বুধবার, ২১ অক্টোবর ২০২৬, ৭ কার্তিক ১৪৩৩
বুধবার, ২১ অক্টোবর ২০২৬, ৭ কার্তিক ১৪৩৩

কচুয়ায় পুকুরে বিষ দিয়ে মাছ নিধনের অভিযোগ, ১৫ লাখ টাকার ক্ষতির দাবি

মোঃ রাছেল, কচুয়া প্রকাশিত: বুধবার, ২১ অক্টোবর, ২০২৬, ৮:৫০ পিএম
কচুয়ায় পুকুরে বিষ দিয়ে মাছ নিধনের অভিযোগ, ১৫ লাখ টাকার ক্ষতির দাবি

ক্ষতিগ্রস্ত খামারি আবুল খায়েরের মৎস্য খামারের মরে যাওয়ায় মাছ।

চাঁদপুরের কচুয়া পৌরসভাধীন কড়ইয়া এলাকার একটি মাছের খামারে বিষ প্রয়োগ করে মাছ নিধনের অভিযোগ উঠেছে। মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) রাতে পৌরসভার ৪নং ওয়ার্ডের পাটিকরপাড়া সংলগ্ন দক্ষিণ বিলে এ ন্যক্কারজনক ঘটনা ঘটে। এতে খামারি আবুল খায়েরের প্রায় ১৫ লাখ টাকার ক্ষতি হয়েছে বলে দাবি করেন।

জানা যায়, ক্ষতিগ্রস্ত খামারি আবুল খায়ের কড়ইয়া গ্রামের হাজী দুলাল মিয়ার ছেলে। তিনি দীর্ঘ ৬ বছর ধরে লিজ নিয়ে প্রায় ৮ একর পুকুর ও জমিতে মাছ চাষ করে আসছেন। মৎস্য ব্যবসায় তিনি বিভিন্ন ব্যাংক ও এনজিও থেকে মোটা অংকের টাকা ঋণ নিয়েছেন।

বুধবার (২১ অক্টোবর) সকালে খামারে গিয়ে রুই, কাতলা, মৃগেল, তেলাপিয়া ও সরপুঁটিসহ বিভিন্ন প্রজাতির মরা মাছ পানিতে ভেসে উঠতে দেখেন খামারি। পরে স্থানীয়দের সহায়তায় মাছ তোলার চেষ্টা করা হয়। এ সময় মরা মাছের আধিক্যে বিভিন্ন প্রজাতির পাখিদেরও সেখানে ভীড় করতে দেখা যায়।

খামারের পাহারাদার ইব্রাহিম বলেন,  রাত ১টা পর্যন্ত খামার পাহারা দিয়ে ঘুমিয়ে পড়ি। ধারণা করা হচ্ছে, এই সুযোগে রাতের কোনো এক সময়ে দুর্বৃত্তরা পুকুরে বিষ প্রয়োগ করে।

Model Hospital

স্থানীয়রা জানান, এ ধরনের ঘটনায় মৎস্য খামারি  আবুল খায়ের আর্থিকভাবে মারাত্মক ক্ষতির মুখে পড়েছেন। তাঁর পরিবার নিয়ে বেঁচে থাকা এবং ঋণ পরিশোধের পথ অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে। দ্রুত প্রকৃত অপরাধীদের খুঁজে বের করে আইনের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন এলাকাবাসী।

মৎস্য খামারি আবুল খায়েরের অভিযোগ করে বলেন, গত ২৮ সেপ্টেম্বর কড়ইয়া এলাকায় অনুষ্ঠিত একটি মাদকবিরোধী সমাবেশে তিনি মাদক ছেড়ে স্বাভাবিক জীবনে ফিরে আসার আহ্বান জানান। মাদক ব্যবসায়ীদের সঙ্গে যুক্ত না হওয়ায় ক্ষুব্ধ কোনো চক্র তাঁর খামারে এ তাণ্ডব চালিয়ে থাকতে পারে।

তিনি আরও জানান, খামারের মাছ মরে যাওয়ায় তিনি সর্বস্বান্ত হওয়ার পথে। ব্যাংক ও এনজিওর ঋণ পরিশোধ করা নিয়ে তিনি এখন চরম দুশ্চিন্তায় আছেন। তিনি প্রশাসনের কাছে এ ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত, ক্ষতিপূরণ এবং দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করেছেন।

এবিষয়ে কচুয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ওসি মোঃ আজিজুল ইসলাম আকাশ বলেন, মৎস্য খামারি আবুল খায়েরের পক্ষ থেকে কোনো অভিযোগ পেলে তদন্ত সাপেক্ষে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

রুয়েটের বাসে প্রধানমন্ত্রী; ‘শুধু একটা স্নাইপারের অভাব ছিল’ মন্তব্যকারী শনাক্ত

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বুধবার, ২১ অক্টোবর, ২০২৬, ১০:২৮ পিএম
রুয়েটের বাসে প্রধানমন্ত্রী; ‘শুধু একটা স্নাইপারের অভাব ছিল’ মন্তব্যকারী শনাক্ত

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের রাজশাহী সফরকে কেন্দ্র করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে স্নাইপার সংক্রান্ত একটি মন্তব্য ঘিরে উদ্বেগ ও প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়েছে। মন্তব্যটিকে প্রধানমন্ত্রীর নিরাপত্তার জন্য উদ্বেগজনক হিসেবে উল্লেখ করে এর নিন্দা জানিয়েছেন রাজশাহী মহানগর বিএনপির নেতারা। তারা মন্তব্যটির বিষয়ে তদন্ত করে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিকে আইনের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন। পুলিশ জানিয়েছে ওই মন্তব্যকারীকে শনাক্ত করা হয়েছে। তার বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেয়ার প্রক্রিয়া চলছে।

মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) বিকাল তিনটার দিকে রাজশাহীর শাহ মখদুম বিমানবন্দরে অবতরণ করে প্রধানমন্ত্রীকে বহনকারী একটি বিশেষ বিমান। এরপর বিমানবন্দর থেকে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান রাজশাহী প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (রুয়েট) একটি বাসে করে রাজশাহীর নগরীতে প্রবেশ করেন। এ সময় রাস্তার দুধারে অসংখ্য মানুষ তাকে শুভেচ্ছা জানান। চলন্ত বাস থেকে প্রধানমন্ত্রীও হাত নেড়ে জবাব দেন।

তবে ‘দ্য বিউটি অব রাজশাহী’ নামের একটি ফেসবুক পেজে প্রধানমন্ত্রীর রাজশাহী সফরকালে ব্যবহৃত বাস নিয়ে একটি পোস্ট দেয়া হয়। সেখানে লেখা হয় ‘সবই বুঝলাম! রাজশাহীতে আমাদের প্রধানমন্ত্রীর লাল-সবুজ বুলেটপ্রুফ বাসটা কই? রুয়েটের বাসে কেন? আপনারা কী জানেন রাজশাহীবাসী?’ এই পোস্টের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রীকে বহনকারী রুয়েটের বাসের ছবি সংযুক্ত করা হয়।

পোস্টটির মন্তব্যের ঘরে এমডি আবু বকর সিদ্দিক নামের একটি ফেসবুক অ্যাকাউন্ট থেকে লেখা হয় ‘ইস! একটা বড় সুযোগ। ছিল শুধু একটা স্নাইপারের অভাব ছিল’। এই মন্তব্যটির ভাষা ও প্রেক্ষাপট নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন রাজনৈতিক নেতারা।

Model Hospital

তাদের মতে প্রধানমন্ত্রীর সফরকে কেন্দ্র করে এমন মন্তব্যের বিষয়ে যথাযথ তদন্ত হওয়া প্রয়োজন। তবে মন্তব্যটির উদ্দেশ্য ও এর সঙ্গে কোনো বাস্তব হুমকির সংশ্লিষ্টতা রয়েছে কি না তা তদন্তের মাধ্যমে নিশ্চিত করা জরুরি।

এ বিষয়ে রাজশাহী মহানগর বিএনপির সভাপতি মামুনুর রশিদ মামুন বলেন, প্রধানমন্ত্রীকে নিয়ে এ ধরনের মন্তব্য কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। যিনি এমন কথা বলেছেন তাকে আইনের আওতায় আনতে হবে। দেশের শান্তি-শৃঙ্খলা ও স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে এ ধরনের ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত এবং আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়ার বিকল্প নেই। তার ভাষ্য, দেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতি ও ষড়যন্ত্রের আশঙ্কার বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে সতর্ক থাকতে হবে।

রাজশাহী মহানগর বিএনপির সহ-সভাপতি আলী আশরাফ মাসুম বলেন, ফেসবুকে এ ধরনের মন্তব্য দেখে আমরাও উদ্বিগ্ন হয়েছি। প্রধানমন্ত্রীর নিরাপত্তার বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। মন্তব্যটি তার প্রতি হুমকির ইঙ্গিত বহন করে কি না, তা তদন্ত করে দেখা প্রয়োজন।

রাজশাহী মেট্রোপলিটন পুলিশের (আরএমপি) মুখপাত্র উপপুলিশ কমিশনার গাজিউর রহমান বলেন, প্রধানমন্ত্রীর রাজশাহী সফরকে কেন্দ্র করে ফেসবুকে একজন একটি মন্তব্য করেছেন যা অত্যন্ত উদ্বেগজনক অপরাধমূলক ও দায়িত্বজ্ঞানহীন। বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। এরমধ্যে মন্তব্যকারীকে শনাক্ত করা হয়েছে।