সোমবার, ২৬ অক্টোবর ২০২৬, ১২ কার্তিক ১৪৩৩
সোমবার, ২৬ অক্টোবর ২০২৬, ১২ কার্তিক ১৪৩৩

শাহরাস্তিতে যথাযোগ্য মর্যাদায় ৫৫তম মহান বিজয় দিবস উদযাপন

মোঃ মাসুদ রানা প্রকাশিত: বুধবার, ১৭ ডিসেম্বর, ২০২৫, ৭:৫০ পিএম
শাহরাস্তিতে যথাযোগ্য মর্যাদায় ৫৫তম মহান বিজয় দিবস উদযাপন

শাহরাস্তিতে মহান স্বাধীনতা সংগ্রামের ৫৫তম বিজয় দিবস–২০২৫ যথাযোগ্য মর্যাদা ও ভাবগাম্ভীর্যপূর্ণ পরিবেশে উদযাপন করা হয়েছে।

মঙ্গলবার (১৬ ডিসেম্বর) দিনব্যাপী উপজেলা প্রশাসনের আয়োজনে উপজেলা পরিষদ মিলনায়তন ও কমপ্লেক্স মাঠে বিভিন্ন কর্মসূচি পালিত হয়।

দিবসটি উপলক্ষে ভোরের প্রথম প্রহরে উপজেলা কমপ্লেক্স চত্বরে ৩১ বার তোপধ্বনির মাধ্যমে কর্মসূচির সূচনা হয়।

পরে শহীদদের স্মরণে নির্মিত শহীদ বেদীতে পুষ্পস্তবক অর্পণ করা হয়। এ সময় উপজেলা প্রশাসন, পুলিশ প্রশাসন, মুক্তিযোদ্ধা, রাজনৈতিক দল, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠন, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান এবং বিভিন্ন সরকারি-বেসরকারি দপ্তরের প্রতিনিধিরা শ্রদ্ধা নিবেদন করেন।

Model Hospital

দিবসটি উপলক্ষে উপজেলার সকল সরকারি, আধা-সরকারি ও স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠানে জাতীয় পতাকা উত্তোলন করা হয় এবং গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনাগুলো আলোকসজ্জায় সজ্জিত করা হয়। উপজেলা পরিষদ মিলনায়তনে উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও বিজ্ঞ নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট নাজিয়া হোসেনের সভাপতিত্বে বীর মুক্তিযোদ্ধা, যুদ্ধাহত মুক্তিযোদ্ধা এবং শহিদ মুক্তিযোদ্ধা পরিবারের সদস্যদের সংবর্ধনা উপলক্ষে এক আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে ইউএনও নাজিয়া হোসেন বলেন,মহান বিজয় দিবস আমাদের স্বাধীনতা, আত্মমর্যাদা ও জাতীয় চেতনার এক অনন্য প্রতীক। দীর্ঘ নয় মাসের রক্তক্ষয়ী সংগ্রামের মাধ্যমে ১৯৭১ সালের এই দিনে আমরা একটি স্বাধীন সার্বভৌম বাংলাদেশ লাভ করেছি। যাদের ত্যাগের বিনিময়ে এই বিজয় অর্জিত হয়েছে, সেই সকল শহিদ ও বীর মুক্তিযোদ্ধাদের প্রতি আজ গভীর শ্রদ্ধা জানাই।

বিজয় দিবস আমাদেরকে কেবল আনন্দ উদযাপনের দিনই নয়, বরং মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ধারণ করে দেশ গঠনে আত্মনিয়োগ করার শপথ নেওয়ার দিন। নতুন প্রজন্মের মাঝে মুক্তিযুদ্ধের সঠিক ইতিহাস, দেশপ্রেম ও নৈতিক মূল্যবোধ ছড়িয়ে দিতে আমাদের সবাইকে সম্মিলিতভাবে কাজ করতে হবে। সরকারি ও বেসরকারি সকলের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় শাহরাস্তিকে একটি উন্নত, মানবিক ও স্মার্ট উপজেলা হিসেবে গড়ে তোলা সম্ভব।

মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ধারণ করেই আমরা উন্নয়ন, সুশাসন ও সামাজিক সম্প্রীতির পথে এগিয়ে যাব—এই হোক আজকের বিজয় দিবসে আমাদের অঙ্গীকার।

এছাড়া বিজয়ের তাৎপর্য ও মুক্তিযুদ্ধের চেতনা নতুন প্রজন্মের মাঝে ছড়িয়ে দেওয়ার ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়।

সকালবেলা উপজেলা পরিষদ মাঠে শাহরাস্তি মডেল থানা পুলিশ, ফায়ার সার্ভিস, আনসার ও ভিডিপি এবং বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণে কুচকাওয়াজ, শরীরচর্চা ও ডিসপ্লে অনুষ্ঠিত হয়। দুপুরে শহিদ ও বীর মুক্তিযোদ্ধাদের স্মরণে দোয়া ও আলোচনা সভার পাশাপাশি পুরস্কার বিতরণ করা হয়।

এছাড়া স্থানীয় আশ্রয়ণ প্রকল্প, আদর্শ গ্রাম, সরকারি হাসপাতাল ও এতিমখানায় উন্নত মানের খাবার পরিবেশন করা হয়। বাদ জোহর জাতির শান্তি, সমৃদ্ধি ও অগ্রগতি কামনায় মসজিদ, মন্দির ও অন্যান্য উপাসনালয়ে বিশেষ প্রার্থনার আয়োজন করা হয়।

বিকেলে উপজেলা পরিষদ মিলনায়তনে উপজেলা প্রশাসনের আয়োজনে স্থানীয় শিক্ষার্থী ও শিল্পীদের অংশগ্রহণে বিজয় দিবসের তাৎপর্য তুলে ধরে মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়। অনুষ্ঠান শেষে বিভিন্ন প্রতিযোগিতায় বিজয়ীদের মাঝে পুরস্কার বিতরণ করা হয়।

উল্লেখ্য,গত সোমবার  মহান বিজয় দিবস উদযাপন উপলক্ষে দিনব্যাপী বর্ণাঢ্য বিজয় মেলার আয়োজন  ও পুরস্কার বিতরণ অনুষ্ঠিত হয়েছে।

দিবস টি উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন শাহরাস্তি উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট  হিল্লোল চাকমা,শাহরাস্তি মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ ওসি মোঃ মাইনুল ইসলাম, শাহরাস্তি প্রেসক্লাবের  পক্ষে মোঃ হাবিবুর রহমান সহ সভাপতি আমার মাসুদ রানা, সাধারণ সম্পাদক মোঃ নোমান হোসেন আখন্দ,উপজেলা স্বাস্থ্য পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তার পক্ষে  আবাসিক মেডিকেল অফিসার ডাঃ সারোয়ার হোসেন, উপজেলা প্রকৌশলী  মাইনুল ইসলাম , উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. মাকসুদ আলম,উপজেলা সমাজসেবা অফিসার মো. আবু ইসহাক, উপজেলা প্রোগ্রাম অফিসার মোঃ শাহজাহান, উপজেলা যুব উন্নয়ন কর্মকর্তা শামছুল আমীন, জনস্বাস্থ্য প্রকৌশলী মো. মাহবুব আলম,মৎস্য কর্মকর্তা মো. আব্দুল্লাহ আল সাদাফ, প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা মো. আশিকুর রহমান,পল্লী বিদ্যুতের ডিজিএম মোঃ নিজাম উদ্দিন সাম্স,উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক মো. মেজবাহ উদ্দিন,  দারিদ্র্য বিমোচন কর্মকর্তা মো. শাহজাহান মিয়া, ফায়ার সার্ভিস স্টেশন অফিসার মো. আবু হাসান,উপজেলা মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা আমেনা বেগম, উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মোহাম্মদ আলী আশ্রাফ, উপজেলা আইসিটি অফিসার  মোহাম্মদ শাহজাহান,উপজেলা সমবায় কর্মকর্তা মোহাম্মদ মোতালেব খান, মুক্তিযোদ্ধা কমান্ড কাউন্সিলের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি মোহাম্মদ শাহজাহান, উপ-সহকারী  তহশীলদার মো: মনির হোসেন, উপজেলা কার্যালয়ের সিএ জসীম উদ্দিন। অন্যান্যর মধ্যে ওইদিন বিভিন্ন অনুষ্ঠানমালায় সংশ্লিষ্ট দপ্তরের কর্মকর্তা-কর্মচারী, রাজনৈতিক ব্যক্তিবর্গ, জনপ্রতিনিধি, মুক্তিযোদ্ধা, সাংবাদিক, শিক্ষক-শিক্ষার্থী এবং স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন।

চাঁদপুরে আটক নিষিদ্ধ ছাত্রলীগ নেতাকে ছাড়িয়ে নিলেন ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক 

নিজস্ব প্রতিনিধি প্রকাশিত: সোমবার, ২৬ অক্টোবর, ২০২৬, ১০:৩৫ এম
চাঁদপুরে আটক নিষিদ্ধ ছাত্রলীগ নেতাকে ছাড়িয়ে নিলেন ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক 

নিষিদ্ধ ছাত্রলীগ নেতা তামজিদ মৃধা

চাঁদপুরের মতলব দক্ষিণে পুলিশের অভিযানে আটক হওয়া নিষিদ্ধঘোষিত ইউনিয়ন ছাত্রলীগের সভাপতিকে ছাড়িয়ে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আবুল কালাম আজাদসহ ইউনিয়ন বিএনপি ও যুবদলের কয়েকজন নেতা-কর্মীর বিরুদ্ধে। এঘটনায় সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমসহ এলাকাজুড়ে ব্যাপক সমালোচনার ঝড় বইছে।
শনিবার (২৪ অক্টোবর) রাত ৯টার দিকে মতলব দক্ষিণ উপজেলার নায়েরগাঁও দক্ষিণ ইউনিয়নের আশ্বিনপুর মোড় এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
ছাড়িয়ে নেওয়া নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের ওই নেতার নাম তামজিদ হাসান মৃধা (৩২)। তিনি মতলব দক্ষিণ উপজেলার নায়েরগাঁও দক্ষিণ ইউনিয়ন ছাত্রলীগের সভাপতি। তামজিদ মৃধা ওই ইউনিয়নের আশ্বিনপুর গ্রামের মৃত আবদুল আউয়াল বাচ্চু মৃধার ছেলে। তার দুই ভাই বিএনপির রাজনীতির সাথে জরিত। এক ভাই তোফায়েল মৃধা উপজেলা যুবদলের সদস্য এবং আরেক ভাই আলম মৃধা ইউনিয়ন বিএনপির প্রচার সম্পাদক।
তামজিদ মৃধার বিরুদ্ধে মতলব দক্ষিণ থানায় ২০২৬ সালের ২০ সেপ্টেম্বর সন্ত্রাসবিরোধী আইনে মামলা রয়েছে।
​স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত ২৪ অক্টোবর রাত ৯টার দিকে মতলব দক্ষিণ উপজেলার নায়েরগাঁও দক্ষিণ ইউনিয়নের আশ্বিনপুর মাদ্রাসার সামনে থেকে নিষিদ্ধ ঘোষিত সংগঠন বাংলাদেশ ছাত্রলীগের নায়েরগাঁও দক্ষিণ ইউনিয়ন শাখার সভাপতি তামজিদ হাসান মৃধাকে আটক করে পুলিশ। খবর পেয়ে ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আবুল কালাম আজাদ, ইউনিয়ন যুবদলের সাধারণ সম্পাদক শরীফ পাটোয়ারী, উপজেলা যুবদলের সদস্য এবং আটক তামজিদ মৃধার বড় ভাই তোফায়েল মৃধা, আরেক ভাই ইউনিয়ন বিএনপির প্রচার সম্পাদক আলম মৃধাসহ কয়েকজন ঘটনাস্থলে উপস্থিত হন। একপর্যায়ে তাঁরা পুলিশকে চাপ দিয়ে আটক ছাত্রলীগ সভাপতিকে ছাড়িয়ে নিয়ে যান। এ ঘটনাটি প্রকাশ্যে আসার পর স্থানীয় বিএনপি নেতাকর্মীসহ এলাকাবাসীর মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও সমালোচনার ঝড় বইছে।
​নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক বিএনপির নেতাকর্মী ও এলাকাবাসী জানান, আটক তামজিদ মৃধার কাছ থেকে মাদক উদ্ধার করা হলেও সবকিছু জেনে শুনে মোটা অঙ্কের টাকার বিনিময়ে তাঁকে ছাড়িয়ে নেন বিএনপি নেতা আবুল কালাম আজাদ। এর ফলে দলের ভাবমূর্তি মারাত্মকভাবে ক্ষুণ্ন হচ্ছে বলে অভিযোগ করেন তারা। এলাকাবাসীর দাবি, গত ৫ আগস্টের পর থেকে এই বিএনপি নেতা সরকারি গাছ বিক্রি, সরকারি চাল আত্মসাৎসহ নানা ধরনের অনিয়ম ও অনৈতিক কর্মকাণ্ডের সাথে জড়িয়ে পড়েছেন। মতলব দক্ষিণ উপজেলা বিএনপির সভাপতি, সাধারণ সম্পাদকসহ জ্যেষ্ঠ নেতৃবৃন্দের কাছে বিষয়টি নিরপেক্ষ তদন্ত করে অবিলম্বে আবুল কালাম আজাদসহ তার সহযোগীদের দল থেকে বহিষ্কারের জোর দাবি জানান তারা।
​ঘটনার বিষয়ে জানতে চাইলে মতলব দক্ষিণ থানা এসআই দেলোয়ার হোসেন জানায়, অভিযান চালানোর সময় তানজিদ মৃধাকে আটক করা হয়েছিল। পরবর্তীতে ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আবুল কালাম আজাদ এসে তাঁকে নিয়ে যান। তবে তাৎক্ষণিক তামজিদ মৃধা যে ইউনিয়ন ছাত্রলীগের সভাপতি আমরা তা শনাক্ত করতে পারেনি। পরে বিষয়টি জানা গেছে সে ছাত্রলীগ নেতা।
​অভিযোগের বিষয়ে ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আবুল কালাম আজাদ বলেন, তামজিদ মৃধাকে ছাড়িয়ে নেওয়ার সময় আমি ছিলাম না। তার ভাই তোফায়েল মৃধা ও আলম মৃধা তাকে পুলিশের কাছ থেকে ছাড়িয়ে নিয়েছে। আমি পরে গিয়ে জানতে পেরেছি পুলিশ তাকে ছেড়ে দিয়েছে।