রবিবার, ২৫ অক্টোবর ২০২৬, ১১ কার্তিক ১৪৩৩
রবিবার, ২৫ অক্টোবর ২০২৬, ১১ কার্তিক ১৪৩৩

জিলানী চিশতী কলেজের প্রদর্শক মুনজুর হোসেন পাটওয়ারী’র অবসরজনিত বিদায় সংবর্ধনা

নিজস্ব প্রতিনিধি প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ১১ ডিসেম্বর, ২০২৫, ৮:০৭ পিএম
জিলানী চিশতী কলেজের প্রদর্শক মুনজুর হোসেন পাটওয়ারী’র অবসরজনিত বিদায় সংবর্ধনা

শাহতলো জিলানী চিশতী কলেজের প্রদর্শক (জীব বিজ্ঞান) মো: মুনজুর হোসেন পাটওয়ারী'র অবসরজনিত বিদায় উপলক্ষে সংবর্ধনা ক্রেস্ট প্রদান করেন কলেজের আজীবন দাতা সদস্য সাংবাদিক সোহেল রুশদীসহ শিক্ষকবৃন্দগণ।

চাঁদপুর সদর উপজেলার ৪নং শাহমাহমুদপুর ইউনিয়নের ঐতিহ্যবাহী শাহতলী জিলানী চিশতী কলেজের আয়োজনে কলেজের প্রদর্শক (জীববিজ্ঞান) মো: মুনজুর হোসেন পাটওয়ারী’র অবসরজণিত বিদায় উপলক্ষে সংবর্ধনার আয়োজন করা হয়েছে।
১১ডিসেম্বর (বৃহস্পতিবার) সকাল ১১টায় কলেজের সভাকক্ষে কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ মো: কামরুল হাসান এর সভাপতিত্বে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন কলেজের আজীবন দাতা সদস্য এবং দৈনিক চাঁদপুর খবর পত্রিকার প্রতিষ্ঠাতা সম্পাদক ও প্রকাশক সোহেল রুশদী।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে কলেজের আজীবন দাতা সদস্য সাংবাদিক সোহেল রুশদী বলেন, আজকের এই অনুষ্ঠানের বিদায়ী প্রদর্শক (জীববিজ্ঞান) মো: মুনজুর হোসেন পাটওয়ারী  খুবই আন্তরিক মানুষ। তিনি এ প্রতিষ্ঠানে ৩৫বছর ৩মাস ১১দিন চাকুরী করেছেন। উনাকে বিদায় সংবর্ধণা দিতে পেরে আমরা আনন্দিত।
তিনি দীর্ঘদিন সফলতার সাথে চাকুরী করে বিদায় নিচ্ছেন৷ তিনি অনেক ত্যাগ স্বীকার করেছেন এ প্রতিষ্ঠানের জন্য। তিনি প্রতিষ্ঠানকে ভালোবেসেছেন এবং প্রতিষ্ঠানের প্রতি আন্তরিক ছিলেন। উনি এ প্রতিষ্ঠানকে নিজের পরিবারের মত আগলে রেখেছেন। তিনি প্রতিষ্ঠানের একাডেমিক বিষয়ের বাহিরেও প্রতিষ্ঠানের অন্য কাজ করেছেন। উনি শিক্ষক প্রতিনিধির দায়িত্ব পালন করেছেন। মুনজুর সাহেব কর্মনিষ্ঠ ও ব্যক্তিত্ব সম্পন্ন মানুষ ছিলেন৷  চাকুরীর নিয়ম অনুযায়ী সবাইকে একদিন বিদায় নিতে হয়, এটা চিরন্তন সত্য। তার অবসর জীবন ভালো কাটুক এ দোয়া করি।
তিনি বলেন, আপনারা শিক্ষকরা শিক্ষার মান উন্নয়নে কাজ করবেন। কলেজে ক্লাস নিশ্চিত করতে হবে। নির্ধারিত সময়ে কলেজে উপস্থিত থাকতে হবে। সকলকে প্রতিষ্ঠানের প্রতি আন্তরিক হতে হবে। আমার দাদা মরহুম এটি আহমেদ হোসাইন রুশদী সাহেব এ প্রতিষ্ঠানগুলো প্রতিষ্ঠা করেছেন। এ এলাকাটি শিক্ষার আলোয় আলোকিত করে গেছেন তিনি। প্রতিষ্ঠানের ভালো ফলাফল অর্জনের জন্য সবাইকে আরো আন্তরিক হতে হবে।শিক্ষার্থীদের পাঠদান নিশ্চিত করতে হবে।
প্রতিটি প্রতিষ্ঠানের ক্যাম্পাস পরিস্কার-পরিচ্ছন্ন রাখতে হবে।
কলেজের ইংরেজী বিভাগের সহকারি অধ্যাপক মো: জহিরুল ইসলাম খান মুরাদের পরিচালনায় বক্তব্য রাখেন কলেজের বিদায়ী প্রদর্শক (জীব বিজ্ঞান) মো: মুনজুর হোসেন পাটওয়ারী।
তিনি বক্তব্যে বলেন, আমি এ কলেজে ৩৫বছর ৩মাস ১১দিন দায়িত্ব পালন করেছি। আমি স্মরণ করছি অত্র প্রতিষ্ঠানের প্রতিষ্ঠাতা জনাব মরহুম এটি আহমেদ হোসাইন রুশদী মহোদয়কে। রুশদী পরিবার ও সিনিয়র শিক্ষকরা আমাকে ভাগিনা বলে সম্বোধন করেছেন। আমাকে সম্মানিত করেছেন৷ নিজের রুটি রুজি এ প্রতিষ্ঠান থেকে পেয়েছি৷ আমি এ প্রতিষ্ঠানের কাছে ঋনি। অবসর জীবনে যেন ভালো থাকি, সুস্থ্য থাকি এবং হজ্ব করতে পারি, সবাই দোয়া করবেন। আমি সর্বোপরি সকলের কাছে কৃতজ্ঞ।
এ সময় বক্তব্য রাখেন ও উপস্থিত ছিলেন , জিলানী চিশতী উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো: মোহসিন উদ্দিন, উত্তর শাহতলী জোবাইদা বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক মোহাম্মদ নুরুজ্জামান, জিলানী চিশতী কলেজের সহকারি অধ্যাপক মাওলানা ছোহাইল আহমাদ চিশতী, সহকারী অধ্যাপক মিসেস নুরুন্নাহার বেগম মুক্তা, সহকারি অধ্যাপক ফারজানা আক্তার, সহকারী অধ্যাপক মো: জিয়াউর রহমান, সহকারি অধ্যাপক মো: হানিফ মিয়া, সহকারি অধ্যাপক মো: হাবিবুর রহমান, সিনিয়র প্রভাষক মো: মানিক মিয়া, প্রভাষক মো: শাহাদাৎ হোসেন, প্রভাষক মো: মাহবুবুর রহমান, প্রভাষক মোসা: মনোয়ারা খাতুন, প্রভাষক ফরিদা আক্তার, নবাগত প্রভাষক সুমা রানী পাল, নবাগত প্রভাষক মনোয়ারা আক্তার, নবাগত প্রভাষক মোছা: হাবিবা আক্তার রানী, লাইব্রেরী শিক্ষক নাছরীন আক্তার, শরীরচর্চা শিক্ষক হালিমা আক্তার, অফিস ইনচার্জ মো: রানা সরকার।
অনুষ্ঠানের শুরুতে কলেজের অবসর গ্রহনকারী প্রদর্শক (জীববিজ্ঞান) মো: মনজুর হোসেন পাটাওয়ারীকে বিদায়ী সংবর্ধনা ক্রেস্ট, ফুলেল শুভেচ্ছা ও উপহার তুলে দেন কলেজের আজীবন দাতা সদস্য সাংবাদিক সোহেল রুশদী। অনুষ্ঠানে কলেজের শিক্ষক-কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের পক্ষ থেকেও সংবর্ধনা ক্রেস্ট প্রদান করা হয়।
অনুষ্ঠানে সভাপতির বক্তব্য রাখেন, কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ মো: কামরুল হাসান। তিনি বক্তব্যের মাধ্যমে অনুষ্ঠানের সমাপ্তি ঘোষনা করেন।
জানা গেছে, কলেজের বিদায়ী প্রদর্শক (জীববিজ্ঞান) মো: মুনজুর হোসেন পাটওয়ারী ২০ সেপ্টেম্বর ১৯৯০খ্রি. তারিখে প্রদর্শক পদে অত্র কলেজে যোগদান করেন এবং ১ডিসেম্বর ২০২৫ তারিখে অবসর গ্রহন করেন। তিনি মোট ৩৫ বছর ৩ মাস ১১দিন সুনামের সাথে দায়িত্ব পালন করেন।

১২৯ বছরের জীবনের অবসান! মতলবের প্রবীণ বারেক বেপারীর বিদায়, বয়স নিয়ে চাঞ্চল্য

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: রবিবার, ২৫ অক্টোবর, ২০২৬, ১১:১৬ পিএম
১২৯ বছরের জীবনের অবসান! মতলবের প্রবীণ বারেক বেপারীর বিদায়, বয়স নিয়ে চাঞ্চল্য

দীর্ঘ ১২৯ বছরের জীবনের অবসান। পৃথিবীর আলো-বাতাসে এক শতাব্দীরও বেশি সময় কাটিয়ে না ফেরার দেশে চলে গেলেন চাঁদপুরের মতলব উত্তর উপজেলার মুদাফর গ্রামের প্রবীণ ব্যক্তি বারেক বেপারী। স্থানীয়দের দাবি, মৃত্যুকালে তাঁর বয়স হয়েছিল ১২৯ বছর। তাঁর দীর্ঘায়ু নিয়ে এলাকায় রয়েছে নানা আলোচনা ও কৌতূহল।

রোববার (২৫ অক্টোবর) সকাল সাড়ে ৯টার দিকে রাজধানীতে মেয়ের বাসায় শেষনিশ্বাস ত্যাগ করেন তিনি। তাঁর মৃত্যুর খবরে পরিবার, স্বজন ও এলাকাবাসীর মধ্যে শোকের ছায়া নেমে এসেছে।

বারেক বেপারী মতলব উত্তর উপজেলার মোহনপুর ইউনিয়নের মুদাফর গ্রামের মৃত লতিফ বেপারীর ছেলে। মৃত্যুকালে তিনি দুই ছেলে, দুই মেয়েসহ অসংখ্য আত্মীয়স্বজন ও গুণগ্রাহী রেখে গেছেন।

রোববার বাদ আসর মুদাফর ঈদগাহ মাঠে তাঁর জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। পরে স্থানীয় কবরস্থানে তাঁকে দাফন করা হয়। জানাজায় ইমামতি করেন তাঁর দৌহিত্র হাফেজ মো. হাফিজ উদ্দিন।

Model Hospital

১২৯ বছরের জীবন, স্থানীয়দের মুখে দীর্ঘায়ুর গল্প

স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, বারেক বেপারী প্রায় ১২৯ বছর বয়স পর্যন্ত বেঁচে ছিলেন। তাঁদের দাবি, এত দীর্ঘ জীবন পাওয়ায় তিনি ছিলেন বিশ্বের সবচেয়ে বয়স্ক ব্যক্তিদের একজন। তবে তাঁর বয়সের পক্ষে আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত ও যাচাইকৃত কোনো নথির তথ্য পাওয়া যায়নি। ফলে ১২৯ বছর বয়সের বিষয়টি স্থানীয়দের দাবি হিসেবেই বিবেচিত হচ্ছে।

মানবজীবনে শতবর্ষ পেরিয়ে বেঁচে থাকা অত্যন্ত বিরল ঘটনা। গিনেস ওয়ার্ল্ড রেকর্ডসের তথ্য অনুযায়ী, ফ্রান্সের জ্যাঁ লুইস কালমঁ ১২২ বছর ১৬৪ দিন বেঁচে ছিলেন, যা কোনো মানুষের সর্বোচ্চ যাচাইকৃত আয়ু হিসেবে স্বীকৃত।

বারেক বেপারীর জীবনও স্থানীয়দের কাছে দীর্ঘায়ুর এক বিস্ময়কর গল্প হয়ে থাকবে। এক শতাব্দীরও বেশি সময়ের জীবনের অবসান ঘটিয়ে তিনি চলে গেলেন চিরবিদায়ের পথে। রেখে গেলেন অসংখ্য স্মৃতি, স্বজনদের ভালোবাসা আর দীর্ঘ জীবনের নানা গল্প।

দীর্ঘ জীবনের পথচলা থেমে গেল, কিন্তু স্মৃতিতে বেঁচে থাকবেন বারেক বেপারী।

তাঁর মৃত্যুতে শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানিয়েছেন স্বজন ও এলাকাবাসী। মহান আল্লাহ তাঁকে ক্ষমা করুন, তাঁর কবরকে প্রশস্ত করুন এবং জান্নাতুল ফেরদৌস নসিব করুন। আমিন।