শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১ আশ্বিন ১৪৩৩
শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১ আশ্বিন ১৪৩৩

পহেলা ফেব্রুয়ারী সাংবাদিক মমিন হোসেন আকাশের ৪র্থ মৃত্যু বার্ষিকী

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: সোমবার, ৩১ জানুয়ারি, ২০২২, ৩:৪৫ পিএম
পহেলা ফেব্রুয়ারী সাংবাদিক মমিন হোসেন আকাশের ৪র্থ মৃত্যু বার্ষিকী
মাসুদ হোসেন : প্রয়াত সাংবাদিক মমিন হোসেন আকাশ এর ৪র্থ মৃত্যু বার্ষিকী পহেলা ফেব্রুয়ারী। ২০১৮ সালের এই দিনে হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে তিনি নিজ বাড়িতেই শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। তিনি দৈনিক চাঁদপুর কন্ঠের মহামায়া সংবাদদাতা হিসেবে কর্মরত ছিলেন। এবং মান্দারীতে পারভীন ইসলাম ট্রেডিং কর্পোরেশন এর মার্কেটিং অফিসারের দায়িত্ব পালন করেছেন।
তার বাড়ী চাঁদপুর সদর উপজেলার ৪নং শাহমাহমুদপুর ইউনিয়নের মহামায়া পশ্চিম বাজার সংলগ্ন বেপারী বাড়ী। মৃত্যুকালে মমিন হোসেন আকাশ স্ত্রী সহ ২ ছেলে ও ১মেয়ে সন্তান রেখে যান। আগামী শুক্রবার তার মাগফেরাত কামনা করে বিশেষ দোয়ার আয়োজন করেছেন বলে জানিয়েছেন তার ভাই শামীম হোসেন বেপারী।
এদিকে সাংবাদিক মমিন হোসেন আকাশের পরিবারের খোঁজ খবর কেউ নেন নি বলে জানান তার ভাই শামীম হোসেন বেপারী। তিনি জানান, মৃত্যুর দিন ও পরবর্তী সময়ে অনেকেই সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দিবেন বলে আস্বস্ত করলেও পরবর্তীতে কেউ আর খোঁজ খবর নেন নি। সাংবাদিক মমিন হোসেন আকাশের মাগফেরাত কামনা করে দোয়া চেয়েছেন তার ভাই শামীম হোসেন বেপারী।
উল্লেখ্য, দৈনিক চাঁদপুর কণ্ঠের মহামায়া প্রতিনিধি সাংবাদিক মমিন হোসেন আকাশ ২০১৮ সালের পহেলা ফেব্রুয়ারী বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে ৭টায় নিজ বাড়িতে হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যুবরণ করেন। একইদিন বিকেলে বাদ আসর মহামায়া বাজার জামে মসজিদ মাঠে জানাজা শেষে নিকটস্থ মাদ্রাসা সংলগ্ন কবরস্থনে দাফন করা হয় এই সাংবাদিককে।
মৃতুকালে তিনি মা, স্ত্রী, ছোট ৩ সন্তান, ২ ভাই ৩ বোনসহ বহু গুণগ্রাহী রেখে গেছেন। তিনি মহামায়া এলাকার মধ্য লোধেরগাঁও সৈয়দ আলী বেপারী বাড়ির মরহুম আবদুর রশিদ বেপারীর বড় ছেলে। সাংবাদিকতার পাশাপাশি মমিন একটি সিমেন্ট কোম্পানীর মার্কেটিং অফিসার পদে চাকুরি করতেন। তিনি আমৃত্যু মহামায়া জুনিয়র ক্রীড়া চক্রের সভাপতি ছিলেন। ছাত্রজীবনে তিনি শাহমাহমুদপুর ইউনিয়ন ছাত্রদলের সভাপতির দায়িত্ব পালন করেন।

৩০ বছর ধরে গাছ লাগিয়ে গ্রামের সড়কের চিত্র বদলে দিলেন মসজিদের ইমাম রেজাউল

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৯:৫৯ পিএম
৩০ বছর ধরে গাছ লাগিয়ে গ্রামের সড়কের চিত্র বদলে দিলেন মসজিদের ইমাম রেজাউল

মসজিদে ইমামতির পাশাপাশি প্রায় ৩০ বছর ধরে বৃক্ষরোপণ করে আসছেন ভোলার চরফ্যাশন উপজেলার ওমরপুর ইউনিয়নের মো. রেজাউল কিবরিয়া বাবুল। নিজের অর্থ ও উদ্যোগে বিভিন্ন সড়কের পাশে হাজার হাজার গাছের চারা রোপণ ও পরিচর্যা করে গড়ে তুলেছেন সবুজের আবরণ। তার লাগানো সারি সারি তালগাছে বদলে গেছে গ্রামের একটি সড়কের চিত্র।

স্থানীয়দের কাছে রেজাউল কিবরিয়া বাবুল একজন ইমাম হিসেবে পরিচিত হলেও বৃক্ষপ্রেমী হিসেবেও রয়েছে তার আলাদা পরিচিতি। তিনি ওমরপুর ইউনিয়নের কালাপানিয়া বাজার বাইতুল মামুর জামে মসজিদের ইমাম। ইমামতির পাশাপাশি অবসর সময়ে গাছ লাগানো ও পরিচর্যায় নিজেকে নিয়োজিত রাখেন তিনি।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, প্রায় তিন দশক আগে বৃক্ষরোপণের উদ্যোগ নেন রেজাউল কিবরিয়া। ১৯৯৩-৯৪ সালের দিকে পৈতৃক সম্পত্তি বিক্রি করে প্রায় ৮ লাখ টাকা ব্যয়ে ভুঁইয়ারহাট এলাকায় একটি নার্সারি গড়ে তোলেন। সেখান থেকে উৎপাদিত ও সংগ্রহ করা বিভিন্ন জাতের গাছের চারা এলাকার সড়কের পাশে রোপণ করতে শুরু করেন। একই সঙ্গে মাইকিং করে স্থানীয়দের গাছ লাগাতে উৎসাহিত করতেন।

তার লাগানো গাছের মধ্যে রয়েছে তাল, ফলজ ও বিভিন্ন ঔষধি গাছ। ওমরপুর গ্রামের বাউল সড়কের দুই পাশে প্রায় দুই দশক আগে লাগানো তালগাছগুলো এখন বড় হয়ে সারি সারি দাঁড়িয়ে আছে। দূর থেকে দেখলে পুরো সড়কটি যেন সবুজে ঘেরা একটি প্রাকৃতিক পথ। গাছের ছায়ায় পথচারী ও কৃষকেরা স্বস্তি পান। স্থানীয়দের পাশাপাশি বাইরের লোকজনও এখন এই সড়কের সৌন্দর্য দেখতে আসেন।

Model Hospital

শুধু বাউল সড়ক নয়, ওমরপুর ইউনিয়নের আরও কয়েকটি সড়কের পাশেও গাছ লাগিয়েছেন তিনি। চারা রোপণের পর নিয়মিত সেগুলোর পরিচর্যাও করেন। অনেক গাছ নষ্ট হয়ে গেলেও বৃক্ষরোপণের কাজ থেকে পিছিয়ে যাননি তিনি।

স্থানীয়দের মতে, সরকারি কোনো প্রকল্পের অপেক্ষায় না থেকে একজন ইমামের ব্যক্তিগত উদ্যোগে দীর্ঘদিন ধরে গাছ লাগানোর এই প্রচেষ্টা শুধু একটি সড়কের সৌন্দর্যই বদলায়নি, বরং স্থানীয়দের মধ্যেও বৃক্ষরোপণের আগ্রহ তৈরি করেছে।

স্থানীয় বাসিন্দা শাহজাহান, লিটন, আলমগীর ও যুবক তুহিন জানান, বাউল সড়কের দুই পাশে এখন শত শত তালগাছ রয়েছে। গাছগুলো বড় হয়ে ওঠায় সড়কটির সৌন্দর্য অনেক বেড়েছে। বিকেল ও সন্ধ্যায় স্থানীয়রা সেখানে সময় কাটান। দূর-দূরান্ত থেকেও অনেকে এই সড়কের সৌন্দর্য দেখতে আসেন। রেজাউল কিবরিয়ার উদ্যোগ দেখে তারাও নিজেদের জায়গায় বেশি করে গাছ লাগাতে উৎসাহিত হয়েছেন।

রেজাউল কিবরিয়া বাবুল বলেন, ‘পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা এবং আল্লাহর সন্তুষ্টির আশায় আমি প্রায় তিন দশক ধরে গাছ লাগিয়ে আসছি। ১৯৯৩-৯৪ সালে এ কাজ শুরু করি। এ পর্যন্ত বিভিন্ন জায়গায় প্রায় ৫০ থেকে ৬০ হাজার গাছের চারা লাগিয়েছি। এর মধ্যে তালগাছের বীজ ও চারা রয়েছে প্রায় ২৫ থেকে ৩০ হাজার।’

তিনি বলেন, সব গাছ টিকিয়ে রাখা সম্ভব হয়নি। তবে গাছ লাগানোর কাজ থেকে কখনো সরে আসেননি। বর্তমানে নিজে নার্সারিতে চারা উৎপাদনের সময় না পাওয়ায় ঝালকাঠির স্বরূপকাঠি থেকে বিভিন্ন ধরনের চারা সংগ্রহ করে রোপণ করছেন।

তালগাছ লাগানোর বিষয়ে তিনি বলেন, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বজ্রপাতের ঘটনা বেড়ে যাওয়ায় তালগাছ লাগানোর ওপর বেশি গুরুত্ব দিচ্ছেন তিনি। পাশাপাশি বন বিভাগের পরামর্শও নিয়ে থাকেন।

রেজাউল কিবরিয়া আরও বলেন, ‘আমি গাছ লাগানোকে সদকায়ে জারিয়া হিসেবে দেখি। একটি গাছ শুধু বর্তমান প্রজন্মের জন্য নয়, ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্যও ছায়া, সৌন্দর্য ও উপকারের উৎস। যতদিন বেঁচে থাকব, ততদিনই গাছ লাগানোর এই কাজ চালিয়ে যেতে চাই।’

তার ভাষ্য, গ্রামের প্রতিটি সড়ক ও আশপাশের এলাকা সবুজে ভরে তোলাই তার লক্ষ্য। একই সঙ্গে তরুণদের খারাপ অভ্যাস থেকে দূরে রাখতে ফল ও ফুলের বাগান করার আহ্বান জানান তিনি।

রেজাউল কিবরিয়ার দীর্ঘদিনের উদ্যোগের বিষয়ে চরফ্যাশন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রুমানা আফরোজ বলেন, ‘গাছ লাগানো অবশ্যই একটি ভালো উদ্যোগ। রেজাউল কিবরিয়া সাহেবের দীর্ঘদিনের এ কাজের বিষয়টি আমার জানা ছিল না। খোঁজ নিয়ে এ বিষয়ে তার পাশে দাঁড়ানোর চেষ্টা করব।’