সোমবার, ২৬ অক্টোবর ২০২৬, ১২ কার্তিক ১৪৩৩
সোমবার, ২৬ অক্টোবর ২০২৬, ১২ কার্তিক ১৪৩৩

হাইমচরে শীত আর ঘনকুয়াশার প্রভাব পড়ছে পান চাষে

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বুধবার, ৯ ফেব্রুয়ারি, ২০২২, ২:০২ পিএম
হাইমচরে শীত আর ঘনকুয়াশার প্রভাব পড়ছে পান চাষে
মোঃ সাজ্জাদ হোসেন রনি : পান চাষে বিখ্যাত হাইমচর উপজেলা এ উপজেলার কৃষকদের প্রধান অর্থকরী পানচাষের মাধ্যমে আসে কিন্তু কিছুদিনের তীব্র শীত আর ঘন কুয়াশার কারণে হাইমচরে পানপাতায় পচন ধরেছে। হলুদ বর্ণ হয়ে ঝরে পড়ছে পান। তীব্র শীতের কারণে এরইমধ্যে পান বরজে বিভিন্ন রোগ দেখা দিয়েছে। এতে ক্ষতির মুখে পড়েছে হাজারো পান চাষিরা।
চাঁদপুর হাইমচরে পানের সুনাম দেশ-বিদেশে ছড়িয়ে রয়েছে। হাইমচরের মাটিকে বলা হয়ে থাকে পান চাষের জন্য খাঁটি। পান চাষ লাভজন হওয়ায় এলাকার মানুষ পান চাষের আয়তন বাড়িয়ে চলেছে। কিন্তু সেই পান চাষিরা বিপর্যয়ের মুখে পড়েছে। পৌষ আর মাঘের এই তীব্র শীত আর ঘনকুয়াশা পান বরজকে ক্ষতির মুখে ফেলেছে। বরাজে লতার সাথে পানপাতা হলুদ বর্ণ হয়ে শুকিয়ে যাচ্ছে। মাটিতে ঝরে পড়ছে পানপাতা। বরজের উপরে ঘনো ছাউনি আর চার পাশে পলিথিন দিয়ে ঘিরে রেখেও পানপাতা রক্ষা করতে পারছে না চাষিরা। পানপাতা হলুদ বর্ণ হয়ে ঝরে পড়ার কারণে চাষিরা পানের ন্যায্য মূল্য পাচ্ছে না।
পান বরজ ক্ষতির মুখে পড়ায় চাষীরা হতাশায় ভুগছে। হাইমচর উপজেলার বিভিন্ন গ্রামের পান বরজে ঘুরে ক্ষতির একই চিত্র দেখা গেছে।
কৃষি বিভাগ বলছে, তীব্র শীত আর ঘনকুয়াশার কারণে ক্ষতির মুখে পড়ছে পান চাষিরা। আর পান চাষিরা ক্ষতি পুষিয়ে উঠতে সরকারি প্রণোদনার দাবি জানিয়েছে। কৃষি বিভাগের তথ্য মতে,হাইমচর উপজেলায় তিনশ’র বেশি চাষি পান চাষি রয়েছে।
পান চাষিরা জানান, সারা বছর জুড়ে বরাজে লতায় পান পাতা ধরতে থাকে। অধিক লাভের আশায় শীতের দুই মাস আগে থেকে বরজ থেকে তারা পান তোলেনা। কিন্তু এবছর শীত আর কুয়াশার কারণে বরাজে পানপাতা নষ্ট হচ্ছে। লাভ তো দুরের কথা খরজের টাকা উঠছে না।
পান ব্যবসায়ীরা জানান, পানের পাতা হলুদ হয়ে যাওয়ার কারণে পাইকাররা পান ক্রয় করতে চায়না। একারণে বাধ্য হয়ে চাষীরা কম দামে পান বিক্রি করছে।
হাইমচর উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ বিভাগের প্রশিক্ষণ কর্মকর্তা কৃষিবিদ দেলোয়ার হোসেন জানান, তীব্র শীত আর ঘনকুয়াশার কারণে পান বরজে রোগবালাই দেখা দিয়েছে। ছত্রাক নাশক ওষুধ ব্যবহারের জন্য পান চাষীদের পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।

শাহমাহমুদপুরে ইউপি চেয়ারম্যান ও মেম্বার প্রার্থীদের নিয়ে বিএনপির আলোচনা সভা

মাদকের সাথে জড়িত কোন ব্যক্তি নির্বাচনে প্রার্থী হতে পারবে না

মাসুদ হোসেন প্রকাশিত: সোমবার, ২৬ অক্টোবর, ২০২৬, ৯:৪৭ পিএম
মাদকের সাথে জড়িত কোন ব্যক্তি নির্বাচনে প্রার্থী হতে পারবে না
আসন্ন ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে সম্ভাব্য চেয়ারম্যান ও মেম্বার পদপ্রার্থীদের নিয়ে চাঁদপুর সদর উপজেলার ৪নং শাহমাহমুদপুর ইউনিয়নে অনুষ্ঠিত হয়েছে এক আলোচনা সভা। সোমবার (২৬ অক্টোবর) বিকেলে ইউনিয়নের কৃষ্ণপুর জোহরা বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় মিলনায়তনে এ সভা অনুষ্ঠিত হয়।
শাহমাহমুদপুর ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি ও সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান স্বপন মাহমুদের সভাপতিত্বে সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখেন চাঁদপুর সদর উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মোঃ হযরত আলী ঢালী। তিনি তার বক্তব্যে বলেন, এই শাহমাহমুদপুর ইউনিয়নে চেয়ারম্যান ও মেম্বার প্রার্থী হিসেবে ব্যক্তিগত তথ্য জমা দিয়েছেন ৮৩ জন। কিন্তু এ ইউনিয়নটিতে জনপ্রতিনিধি হিসেবে নির্বাচিত হবেন মাত্র ১৩ জন। বাকী ৭০ জনই বাদ পরবেন। তাই চাঁদপুর-৩ আসনের মাননীয় সংসদ সদস্য ও জেলা বিএনপির সভাপতি শেখ ফরিদ আহমেদ মানিক ভাইয়ের নির্দেশনায় বিএনপির সাংগঠনিক ভাবমূর্তি অক্ষুন্ন রাখতে দলীয় সিদ্ধান্তের বাহিরে একাধিক ব্যক্তি নির্বাচনে প্রার্থী না হওয়ার জন্য অনুরোধ করা হলো।
সম্ভাব্য প্রার্থীদের উদ্দেশ্যে তিনি আরো বলেন, মাদকের সাথে জড়িত কোন ব্যক্তি নির্বাচনে প্রার্থী হতে পারবে না। তাই এমপি মহোদয়ের মনোনীত প্রতিনিধির উপস্থিতিতে চাঁদপুর সদর উপজেলার ১৪টি ইউনিয়নের চেয়্যারম্যান ও মেম্বার প্রার্থীদের ডোপ টেষ্ট বাধ্যতামূলক। সেই রিপোর্ট উপজেলা বিএনপি বরাবর দাখিল করতে হবে। এমনকি ইউনিয়ন এবং ওয়ার্ড বিএনপি, যুবদল ও স্বেচ্ছাসেবক দলের কোন সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক নির্বাচনে প্রার্থী হতে হলে, তাদেরকে আগামী ৩০ অক্টোবরের মধ্যে উপজেলা বিএনপি বরাবর পদত্যাগ পত্র জমা দিতে হবে।
তিনি বলেন, বিগত গণতান্ত্রিক আনন্দোলন সংগ্রামে যে সকল নেতৃবৃন্দ নিষ্ক্রিয় ছিলেন এবং হাইব্রিড প্রার্থীদের আগামী ৫ বছর দলের কাজ করার পর তাদেরকে পরবর্তী নির্বাচনে বিবেচনা করা হবে। সেই সাথে ছাত্রদলের কোনো নেতাকর্মী চেয়ারম্যান কিংবা মেম্বার প্রার্থী হতে পারবেন না। যে সকল নেতাকর্মীকে দল থেকে বহিষ্কার বা অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে সে সকল নেতাকর্মী প্রার্থী হওয়ার কোন সুযোগ নাই। জেলা ও সদর উপজেলা বিএনপি’র সমন্বয়কবৃন্দ একক প্রার্থী নির্ধারণে যথাযথ কার্যকরী পদক্ষেপ গ্রহণ করবেন।
ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক কামাল মিজির পরিচালনায় অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন চাঁদপুর সদর উপজেলা বিএনপির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও শাহমাহমুদপুর ইউনিয়নের সমন্বয়ক আক্তার হোসেন সাগর, চাঁদপুর সদর উপজেলা যুবদল নেতা জুলহাস আহমেদ জুয়েল, পৌঁর স্বেচ্ছাসেবক দলের সিনিয়র সহ সভাপতি কাউছার আহমেদ, জেলা ছাত্রদলের যুগ্ম আহবায়ক আল ফারুক শাহরিয়ার প্রমূখ।
এসময় উপস্থিত ছিলেন চাঁদপুর সদর উপজেলা বিএনপির উপদেষ্টা সদস্য রফিকুল ইসলাম খোকন মল্লিক, সহ সভাপতি এস এম বাকের খন্দকার, শাহমাহমুদপুর ইউনিয়ন বিএনপির সিনিয়র সহ সভাপতি নাহিদ খান, সহ সভাপতি মোশাররফ কারী, নজরুল ইসলাম বাবলু, দেলোয়ার হোসেন দুলু, সাবেক সহ সভাপতি কবির হোসেন রনি, সিনিয়র যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক শাহজালাল দেওয়ান, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মিজানুর রহমান পাটওয়ারী, সাইফুল ইসলাম সুমন, সাংগঠনিক সম্পাদক শফিক কবিরাজ, ধর্ম বিষয়ক সম্পাদক বিল্লাল মল্লিক, বন ও পরিবেশ বিষয়ক সম্পাদক শাহীন হাওলাদার, বিএনপি নেতা মোজাম্মেল খান।
এসময় আরো উপস্থিত ছিলেন, ইউনিয়ন যুবদলের সাবেক সভাপতি মোহাম্মদ মনিরুজ্জামান পাটওয়ারী, সাবেক সিনিয়র সহ সভাপতি আরিফ তালুকদার, সাবেক সহ সভাপতি জহিরুল ইসলাম বেপারী, সাবেক সাধারণ সম্পাদক মাহবুব গাজী, সাবেক সদস্য সচিব মোস্তফা কামাল সোহেল, সাবেক যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ওয়াসিম হাজী, অলিউল্লাহ গাজী, শাহ মাহমুদ সেলিম হাজী, কাসিম গাজী, যুবদল নেতা শওকত কারী, ইউনিয়ন স্বেচ্ছাসেবক দলের আহবায়ক গাজী নূর আলম, যুগ্ম আহবায়ক জুলহাস পাটওয়ারী, ইউনিয়ন ছাত্রদলের সাংগঠনিক সম্পাদক পারভেজ মিজি, ছাত্রদল নেতা সজিব পাটওয়ারী, ইউনিয়ন মহিলা দলের সভানেত্রী পারুল আক্তার, ইউনিয়ন তাঁতীদলের সাবেক সাধারণ সম্পাদক শাহাবুদ্দিন মল্লিক, ইউনিয়ন কৃষকদলের সভাপতি সোহাগ খান, ইউনিয়ন শ্রমিক দলের সভাপতি আলমগীর খান সহ ইউনিয়ন এবং ওয়ার্ডের বিএনপি অঙ্গ সহযোগী সংগঠনের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক সহ অন্যান্য নেতৃবৃন্দ।