বৃহস্পতিবার, ১৫ অক্টোবর ২০২৬, ১ কার্তিক ১৪৩৩
বৃহস্পতিবার, ১৫ অক্টোবর ২০২৬, ১ কার্তিক ১৪৩৩

শাহরাস্তিতে ২৪ ঘণ্টার ব্যবধানে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট ও পানিতে ডুবে দুই শিশুর মৃত্যু

মোঃ মাসুদ রানা প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২২ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১১:০৩ পিএম
শাহরাস্তিতে ২৪ ঘণ্টার ব্যবধানে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট ও পানিতে ডুবে দুই শিশুর মৃত্যু

শাহরাস্তিতে ২৪ ঘণ্টার ব্যবধানে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে এক স্কুলছাত্র এবং পুকুরের পানিতে ডুবে সাত বছর বয়সী এক শিশুর মৃত্যু হয়েছে।

মঙ্গলবার বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে চতুর্থ শ্রেণির শিক্ষার্থীর মৃত্যুর এ ঘটনা ঘটে। এর আগের দিন সোমবার পানিতে ডুবে মারা যায় সাত বছর বয়সী শিশু। পৃথক এ দুটি দুর্ঘটনায় দুই শিশুর মর্মান্তিক মৃত্যুতে তাদের পরিবার, স্বজন, সহপাঠী ও স্থানীয়দের মধ্যে শোকের ছায়া নেমে এসেছে।

মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) দুপুরে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে মো. আদনান হোসেন নামে চতুর্থ শ্রেণির এক স্কুলছাত্রের মৃত্যু হয়েছে। উপজেলার টামটা উত্তর ইউপির  ইছাপুরা এলাকায় নিজ বাড়িতে এ দুর্ঘটনা ঘটে।নিহত আদনান হোসেন ইছাপুরা পশ্চিম সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের চতুর্থ শ্রেণির শিক্ষার্থী ছিল।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, মঙ্গলবার দুপুরে বাড়িতে অবস্থানকালে অসাবধানতাবশত বিদ্যুতের সংস্পর্শে আসে সে। এতে গুরুতর আহত হলে পরিবারের সদস্যরা দ্রুত উদ্ধারের চেষ্টা করেন। পরে তার মৃত্যু হয়। এর আগের দিন সোমবার (২১ সেপ্টেম্বর) দুপুর আনুমানিক ১২টার দিকে শাহরাস্তি পৌরসভার ১১ নম্বর ওয়ার্ডের কৃষ্ণপুর গ্রামের পাটওয়ারী বাড়িতে নিজ বাড়ির সামনের পুকুরে পড়ে পানিতে ডুবে মো. মিনহাজ (৭) নামে এক শিশুর মৃত্যু হয়।

Model Hospital

নিহত মিনহাজ ওই গ্রামের পাটওয়ারী বাড়ির কুয়েতপ্রবাসী মো. বেলায়েতের ছেলে। সে টামটা তালিমূল কোরআন নূরানী মাদ্রাসার প্রথম শ্রেণির শিক্ষার্থী ছিল।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সোমবার দুপুরে বাড়ির সামনের পুকুরে কোনোভাবে পড়ে যায় মিনহাজ। পরিবারের সদস্য ও স্থানীয়রা তাকে পুকুর থেকে উদ্ধার করেন। তবে ততক্ষণে তার মৃত্যু হয়।মিনহাজ ছিল বাবা-মায়ের একমাত্র ছেলে সন্তান। তার আরও দুই বোন রয়েছে। আদরের একমাত্র ছেলেকে হারিয়ে পরিবারে নেমে এসেছে শোকের মাতম।

আকস্মিক এ মৃত্যুতে কৃষ্ণপুর গ্রামের পাটওয়ারী বাড়ি ও আশপাশের এলাকায় শোকের আবহ বিরাজ করছে।পরপর দুই দিনে দুই শিশুর এমন মর্মান্তিক মৃত্যুতে এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। স্বজন, সহপাঠী ও স্থানীয়রা শিশু দুটির অকালমৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করেছেন।

হাজীগঞ্জে থ্যালাসেমিয়া রোগীর পাশে এসিল্যান্ড ওমর সানি আখন

নিজস্ব প্রতিনিধি প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ১৫ অক্টোবর, ২০২৬, ১২:১১ এম
হাজীগঞ্জে থ্যালাসেমিয়া রোগীর পাশে এসিল্যান্ড ওমর সানি আখন

মানবতা মানে শুধু সহমর্মিতার কথা বলা নয়, বরং বিপদের মুহূর্তে মানুষের পাশে দাঁড়ানো। একজন মানুষের একটু ভালোবাসা, সামান্য সহযোগিতা কিংবা এক ব্যাগ রক্তও হয়ে উঠতে পারে অন্য একজনের বেঁচে থাকার আশার আলো। সেই মানবিকতার দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন চাঁদপুরের হাজীগঞ্জ উপজেলার সহকারী কমিশনার (ভূমি) ওমর সানি আখন।

একজন এ পজিটিভ (A+) রক্তের প্রয়োজন থাকা থ্যালাসেমিয়া রোগীর পাশে দাঁড়িয়ে রক্তদান করেছেন তিনি। তাঁর এই উদ্যোগ আবারও মনে করিয়ে দিয়েছে, মানুষের পরিচয়ের ঊর্ধ্বে রয়েছে মানবতা, আর দায়িত্বের পাশাপাশি মানুষের প্রতি ভালোবাসাও একজন মানুষকে মহৎ করে তোলে।

থ্যালাসেমিয়া একটি দীর্ঘমেয়াদি রক্তজনিত রোগ। এ রোগে আক্রান্ত অনেক রোগীকেই নিয়মিত রক্ত গ্রহণ করতে হয়। ফলে তাঁদের জন্য প্রয়োজনীয় সময়ে নিরাপদ রক্তের ব্যবস্থা করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এমন একজন রোগীর প্রয়োজনে এগিয়ে এসে রক্তদান করে মানবিকতার উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন ওমর সানি আখন।

একজন সরকারি কর্মকর্তা হিসেবে দাপ্তরিক দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি মানুষের প্রয়োজনে তাঁর এই সহযোগিতা প্রশংসনীয়। তাঁর এ উদ্যোগ অন্যদেরও স্বেচ্ছায় রক্তদানে উৎসাহিত করবে বলে আশা করা যায়।

Model Hospital

রক্তদান শুধু একজন রোগীকে সহযোগিতা করা নয়; কখনো কখনো এটি একটি পরিবারের মুখে স্বস্তির হাসি ফিরিয়ে আনে, প্রিয়জনকে ঘিরে নতুন করে আশার আলো জ্বালায়।

মানবিকতার এই গল্প ছড়িয়ে পড়ুক সবার মাঝে। সমাজের সামর্থ্যবান ও সচেতন মানুষ এগিয়ে এলে রক্তের অভাবে কোনো রোগীকে যেন অসহায় হয়ে পড়তে না হয়।