শনিবার, ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১২ আশ্বিন ১৪৩৩
শনিবার, ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১২ আশ্বিন ১৪৩৩

মানুষের পাশে থেকে কাজ করাই আমার রাজনীতির আদর্শ ও লক্ষ্য; রুহুল এমপি

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: রবিবার, ৩০ জানুয়ারি, ২০২২, ৩:১৪ পিএম
মানুষের পাশে থেকে কাজ করাই আমার রাজনীতির আদর্শ ও লক্ষ্য; রুহুল এমপি

মতলব উত্তর ব্যুরো : চাঁদপুর-২ আসনের সংসদ সদস্য আলহাজ্ব অ্যাড. নুরুল আমিন রুহুল বলেছেন, মানুষের ভালোবাসা নিয়েই আমি পথ চলতে চাই। অবহেলিত মানুষের পাশে থেকে কাজ করাই আমার রাজনীতির আদর্শ ও লক্ষ্য।

তিনি বলেন, আমার জীবনের একমাত্র কামনা সাধারণ মানুষের কল্যাণে কাজ করা। তাই মতলবের মানুষকে ভালোবেসে বারবার আপনাদের মাঝে ফিরে আসি। আপনাদের কল্যাণে যেমন বিগত সময় কাজ করেছি। তেমনি দরিদ্র অসহায় জনতার পাশে থেকে কাজ করব- এটাই আমার আগামী দিনের পথ চলার অঙ্গীকার। মতলব উত্তর উপজেলার ফতেপুর পূর্ব ইউনিয়নের লুধুয়া হাইস্কুল এন্ড কলেজ অডিটোরিয়ামে অসহায় গরিব শীতার্ত মানুষের মাঝে কম্বল বিতরণকালে তিনি এ সব কথা বলেন।

দলীয় নেতাকর্মীদের সঙ্গে নিয়ে ফতেপুর পূর্ব ও দূর্গাপুর ইউনিয়নের প্রত্যন্ত জনপদে শীতার্ত মানুষের মাঝে কম্বল বিতরণ করেন।
এ সময় তিনি প্রত্যন্ত জনপদের অসহায় মানুষের সঙ্গে কুশল বিনিময় করেন ও বলেন, আমি প্রতি বছর শীতের সময় আপনাদের পাশে ছুটে আসি কম্বল নিয়ে। কোনো কিছুর আশা বা প্রয়োজনে নয়, শুধু মানুষের পাশে থাকতে চাই। আপনারাও আমার কথা স্মরণ করেন। তাই আপনাদের ভুলতে পারি না।

আলহাজ্ব অ্যাড. নুরুল আমিন রুহুল বলেন, প্রধানমন্ত্রী বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনার সার্বিক প্রচেষ্টায় বাংলাদেশ আজ উন্নয়নের মডেল হিসেবে দক্ষিণ এশিয়ায় ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি করেছে। জাতিসংঘ বাংলাদেশকে প্রাথমিক ভাবে উন্নয়নশীল দেশ হিসেবে স্বীকৃতি দিয়েছে। বিদ্যুৎ, শিক্ষা, স্বাস্থ্য, টেলিযোগাযোগ ব্যবস্থাসহ গ্রামীণ অবকাঠামোর ব্যাপক উন্নয়ন হওয়ায় গ্রামগুলো ধীরে ধীরে শহরে রূপান্তর হচ্ছে- দেশ এগিয়ে যাচ্ছে। প্রতিবেশী রাষ্ট্রগুলো বাংলাদেশকে অনুসরণ করছে। আমি তাকে অনুসরণ করেই জনকল্যাণে কাজ করে যাচ্ছি।

Model Hospital

ফতেপুর পুর্ব ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক কাজী সালাউদ্দিনের সভাপতিত্বে ও ইউনিয়ন যুবলীগের সহ-সভাপতি শাহাদাত হোসেন মিয়াজির উপস্থাপনায় আরো বক্তব্য রাখেন, উপজেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক কবির হোসেন মাস্টার, ইসলামাবাদ ইউপি চেয়ারম্যান সাখাওয়াত হোসেন সরকার মুকুল, উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক লীগের সদস্য সচিব অ্যাড. আক্তারুজ্জামান, ফতেপুর পুর্ব ইউনিয়ন যুবলীগের সভাপতি আবুল হাসনাত, সাধারণ সম্পাদক ইলিয়াস প্রধান প্রমুখ।

এসময় উপজেলা ও ইউনিয়ন আওয়ামী এবং সহযোগী সংগঠনের নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

অনুষ্ঠান শুরুতে পবিত্র কোরআন থেকে তেলোয়াত করেন মাওলানা ফজলুল হক তালুকদার। পরে ফতেপুর পূর্ব ইউনিয়নের দুস্থ ও অসহায় মানুষের মাঝে প্রায় ৫ শতাধিক কম্বল বিতরণ করা হয়েছে।

৩০ বছর ধরে গাছ লাগিয়ে গ্রামের সড়কের চিত্র বদলে দিলেন মসজিদের ইমাম রেজাউল

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৯:৫৯ পিএম
৩০ বছর ধরে গাছ লাগিয়ে গ্রামের সড়কের চিত্র বদলে দিলেন মসজিদের ইমাম রেজাউল

মসজিদে ইমামতির পাশাপাশি প্রায় ৩০ বছর ধরে বৃক্ষরোপণ করে আসছেন ভোলার চরফ্যাশন উপজেলার ওমরপুর ইউনিয়নের মো. রেজাউল কিবরিয়া বাবুল। নিজের অর্থ ও উদ্যোগে বিভিন্ন সড়কের পাশে হাজার হাজার গাছের চারা রোপণ ও পরিচর্যা করে গড়ে তুলেছেন সবুজের আবরণ। তার লাগানো সারি সারি তালগাছে বদলে গেছে গ্রামের একটি সড়কের চিত্র।

স্থানীয়দের কাছে রেজাউল কিবরিয়া বাবুল একজন ইমাম হিসেবে পরিচিত হলেও বৃক্ষপ্রেমী হিসেবেও রয়েছে তার আলাদা পরিচিতি। তিনি ওমরপুর ইউনিয়নের কালাপানিয়া বাজার বাইতুল মামুর জামে মসজিদের ইমাম। ইমামতির পাশাপাশি অবসর সময়ে গাছ লাগানো ও পরিচর্যায় নিজেকে নিয়োজিত রাখেন তিনি।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, প্রায় তিন দশক আগে বৃক্ষরোপণের উদ্যোগ নেন রেজাউল কিবরিয়া। ১৯৯৩-৯৪ সালের দিকে পৈতৃক সম্পত্তি বিক্রি করে প্রায় ৮ লাখ টাকা ব্যয়ে ভুঁইয়ারহাট এলাকায় একটি নার্সারি গড়ে তোলেন। সেখান থেকে উৎপাদিত ও সংগ্রহ করা বিভিন্ন জাতের গাছের চারা এলাকার সড়কের পাশে রোপণ করতে শুরু করেন। একই সঙ্গে মাইকিং করে স্থানীয়দের গাছ লাগাতে উৎসাহিত করতেন।

তার লাগানো গাছের মধ্যে রয়েছে তাল, ফলজ ও বিভিন্ন ঔষধি গাছ। ওমরপুর গ্রামের বাউল সড়কের দুই পাশে প্রায় দুই দশক আগে লাগানো তালগাছগুলো এখন বড় হয়ে সারি সারি দাঁড়িয়ে আছে। দূর থেকে দেখলে পুরো সড়কটি যেন সবুজে ঘেরা একটি প্রাকৃতিক পথ। গাছের ছায়ায় পথচারী ও কৃষকেরা স্বস্তি পান। স্থানীয়দের পাশাপাশি বাইরের লোকজনও এখন এই সড়কের সৌন্দর্য দেখতে আসেন।

Model Hospital

শুধু বাউল সড়ক নয়, ওমরপুর ইউনিয়নের আরও কয়েকটি সড়কের পাশেও গাছ লাগিয়েছেন তিনি। চারা রোপণের পর নিয়মিত সেগুলোর পরিচর্যাও করেন। অনেক গাছ নষ্ট হয়ে গেলেও বৃক্ষরোপণের কাজ থেকে পিছিয়ে যাননি তিনি।

স্থানীয়দের মতে, সরকারি কোনো প্রকল্পের অপেক্ষায় না থেকে একজন ইমামের ব্যক্তিগত উদ্যোগে দীর্ঘদিন ধরে গাছ লাগানোর এই প্রচেষ্টা শুধু একটি সড়কের সৌন্দর্যই বদলায়নি, বরং স্থানীয়দের মধ্যেও বৃক্ষরোপণের আগ্রহ তৈরি করেছে।

স্থানীয় বাসিন্দা শাহজাহান, লিটন, আলমগীর ও যুবক তুহিন জানান, বাউল সড়কের দুই পাশে এখন শত শত তালগাছ রয়েছে। গাছগুলো বড় হয়ে ওঠায় সড়কটির সৌন্দর্য অনেক বেড়েছে। বিকেল ও সন্ধ্যায় স্থানীয়রা সেখানে সময় কাটান। দূর-দূরান্ত থেকেও অনেকে এই সড়কের সৌন্দর্য দেখতে আসেন। রেজাউল কিবরিয়ার উদ্যোগ দেখে তারাও নিজেদের জায়গায় বেশি করে গাছ লাগাতে উৎসাহিত হয়েছেন।

রেজাউল কিবরিয়া বাবুল বলেন, ‘পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা এবং আল্লাহর সন্তুষ্টির আশায় আমি প্রায় তিন দশক ধরে গাছ লাগিয়ে আসছি। ১৯৯৩-৯৪ সালে এ কাজ শুরু করি। এ পর্যন্ত বিভিন্ন জায়গায় প্রায় ৫০ থেকে ৬০ হাজার গাছের চারা লাগিয়েছি। এর মধ্যে তালগাছের বীজ ও চারা রয়েছে প্রায় ২৫ থেকে ৩০ হাজার।’

তিনি বলেন, সব গাছ টিকিয়ে রাখা সম্ভব হয়নি। তবে গাছ লাগানোর কাজ থেকে কখনো সরে আসেননি। বর্তমানে নিজে নার্সারিতে চারা উৎপাদনের সময় না পাওয়ায় ঝালকাঠির স্বরূপকাঠি থেকে বিভিন্ন ধরনের চারা সংগ্রহ করে রোপণ করছেন।

তালগাছ লাগানোর বিষয়ে তিনি বলেন, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বজ্রপাতের ঘটনা বেড়ে যাওয়ায় তালগাছ লাগানোর ওপর বেশি গুরুত্ব দিচ্ছেন তিনি। পাশাপাশি বন বিভাগের পরামর্শও নিয়ে থাকেন।

রেজাউল কিবরিয়া আরও বলেন, ‘আমি গাছ লাগানোকে সদকায়ে জারিয়া হিসেবে দেখি। একটি গাছ শুধু বর্তমান প্রজন্মের জন্য নয়, ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্যও ছায়া, সৌন্দর্য ও উপকারের উৎস। যতদিন বেঁচে থাকব, ততদিনই গাছ লাগানোর এই কাজ চালিয়ে যেতে চাই।’

তার ভাষ্য, গ্রামের প্রতিটি সড়ক ও আশপাশের এলাকা সবুজে ভরে তোলাই তার লক্ষ্য। একই সঙ্গে তরুণদের খারাপ অভ্যাস থেকে দূরে রাখতে ফল ও ফুলের বাগান করার আহ্বান জানান তিনি।

রেজাউল কিবরিয়ার দীর্ঘদিনের উদ্যোগের বিষয়ে চরফ্যাশন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রুমানা আফরোজ বলেন, ‘গাছ লাগানো অবশ্যই একটি ভালো উদ্যোগ। রেজাউল কিবরিয়া সাহেবের দীর্ঘদিনের এ কাজের বিষয়টি আমার জানা ছিল না। খোঁজ নিয়ে এ বিষয়ে তার পাশে দাঁড়ানোর চেষ্টা করব।’