শনিবার, ২৪ অক্টোবর ২০২৬, ১০ কার্তিক ১৪৩৩
শনিবার, ২৪ অক্টোবর ২০২৬, ১০ কার্তিক ১৪৩৩

চাঁদপুরে টেকনিক্যাল স্কুল এন্ড কলেজে দক্ষতা ও উদ্ভাবন প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত

সাইদ হোসেন অপু চৌধুরী প্রকাশিত: শনিবার, ২৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৫, ৫:০৭ পিএম
চাঁদপুরে টেকনিক্যাল স্কুল এন্ড কলেজে দক্ষতা ও উদ্ভাবন প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত

চাঁদপুর সরকারি টেকনিক্যাল স্কুল এন্ড কলেজের আয়োজনে দক্ষতা ও উদ্ভাবন প্রতিযোগিতায় প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখেন সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এস এম এন জামিউল হিকমা।

চাঁদপুর সরকারি টেকনিক্যাল স্কুল এন্ড কলেজের আয়োজনে দক্ষতা ও উদ্ভাবন প্রতিযোগিতা ২০২৫ অনুষ্ঠিত হয়েছে।

শনিবার (২৭ সেপ্টেম্বর) দুপুরে কলেজ মিলনায়তনে এর সমাপনী অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন চাঁদপুর সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এস এম এন জামিউল হিকমা।

প্রধান অতিথি তার বক্তব্যে বলেন ” দক্ষতা ও উদ্ভাবন প্রতিযোগিতা হলো এমন এক প্ল্যাটফর্ম যেখানে অংশগ্রহণকারীরা তাদের কারিগরি, প্রযুক্তিগত এবং সৃজনশীল দক্ষতা ব্যবহার করে নতুন ধারণা বা সমাধান তৈরি করে এবং প্রদর্শন করে। এই প্রতিযোগিতার মূল উদ্দেশ্য হলো তরুণদের প্রতিভা তুলে ধরা, নতুন উদ্ভাবনকে উৎসাহিত করা এবং শিল্প, প্রযুক্তি ও সামাজিক ক্ষেত্রে নতুন সমাধান তৈরিতে তাদের যুক্ত করা।

Model Hospital

ইউএনও আরও বলেন, , “তরুণদের দক্ষতা বৃদ্ধির পাশাপাশি কর্মসংস্থান তৈরির লক্ষ্যে সরকার ইতোমধ্যে বিভিন্ন উদ্যোগ গ্রহণ করেছে। তরুণরাই আমাদের ভবিষ্যত। কৃত্রিম বৃদ্ধিমত্তার কারণে যে নতুন দুনিয়া তৈরি হয়েছে, সেখানে নতুন চ্যালেঞ্জও তৈরি হচ্ছে। এই নতুন চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় তরুণদের সক্ষমতা অর্জন করে এগিয়ে আসতে হবে। পৃথিবীর যেই দেশের যুব শক্তি দক্ষতা অর্জন করেছে তারাই এগিয়ে গেছে। একাডেমিয়া, শিল্প প্রতিষ্ঠান, এবং জাতীয় দক্ষতা উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের সহায়তায় যদি আমরা নতুন নতুন চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় প্রযুক্তিগত সমাধান বের করতে পারি এবং তরুণদের সাথে নিয়ে আগামীর পথ রচনা করতে পারি, তাহলে আমরা সফল হবো।”

তিনি বলেন, বৈষম্যহীন ও অন্তর্ভুক্তিমূলক আগামীর বাংলাদেশ বিনির্মাণে সরকার নিরলস কাজ করে যাচ্ছে। তরুণদের দক্ষতা বৃদ্ধির পাশাপাশি কর্মসংস্থান তৈরির লক্ষ্যে সরকার ইতোমধ্যে বিভিন্ন উদ্যোগ গ্রহণ করেছে। সরকার তরুণদের শুধু চাকুরি নয়, বরং উদ্যোক্তা মানসিকতা তৈরির লক্ষ্যে কাজ করে যাচ্ছেন। আমাদের জনসংখ্যার বড় অংশ এখন তরুণ। আমাদের জাতিকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার জন্য সূবর্ণ সময় এখন।

চাঁদপুর সরকারি টেকনিক্যাল স্কুল এন্ড কলেজের কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ মোঃ হারুনুর রশিদ চৌধুরী সভাপতিত্বে কলেজের ইন্সট্রাক্টর মাসুম বিল্লাহ’র সঞ্চালনায় বক্তব্য দেন চাঁদপুর চেম্বার অব কমার্সের সহ-সভাপতি তমাল ঘোষ, ইন্সট্রাক্টর এনায়েত রাব্বি মোহাম্মদ ইয়াসিন।

এবারের প্রতিযোগিতায় মোট ৯টি স্টল অংশগ্রহণ করে। শিক্ষার্থীরা নিজেদের উদ্ভাবনী দক্ষতা ও প্রজেক্ট প্রদর্শনের সুযোগ পায়।

প্রতিযোগিতায় অর্থায়ন করে কারিগরি শিক্ষা অধিদপ্তরের এসেট প্রকল্প।

ফরিদগঞ্জের সাবেক এমপি সাংবাদিক মুহম্মদ শফিকুর রহমান আর নেই

এস. এম ইকবাল প্রকাশিত: শনিবার, ২৪ অক্টোবর, ২০২৬, ৯:৪৯ পিএম
ফরিদগঞ্জের সাবেক এমপি সাংবাদিক মুহম্মদ শফিকুর রহমান আর নেই

প্রয়াত সাবেক এমপি ও বরেণ্য সাংবাদিক মুহম্মদ শফিকুর রহমান।

চাঁদপুর-৪ (ফরিদগঞ্জ) আসনের সাবেক সংসদ সদস্য, দেশের বরেণ্য সাংবাদিক, বিশিষ্ট কলাম লেখক, বীর মুক্তিযোদ্ধা এবং বাংলাদেশ জাতীয় প্রেস ক্লাবের সাবেক সভাপতি মুহম্মদ শফিকুর রহমান(৮২) আর নেই। (ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)।
শনিবার (২৪শে অক্টোবর) বিকেল ৩টার দিকে রাজধানীর ইউনাইটেড হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন।
পরিবার সূত্রে জানা গেছে, শুক্রবার বনানীর নিজ বাসভবনে হঠাৎ স্ট্রোকে আক্রান্ত হলে পরিবারের সদস্যরা তাঁকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় ইউনাইটেড হাসপাতালে ভর্তি করেন। সেখানে নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে চিকিৎসাধীন অবস্থায় আজ তিনি ওপাড়ে পাড়ি জমান।
মুহম্মদ শফিকুর রহমান ১৯৪৯ সালের ২৫শে সেপ্টেম্বর চাঁদপুরের ফরিদগঞ্জ উপজেলার বালিথুবা পূর্ব ইউনিয়নের কৃষ্ণপুর গ্রামের মিয়াজী বাড়ির এক সম্ভ্রান্ত মুসলিম পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর পিতা মৌলভী আবদুল হামিদ এবং মাতা আয়েশা খাতুন। তিনি ফরিদগঞ্জ আলিয়া মাদ্রাসা থেকে ১৯৬৫ সালে কামিল (হাদিস) ডিগ্রি অর্জনের পর ১৯৬৭ সালে চাঁদপুর সরকারি কলেজ থেকে উচ্চমাধ্যমিক সম্পন্ন করেন। পরবর্তীতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা ভাষা ও সাহিত্য বিভাগ থেকে ১৯৭০ সালে স্নাতক এবং ১৯৭১ সালে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন। এছাড়া তিনি বিখ্যাত হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পিএইচডি ডিগ্রি অর্জন করেন।
ছাত্রজীবন থেকেই তিনি রাজনীতি ও প্রগতিশীল সামাজিক আন্দোলনের সঙ্গে গভীরভাবে সম্পৃক্ত ছিলেন। ১৯৬৫ সালে আলিয়া মাদ্রাসায় অধ্যয়নকালে ছাত্রলীগের রাজনীতিতে তাঁর হাতেখড়ি। ঊনসত্তরের গণ-অভ্যুত্থান এবং ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধে তিনি বীরত্বের সঙ্গে সক্রিয় অংশগ্রহণ করেন।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যয়নকালেই ১৯৭০ সালে দৈনিক ইত্তেফাকের বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধি হিসেবে সাংবাদিকতায় তাঁর পেশাগত জীবনের সূচনা হয়। স্বাধীনতার পর ইত্তেফাকে পূর্ণাঙ্গ সাংবাদিক হিসেবে যোগ দিয়ে দীর্ঘ ৩২ বছর স্টাফ রিপোর্টার, সিনিয়র রিপোর্টার ও বিশেষ প্রতিনিধি হিসেবে সুনামের সঙ্গে দায়িত্ব পালন করেন। ২০০২ সালে ইত্তেফাক থেকে অবসর নেওয়ার পর স্বাধীন কলামিস্ট হিসেবে দৈনিক আজকের কাগজ, দৈনিক ভোরের কাগজ এবং দৈনিক জনকণ্ঠের জনপ্রিয় ‘চতুরঙ্গ’ পাতায় নিয়মিত কলাম লিখে জাতীয় পর্যায়ে আলোড়ন সৃষ্টি করেন।
সাংবাদিকতায় আন্তর্জাতিক অভিজ্ঞতা অর্জনে তিনি ১৯৮৫ সালে জাপানের টোকিও, ১৯৯১ সালে জার্মানির বার্লিন এবং যুক্তরাজ্যে উচ্চতর সাংবাদিকতা প্রশিক্ষণ ও পড়াশোনা সম্পন্ন করেন। সাংবাদিক সমাজের শীর্ষ অভিভাবক হিসেবে তিনি ২০১৬-১৭ ও ২০১৭-১৮ মেয়াদে টানা দুবার বাংলাদেশ জাতীয় প্রেস ক্লাবের সভাপতি নির্বাচিত হন। কর্মজীবনে তিনি বেসরকারি স্যাটেলাইট চ্যানেল ‘সিটিজেন টিভি’র চেয়ারম্যান ও প্রধান সম্পাদক এবং সেক্টর কমান্ডারস ফোরামের উপদেষ্টা হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।
সাংবাদিকতার পাঠ চুকিয়ে তিনি স্বক্রিয় রাজনীতিতেও সফল অবদান রাখেন। চাঁদপুর-৪ (ফরিদগঞ্জ) আসন থেকে ২০১৮ সালের একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে প্রথমবার এবং ২০২৪ সালের দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে দ্বিতীয়বার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। ২০১৯ সালের ৩রা জানুয়ারি থেকে ২০২৪ সালের ৬ই আগস্ট পর্যন্ত তিনি  জাতীয় সংসদে ফরিদগঞ্জের প্রতিনিধিত্ব করেন।
মৃত্যুকালে তিনি স্ত্রী, এক ছেলে, এক মেয়ে, অসংখ্য সহকর্মী, গুণগ্রাহী এবং রাজনীতি ও সাংবাদিকতা অঙ্গনের অজস্র শুভানুধ্যায়ী রেখে গেছেন।
গুণী এই ব্যক্তিত্বের হঠাৎ প্রয়াণে ফরিদগঞ্জের সাংবাদিক, রাজনৈতিক, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক অঙ্গনে গভীর শোকের ছায়া নেমে এসেছে। বিভিন্ন সামাজিক ও রাজনৈতিক সংগঠন তাঁর আত্মার মাগফিরাত কামনা করে শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা প্রকাশ করেছে।