সোমবার, ২৬ অক্টোবর ২০২৬, ১২ কার্তিক ১৪৩৩
সোমবার, ২৬ অক্টোবর ২০২৬, ১২ কার্তিক ১৪৩৩

হাজিগঞ্জে সম্পত্তিগত বিরোধে প্রতিপক্ষের হামলায় ৪ নারী আহত

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শুক্রবার, ৪ ফেব্রুয়ারি, ২০২২, ২:১৭ পিএম
হাজিগঞ্জে সম্পত্তিগত বিরোধে প্রতিপক্ষের হামলায় ৪ নারী আহত
এইচ.এম নিজাম : চাঁদপুরের হাজিগঞ্জে সম্পত্তিগত বিরোধে প্রতিপক্ষের হামলায় ৪ নারী আহত হয়েছে।
৪ জানুয়ারি শুক্রবার সকালে উপজেলার ১নং রাজারগাঁও ইউনিয়নের পশ্চিম রাজারগাঁও বিরন বেপারী বাড়িতে এই ঘটনা ঘটে।

আহতরা হলেন, বেপারি বাড়ির তাফাজ্জল হোসেন বেপারীর স্ত্রী শাহনাজ বেগম (৪০), মেয়ে সারমীন বেগম (২৩), আইরিন (১৮) ও লাবনী (১৬)। ত্রিফল নাইনে খবর পেয়ে হাজীগঞ্জ মডেল থানার পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন।

আহতরা বর্তমানে চাঁদপুর সরকারি জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। এই ঘটনায় অপর পক্ষ থেকেও তাসলিমা বেগম (৩২) নামে এক নারী আহত হয়েছে বলে জানানো হয়।

আহত তাফাজ্জল হোসেন বেপারীর স্ত্রী শাহনাজ বেগম জানান, শুক্রবার সকালে প্রতিবেশী সিরাজ বেপারীর স্ত্রী তাছলিমা বেগম (৩২) তার আত্মীয়দের নিয়ে আমাদের বাড়ির বাউন্ডারী বেড়া ভেঙ্গে ফেলে। আমি বাধা দিতে গেলে, তাছলিমা বেগম, সেলিম বেপারী, মোস্তফা বেপারী, ইশা বেপারী, মুসা বেপারী, শিখা ও শ্রাবণীসহ বেশ কয়েকজন মিলে আমার উপর হামলা করে।

Model Hospital

এসময় আমাকে বাঁচাতে স্কুল পড়ুয়া ছোট মেয়ে এগিয়ে এলে তাকেও মারধর করে। খবর পেয়ে আমার বড় দুই মেয়ে শ্বশুর-বাড়ি থেকে ছুটে আসলে উল্লেখিতরা তাদেরকেও ব্যাপকভাবে পিটিয়ে আহত করে এবং আমাদের বসত ঘরে ভাংচুর ও লুটপাট করে।

শাহনাজ বেগমের বড় মেয়ে শারমিন বেগম বলেন, প্রতিবেশী সিরাজ বেপারীর লোকজন আমাদের জমি দখল করতে বিভিন্ন সময় আমাদের ওপর হামলা করে। আমরা আদালতে বেশ কয়েকটি মামলা করেছি। কিছুদিন আগে আদালত থেকে বিষয়টি মীমাংসা করার জন্য রাজারগাঁও ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান সাহেবকে দায়িত্ব দেওয়া হয়। ইউনিয়ন পরিষদ থেকে তাদেরকে বসার জন্য কয়েকবার নোটিশ করেছে। কিন্তু তারা পুলিশ, আদালত এবং চেয়ারম্যানসহ কাউকেই পাত্তা দিচ্ছে না।

এ বিষয়ে অভিযুক্ত পরিবারের দুই বোন শিখা ও শ্রাবনী জানান, তারা আমাদের জায়গায় বেড়া দিচ্ছিলো। আমার মা তাছলিমা বেগম বাধা দেয়। এসময় তারা বহিরাগত লোকদের নিয়ে আমার মাকে মার ধর করে। খবর পেয়ে আমার চাচা ও চাচাতো ভাইরা ছুটে এলে তাদের চোখেমুখে মরিচ গুড়া ঢেলে দেয়।

শাহনাজ বেগমকে রক্তাক্ত জখম করার বিষয়ে তারা বলেন, তারা মামলা করার জন্য নিজেরা মুখে রঙ দিয়ে নাটক সাজিয়েছে। উল্লেখিতরাই হামলা এবং ভাংচুর করেছে।

হাজিগঞ্জ থানার এসআই জয়নাল আবেদীন জানান, ট্রিপল নাইনে ফোন পেয়ে আমরা ঘটনাস্থলে গিয়েছি। উভয় পক্ষকে শান্ত করেছি। তাদের মধ্যে জমি সংক্রান্ত বিরোধ রয়েছে।

চাঁদপুরে আরএস টাওয়ারের পাশের ঝুঁকিপূর্ণ বিদ্যুৎ লাইন সরানোর দাবি এলাকাবাসীর

নিজস্ব প্রতিনিধি প্রকাশিত: সোমবার, ২৬ অক্টোবর, ২০২৬, ৮:৫৩ পিএম
চাঁদপুরে আরএস টাওয়ারের পাশের ঝুঁকিপূর্ণ বিদ্যুৎ লাইন সরানোর দাবি এলাকাবাসীর
চাঁদপুর শহরের নিউ ট্রাক রোডে অবস্থিত আরএস টাওয়ারের পাশ দিয়ে টানা ৩৩ হাজার ও ১১ হাজার ভোল্টের বিদ্যুৎ সঞ্চালন লাইন নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন এলাকাবাসী। তাঁদের অভিযোগ, ভবনের পাশ ঘেঁষে থাকা বিদ্যুতের ঝুঁকিপূর্ণ লাইন থেকে যেকোনো সময় বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটতে পারে। এরই মধ্যে গত ৩ অক্টোবর ভবনটিতে বেড়াতে আসা দুই শিশু বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে গুরুতর আহত হয়। পরে তাদের একজন চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যায়।
এ ঘটনায় চাঁদপুর পৌরসভা ভবনটির সামনের অংশ ভেঙে ফেলার নির্দেশ দিয়েছে। তবে ওই অংশটুকু বৈধ দাবি করে পৌরসভার সিদ্ধান্তটি পুনর্বিবেচনার আবেদন জানিয়েছেন ভবনটির মালিক রাসেল হোসেন।
ভবন মালিক রাসেল হোসেন জানান, তিনি সৌদি আরব থেকে দেশে ফিরে ২০০৬ সালে চাঁদপুর শহরের নিউ ট্রাক রোড এলাকায় ৬ দশমিক ২৪ শতাংশ জমি ক্রয় করেন। এর মধ্যে ৫ দশমিক ১০ শতাংশ জমিতে ভবন নির্মাণের জন্য ২০০৯ সালে পৌরসভা থেকে নকশা অনুমোদন নেন। বাকি জমি ভবনের চারপাশে রয়েছে। ২০২৩ সালে সড়ক সম্প্রসারণের সময় তৎকালীন পৌর মেয়রের অনুরোধে ড্রেনেজ নির্মাণের জন্য ভবনের সামনের তিনটি সিঁড়ি ছেড়ে দেন তিনি।
তিনি আরও জানান, ভবনটির পাশ দিয়ে বিদ্যুতের সঞ্চালন লাইন থাকায় দীর্ঘদিন ধরেই ঝুঁকির বিষয়টি নিয়ে উদ্বিগ্ন তিনি। এ সমস্যা সমাধানে ২০২২ সালের ২৫ জানুয়ারি বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের চাঁদপুর বিক্রয় ও বিতরণ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী বরাবর আবেদন করেন। পরবর্তী সময়ে নির্বাহী প্রকৌশলীর পরামর্শ ও সুপারিশ নিয়ে বিদ্যুৎ বিভাগের কুমিল্লা বিভাগীয় দপ্তরেও আবেদন করেন তিনি। এসব আবেদনে ভবনের পাশ দিয়ে যাওয়া বিদ্যুতের সঞ্চালন লাইন নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়ার দাবি জানান।
তিনি আরও জানান, সম্প্রতি ঘটে যাওয়া দুর্ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে গত ৬ অক্টোবর আবারও বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের চাঁদপুর বিক্রয় ও বিতরণ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী বরাবর আবেদন করেছেন। এতে ঝুঁকিপূর্ণ সঞ্চালন লাইনটি নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়ার অনুরোধ জানানো হয়েছে।
এদিকে এলাকাবাসীর দাবি, ভবনটির পাশ দিয়ে যাওয়া উচ্চ ভোল্টেজের বিদ্যুৎ সঞ্চালন লাইন দ্রুত নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়ার উদ্যোগ নিতে হবে। তাঁদের মতে, ঝুঁকিপূর্ণ লাইনটি যথাযথভাবে স্থানান্তর করা না হলে ভবিষ্যতে আরও দুর্ঘটনা ঘটার আশঙ্কা থেকে যাবে।
এলাকাবাসীর প্রত্যাশা, সংশ্লিষ্ট বিদ্যুৎ বিভাগ ও কর্তৃপক্ষ বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নেবে, যাতে বিদ্যুৎ লাইনের ঝুঁকি থেকে ভবনটির বাসিন্দা ও আশপাশের মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা যায়।