শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১ আশ্বিন ১৪৩৩
শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১ আশ্বিন ১৪৩৩

চাঁদপুরে গৃহবধূ আত্মহত্যার ঘটনায় স্বামী কারাগারে

নিজস্ব প্রতিনিধি প্রকাশিত: সোমবার, ১৪ জুলাই, ২০২৫, ১:২০ এম
চাঁদপুরে গৃহবধূ আত্মহত্যার ঘটনায় স্বামী কারাগারে
চাঁদপুর সদর উপজেলার তরপুরচন্ডী ইউনিয়নের ফরিদগঞ্জ সড়কের চাঁদপুর সেতুর পূর্ব পাশে ঘটে যাওয়া গৃহবধূ জান্নাত আক্তারের আত্মহত্যার ঘটনায় চাঁদপুর সদর মডেল থানায় মামলা দায়ের করেছেন জান্নাতের বাবা অটোচালক মোঃ সেকান্তর তপদার। সেই মামলায় গত ৮ জুলাই মঙ্গলবার রাতে এজহার ভুক্ত আসামী জান্নাতের স্বামী সজল মোল্লাকে আটক করেছে চাঁদপুর সদর মডেল থানা পুলিশ। ১০ জুলাই বৃহস্পতিবার সজল মোল্লাকে আদালতে হাজির করলে আদালত তাকে জেলহাজতে প্রেরণ করেন।
মামলা সূত্রে জানা যায়, গত প্রায় ৩ বছর পূর্বে চাঁদপুর নির্বাচন অফিসের পূর্ব পাশ এলাকার নাছির মোল্লার ছেলে সজল মোল্লার সাথে ইসলামি শরিয়া মোতাবেক সামাজিক ভাবে জান্নাতের বিয়ে দেই। তাহাদের দাম্পত্য জীবনে ২০ মাস বয়সী একটি ছেলে সন্তান রয়েছে।
বিবাহের পর হইতে বিবাদী সজল মোল্লা আমার মেয়ে জান্নাত আক্তার (১৯) এর সহিত পারিবারিক বিভিন্ন বিষয়াদী নিয়ে অপমান জনক কথাবার্তা সহ মানসিকভাবে নির্যাতন করতো বিধায় আমরা একাধিক বার স্থানীয় গন্যমান্য ব্যক্তিদেরকে নিয়া বিচার শালিস করে মিমাংসা করিয়া দেই।
গত সপ্তাহের (৮ জুলাই) মঙ্গলবার দুপুর ৩টার দিকে তাদের ভাড়া বাসায় আমার মেয়ের সাথে পারিবারিক বিষয় নিয়ে অশ্লীল ভাষায় গালিগালাজ সহ অপমান জনক কথাবার্তা বলে। স্বামী সজল মোল্লার অত্যাচার ও অপমান জনক কথাবার্তা সহ্য করিতে না পেরে এদিন বিকাল ৪টা ৫টার মধ্যে দক্ষিণ তরপুরচন্ডী নির্বাচন অফিসের পূর্ব পাশে লোকমান দেওয়ান এর ভাড়া বাসায় সকলের অগোচরে ঘরের আড়ার সাথে তার পড়নের উড়না দিয়ে গলায় ফাঁস লাগাইয়া ভিকটিম জান্নাত আক্তার আত্মহত্যা করে।
পরে এদিন বিকাল সোয়া ৫টার সময় অচেনা নম্বর থেকে অজ্ঞাত এক ব্যক্তি জান্নাতে বাবা সেকান্তরকে জানায়। মেয়ের আত্মহত্যার খবর পেয়ে পরিবার ও বাড়ির লোকজনকে নিয়ে ঘটনাস্থলে গিয়ে দেখেন তার মেয়ে ভিকটিম জান্নাত আক্তার এর মৃত দেহ চাদর দিয়ে ঢাকা অবস্থায় মাটিতে পরে আছে। বিবাদী সজল মোল্লা (২৯) তার স্ত্রীকে মানসিক নির্যাতন করে বলে দাবী করেন জান্নাতের বাবা। এছাড়াও সজল মোল্লা বিভিন্ন সময় মাদকাসক্ত হয়ে জান্নাতের উপর ব্যাপক নির্যাতন করেছে।
তিনি আরো জানান, বিয়ের পর থেকেই তীব্র ঝগড়া, অপমান আর বিষন্নতা পিছু ছাড়েনি জান্নাতের। বারবার ঠিকঠাক করার চেষ্টা, কখনও থানায় অভিযোগ, কখনও বাবার বাড়িতে ফিরে যাওয়া। তারপর আবার স্বামীর অনুরোধে ফিরে আসা। কিন্তু সম্পর্কের ফাটলগুলো আর জোড়া লাগেনি।
গত সপ্তাহের মঙ্গলবার বিকেলে আবার ঝগড়া হয় দুজনের মধ্যে। সজল বাসা থেকে বেরিয়ে গেলে ফিরে এসে ঘরের আঁড়ার সাথে গলায় রশি দিয়ে ঝুলতে দেখা যায় গৃহবধূ জান্নাত বেগমকে। দরজা ভেঙে ভেতরে ঢুকে স্থানীয় তিন যুবকের সহায়তায়। কিন্তু ততক্ষণে জান্নাত বেগমের মৃত্যু হয়ে যায়। এ বিষয়ে জান্নাতের পরিবার মনে করে, এই মৃত্যু আত্মহত্যা নয় বরং দীর্ঘ নির্যাতনের পরিণতি। তারা সরাসরি সজলকে দায়ী করেছে।
জান্নাত আক্তারের বাবা সেকান্তর তপদার আরো বলেন, তার মেয়েকে বিয়ে দেয়ার পর তার সুখের কথা চিন্তা করে বিভিন্ন সময় যৌতুক হিসেবে বিভিন্ন আসবাবপত্র, ফ্রিজ, দোকান দেওয়ার সময় প্রায় এক লক্ষ টাকা দেয়া হয়।
এছাড়াও স্বজল মোল্লা বিদেশ যাওয়ার সময় দুই লক্ষ টাকা দিয়ে সহযোগিতা করেন জান্নাতের পরিবার।

চাঁদপুরে লঞ্চ থেকে নামার সময় নদীতে পড়ে যুবক নিখোঁজ, লঞ্চসহ আটক ২

নিজস্ব প্রতিনিধি প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৯:২১ পিএম
চাঁদপুরে লঞ্চ থেকে নামার সময় নদীতে পড়ে যুবক নিখোঁজ, লঞ্চসহ আটক ২

চাঁদপুরের মতলব উত্তর উপজেলার ষাটনল লঞ্চ টার্মিনালে লঞ্চ থেকে ঘাটে নামার সময় মেঘনা নদীতে পড়ে এক যুবক নিখোঁজ হয়েছেন। তার বয়স আনুমানিক ৩০ বছর। তবে এখন পর্যন্ত তার পরিচয় পাওয়া যায়নি। এ ঘটনায় মুকবিল-২ লঞ্চ ও লঞ্চের ২জন স্টাফকে আটক করা হয়েছে।

শুক্রবার (২৫ সেপ্টেম্বর) বেলা ১১টার দিকে ষাটনল লঞ্চঘাটে এ ঘটনা ঘটে। নারায়ণগঞ্জ থেকে চাঁদপুরগামী মুকবিল-২ লঞ্চ থেকে নামার সময় এ দুর্ঘটনা ঘটে।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, নারায়ণগঞ্জ থেকে চাঁদপুরগামী মুকবিল-২ লঞ্চটি ষাটনল লঞ্চঘাটে যাত্রী নামাচ্ছিল। এ সময় ওই যুবক লঞ্চ থেকে নামার পর নিজের ব্যাগ লঞ্চে রেখে যাওয়ার কথা মনে পড়ে আবার লঞ্চে ওঠেন। পরে তিনি ফের লঞ্চ থেকে নামার সময় লঞ্চটি পেছনের দিকে চালিয়ে দেওয়া হয় বলে প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান। এ সময় ঘাটে লাফ দিয়ে নামার চেষ্টা করলে তিনি মেঘনা নদীতে পড়ে নিখোঁজ হন।

ঘটনার পর মুকবিল-২ লঞ্চ দ্রুত সেখান থেকে মোহনপুর লঞ্চঘাটের দিকে চলে যায়। পরে মোহনপুর নৌ পুলিশ ফাঁড়ির সদস্যরা লঞ্চটি এবং ২জন স্টাফকে আটক করেন বলে জানিয়েছেন ফাঁড়ির ইনচার্জ মো. রুহুল আমিন।

Model Hospital

স্থানীয় সৈকত নামের একজন বলেন, লঞ্চ চালকদের ভুলের কারণেই এ দুর্ঘটনা ঘটেছে বলে তারা মনে করছেন। ষাটনল লঞ্চঘাটে আগে এমন ঘটনা ঘটেনি উল্লেখ করে দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান তিনি। এদিকে লঞ্চযাত্রীরাও যাত্রী ওঠানামার সময় নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন।

ষাটনল লঞ্চঘাটের ইজারাদার মো. ইমন জানান, ঘটনার পরপরই বিষয়টি সংশ্লিষ্টদের জানানো হয়েছে এবং নিখোঁজ যুবকের সন্ধানে উদ্ধার তৎপরতা চলছে।

বেলতলী নৌ পুলিশের ইনচার্জ মোজাম্মেল হক পিপিএম জানান, নিখোঁজ যুবকের সন্ধানে নৌ পুলিশ ও স্থানীয়দের সহায়তায় নদীতে উদ্ধার অভিযান চালানো হচ্ছে। তবে এখনো নিখোঁজ ব্যক্তির কোনো সন্ধান পাওয়া যায়নি।

নিখোঁজ যুবকের সন্ধানে বেলতলী নৌ পুলিশ, মোহনপুর নৌ পুলিশ ও মতলব উত্তর থানা পুলিশের সদস্যরাও স্থানীয়দের সহায়তায় নদীতে তৎপরতা চালাচ্ছেন।

এদিকে দুর্ঘটনা প্রায় ৩ ঘণ্টা পর ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধার অভিযান শুরু করে ফায়ার সার্ভিস ও বিআইডব্লিউটিএ’র ডুবুরি দল। জানা যায়, বৈরী আবহাওয়ার কারণে সড়কপথে তাদের ঘটনাস্থলে আসতে দেরি হয়েছে।

ঘটনাস্থলে পৌঁছতে দেরী হওয়ার বিষয়ে চাঁদপুর নদী ফায়ার স্টেশনের স্টেশন অফিসার মো. রাকিবুল ইসলাম বলেন, সকাল ১১টা ৪৫ মিনিটে ষাটনল লঞ্চঘাটে একজন যাত্রী নদীতে পড়ে যাওয়ার খবর পান তারা। আবহাওয়া প্রতিকূল থাকায় সড়কপথে ঘটনাস্থলে এসে পরিস্থিতি অনুকূলে আসার পর ডুবুরি দলকে দিয়ে উদ্ধার অভিযান শুরু করা হয়েছে। বিআইডব্লিউটিএর ডুবুরি দলও একই সঙ্গে উদ্ধার কাজে অংশ নিয়েছে।

চাঁদপুর বিআইডব্লিউটিএর সহকারী পরিচালক সঞ্জয় দেবনাথ বলেন, খবর পাওয়ার পর চাঁদপুর থেকে ডুবুরি দল নিয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে আসা হয়েছে।ঘটনাস্থলে ৪ জন ডুবুরি দিয়ে তল্লাশি চালানো হচ্ছে নদীতে স্রোত থাকায় ঘটনাস্থলে না পাওয়া গেলে ভাটির দিকে তল্লাশি চালানো হবে। আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে সন্ধ্যা পর্যন্ত উদ্ধার অভিযান চালানোর কথাও জানান তিনি।

এ বিষয়ে কথা হলে উপজেলা নির্বাহী অফিসার মাহমুদা কুলসুম মনি জানান, বিষয়টি জানার পরপরই নৌ পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিসের ডুবুরি ইউনিটের সঙ্গে কথা বলি। নিখোঁজ যুবকের সন্ধানে প্রয়োজনীয় উদ্ধার তৎপরতা চালানোর জন্য সংশ্লিষ্টদের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।