রবিবার, ২৫ অক্টোবর ২০২৬, ১১ কার্তিক ১৪৩৩
রবিবার, ২৫ অক্টোবর ২০২৬, ১১ কার্তিক ১৪৩৩

এই সরকারকে নিয়ে বিভিন্ন ঝামেলা তৈরি করার পরিকল্পনা করছে : পীর সাহেব চরমোনাই

নিজস্ব প্রতিনিধি প্রকাশিত: রবিবার, ১০ নভেম্বর, ২০২৪, ১০:১৩ পিএম
এই সরকারকে নিয়ে বিভিন্ন ঝামেলা তৈরি করার পরিকল্পনা করছে : পীর সাহেব চরমোনাই

চাঁদপুরে চরমোনাইর নমুনা তিন দিনব্যাপী মাহফিলের শেষ দিনে বয়ান করেন দেশের প্রখ্যাত আলেমেদ্বীন ওলামা মাশায়েখরা।

ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের আমির ও চরমোনাই পীর মুফতি সৈয়দ মুহাম্মদ রেজাউল করীম বলেছেন, ‘নিত্যপণ্যের বাজার নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে গেছে। সরকার কেন কঠোর ব্যবস্থা নিচ্ছে না? এক্ষেত্রে সরকারকে আরও কঠোর হতে হবে। নিত্যপণ্যের বাজার নিয়ন্ত্রণে রাখতে হবে। কৃষকদের সার-ওষুধ স্বল্পমূল্যে দিতে হবে। সবক্ষেত্রে সরকারকে সজাগ থাকতে হবে। আরও কঠোরভাবে দায়িত্ব পালন করতে হবে।’
রবিবার (১০ নভেম্বর) দুপুরে চাঁদপুর পুরান বাজারে বাংলাদেশ মুজাহিদ কমিটির আয়োজনে তিন দিনব্যাপী ওয়াজ মাহফিলে যোগদান করতে এসে সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময়কালে এসব কথা বলেন তিনি।
চরমোনাই পীর বলেন, ‌‘পতিত স্বৈরাচার সরকারের যতগুলো চুক্তি আমরা দেখেছি, তার মধ্যে বাংলাদেশের কোনও স্বার্থ রক্ষা হয়নি। ভারতের সঙ্গে সবশেষ যে ১০টি চুক্তি হয়েছিল, তার সবই ছিল ভারতের স্বার্থ রক্ষার জন্য। যারা খুন-গুম, আয়নাঘর, বিডিআর হত্যাকাণ্ড, টাকা পাচারসহ দেশে বসে বিদেশের দালালি করেছে তারা জাতীয় নির্বাচনে অযোগ্য। তারা নির্বাচন করতে পারবে না। এখন তারা দেশকে অশান্ত করার জন্য বিভিন্ন ষড়যন্ত্র করছে। কিন্তু দেশের সব মানুষ একত্রিত থাকলে তাদের নীলনকশা বাস্তবায়ন হবে না।’
চরমোনাই পীর আরও বলেন, ‘অন্তর্বর্তী সরকারকে বলেছিলাম, রাজনৈতিক দলগুলোসহ সবার সঙ্গে পরামর্শ করে দেশ পরিচালনা করবেন, আপনাদের সহযোগিতায় আমরা আছি। তবে এই সরকারের সর্বক্ষেত্রে অশান্ত পরিবেশ তৈরি হয়েছে। কারণ গত সাড়ে ১৫ বছরে ফ্যাসিস্ট সরকার ক্ষমতায় ছিল। এমন কোনও জায়গা নেই, তাদের লোক বসায়নি। এখন পর্যন্ত সে জায়গাগুলো পরিষ্কার হয়নি। তারা গুরুত্বপূর্ণ বিভিন্ন জায়গায় বসে এই সরকারকে নিয়ে বিভিন্ন ঝামেলা তৈরি করার পরিকল্পনা করছে। ফলে অশান্ত পরিবেশ দেখা যাচ্ছে।’
তিনি আরও বলেন, ‘যারা গুম-খুন ও দেশের টাকা পাচার করলো, তারা কীভাবে দেশ থেকে পালিয়ে গেলো আমরা জানতে চাই, দেশের মানুষ জানতে চায়। আমরা বর্তমান সরকারকে বলেছিলাম, বিগত কয়েক যুগ ধরে এত বেশি জনসমর্থন নিয়ে কোনও সরকার দেশ পরিচালনা করেনি, তার চেয়ে বেশি জনসমর্থন নিয়ে আপনারা দেশ পরিচালনা করছেন। সব শ্রেণিপেশার মানুষ আপনাদের সহযোগিতায় আছে। তাহলে কেন এত ভয় পাচ্ছন? আপনারা কেন খুনি-সন্ত্রাসীদের ধরছেন না। তাদের কেন বিচারের আওতায় আনছেন না?’
এই দিন মাহফিলে ইসলামের বিভিন্ন দিক নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা করেন হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশের নায়েবে আমির মাওলানা আব্দুল কাইয়ুম সুবহানী, বিশিষ্ট ওয়ায়েজিন মাওলানা হাফিজুর রহমান সিদ্দিকীসহ দেশের প্রখ্যাত আলেমেদ্বীন ওলামা মাশায়েখ।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের প্রেসিডিয়াম সদস্য অধ্যাপক মাহবুবর রহমান, ইসলামী যুব আন্দোলনের সেক্রেটারি জেনারেল মুফতি মানসুর আহমেদ সাকী, ইসলামী আন্দোলনের কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিশন সদস্য আল ইকবাল ও জেলা সভাপতি শেখ মুহাম্মদ জয়নাল আবেদীন প্রমুখ।

১২৯ বছরের জীবনের অবসান! মতলবের প্রবীণ বারেক বেপারীর বিদায়, বয়স নিয়ে চাঞ্চল্য

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: রবিবার, ২৫ অক্টোবর, ২০২৬, ১১:১৬ পিএম
১২৯ বছরের জীবনের অবসান! মতলবের প্রবীণ বারেক বেপারীর বিদায়, বয়স নিয়ে চাঞ্চল্য

দীর্ঘ ১২৯ বছরের জীবনের অবসান। পৃথিবীর আলো-বাতাসে এক শতাব্দীরও বেশি সময় কাটিয়ে না ফেরার দেশে চলে গেলেন চাঁদপুরের মতলব উত্তর উপজেলার মুদাফর গ্রামের প্রবীণ ব্যক্তি বারেক বেপারী। স্থানীয়দের দাবি, মৃত্যুকালে তাঁর বয়স হয়েছিল ১২৯ বছর। তাঁর দীর্ঘায়ু নিয়ে এলাকায় রয়েছে নানা আলোচনা ও কৌতূহল।

রোববার (২৫ অক্টোবর) সকাল সাড়ে ৯টার দিকে রাজধানীতে মেয়ের বাসায় শেষনিশ্বাস ত্যাগ করেন তিনি। তাঁর মৃত্যুর খবরে পরিবার, স্বজন ও এলাকাবাসীর মধ্যে শোকের ছায়া নেমে এসেছে।

বারেক বেপারী মতলব উত্তর উপজেলার মোহনপুর ইউনিয়নের মুদাফর গ্রামের মৃত লতিফ বেপারীর ছেলে। মৃত্যুকালে তিনি দুই ছেলে, দুই মেয়েসহ অসংখ্য আত্মীয়স্বজন ও গুণগ্রাহী রেখে গেছেন।

রোববার বাদ আসর মুদাফর ঈদগাহ মাঠে তাঁর জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। পরে স্থানীয় কবরস্থানে তাঁকে দাফন করা হয়। জানাজায় ইমামতি করেন তাঁর দৌহিত্র হাফেজ মো. হাফিজ উদ্দিন।

Model Hospital

১২৯ বছরের জীবন, স্থানীয়দের মুখে দীর্ঘায়ুর গল্প

স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, বারেক বেপারী প্রায় ১২৯ বছর বয়স পর্যন্ত বেঁচে ছিলেন। তাঁদের দাবি, এত দীর্ঘ জীবন পাওয়ায় তিনি ছিলেন বিশ্বের সবচেয়ে বয়স্ক ব্যক্তিদের একজন। তবে তাঁর বয়সের পক্ষে আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত ও যাচাইকৃত কোনো নথির তথ্য পাওয়া যায়নি। ফলে ১২৯ বছর বয়সের বিষয়টি স্থানীয়দের দাবি হিসেবেই বিবেচিত হচ্ছে।

মানবজীবনে শতবর্ষ পেরিয়ে বেঁচে থাকা অত্যন্ত বিরল ঘটনা। গিনেস ওয়ার্ল্ড রেকর্ডসের তথ্য অনুযায়ী, ফ্রান্সের জ্যাঁ লুইস কালমঁ ১২২ বছর ১৬৪ দিন বেঁচে ছিলেন, যা কোনো মানুষের সর্বোচ্চ যাচাইকৃত আয়ু হিসেবে স্বীকৃত।

বারেক বেপারীর জীবনও স্থানীয়দের কাছে দীর্ঘায়ুর এক বিস্ময়কর গল্প হয়ে থাকবে। এক শতাব্দীরও বেশি সময়ের জীবনের অবসান ঘটিয়ে তিনি চলে গেলেন চিরবিদায়ের পথে। রেখে গেলেন অসংখ্য স্মৃতি, স্বজনদের ভালোবাসা আর দীর্ঘ জীবনের নানা গল্প।

দীর্ঘ জীবনের পথচলা থেমে গেল, কিন্তু স্মৃতিতে বেঁচে থাকবেন বারেক বেপারী।

তাঁর মৃত্যুতে শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানিয়েছেন স্বজন ও এলাকাবাসী। মহান আল্লাহ তাঁকে ক্ষমা করুন, তাঁর কবরকে প্রশস্ত করুন এবং জান্নাতুল ফেরদৌস নসিব করুন। আমিন।