বুধবার, ২৮ অক্টোবর ২০২৬, ১৪ কার্তিক ১৪৩৩
বুধবার, ২৮ অক্টোবর ২০২৬, ১৪ কার্তিক ১৪৩৩

বিচার চেয়ে ঘুরছে থানা পুলিশ ও ইউএনও অফিস

কচুয়ার স্বামী পরিত্যক্তা শাহেরা সন্তাদের নিয়ে নিরাপত্তাহীন

নিজস্ব প্রতিনিধি প্রকাশিত: রবিবার, ১২ জানুয়ারি, ২০২৫, ৭:০৫ পিএম
কচুয়ার স্বামী পরিত্যক্তা শাহেরা সন্তাদের নিয়ে নিরাপত্তাহীন

দুই সন্তানকে নিয়ে ক্রয়কৃত জমির উপর শায়েরা বেগম।

স্বামী পরিত্যক্তা শাহেরা বেগম জমি ক্রয় করে তার দুই সন্তানকে নিয়ে সর্বদা আতংকে ও নিরাপত্তাহীনতায় অভিযোগ উঠেছে। শাহেরা বেগম কচুয়া উপজেলার আটোমোড় গ্রামে মৃত শামছুল মিয়ার মেয়ে। একই গ্রামের মাদবর খলিফার মেয়ে মোসা: মাহমুদার কাছ থেকে ২০১৫ সাথে ৪ শতক জমি ২ লক্ষ টাকা মূল্যে ক্রয় করে। তার পরে ঘটে বিভিন্ন নাটকীয়তা।

থানার পুলিশের কাছে অভিযোগ দিয়েও বিচার না পেয়ে সর্বশেষ উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে অভিযোগ দায়ের করেন শায়েরা বেগম।

ভুক্তভোগী শায়েরা বেগম লিখিত অভিযোগ উল্লেখ্য করেন,২০১৫ সালে একই গ্রামের খলিফার মেয়ে মাহমুদা বেগমের কাছ থেকে শায়েরা বেগমের বসত বাড়ীর পুকুরের পূর্ব দক্ষিণ পাড়ে ০৪ শতক সম্পত্তি ২লক্ষ্য টাকা মূল্য ধার্য্য করে ৯০ হাজার টাকা বায়না করে জমির দখল বুঝিয়ে দেয় বিবাদী মাহমুদা বেগম ও তার স্বামী।

শায়েরা বেগম ২০২৩ সালে মাহমুদার ভাই জহিরুল ইসলামের কাছে নগদ ২ লক্ষ টাকা দেওয়ার পরও সম্পত্তি দলিল করিয়া দেওয়ার কথা বললে তালবাহানা শুরু করেন।

Model Hospital

এ নিয়ে স্থানীয়রা সালিশ বসলে বিবাদী জমি বিক্রয় করে নাই বলিয়া অস্বীকার করে। এই নিয়ে মাহমুদা বেগম গংদের সাথে কয়েকধাপে হুমকি ধমকী, মারধর, প্রাণ নাশের হুমকি প্রদান করলে ২০২৩ সাথে ৭ জানুয়ারী কচুয়া থানার অফিসার ইনচার্জ অভিযোগ দায়ের করলে শায়েরা বেগমের পক্ষে রায় আসে। পরবর্তীতে মাহমুদা পুনরায় রায় অমান্য করে পূর্ব কার্যকলাপ শুরু করলে স্থানীয়দের পরামর্শে ২০২৪ সালের ৫ এপ্রিল পুনরায় অফিসার ইনচার্জ কচুয়া থানা বরাবর আরেকটি অভিযোগ দায়ের করে শায়েরা এবং অভিযোগের ভিত্তিতে শালীশি সমাধানের মাধ্যমে ২০২৪ সালে ১৩ মে তারিখে একটি বায়নাপত্র হয়। কিন্তু পরিতাপের বিষয় বিবাদী বায়নাপত্র অমান্য করে পুনরায় আমার ক্রয়কৃত সম্পত্তি ভোগদখল এবং অর্থ লেনদেন অস্বীকার করে হুমকি ধমকী প্রদান করে। ফলে আমরা সর্বদা আতঙ্কে থাকি এবং জীবনের নিরাপত্তাহীনতায় ভূগছি।

সর্বশেষ কচুয়া উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তার বরাবর অভিযোগ দায়ের করেন।

ভুক্তভোগী শায়েরা বেগম বলেন,আমার প্রাক্তন স্বামী উপজেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক বাতেন সরকার। বাতেন সরকারের ফুফাতো বোন মাহমুদা বেগমের কাছ থেকে ৪শতক জমি ক্রয় করি ২০১৫ সালে। বাতেন সরকার আমার দুই ছেলে সন্তান রেখে আমাকে ডিভোর্স দেয়। বাতেন সরকারের সকল সম্পত্তি বিক্রি করে আমার ছেলেদেরকে কোন সম্পত্তি না দিয়ে বাড়ির থেকে চলে যায়। আমার ক্রয়কৃত ৪শতক সম্পত্তির উপর দুই ছেলেকে নিয়ে মাথাগোঁজার ঠাই শেষ সম্বল। টাকা দিয়ে জমি ক্রয় করেও এখন নিরাপত্তহীনতা ভোগছি।

তিনি আরো বলেন,২০২৪ সালে ৫ মে বিবাদী মাহমুদা বেগমের ভাই জহিরুল ইসলাম, মেয়ের জামাই দোলন,দেবর মোখলেছুর রহমান,ভাগিনা আব্দুল হাই ও উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদের ডেপুটি কমান্ডার জাবের মিয়া বায়নাপত্রে স্বাক্ষরিত স্বাক্ষীগনের উপস্থিতিতে সর্বশেষ জমির মূল্য ৩লক্ষ ৩০ হাজার টাকা নির্ধারন করে সম্পন্ন টাকা মাহমুদাকে বুঝিয়ে দিলে আমাকে রেজিষ্ট্রি করে দিবে বলে বায়নাপত্রে মাহমুদা রহমান স্বাক্ষীগনের উপস্থিতিতে স্বাক্ষর দেয়।

বর্তমানে এসে আমার দখলীয় জমি রেজিষ্ট্রি না দিয়ে জমি দখল ছাড়ার জর‌্য হুমকি ধমকি প্রদান করে আসছেন বিবাদী মাহমুদা রহমান। আগামী ১৫ জানুয়ারী উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয়ে শুনানি দিন ধার্য করা হয়েছে। আশা করছি আমি ন্যায় বিচার পাবো।

বিবাদী মাহমুদা রহমানের সাথে যোগাযোগের চেষ্টা করেও তার বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি।

কেএফটিতে ‘আব্দুর রহমান মোল্লা লাইব্রেরি’ উদ্বোধন

মোজাম্মেল প্রধান হাসিব প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২৭ অক্টোবর, ২০২৬, ৮:২৩ পিএম
কেএফটিতে ‘আব্দুর রহমান মোল্লা লাইব্রেরি’ উদ্বোধন
চাঁদপুরের মতলব দক্ষিণ উপজেলা সদরের ঢাকিরগাঁওয়ে অবস্থিত কেএফটি কলেজিয়েট স্কুলের বয়েজ উইংয়ে ‘আব্দুর রহমান মোল্লা লাইব্রেরি’ উদ্ধোধন করা হয়েছে।
সোমবার (২৬ অক্টোবর) দুপুরে আব্দুর রহমান মোল্লা লাইব্রেরি ফিতা কেটে উদ্ধোধন করেন বিশিষ্ট দানবীর ও সমাজসেবক আলহাজ্ব এম.এ বারী।উদ্বোধন শেষে দোয়া ও মোনাজাত পরিচালনা করেন কেএফটি কলেজিয়েট স্কুলের ধর্মীয় শিক্ষক আব্দুল মালেক মিয়াজী।
পরে কেএফটি কলেজিয়েট স্কুলের অডিটোরিয়ামে আব্দুর রহমান মোল্লা লাইব্রেরির উদ্ধোধনী অনুষ্ঠিত হয়। কেএফটি কলেজিয়েট স্কুলের প্রতিষ্ঠাতা বেলায়েত হোসেন জুলহাসের পরিচালনায় প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন, বিশিষ্ট দানবীর ও সমাজসেবক আলহাজ্ব  এম.এ বারী। প্রধান অতিথির বক্তব্যের শুরুতেই তিনি তার মরহুম পিতা আব্দুর রহমান মোল্লার নামে লাইব্রেরিটি করায় মহান আল্লাহ তায়ালার প্রতি শোকরিয়া আদায় করেন। তিনি বলেন, আমি আমার  জীবদ্দশায় অসহায় গরীব দুঃখী মানুষের কল্যানে কাজ করেছি। শুধু তাই নয়, বিভিন্ন ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান, স্কুল, কলেজ, মাদ্রাসার ছাত্র-ছাত্রীদের লেখাপড়া, চিকিৎসা, বাস্থান ও বিয়ের জন্য আর্থিক সহায়তা করেছেন তিনি। মৃত্যুর আগ পর্যন্ত মানুষের এবং সমাজের কল্যাণে কাজ করে যাবো ইনশাআল্লাহ।
কেএফটি কলেজিয়েট স্কুলের বিষয়ে তিনি বলেন, এ কলেজটি একদিন দেশের অন্যতম শিক্ষা প্রতিষ্ঠান এবং বিশ্ববিদ্যালয় হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হবে। দেশ-বিদেশের ছাত্র ছাত্রীরা ভর্তি হয়ে পড়াশোনা করবে। মতলববাসীর নিকট আকুল আবেদন আপনারা কেএফটি কলেজিয়েট স্কুলের সাথে ছিলেন, আছেন এবং ভবিষ্যতেও থাকবেন।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক মেসবাহ উদ্দিন সরকার, মতলব দক্ষিণ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা কে.এম ইশমাম এবং জাপান অধিবাসী ইয়াসুও হিরায়ামা।
বক্তব্যে অতিথিরা লাইব্রেরির গুরুত্ব, বই পড়ার অভ্যাস গড়ে তোলা এবং শিক্ষার্থীদের জ্ঞান ও মননশীলতা বিকাশে পাঠাগারের ইতিবাচক ভূমিকা তুলে ধরেন। তাঁরা শিক্ষার্থীদের নিয়মিত বই পড়তে এবং জ্ঞান অর্জনের এই সুযোগ কাজে লাগাতে উৎসাহিত করেন।
একটি সমৃদ্ধ লাইব্রেরি শিক্ষার্থীদের জ্ঞানচর্চা, সৃজনশীলতা ও সুন্দর ভবিষ্যৎ গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে এমন প্রত্যাশা সবার। বই হোক জ্ঞানের আলো, লাইব্রেরি হোক আলোকিত ভবিষ্যতের সোপান।
অনুষ্ঠানের শুরুতে স্বাগত বক্তব্য রাখেন কেএফটি কলেজিয়েট স্কুলের প্রিন্সিপাল ও সাবেক সচিব মো. জাকির হোসেন কামাল।
অনুষ্ঠানের পূর্বে স্কাউট, গার্লস গাইড ও রেড ক্রিসেন্টের সদস্যরা অতিথিদের ফুল দিয়ে বরণ করে নেন। অনুষ্ঠানের শুরুতে প্রতিষ্ঠানের  বিভিন্ন শ্রেণির সেরা পারফরমার ও ক্লাস ক্যাপ্টেনদের উপস্থিতিতে অতিথিদের ফুল, উত্তরীয় ও উপহারসামগ্রী দিয়ে বরণ করা হয়।