হাজীগঞ্জে বিএনপি-জামায়াত সংঘর্ষে আহত অর্ধশতাধিক
চাঁদপুরের হাজীগঞ্জে ফেসবুক পোস্টকে কেন্দ্র করে বিএনপি ও জামায়াত কর্মীদের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনায় উভয় পক্ষের অর্ধশতাধিক নেতাকর্মী আহত হয়েছেন।

শুক্রবার (৩ অক্টোবর) সকালে উপজেলার ৯নং গন্ধর্ব্যপুর উত্তর ইউনিয়নের পালিশারা বাজারে এ ঘটনা ঘটে।

স্থানীয় সূত্র জানায়, ওই ইউনিয়নের জামায়াতের আমির মাওলানা ইলিয়াস হোসেন তার ফেসবুক অ্যাকাউন্টে বিএনপি ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান ও বিএনপি নেত্রী রুমিন ফারহানার একটি এডিট করা ছবি শেয়ার করেন। ওই পোস্টকে অবমাননাকর উল্লেখ করে বিএনপি নেতাকর্মীরা ক্ষুব্ধ হন। পরে ইলিয়াস হোসেন দুঃখ প্রকাশ করে পোস্টটি মুছে ফেলেন।

এ বিষয়টি নিয়ে শুক্রবার স্থানীয়ভাবে বৈঠকের কথা থাকলেও বৈঠকের আগেই উভয় পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে এবং একপর্যায়ে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে তারা।

সংঘর্ষে বিএনপির অন্তত ২০ জন এবং জামায়াতের অন্তত ২০ জন আহত হন। গুরুতর আহত বিএনপির পাঁচজন নেতাকর্মীকে হাজীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে। তাদের মধ্যে উপজেলা যুবদলের সদস্য নেছার আহমেদ চৌধুরী ও ইউনিয়ন যুবদলের সাবেক সাধারণ সম্পাদক সাইফুল ইসলাম রয়েছেন। অপরদিকে জামায়াতের গুরুতর আহত ৮ জনকে চাঁদপুর সদর হাসপাতাল ও পার্শ্ববর্তী শাহরাস্তি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে।
ঘটনার পর ঐ এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করছে। স্থানীয় পালিশারা বাজারের দোকানপাট কিছু সময়ের জন্য বন্ধ হয়ে যায়। পরে পুলিশ গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।
আহত যুবদল নেতা নেছার আহমেদ চৌধুরী অভিযোগ করে বলেন, আমাদের নেতা তারেক রহমানের এই অবমাননাকর বিষয়টি আমরা কোনভাবে মেনে নিতে পারি না। আমরা ঘটনাটি মীমাংসার জন্য সেখানে গিয়েছিলাম। কিন্তু অতর্কিতভাবে জামায়াত কর্মীরা আমাদের ওপর হামলা চালায়।
ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি কুদ্দুস বলেন, আমাদের অনেক নেতাকর্মী আহত হয়েছেন। উপজেলা নেতৃবৃন্দের সঙ্গে আলোচনা করে পরবর্তী সাংগঠনিক ভাবে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
উপজেলা যুবদলের সাবেক আহ্বায়ক আক্তার হোসেন দুলাল বলেন-ফেসবুক স্ট্যাটাসকে কেন্দ্র করে আজকের এই সংঘর্ষ হয়েছে। আমরা আইনি পদক্ষেপ নেব।
অন্যদিকে ইউনিয়ন জামায়াতের সাবেক আমির হাফেজ আব্দুল মোতালেব বলেন-এটি ভুল বোঝাবুঝি থেকে ঘটেছে। তবে বিএনপি কর্মীরা পরিকল্পিতভাবে আমাদের ওপর হামলা চালিয়েছে।”
জামায়াতের উপজেলা সেক্রেটারি জয়নাল আবেদিন জানান-আমাদের অন্তত ২০ জন আহত হয়েছেন, এর মধ্যে ৮ জন গুরুতর। তারা আমাদের উপর পরিকল্পিতভাবে হামলা করে।
হাজীগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মহিউদ্দিন ফারুক জানান, বর্তমানে পরিস্থিতি শান্ত রয়েছে তবে এখন পর্যন্ত কোনো পক্ষই লিখিত অভিযোগ জমা দেয়নি।








