষনিশ্বাস ত্যাগ করেন তিনি। তাঁর মৃত্যুর খবরে পরিবার, স্বজন ও এলাকাবাসীর মধ্যে শোকের ছায়া নেমে এসেছে।

বারেক বেপারী মতলব উত্তর উপজেলার মোহনপুর ইউনিয়নের মুদাফর গ্রামের মৃত লতিফ বেপারীর ছেলে। মৃত্যুকালে তিনি দুই ছেলে, দুই মেয়েসহ অসংখ্য আত্মীয়স্বজন ও গুণগ্রাহী রেখে গেছেন।

রোববার বাদ আসর মুদাফর ঈদগাহ মাঠে তাঁর জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। পরে স্থানীয় কবরস্থানে তাঁকে দাফন করা হয়। জানাজায় ইমামতি করেন তাঁর দৌহিত্র হাফেজ মো. হাফিজ উদ্দিন।

Model Hospital

১২৯ বছরের জীবন, স্থানীয়দের মুখে দীর্ঘায়ুর গল্প

স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, বারেক বেপারী প্রায় ১২৯ বছর বয়স পর্যন্ত বেঁচে ছিলেন। তাঁদের দাবি, এত দীর্ঘ জীবন পাওয়ায় তিনি ছিলেন বিশ্বের সবচেয়ে বয়স্ক ব্যক্তিদের একজন। তবে তাঁর বয়সের পক্ষে আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত ও যাচাইকৃত কোনো নথির তথ্য পাওয়া যায়নি। ফলে ১২৯ বছর বয়সের বিষয়টি স্থানীয়দের দাবি হিসেবেই বিবেচিত হচ্ছে।

মানবজীবনে শতবর্ষ পেরিয়ে বেঁচে থাকা অত্যন্ত বিরল ঘটনা। গিনেস ওয়ার্ল্ড রেকর্ডসের তথ্য অনুযায়ী, ফ্রান্সের জ্যাঁ লুইস কালমঁ ১২২ বছর ১৬৪ দিন বেঁচে ছিলেন, যা কোনো মানুষের সর্বোচ্চ যাচাইকৃত আয়ু হিসেবে স্বীকৃত।

বারেক বেপারীর জীবনও স্থানীয়দের কাছে দীর্ঘায়ুর এক বিস্ময়কর গল্প হয়ে থাকবে। এক শতাব্দীরও বেশি সময়ের জীবনের অবসান ঘটিয়ে তিনি চলে গেলেন চিরবিদায়ের পথে। রেখে গেলেন অসংখ্য স্মৃতি, স্বজনদের ভালোবাসা আর দীর্ঘ জীবনের নানা গল্প।

দীর্ঘ জীবনের পথচলা থেমে গেল, কিন্তু স্মৃতিতে বেঁচে থাকবেন বারেক বেপারী।

তাঁর মৃত্যুতে শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানিয়েছেন স্বজন ও এলাকাবাসী। মহান আল্লাহ তাঁকে ক্ষমা করুন, তাঁর কবরকে প্রশস্ত করুন এবং জান্নাতুল ফেরদৌস নসিব করুন। আমিন।