সোমবার, ২৬ অক্টোবর ২০২৬, ১২ কার্তিক ১৪৩৩
সোমবার, ২৬ অক্টোবর ২০২৬, ১২ কার্তিক ১৪৩৩

শাহরাস্তিতে গোপন বৈঠক থেকে যুবলীগের তিন নেতা গ্রেফতার

নিজস্ব প্রতিনিধি প্রকাশিত: বুধবার, ১৭ ডিসেম্বর, ২০২৫, ৭:৪৮ পিএম
শাহরাস্তিতে গোপন বৈঠক থেকে যুবলীগের তিন নেতা গ্রেফতার

চাঁদপুরের শাহরাস্তিতে নিষিদ্ধ ঘোষিত সংগঠন ছাত্রলীগ কর্মীদের সঙ্গে গোপন বৈঠকের অভিযোগে যুবলীগের তিন নেতাকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

মঙ্গলবার রাতে শাহরাস্তি থানার ওসি মোহাম্মদ মাইনুল ইসলামের নির্দেশনায় এসআই আল আমিন ভূঁইয়ার নেতৃত্বে কেশরাঙ্গা এলাকার রুহুল আমিন মেম্বারের নির্মাণাধীন ভবনের পেছনে এ অভিযান পরিচালনা করে।

পুলিশ জানায়, বিজয় দিবস উপলক্ষে দলীয় কর্মসূচির কথা বলে সেখানে গোপন সমন্বয় বৈঠকের আয়োজন করা হয়েছিল। বৈঠকে নিষিদ্ধ ঘোষিত সংগঠন ছাত্রলীগের কয়েকজন নেতাকর্মীর উপস্থিতির তথ্যও পুলিশের কাছে ছিল।

গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন, সূচীপাড়া দক্ষিণ ইউনিয়ন যুবলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক এবং স্থানীয় ৫ নম্বর ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য মো. আব্দুল করিম জমাদ্দার (৩৭), ইউনিয়ন যুবলীগের সদস্য মো. জহিরুল ইসলাম (৩৬)। যুবলীগের সদস্য রাগৈ এলাকার আব্দুল কুদ্দুসের ছেলে মো. আমির হোসেন (৪২)।

Model Hospital

পুলিশ জানিয়েছে, গ্রেফতার তিনজনই শাহরাস্তি মডেল থানার এফআইআর নম্বর ৯, তারিখ ১২ নভেম্বর ২০২৪; জিআর নম্বর ১৪৬/২০২৪ মামলার আসামি। মামলায় দণ্ডবিধির ধারা ১৪৩, ৩২৩, ৩২৪, ৩২৫, ৩০৭, ৪২৭, ২৮৩ এবং বিস্ফোরকদ্রব্য আইন ১৯০৮ এর ৩/৬ ধারার অভিযোগ রয়েছে। গ্রেপ্তারের পর তাদের যথাযথ পুলিশ স্কর্টের মাধ্যমে আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে।

স্থানীয় আওয়ামী লীগের কয়েকজন নেতা-কর্মী জানান, ১৬ ডিসেম্বর বিজয় দিবস উপলক্ষে এলাকাবাসী বনভোজনের আয়োজন করেছিল। সেই আয়োজনকে কেন্দ্র করে বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়িয়ে যুবলীগ নেতাদের বিরুদ্ধে উদ্দেশ্যমূলকভাবে পরিস্থিতি তৈরি করা হয়েছে বলে তারা দাবি করেন।

চাঁদপুরে আটক নিষিদ্ধ ছাত্রলীগ নেতাকে ছাড়িয়ে নিলেন ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক 

নিজস্ব প্রতিনিধি প্রকাশিত: সোমবার, ২৬ অক্টোবর, ২০২৬, ১০:৩৫ এম
চাঁদপুরে আটক নিষিদ্ধ ছাত্রলীগ নেতাকে ছাড়িয়ে নিলেন ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক 

নিষিদ্ধ ছাত্রলীগ নেতা তামজিদ মৃধা

চাঁদপুরের মতলব দক্ষিণে পুলিশের অভিযানে আটক হওয়া নিষিদ্ধঘোষিত ইউনিয়ন ছাত্রলীগের সভাপতিকে ছাড়িয়ে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আবুল কালাম আজাদসহ ইউনিয়ন বিএনপি ও যুবদলের কয়েকজন নেতা-কর্মীর বিরুদ্ধে। এঘটনায় সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমসহ এলাকাজুড়ে ব্যাপক সমালোচনার ঝড় বইছে।
শনিবার (২৪ অক্টোবর) রাত ৯টার দিকে মতলব দক্ষিণ উপজেলার নায়েরগাঁও দক্ষিণ ইউনিয়নের আশ্বিনপুর মোড় এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
ছাড়িয়ে নেওয়া নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের ওই নেতার নাম তামজিদ হাসান মৃধা (৩২)। তিনি মতলব দক্ষিণ উপজেলার নায়েরগাঁও দক্ষিণ ইউনিয়ন ছাত্রলীগের সভাপতি। তামজিদ মৃধা ওই ইউনিয়নের আশ্বিনপুর গ্রামের মৃত আবদুল আউয়াল বাচ্চু মৃধার ছেলে। তার দুই ভাই বিএনপির রাজনীতির সাথে জরিত। এক ভাই তোফায়েল মৃধা উপজেলা যুবদলের সদস্য এবং আরেক ভাই আলম মৃধা ইউনিয়ন বিএনপির প্রচার সম্পাদক।
তামজিদ মৃধার বিরুদ্ধে মতলব দক্ষিণ থানায় ২০২৬ সালের ২০ সেপ্টেম্বর সন্ত্রাসবিরোধী আইনে মামলা রয়েছে।
​স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত ২৪ অক্টোবর রাত ৯টার দিকে মতলব দক্ষিণ উপজেলার নায়েরগাঁও দক্ষিণ ইউনিয়নের আশ্বিনপুর মাদ্রাসার সামনে থেকে নিষিদ্ধ ঘোষিত সংগঠন বাংলাদেশ ছাত্রলীগের নায়েরগাঁও দক্ষিণ ইউনিয়ন শাখার সভাপতি তামজিদ হাসান মৃধাকে আটক করে পুলিশ। খবর পেয়ে ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আবুল কালাম আজাদ, ইউনিয়ন যুবদলের সাধারণ সম্পাদক শরীফ পাটোয়ারী, উপজেলা যুবদলের সদস্য এবং আটক তামজিদ মৃধার বড় ভাই তোফায়েল মৃধা, আরেক ভাই ইউনিয়ন বিএনপির প্রচার সম্পাদক আলম মৃধাসহ কয়েকজন ঘটনাস্থলে উপস্থিত হন। একপর্যায়ে তাঁরা পুলিশকে চাপ দিয়ে আটক ছাত্রলীগ সভাপতিকে ছাড়িয়ে নিয়ে যান। এ ঘটনাটি প্রকাশ্যে আসার পর স্থানীয় বিএনপি নেতাকর্মীসহ এলাকাবাসীর মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও সমালোচনার ঝড় বইছে।
​নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক বিএনপির নেতাকর্মী ও এলাকাবাসী জানান, আটক তামজিদ মৃধার কাছ থেকে মাদক উদ্ধার করা হলেও সবকিছু জেনে শুনে মোটা অঙ্কের টাকার বিনিময়ে তাঁকে ছাড়িয়ে নেন বিএনপি নেতা আবুল কালাম আজাদ। এর ফলে দলের ভাবমূর্তি মারাত্মকভাবে ক্ষুণ্ন হচ্ছে বলে অভিযোগ করেন তারা। এলাকাবাসীর দাবি, গত ৫ আগস্টের পর থেকে এই বিএনপি নেতা সরকারি গাছ বিক্রি, সরকারি চাল আত্মসাৎসহ নানা ধরনের অনিয়ম ও অনৈতিক কর্মকাণ্ডের সাথে জড়িয়ে পড়েছেন। মতলব দক্ষিণ উপজেলা বিএনপির সভাপতি, সাধারণ সম্পাদকসহ জ্যেষ্ঠ নেতৃবৃন্দের কাছে বিষয়টি নিরপেক্ষ তদন্ত করে অবিলম্বে আবুল কালাম আজাদসহ তার সহযোগীদের দল থেকে বহিষ্কারের জোর দাবি জানান তারা।
​ঘটনার বিষয়ে জানতে চাইলে মতলব দক্ষিণ থানা এসআই দেলোয়ার হোসেন জানায়, অভিযান চালানোর সময় তানজিদ মৃধাকে আটক করা হয়েছিল। পরবর্তীতে ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আবুল কালাম আজাদ এসে তাঁকে নিয়ে যান। তবে তাৎক্ষণিক তামজিদ মৃধা যে ইউনিয়ন ছাত্রলীগের সভাপতি আমরা তা শনাক্ত করতে পারেনি। পরে বিষয়টি জানা গেছে সে ছাত্রলীগ নেতা।
​অভিযোগের বিষয়ে ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আবুল কালাম আজাদ বলেন, তামজিদ মৃধাকে ছাড়িয়ে নেওয়ার সময় আমি ছিলাম না। তার ভাই তোফায়েল মৃধা ও আলম মৃধা তাকে পুলিশের কাছ থেকে ছাড়িয়ে নিয়েছে। আমি পরে গিয়ে জানতে পেরেছি পুলিশ তাকে ছেড়ে দিয়েছে।