শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১ আশ্বিন ১৪৩৩
শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১ আশ্বিন ১৪৩৩

শাহরাস্তি চেড়িয়ারা স্কুল এন্ড কলেজের শিক্ষার্থীদের সাথে ম্যানেজিং কমিটির মতবিনিময়

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শনিবার, ১৫ জানুয়ারি, ২০২২, ২:৫১ পিএম
শাহরাস্তি চেড়িয়ারা স্কুল এন্ড কলেজের শিক্ষার্থীদের সাথে ম্যানেজিং কমিটির মতবিনিময়

শাহরাস্তির চেড়িয়ারা স্কুল এন্ড কলেজের শিক্ষক ও পরিচালনা পর্ষদের সদস্যদের সাথে কলেজ প্রতিষ্ঠাকালীন অন্যতম সদস্য (আইটিসি)স্বওাধিকারী শিক্ষানুরাগী ইকবাল হোসেন ভুইঁয়া।

নোমান হোসেন আখন্দ : শাহরাস্তির সূচীপাড়া উওর ইউনিয়নের শোরশাকে অবস্থিত চেড়িয়ারা স্কুল এন্ড কলেজের একাদশ শ্রেনীতে ভর্তিকৃত শিক্ষার্থীদের সাথে শিক্ষক ও ম্যানেজিং কমিটির সদস্যদের এক মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়।

১৫ ই জানুয়ারী শনিবার সকাল ১১ টায় চেড়িয়ারা স্কুল এন্ড কলেজ মিলনায়তনে এ মতবিনিময় সভা অনষ্ঠিত হয়।

মতবিনিময়কালে উপস্থিত ছিলেন বিশিষ্ট শিক্ষানুরাগী সমাজসেবক ও কলেজ প্রতিষ্ঠাকালীন অন্যতম সদস্য মেসার্স ইকবাল ট্রেডিং কর্পোরেশন ( আইটিসি) স্বওাধিকারী মো: ইকবাল হোসেন ভ্ইুয়াঁ, সমাজসেবক হুমায়ুন কবির মজমদার, রেদোয়ান হোসেন সেন্টু, স্কুল এন্ড কলেজ পরিচালনা পর্ষদের সদস্য মো: ফরিদ উদ্দিন মজুমদার, মো: হারুন ষষ্টি, মো: নূরুননবী, মো: আনোয়ার হোসেন চৌধুরী, চেড়িয়ারা উচ্চ বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক মো: নাজির আহম্মেদ প্রমুখ।

শিক্ষার্থীদের সাথে মতবিনিময়কালে অতিথিবৃন্দ বলেন, শিক্ষার আলোয় আলোকিত করতে তোমাদের শিক্ষার প্রতি আন্তরিক মানসিকতার প্রয়োজন। কঠোর পরিশ্রম ও অধ্যাবস্যয় নিয়ে এ প্রতিষ্ঠানের সুনাম অক্ষুন্ন রাখবে । নিয়মানুবতির্তার মাধ্যমে সুশৃঙ্খল জীবনযাপন একজন শির্ক্ষার্থীকে ভালো ফলাফলে আত্ববিশ্বাসী করে তোলে। তোমরা এগিয়ে যাবে দুর্বার গতিতে, ভালো ফলাফল ও আধুনিক উন্নত শিক্ষায় আমাদের সকল ধরনের সহযোগিতা অব্যাহত থাকবে। এ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানটিকে পুরো উপজেলায় ভালো ফলাফল ও শ্রেষ্ঠ প্রতিষ্ঠানে পৌছে দিতে শিক্ষার্থীদের লেখাপড়ার প্রতি আন্তরিক চেষ্টাই যথেষ্ট।

Model Hospital

উল্লেখ্য, এ অঞ্চলের শিক্ষার্থীদের যাতায়াতের কথা চিন্তা করে অবহেলিত জনপদ ডাকাতিয়া নদীর দক্ষিন পশ্চিম পাড়ে অবস্থিত ঐতিহ্যবাহী চেড়িয়ারা উচ্চ বিদ্যালয়কে (চেড়িয়ারা স্কুল এন্ড কলেজে) রপান্তর করেন সংসদ সদস্য ও সাবেক স্ব-রাষ্ট্রমন্ত্রী মেজর (অব:) রফিকুল ইসলাম বীর উওম। কলেজ প্রতিষ্ঠায় সার্বিক সহয়োগিতা করেন উপজেলা আওয়ামীলীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি ও সুচীপাড়া উওর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মো: মোস্তফা কামাল মজুমদার ও বিশিষ্ট শিক্ষানুরাগী মেসার্স ইকবাল ট্রেডিং কর্পোরেশন ( আইটিসি) স্বওাধিকারী মো: ইকবাল হোসেন ভুইয়াঁ। মনোরম ও উন্নত পরিবেশে একঝাকঁ তরুন অভিজ্ঞ শিক্ষকমন্ডলীর সমন্বয়ে চেড়িয়ারা স্কুল এন্ড কলেজে একাদশ শ্রেনীতে ৮৪ জন শিক্ষার্থী ভর্তি হয়েছে ও মতবিনিময় সভায় অংশগ্রহন করে।

৩০ বছর ধরে গাছ লাগিয়ে গ্রামের সড়কের চিত্র বদলে দিলেন মসজিদের ইমাম রেজাউল

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৯:৫৯ পিএম
৩০ বছর ধরে গাছ লাগিয়ে গ্রামের সড়কের চিত্র বদলে দিলেন মসজিদের ইমাম রেজাউল

মসজিদে ইমামতির পাশাপাশি প্রায় ৩০ বছর ধরে বৃক্ষরোপণ করে আসছেন ভোলার চরফ্যাশন উপজেলার ওমরপুর ইউনিয়নের মো. রেজাউল কিবরিয়া বাবুল। নিজের অর্থ ও উদ্যোগে বিভিন্ন সড়কের পাশে হাজার হাজার গাছের চারা রোপণ ও পরিচর্যা করে গড়ে তুলেছেন সবুজের আবরণ। তার লাগানো সারি সারি তালগাছে বদলে গেছে গ্রামের একটি সড়কের চিত্র।

স্থানীয়দের কাছে রেজাউল কিবরিয়া বাবুল একজন ইমাম হিসেবে পরিচিত হলেও বৃক্ষপ্রেমী হিসেবেও রয়েছে তার আলাদা পরিচিতি। তিনি ওমরপুর ইউনিয়নের কালাপানিয়া বাজার বাইতুল মামুর জামে মসজিদের ইমাম। ইমামতির পাশাপাশি অবসর সময়ে গাছ লাগানো ও পরিচর্যায় নিজেকে নিয়োজিত রাখেন তিনি।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, প্রায় তিন দশক আগে বৃক্ষরোপণের উদ্যোগ নেন রেজাউল কিবরিয়া। ১৯৯৩-৯৪ সালের দিকে পৈতৃক সম্পত্তি বিক্রি করে প্রায় ৮ লাখ টাকা ব্যয়ে ভুঁইয়ারহাট এলাকায় একটি নার্সারি গড়ে তোলেন। সেখান থেকে উৎপাদিত ও সংগ্রহ করা বিভিন্ন জাতের গাছের চারা এলাকার সড়কের পাশে রোপণ করতে শুরু করেন। একই সঙ্গে মাইকিং করে স্থানীয়দের গাছ লাগাতে উৎসাহিত করতেন।

তার লাগানো গাছের মধ্যে রয়েছে তাল, ফলজ ও বিভিন্ন ঔষধি গাছ। ওমরপুর গ্রামের বাউল সড়কের দুই পাশে প্রায় দুই দশক আগে লাগানো তালগাছগুলো এখন বড় হয়ে সারি সারি দাঁড়িয়ে আছে। দূর থেকে দেখলে পুরো সড়কটি যেন সবুজে ঘেরা একটি প্রাকৃতিক পথ। গাছের ছায়ায় পথচারী ও কৃষকেরা স্বস্তি পান। স্থানীয়দের পাশাপাশি বাইরের লোকজনও এখন এই সড়কের সৌন্দর্য দেখতে আসেন।

Model Hospital

শুধু বাউল সড়ক নয়, ওমরপুর ইউনিয়নের আরও কয়েকটি সড়কের পাশেও গাছ লাগিয়েছেন তিনি। চারা রোপণের পর নিয়মিত সেগুলোর পরিচর্যাও করেন। অনেক গাছ নষ্ট হয়ে গেলেও বৃক্ষরোপণের কাজ থেকে পিছিয়ে যাননি তিনি।

স্থানীয়দের মতে, সরকারি কোনো প্রকল্পের অপেক্ষায় না থেকে একজন ইমামের ব্যক্তিগত উদ্যোগে দীর্ঘদিন ধরে গাছ লাগানোর এই প্রচেষ্টা শুধু একটি সড়কের সৌন্দর্যই বদলায়নি, বরং স্থানীয়দের মধ্যেও বৃক্ষরোপণের আগ্রহ তৈরি করেছে।

স্থানীয় বাসিন্দা শাহজাহান, লিটন, আলমগীর ও যুবক তুহিন জানান, বাউল সড়কের দুই পাশে এখন শত শত তালগাছ রয়েছে। গাছগুলো বড় হয়ে ওঠায় সড়কটির সৌন্দর্য অনেক বেড়েছে। বিকেল ও সন্ধ্যায় স্থানীয়রা সেখানে সময় কাটান। দূর-দূরান্ত থেকেও অনেকে এই সড়কের সৌন্দর্য দেখতে আসেন। রেজাউল কিবরিয়ার উদ্যোগ দেখে তারাও নিজেদের জায়গায় বেশি করে গাছ লাগাতে উৎসাহিত হয়েছেন।

রেজাউল কিবরিয়া বাবুল বলেন, ‘পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা এবং আল্লাহর সন্তুষ্টির আশায় আমি প্রায় তিন দশক ধরে গাছ লাগিয়ে আসছি। ১৯৯৩-৯৪ সালে এ কাজ শুরু করি। এ পর্যন্ত বিভিন্ন জায়গায় প্রায় ৫০ থেকে ৬০ হাজার গাছের চারা লাগিয়েছি। এর মধ্যে তালগাছের বীজ ও চারা রয়েছে প্রায় ২৫ থেকে ৩০ হাজার।’

তিনি বলেন, সব গাছ টিকিয়ে রাখা সম্ভব হয়নি। তবে গাছ লাগানোর কাজ থেকে কখনো সরে আসেননি। বর্তমানে নিজে নার্সারিতে চারা উৎপাদনের সময় না পাওয়ায় ঝালকাঠির স্বরূপকাঠি থেকে বিভিন্ন ধরনের চারা সংগ্রহ করে রোপণ করছেন।

তালগাছ লাগানোর বিষয়ে তিনি বলেন, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বজ্রপাতের ঘটনা বেড়ে যাওয়ায় তালগাছ লাগানোর ওপর বেশি গুরুত্ব দিচ্ছেন তিনি। পাশাপাশি বন বিভাগের পরামর্শও নিয়ে থাকেন।

রেজাউল কিবরিয়া আরও বলেন, ‘আমি গাছ লাগানোকে সদকায়ে জারিয়া হিসেবে দেখি। একটি গাছ শুধু বর্তমান প্রজন্মের জন্য নয়, ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্যও ছায়া, সৌন্দর্য ও উপকারের উৎস। যতদিন বেঁচে থাকব, ততদিনই গাছ লাগানোর এই কাজ চালিয়ে যেতে চাই।’

তার ভাষ্য, গ্রামের প্রতিটি সড়ক ও আশপাশের এলাকা সবুজে ভরে তোলাই তার লক্ষ্য। একই সঙ্গে তরুণদের খারাপ অভ্যাস থেকে দূরে রাখতে ফল ও ফুলের বাগান করার আহ্বান জানান তিনি।

রেজাউল কিবরিয়ার দীর্ঘদিনের উদ্যোগের বিষয়ে চরফ্যাশন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রুমানা আফরোজ বলেন, ‘গাছ লাগানো অবশ্যই একটি ভালো উদ্যোগ। রেজাউল কিবরিয়া সাহেবের দীর্ঘদিনের এ কাজের বিষয়টি আমার জানা ছিল না। খোঁজ নিয়ে এ বিষয়ে তার পাশে দাঁড়ানোর চেষ্টা করব।’