শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১ আশ্বিন ১৪৩৩
শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১ আশ্বিন ১৪৩৩

কচুয়া পালাখাল মডেল ইউনিয়নে চেয়ারম্যান প্রার্থী ঘোষণা মাসুদ রানা মিয়াজীর

ইসমাইল হোসেন বিপ্লব, কচুয়া প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৯:১৭ পিএম
কচুয়া পালাখাল মডেল ইউনিয়নে চেয়ারম্যান প্রার্থী ঘোষণা মাসুদ রানা মিয়াজীর

কচুয়া উপজেলার পালাখাল মডেল ইউনিয়নে চেয়ারম্যান পদে প্রার্থী ঘোষণা দিয়ে কুশল বিনিময় করছেন, কারা নির্যাতিত নেতা মাসুদ রানা মিয়াজী।

আসন্ন ইউপি নির্বাচনে কচুয়া উপজেলার ৪নং পালাখাল মডেল ইউনিয়ন  বিএনপি অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মী ও এলাকাবাসীকে সাথে নিয়ে  ইউপি চেয়ারম্যান পদে প্রার্থীতা ঘোষণা দিয়ে মতবিনিময় ও কুশল বিনিময় করেন বহুবার কারা নির্যাতিত, ত্যাগী নেতা ও সমাজসেবক, উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সাবেক সাধারণ সম্পাদক মোঃ মাসুদ রানা মিয়াজী।
তিনি শুক্রবার বাদ আসর নামাজের পর নিজ এলাকা বক্সগঞ্জ বাজারে স্থানীয় বিএনপি ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মী ও এলাকাবাসীকে সাথে নিয়ে চেয়ারম্যান পদে প্রার্থী হিসেবে ঘোষণা করেন।
এ সময় তিনি বলেন , ‘সন্ত্রাস, দুর্নীতি, চাঁদাবাজি ও মাদকমুক্ত ইউনিয়ন গড়াই আমার প্রধান লক্ষ্য। আমি বক্সগঞ্জ গ্রামের সন্তান হিসেবে ইউনিয়নের সার্বিক উন্নয়নে ইউনিয়নবাসীর পাশে থাকতে চাই।
তিনি আরও বলেন, ‘আমি নির্বাচিত হলে বাংলাদেশ শিক্ষা এবং প্রাথমিক গণশিক্ষা মন্ত্রী, কচুয়ার সংসদ সদস্য আমার রাজনৈতিক অভিভাবক ড.আনম এহছানুল হক মিলন ভাই ও কেন্দ্রীয় বিএনপি’র কার্যনির্বাহী সদস্য ও মহিলা দলের সহ-সভানেত্রী নাজমুন নাহার বেবী আপার পরামর্শ নিয়ে ৪নং পালাখাল মডেল ইউনিয়নকে একটি আধুনিক ইউনিয়ন হিসেবে গড়ে তুলব। এ লক্ষ্য  তিনি দলমত নির্বিশেষে সকলের দোয়া ও সহযোগিতা কামনা করেছেন।
স্থানীয় লোকজন বলেন,দীর্ঘদিন ধরে এলাকার বিভিন্ন সামাজিক, রাজনৈতিক ও উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ডে সক্রিয় ভূমিকা রেখে আসা মাসুদ রানা মিয়াজী পালাখাল মডেল ইউনিয়নের সর্বস্তরের মানুষের কাছে এক সুপরিচিত মুখ। সাধারণ মানুষের সুখ-দুঃখে পাশে থাকা এবং এলাকার উন্নয়নে সার্বিক সহযোগিতার মাধ্যমে তিনি স্থানীয়দের মন জয় করেছেন।
স্থানীয় প্রবীণ ও তরুণ ভোটারদের সাথে কথা বলে জানা যায়, পরিচ্ছন্ন ভাবমূর্তি ও সমাজসেবায় অবদানের কারণে  মাসুদ রানা মিয়াজীকে নিয়ে সাধারণ জনগণের মাঝে ব্যাপক উৎসাহ- উদ্দীপনা দেখা যাচ্ছে। এলাকার সার্বিক উন্নয়নে পরিবর্তন আনতে সৎ, যোগ্য ও কর্মঠ প্রার্থী হিসেবে অনেকেই তাঁকে সামনে রেখে মাঠে নেমেছেন।
মাসুদ রানা মিয়াজী, ছাত্র জীবন থেকে রাজনীতি করে আসছেন। আওয়ামী লীগের শাসনামলে ইউনিয়ন ছাত্রদল সভাপতি ও উপজেলার ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছেন। তিনি দীর্ঘ অনেক বছর যাবত হামলা, মামলা, অসংখ্য কারাবরণ, নির্যাতন ও অত্যাচার অত্যাচারী শিকার হয়েও উপজেলার সেচ্ছাসেবক দলের সাধারণ সম্পাদক পদে সফলভাবে দায়িত্ব পালন করেছেন। বর্তমানে চাঁদপুর জেলার জাতীয়তাবাদী সংগ্রামী দলের সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।

৩০ বছর ধরে গাছ লাগিয়ে গ্রামের সড়কের চিত্র বদলে দিলেন মসজিদের ইমাম রেজাউল

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৯:৫৯ পিএম
৩০ বছর ধরে গাছ লাগিয়ে গ্রামের সড়কের চিত্র বদলে দিলেন মসজিদের ইমাম রেজাউল

মসজিদে ইমামতির পাশাপাশি প্রায় ৩০ বছর ধরে বৃক্ষরোপণ করে আসছেন ভোলার চরফ্যাশন উপজেলার ওমরপুর ইউনিয়নের মো. রেজাউল কিবরিয়া বাবুল। নিজের অর্থ ও উদ্যোগে বিভিন্ন সড়কের পাশে হাজার হাজার গাছের চারা রোপণ ও পরিচর্যা করে গড়ে তুলেছেন সবুজের আবরণ। তার লাগানো সারি সারি তালগাছে বদলে গেছে গ্রামের একটি সড়কের চিত্র।

স্থানীয়দের কাছে রেজাউল কিবরিয়া বাবুল একজন ইমাম হিসেবে পরিচিত হলেও বৃক্ষপ্রেমী হিসেবেও রয়েছে তার আলাদা পরিচিতি। তিনি ওমরপুর ইউনিয়নের কালাপানিয়া বাজার বাইতুল মামুর জামে মসজিদের ইমাম। ইমামতির পাশাপাশি অবসর সময়ে গাছ লাগানো ও পরিচর্যায় নিজেকে নিয়োজিত রাখেন তিনি।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, প্রায় তিন দশক আগে বৃক্ষরোপণের উদ্যোগ নেন রেজাউল কিবরিয়া। ১৯৯৩-৯৪ সালের দিকে পৈতৃক সম্পত্তি বিক্রি করে প্রায় ৮ লাখ টাকা ব্যয়ে ভুঁইয়ারহাট এলাকায় একটি নার্সারি গড়ে তোলেন। সেখান থেকে উৎপাদিত ও সংগ্রহ করা বিভিন্ন জাতের গাছের চারা এলাকার সড়কের পাশে রোপণ করতে শুরু করেন। একই সঙ্গে মাইকিং করে স্থানীয়দের গাছ লাগাতে উৎসাহিত করতেন।

তার লাগানো গাছের মধ্যে রয়েছে তাল, ফলজ ও বিভিন্ন ঔষধি গাছ। ওমরপুর গ্রামের বাউল সড়কের দুই পাশে প্রায় দুই দশক আগে লাগানো তালগাছগুলো এখন বড় হয়ে সারি সারি দাঁড়িয়ে আছে। দূর থেকে দেখলে পুরো সড়কটি যেন সবুজে ঘেরা একটি প্রাকৃতিক পথ। গাছের ছায়ায় পথচারী ও কৃষকেরা স্বস্তি পান। স্থানীয়দের পাশাপাশি বাইরের লোকজনও এখন এই সড়কের সৌন্দর্য দেখতে আসেন।

Model Hospital

শুধু বাউল সড়ক নয়, ওমরপুর ইউনিয়নের আরও কয়েকটি সড়কের পাশেও গাছ লাগিয়েছেন তিনি। চারা রোপণের পর নিয়মিত সেগুলোর পরিচর্যাও করেন। অনেক গাছ নষ্ট হয়ে গেলেও বৃক্ষরোপণের কাজ থেকে পিছিয়ে যাননি তিনি।

স্থানীয়দের মতে, সরকারি কোনো প্রকল্পের অপেক্ষায় না থেকে একজন ইমামের ব্যক্তিগত উদ্যোগে দীর্ঘদিন ধরে গাছ লাগানোর এই প্রচেষ্টা শুধু একটি সড়কের সৌন্দর্যই বদলায়নি, বরং স্থানীয়দের মধ্যেও বৃক্ষরোপণের আগ্রহ তৈরি করেছে।

স্থানীয় বাসিন্দা শাহজাহান, লিটন, আলমগীর ও যুবক তুহিন জানান, বাউল সড়কের দুই পাশে এখন শত শত তালগাছ রয়েছে। গাছগুলো বড় হয়ে ওঠায় সড়কটির সৌন্দর্য অনেক বেড়েছে। বিকেল ও সন্ধ্যায় স্থানীয়রা সেখানে সময় কাটান। দূর-দূরান্ত থেকেও অনেকে এই সড়কের সৌন্দর্য দেখতে আসেন। রেজাউল কিবরিয়ার উদ্যোগ দেখে তারাও নিজেদের জায়গায় বেশি করে গাছ লাগাতে উৎসাহিত হয়েছেন।

রেজাউল কিবরিয়া বাবুল বলেন, ‘পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা এবং আল্লাহর সন্তুষ্টির আশায় আমি প্রায় তিন দশক ধরে গাছ লাগিয়ে আসছি। ১৯৯৩-৯৪ সালে এ কাজ শুরু করি। এ পর্যন্ত বিভিন্ন জায়গায় প্রায় ৫০ থেকে ৬০ হাজার গাছের চারা লাগিয়েছি। এর মধ্যে তালগাছের বীজ ও চারা রয়েছে প্রায় ২৫ থেকে ৩০ হাজার।’

তিনি বলেন, সব গাছ টিকিয়ে রাখা সম্ভব হয়নি। তবে গাছ লাগানোর কাজ থেকে কখনো সরে আসেননি। বর্তমানে নিজে নার্সারিতে চারা উৎপাদনের সময় না পাওয়ায় ঝালকাঠির স্বরূপকাঠি থেকে বিভিন্ন ধরনের চারা সংগ্রহ করে রোপণ করছেন।

তালগাছ লাগানোর বিষয়ে তিনি বলেন, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বজ্রপাতের ঘটনা বেড়ে যাওয়ায় তালগাছ লাগানোর ওপর বেশি গুরুত্ব দিচ্ছেন তিনি। পাশাপাশি বন বিভাগের পরামর্শও নিয়ে থাকেন।

রেজাউল কিবরিয়া আরও বলেন, ‘আমি গাছ লাগানোকে সদকায়ে জারিয়া হিসেবে দেখি। একটি গাছ শুধু বর্তমান প্রজন্মের জন্য নয়, ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্যও ছায়া, সৌন্দর্য ও উপকারের উৎস। যতদিন বেঁচে থাকব, ততদিনই গাছ লাগানোর এই কাজ চালিয়ে যেতে চাই।’

তার ভাষ্য, গ্রামের প্রতিটি সড়ক ও আশপাশের এলাকা সবুজে ভরে তোলাই তার লক্ষ্য। একই সঙ্গে তরুণদের খারাপ অভ্যাস থেকে দূরে রাখতে ফল ও ফুলের বাগান করার আহ্বান জানান তিনি।

রেজাউল কিবরিয়ার দীর্ঘদিনের উদ্যোগের বিষয়ে চরফ্যাশন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রুমানা আফরোজ বলেন, ‘গাছ লাগানো অবশ্যই একটি ভালো উদ্যোগ। রেজাউল কিবরিয়া সাহেবের দীর্ঘদিনের এ কাজের বিষয়টি আমার জানা ছিল না। খোঁজ নিয়ে এ বিষয়ে তার পাশে দাঁড়ানোর চেষ্টা করব।’