শনিবার, ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১২ আশ্বিন ১৪৩৩
শনিবার, ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১২ আশ্বিন ১৪৩৩

শাহতলী কামিল মাদরাসায় শিক্ষকদের সাথে মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত

নিজস্ব প্রতিনিধি প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ২৩ জানুয়ারি, ২০২৫, ৯:১২ পিএম
শাহতলী কামিল মাদরাসায় শিক্ষকদের সাথে মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত

শাহতলী কামিল মাদরাসায় শিক্ষার মানউন্নয়ন ও সম-সাময়িক বিষয় নিয়ে মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখেন মাদরাসার এডহক কমিটির দাতা সদস্য ও চাঁদপুর প্রেসক্লাবের সিনিয়র সহ-সভাপতি সোহেল রুশদী।

চাঁদপুর সদর উপজেলার শতবছরের ঐতিহ্যবাহী শাহতলী কামিল মাদরাসায় শিক্ষার মানউন্নয়ন ও সম-সাময়িক বিষয় নিয়ে মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।

২৩জানুয়ারী (বৃহস্পতিবার) দুপুর ১টায় মাদরাসার সভাকক্ষে মাদরাসা অধ্যক্ষ মাওলানা মোহাম্মদ বিলাল হোসাইনের সভাপতিত্বে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন মাদরাসার এডহক কমিটির দাতা সদস্য ও চাঁদপুর প্রেসক্লাবের সিনিয়র সহ-সভাপতি এবং দৈনিক চাঁদপুর খবর পত্রিকার প্রতিষ্ঠাতা সম্পাদক ও প্রকাশক সোহেল রুশদী।

অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি মাদরাসার এডহক কমিটির দাতা সদস্য সাংবাদিক সোহেল রুশদী তার বক্তব্যে বলেন, আমি শুরুতেই জুলাই-আগস্ট গণ-অভ্যুথানে নিহত শহীদদের রুহের মাগফিরাত কামনা করছি। যারা আহত হয়েছে তাদের দ্রুত সুস্থ্যতা কামনা করছি। এ মাদরাসাটি একটি ঐতিহ্যবাহী ও প্রাচীনতম ঐতিহ্যবাহী দ্বিনী শিক্ষা প্রতিষ্ঠান। ১৯০১ সালে মাদ্রাসাটি মরহুম ছমিউদ্দিন কারী সাহেবের মাধ্যমে প্রতিষ্ঠা লাভ করে এবং ১৯৬৬ সালে শিক্ষাবিদ মরহুম এটি আহমেদ হোসেন রুশদী সাহেব কামিল প্রতিষ্ঠা করে ।

এ মাদরাসা থেকে অনেক আলেম ওলামা তৈরি হয়েছে। উক্ত মাদরাসার সারাদেশে একটা সুনাম রয়েছে ।

Model Hospital

এসময় তিনি বলেন, শিক্ষামন্ত্রনালয়ের নিদেশনা ও পরিপত্র অনুযায়ী কাজ করতে হবে । চাঁদপুর জেলা প্রশাসকের নেতৃত্বে জেলার শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলো ভালোভাবে চলছে এবং শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শৃংখলা ফিরে এসেছে। আপনারা পাঠদানে প্রতি খেয়াল রাখবেন।

শিক্ষকদের আগমন ও প্রস্থান নিশ্চিত করতে হবে । শিক্ষাথীদের শতভাগ উপস্থিতি নিশ্চিত করতে হবে । কোন শিক্ষাথী যাতে জরে না পড়ে তার দিকে বেশী নজর দিতে হবে । শিক্ষাথীদের লেখাপড়া করতে কিংবা আথিক সমস্যা হলে আমি দেখবো । শিক্ষাউপকরণের প্রয়োজন হলে সেটাও আমি সহযোগিতা করবো । প্রতিবছর ভালো ও সাফল্যজনক ফলাফল অজন করে আসছে প্রতিষ্ঠানটি ।

মতবিনিময় সভায় অংশ নেন , শাহতলী কামিল মাদরাসার উপাধ্যক্ষ মাওলানা মোহাম্মদ ইয়াছিন মিয়া, প্রধান মুহাদ্দিস মাওলানা আখতার হোসাইন, ২য় মুহাদ্দিস মাওলানা ইব্রাহিম খলিল, সহকারি অধাপক মো: কামাল হোসেন, সহকারি অধ্যাপক মাওলানা এমদাদ উল্ল্যাহ, সহকারি অধ্যাপক মোহাম্মদুল্লা, সহকারি অধ্যাপক মো: বেলায়েত হোসেন মিজি, প্রভাষক মাওলানা এ এন এম হেলাল উদ্দিন, প্রভাষক মাওলানা নাজির হোসাইন, সিনিয়র শিক্ষক মাওলানা মিজানুর রহমান, সহকারি শিক্ষক মাওলানা বাহাউদ্দিন, সহকারি শিক্ষক মাওলানা আব্দুল হালিম গাজী, সহকারি শিক্ষক হাফেজ জাহাঙ্গীর, সহকারি শিক্ষক মো: হাবিবুর রহমান, কম্পিউটার শিক্ষক আনিসুর রহমান, শরীরচর্চা শিক্ষক শরীফ হাওলাদার, ইবতেদায়ী প্রধান শরীফ মো: মোস্তফা খান, সহকারি শিক্ষক আনিসুর রহমান, হিসাব রক্ষক মো: শরীফুর রহমান খান, অফিস সহকারি রিয়াদ মিজি, অফিস সহকারি মো: শরীফ খান সহ অন্যান্যরা।

অনুষ্ঠানে সভাপতির বক্তব্য রাখেন মাদরাসার অধ্যক্ষ মাওলানা মোহাম্মদ বিলাল হোসাইন।

তিনি বক্তব্যের মাধ্যমে অনুষ্ঠানে সমাপ্তি ঘোষনা করেন।

৩০ বছর ধরে গাছ লাগিয়ে গ্রামের সড়কের চিত্র বদলে দিলেন মসজিদের ইমাম রেজাউল

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৯:৫৯ পিএম
৩০ বছর ধরে গাছ লাগিয়ে গ্রামের সড়কের চিত্র বদলে দিলেন মসজিদের ইমাম রেজাউল

মসজিদে ইমামতির পাশাপাশি প্রায় ৩০ বছর ধরে বৃক্ষরোপণ করে আসছেন ভোলার চরফ্যাশন উপজেলার ওমরপুর ইউনিয়নের মো. রেজাউল কিবরিয়া বাবুল। নিজের অর্থ ও উদ্যোগে বিভিন্ন সড়কের পাশে হাজার হাজার গাছের চারা রোপণ ও পরিচর্যা করে গড়ে তুলেছেন সবুজের আবরণ। তার লাগানো সারি সারি তালগাছে বদলে গেছে গ্রামের একটি সড়কের চিত্র।

স্থানীয়দের কাছে রেজাউল কিবরিয়া বাবুল একজন ইমাম হিসেবে পরিচিত হলেও বৃক্ষপ্রেমী হিসেবেও রয়েছে তার আলাদা পরিচিতি। তিনি ওমরপুর ইউনিয়নের কালাপানিয়া বাজার বাইতুল মামুর জামে মসজিদের ইমাম। ইমামতির পাশাপাশি অবসর সময়ে গাছ লাগানো ও পরিচর্যায় নিজেকে নিয়োজিত রাখেন তিনি।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, প্রায় তিন দশক আগে বৃক্ষরোপণের উদ্যোগ নেন রেজাউল কিবরিয়া। ১৯৯৩-৯৪ সালের দিকে পৈতৃক সম্পত্তি বিক্রি করে প্রায় ৮ লাখ টাকা ব্যয়ে ভুঁইয়ারহাট এলাকায় একটি নার্সারি গড়ে তোলেন। সেখান থেকে উৎপাদিত ও সংগ্রহ করা বিভিন্ন জাতের গাছের চারা এলাকার সড়কের পাশে রোপণ করতে শুরু করেন। একই সঙ্গে মাইকিং করে স্থানীয়দের গাছ লাগাতে উৎসাহিত করতেন।

তার লাগানো গাছের মধ্যে রয়েছে তাল, ফলজ ও বিভিন্ন ঔষধি গাছ। ওমরপুর গ্রামের বাউল সড়কের দুই পাশে প্রায় দুই দশক আগে লাগানো তালগাছগুলো এখন বড় হয়ে সারি সারি দাঁড়িয়ে আছে। দূর থেকে দেখলে পুরো সড়কটি যেন সবুজে ঘেরা একটি প্রাকৃতিক পথ। গাছের ছায়ায় পথচারী ও কৃষকেরা স্বস্তি পান। স্থানীয়দের পাশাপাশি বাইরের লোকজনও এখন এই সড়কের সৌন্দর্য দেখতে আসেন।

Model Hospital

শুধু বাউল সড়ক নয়, ওমরপুর ইউনিয়নের আরও কয়েকটি সড়কের পাশেও গাছ লাগিয়েছেন তিনি। চারা রোপণের পর নিয়মিত সেগুলোর পরিচর্যাও করেন। অনেক গাছ নষ্ট হয়ে গেলেও বৃক্ষরোপণের কাজ থেকে পিছিয়ে যাননি তিনি।

স্থানীয়দের মতে, সরকারি কোনো প্রকল্পের অপেক্ষায় না থেকে একজন ইমামের ব্যক্তিগত উদ্যোগে দীর্ঘদিন ধরে গাছ লাগানোর এই প্রচেষ্টা শুধু একটি সড়কের সৌন্দর্যই বদলায়নি, বরং স্থানীয়দের মধ্যেও বৃক্ষরোপণের আগ্রহ তৈরি করেছে।

স্থানীয় বাসিন্দা শাহজাহান, লিটন, আলমগীর ও যুবক তুহিন জানান, বাউল সড়কের দুই পাশে এখন শত শত তালগাছ রয়েছে। গাছগুলো বড় হয়ে ওঠায় সড়কটির সৌন্দর্য অনেক বেড়েছে। বিকেল ও সন্ধ্যায় স্থানীয়রা সেখানে সময় কাটান। দূর-দূরান্ত থেকেও অনেকে এই সড়কের সৌন্দর্য দেখতে আসেন। রেজাউল কিবরিয়ার উদ্যোগ দেখে তারাও নিজেদের জায়গায় বেশি করে গাছ লাগাতে উৎসাহিত হয়েছেন।

রেজাউল কিবরিয়া বাবুল বলেন, ‘পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা এবং আল্লাহর সন্তুষ্টির আশায় আমি প্রায় তিন দশক ধরে গাছ লাগিয়ে আসছি। ১৯৯৩-৯৪ সালে এ কাজ শুরু করি। এ পর্যন্ত বিভিন্ন জায়গায় প্রায় ৫০ থেকে ৬০ হাজার গাছের চারা লাগিয়েছি। এর মধ্যে তালগাছের বীজ ও চারা রয়েছে প্রায় ২৫ থেকে ৩০ হাজার।’

তিনি বলেন, সব গাছ টিকিয়ে রাখা সম্ভব হয়নি। তবে গাছ লাগানোর কাজ থেকে কখনো সরে আসেননি। বর্তমানে নিজে নার্সারিতে চারা উৎপাদনের সময় না পাওয়ায় ঝালকাঠির স্বরূপকাঠি থেকে বিভিন্ন ধরনের চারা সংগ্রহ করে রোপণ করছেন।

তালগাছ লাগানোর বিষয়ে তিনি বলেন, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বজ্রপাতের ঘটনা বেড়ে যাওয়ায় তালগাছ লাগানোর ওপর বেশি গুরুত্ব দিচ্ছেন তিনি। পাশাপাশি বন বিভাগের পরামর্শও নিয়ে থাকেন।

রেজাউল কিবরিয়া আরও বলেন, ‘আমি গাছ লাগানোকে সদকায়ে জারিয়া হিসেবে দেখি। একটি গাছ শুধু বর্তমান প্রজন্মের জন্য নয়, ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্যও ছায়া, সৌন্দর্য ও উপকারের উৎস। যতদিন বেঁচে থাকব, ততদিনই গাছ লাগানোর এই কাজ চালিয়ে যেতে চাই।’

তার ভাষ্য, গ্রামের প্রতিটি সড়ক ও আশপাশের এলাকা সবুজে ভরে তোলাই তার লক্ষ্য। একই সঙ্গে তরুণদের খারাপ অভ্যাস থেকে দূরে রাখতে ফল ও ফুলের বাগান করার আহ্বান জানান তিনি।

রেজাউল কিবরিয়ার দীর্ঘদিনের উদ্যোগের বিষয়ে চরফ্যাশন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রুমানা আফরোজ বলেন, ‘গাছ লাগানো অবশ্যই একটি ভালো উদ্যোগ। রেজাউল কিবরিয়া সাহেবের দীর্ঘদিনের এ কাজের বিষয়টি আমার জানা ছিল না। খোঁজ নিয়ে এ বিষয়ে তার পাশে দাঁড়ানোর চেষ্টা করব।’