শনিবার, ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১২ আশ্বিন ১৪৩৩
শনিবার, ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১২ আশ্বিন ১৪৩৩

ছিনতাইকারীদের ছুরিকাঘাতে প্রান হারালো মতলবের সেনা সদস্য শাহিন

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শনিবার, ১৫ জানুয়ারি, ২০২২, ২:৫৯ পিএম
ছিনতাইকারীদের ছুরিকাঘাতে প্রান হারালো মতলবের সেনা সদস্য শাহিন

ছিনতাইকারীদের ছুরিকাঘাতে প্রান হারালো মতলবের তরুন সেনা সদস্য শাহিন আলম।

মনিরুল ইসলাম মনির : ছিনতাইকারীদের ছুরিকাঘাতে প্রান হারালো মতলব উত্তর উপজেলার তরুন সেনা সদস্য শাহিন আলম(২২)।

গত ১৫ জানুয়ারী শনিবার ভোররাতে ছুটিতে বাড়ী (মতলব উত্তরে)আসার পথে নারায়নগঞ্জের চিটাগাং রোডে ছিনতাইকারীদের হাতে পড়ে।ছিনতাইকারীরা সব লুটে নেয়ার সময় হয়তো খানিকটা প্রতিরোধ করতে চাইলে উপর্যুপরি ছুরিকাঘাত করলে তরুন এই সেনা সদস্য মাটিতে লুটিয়ে পড়ে। পথচারীদের সহায়তায় স্থানীয় হাসপাতালে নিলে কর্তব্যরত ডাক্তার সেনা সদস্য শাহিন আলমকে মৃত ঘোষনা করে। শাহিন আলমের শরীরে ছুরির বেশ ক’টি আঘাতের চিহ্ন রয়েছে।

শাহিন আলমের মৃত্যুর খবরে তার পরিবার তথা এলাকায় নেমে আসে শোকের ছায়া। শাহিন আলম স্থানীয় ছেংগারচর সরকারী ডিগ্রী কলেজে লেখাপড়া করতো এবং এলকায় ফুটবল খেলোয়াড় হিসাবে সে ছিল খুবই জনপ্রিয়। তার মৃত্যুর সংবাদে সহপাঠী, বন্ধু-বান্ধব, সুভাকাঙ্খী ও স্থানীয় ক্রীড়া প্রেমিরা এসে তার বাড়ীতে ভীড় জমায়। সকলের উপস্থিতিতে শাহিনের বাড়ীতে এক শোকাবহ পরিস্থিতি বিরাজ করছে।

মতলব উত্তর উপজেলাস্থ ছেংগারচর পৌরসভার মানিকের কান্দি গ্রামের আরব আলী প্রধানীয়ার অত্যন্ত আদরের সন্তান এই শাহীন আলম। ৫ ভাই ২বোনের মধ্যে শাহিন ৬ষ্ঠ।

Model Hospital

৩০শে ডিসেম্বর -২০১৯ সালে সৈনিক পদে যোগদান করেন শাহিন আলম। বর্তমানে বরিশাল ক্যান্টারম্যান এ কর্মরত আছে। বরিশাল ক্যান্টরম্যান থেকে বাড়ির উদ্দেশ্যে আসলে রাতে চিটাগাং রোড ডাচবাংলা মোড়ের কাছে এক বন্ধুর বাসায় রাতে থেকে সকালে বাড়ী যাবে বলে চিটাগাং রোডে নামে বলে জানা যায় পারিবারিক সূত্রে।

বর্তমানে সেনা সদস্য শাহিন আলমের লাশ ঢাকা সিএমএইচ এর হিমাগারে রাখা আছে।১৬জানুয়ারী রবিবার সকালে সেনাবাহিনীর হেলিকাপ্টার যোগে তার গ্রামের বাড়ীর ছেংগারচর স্কুল মাঠে নিয়ে আসা হবে। পরে উপজেলা মাঠে রাষ্ট্রয় মর্যাদা শেষে এবং ইমামপুর পল্লী মঙ্গল হাই স্কুল মাঠে জানাযা করে পারিবারিক কবরস্থানে দাফন করার কথা রয়েছে।

৩০ বছর ধরে গাছ লাগিয়ে গ্রামের সড়কের চিত্র বদলে দিলেন মসজিদের ইমাম রেজাউল

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৯:৫৯ পিএম
৩০ বছর ধরে গাছ লাগিয়ে গ্রামের সড়কের চিত্র বদলে দিলেন মসজিদের ইমাম রেজাউল

মসজিদে ইমামতির পাশাপাশি প্রায় ৩০ বছর ধরে বৃক্ষরোপণ করে আসছেন ভোলার চরফ্যাশন উপজেলার ওমরপুর ইউনিয়নের মো. রেজাউল কিবরিয়া বাবুল। নিজের অর্থ ও উদ্যোগে বিভিন্ন সড়কের পাশে হাজার হাজার গাছের চারা রোপণ ও পরিচর্যা করে গড়ে তুলেছেন সবুজের আবরণ। তার লাগানো সারি সারি তালগাছে বদলে গেছে গ্রামের একটি সড়কের চিত্র।

স্থানীয়দের কাছে রেজাউল কিবরিয়া বাবুল একজন ইমাম হিসেবে পরিচিত হলেও বৃক্ষপ্রেমী হিসেবেও রয়েছে তার আলাদা পরিচিতি। তিনি ওমরপুর ইউনিয়নের কালাপানিয়া বাজার বাইতুল মামুর জামে মসজিদের ইমাম। ইমামতির পাশাপাশি অবসর সময়ে গাছ লাগানো ও পরিচর্যায় নিজেকে নিয়োজিত রাখেন তিনি।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, প্রায় তিন দশক আগে বৃক্ষরোপণের উদ্যোগ নেন রেজাউল কিবরিয়া। ১৯৯৩-৯৪ সালের দিকে পৈতৃক সম্পত্তি বিক্রি করে প্রায় ৮ লাখ টাকা ব্যয়ে ভুঁইয়ারহাট এলাকায় একটি নার্সারি গড়ে তোলেন। সেখান থেকে উৎপাদিত ও সংগ্রহ করা বিভিন্ন জাতের গাছের চারা এলাকার সড়কের পাশে রোপণ করতে শুরু করেন। একই সঙ্গে মাইকিং করে স্থানীয়দের গাছ লাগাতে উৎসাহিত করতেন।

তার লাগানো গাছের মধ্যে রয়েছে তাল, ফলজ ও বিভিন্ন ঔষধি গাছ। ওমরপুর গ্রামের বাউল সড়কের দুই পাশে প্রায় দুই দশক আগে লাগানো তালগাছগুলো এখন বড় হয়ে সারি সারি দাঁড়িয়ে আছে। দূর থেকে দেখলে পুরো সড়কটি যেন সবুজে ঘেরা একটি প্রাকৃতিক পথ। গাছের ছায়ায় পথচারী ও কৃষকেরা স্বস্তি পান। স্থানীয়দের পাশাপাশি বাইরের লোকজনও এখন এই সড়কের সৌন্দর্য দেখতে আসেন।

Model Hospital

শুধু বাউল সড়ক নয়, ওমরপুর ইউনিয়নের আরও কয়েকটি সড়কের পাশেও গাছ লাগিয়েছেন তিনি। চারা রোপণের পর নিয়মিত সেগুলোর পরিচর্যাও করেন। অনেক গাছ নষ্ট হয়ে গেলেও বৃক্ষরোপণের কাজ থেকে পিছিয়ে যাননি তিনি।

স্থানীয়দের মতে, সরকারি কোনো প্রকল্পের অপেক্ষায় না থেকে একজন ইমামের ব্যক্তিগত উদ্যোগে দীর্ঘদিন ধরে গাছ লাগানোর এই প্রচেষ্টা শুধু একটি সড়কের সৌন্দর্যই বদলায়নি, বরং স্থানীয়দের মধ্যেও বৃক্ষরোপণের আগ্রহ তৈরি করেছে।

স্থানীয় বাসিন্দা শাহজাহান, লিটন, আলমগীর ও যুবক তুহিন জানান, বাউল সড়কের দুই পাশে এখন শত শত তালগাছ রয়েছে। গাছগুলো বড় হয়ে ওঠায় সড়কটির সৌন্দর্য অনেক বেড়েছে। বিকেল ও সন্ধ্যায় স্থানীয়রা সেখানে সময় কাটান। দূর-দূরান্ত থেকেও অনেকে এই সড়কের সৌন্দর্য দেখতে আসেন। রেজাউল কিবরিয়ার উদ্যোগ দেখে তারাও নিজেদের জায়গায় বেশি করে গাছ লাগাতে উৎসাহিত হয়েছেন।

রেজাউল কিবরিয়া বাবুল বলেন, ‘পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা এবং আল্লাহর সন্তুষ্টির আশায় আমি প্রায় তিন দশক ধরে গাছ লাগিয়ে আসছি। ১৯৯৩-৯৪ সালে এ কাজ শুরু করি। এ পর্যন্ত বিভিন্ন জায়গায় প্রায় ৫০ থেকে ৬০ হাজার গাছের চারা লাগিয়েছি। এর মধ্যে তালগাছের বীজ ও চারা রয়েছে প্রায় ২৫ থেকে ৩০ হাজার।’

তিনি বলেন, সব গাছ টিকিয়ে রাখা সম্ভব হয়নি। তবে গাছ লাগানোর কাজ থেকে কখনো সরে আসেননি। বর্তমানে নিজে নার্সারিতে চারা উৎপাদনের সময় না পাওয়ায় ঝালকাঠির স্বরূপকাঠি থেকে বিভিন্ন ধরনের চারা সংগ্রহ করে রোপণ করছেন।

তালগাছ লাগানোর বিষয়ে তিনি বলেন, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বজ্রপাতের ঘটনা বেড়ে যাওয়ায় তালগাছ লাগানোর ওপর বেশি গুরুত্ব দিচ্ছেন তিনি। পাশাপাশি বন বিভাগের পরামর্শও নিয়ে থাকেন।

রেজাউল কিবরিয়া আরও বলেন, ‘আমি গাছ লাগানোকে সদকায়ে জারিয়া হিসেবে দেখি। একটি গাছ শুধু বর্তমান প্রজন্মের জন্য নয়, ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্যও ছায়া, সৌন্দর্য ও উপকারের উৎস। যতদিন বেঁচে থাকব, ততদিনই গাছ লাগানোর এই কাজ চালিয়ে যেতে চাই।’

তার ভাষ্য, গ্রামের প্রতিটি সড়ক ও আশপাশের এলাকা সবুজে ভরে তোলাই তার লক্ষ্য। একই সঙ্গে তরুণদের খারাপ অভ্যাস থেকে দূরে রাখতে ফল ও ফুলের বাগান করার আহ্বান জানান তিনি।

রেজাউল কিবরিয়ার দীর্ঘদিনের উদ্যোগের বিষয়ে চরফ্যাশন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রুমানা আফরোজ বলেন, ‘গাছ লাগানো অবশ্যই একটি ভালো উদ্যোগ। রেজাউল কিবরিয়া সাহেবের দীর্ঘদিনের এ কাজের বিষয়টি আমার জানা ছিল না। খোঁজ নিয়ে এ বিষয়ে তার পাশে দাঁড়ানোর চেষ্টা করব।’