বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১০ আশ্বিন ১৪৩৩
বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১০ আশ্বিন ১৪৩৩

সৌদি আরবে সড়কে প্রাণ গেলো ফরিদগঞ্জের কামরুল হাসানের

পারভেজ মোশারফ প্রকাশিত: বুধবার, ২৭ আগস্ট, ২০২৫, ৮:৫৭ পিএম
সৌদি আরবে সড়কে প্রাণ গেলো ফরিদগঞ্জের কামরুল হাসানের

সৌদি আরবে সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত হয়েছেন চাঁদপুরের ফরিদগঞ্জ উপজেলার ৬নং গুপ্টি পশ্চিম ইউনিয়নের খাজুরিয়া গ্রামের মৃত আনসার আলীর ছেলে কামরুল হাসান (৩৪)।

মঙ্গলবার (২৬ আগস্ট) স্থানীয় সময় রাত আনুমানিক ১১টার দিকে রিয়াদের মালাজ এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে। ফুড ডেলিভারির কাজ করতে গিয়ে কামরুলের বাইক একটি মালবাহী ট্রাকের সঙ্গে সংঘর্ষে মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। স্থানীয়রা গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে উদ্ধার করে নিকটস্থ হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।

সৌদি আরবে নিহতের কাছাকাছি অবস্থারত ষোলদানা এলাকার প্রবাসী মানিক হোসেন জানান, প্রতিদিনের মতো গতকালও কামরুল ভাই ফুড ডেলিভারি নিয়ে যাচ্ছিলেন। হঠাৎ বাইকের নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে বড় একটি পণ্যবাহী ট্রাকের নিচে চলে যান তিনি। এতে তার একটি পা ভেঙে যায় এবং শরীরের বিভিন্ন স্থানে গুরুতর আঘাতপ্রাপ্ত হন। পরে স্থানীয়রা হাসপাতালে নিলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন। বর্তমানে মরদেহ মালাজ কেয়ার মেডিকেল সেন্টারের হিমাগারে রাখা হয়েছে। আইনগত প্রক্রিয়া শেষে মরদেহ দেশে পাঠানোর চেষ্টা চলছে।

নিহতের চাচা রাজু তপদার জানান, এলাকাবাসীর কাছে কামরুল ‘কামু’ নামেই বেশি পরিচিত ছিলেন। তিনি বলেন, কামুর সঙ্গে আমার বন্ধুত্বও ছিল। বয়সে সমান, একই ক্লাসে পড়েছি, খেলাধুলা করেছি, আড্ডা দিয়েছি—সবই একসঙ্গে। তার এমন মৃত্যু সত্যিই সহ্য করা কঠিন।”

Model Hospital

রাজু আরও জানান, তিন ভাইবোনের মধ্যে কামরুল সবার ছোট ছিলেন। ২০২১ সালে তিনি বিয়ে করেন এবং বছরখানেক পর প্রবাসে যান। চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে দেশে এসে দুই মাস অবস্থান করেছিলেন। সে সময় তার বাবা মারা যান। প্রায় তিন মাস আগে আবার সৌদি আরবে ফেরত যান। তার দুই বছরের একটি কন্যা সন্তানও রয়েছে।

কামরুল হাসানের মৃত্যুর খবরে শুধু খাজুরিয়া গ্রাম নয়, পুরো ৬নং গুপ্টি পশ্চিম ইউনিয়নে শোকের ছায়া নেমে আসে। ছাত্রজীবনে তিনি ছাত্ররাজনীতির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন এবং রাজনৈতিক ভিন্নমত নির্বিশেষে সবার কাছে একজন পরিচ্ছন্ন কর্মী হিসেবে পরিচিত ছিলেন। এছাড়াও দেশে থাকাবস্থায় এলাকার ক্রীড়াঙ্গন ও সামাজিক কর্মকাণ্ডে সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করতেন তিনি।

সোশ্যাল মিডিয়ায় শোকবার্তায় সবাই তাকে সদাহাস্যজ্বল, নিরহংকার ও ভালো মনের মানুষ হিসেবে স্মরণ করছেন। প্রবাসী অনেকেই জানিয়েছেন, সৌদি আরবে থেকেও তিনি সুযোগ পেলেই এলাকার মানুষের সঙ্গে দেখা করতেন এবং নিয়মিত যোগাযোগ রাখতেন। কিন্তু এত অল্প বয়সে সবার পছন্দের মানুষটির মৃত্যুতে সবাই শোকাহত।

মতলব দক্ষিণে অগ্নিকান্ডে ক্ষতিগ্রস্ত ৫ পরিবারের পাশে মিজানুর রহমান সরকার ও সুলতান কাজী

মোজাম্মেল প্রধান হাসিব প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১২:৩২ এম
মতলব দক্ষিণে অগ্নিকান্ডে ক্ষতিগ্রস্ত ৫ পরিবারের পাশে মিজানুর রহমান সরকার ও সুলতান কাজী

মতলব দক্ষিণে অগ্নিকান্ডে ক্ষতিগ্রস্ত ৫ পরিবারের পাশে দাঁড়ালেন চাঁদপুর জেলা বিএনপির সদস্য, মতলব দক্ষিণ উপজেলা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক মিজানুর রহমান সরকার এবং ৩নং খাদেরগাঁও ইউনিয়ন বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম আহবায়ক ও আসন্ন ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে চেয়ারম্যান প্রার্থী মো. সুলতান কাজী।

গত বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) বিকেল ৪টায় দলীয় নেতাকর্মী ও ইউনিয়নের গন্যমান্য ব্যক্তিদের নিয়ে পরিদর্শনে যান তারা। এসময় তারা আগুনে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর খোঁজখবর নেন এবং ক্ষতিগ্রস্তদের সান্ত্বনার পাশাপাশি মানবিক সহায়তা হিসেবে নগদ অর্থ ও প্রত্যেক পরিবারের মাঝে চালের বস্তা প্রদান করেন।

পরিদর্শনকালে খাদেরগাঁও ইউনিয়ন যুবদলের আহবায়ক ও ইউপি সদস্য শহীদ মিয়াজী, খাদেরগাঁও ইউনিয়ন যুবদলের সদস্য সচিব মিঞা মো. ফারুক, উপজেলা ছাত্রদলের সদস্য সচিব সোহেল রানা, বিএনপি নেতা তাজুল ইসলাম, ইউনিয়ন যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ক সাখাওয়াত সুমন, মো. সুমন মোল্লা, যুবদল নেতা রুবেল কাজী, কামাল প্রধান, মিজান কাজী, ছাত্রদল নেতা রাশেদ কাজী, সমাজসেবক আলি আক্কাস মিয়াজীসহ এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ ও দলীয় নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।

উল্লেখ্য, গত বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর) সকালে সংঘটিত অগ্নিকাণ্ডে ৫টি বসতঘর ও ৫টি রান্নাঘর, স্বর্ণালাংকার, নগদ অর্থ পুড়ে যায়, এতে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে পরিবারগুলোর। বসতঘর পুড়ে যাওয়ার পর খোলা আকাশের নিচেই মানবেতর জীবনযাপন করছে ভুক্তভোগী পরিবারগুলো।

Model Hospital