রবিবার, ২৫ অক্টোবর ২০২৬, ১১ কার্তিক ১৪৩৩
রবিবার, ২৫ অক্টোবর ২০২৬, ১১ কার্তিক ১৪৩৩

চাঁদপুরে আন্তর্জাতিক অভিবাসী ও জাতীয় প্রবাসী দিবস উদযাপন

প্রবাসীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করাই আমাদের অঙ্গীকার : চাঁদপুর ডিসি নাজমুল ইসলাম সরকার

সাইদ হোসেন অপু চৌধুরী প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ১৮ ডিসেম্বর, ২০২৫, ৮:৪৯ পিএম
প্রবাসীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করাই আমাদের অঙ্গীকার : চাঁদপুর ডিসি নাজমুল ইসলাম সরকার

চাঁদপুরে আন্তর্জাতিক অভিবাসী ও জাতীয় প্রবাসী দিবসে জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ নাজমুল ইসলাম সরকারের নেতৃত্বে একটি বর্ণাঢ্য র‌্যালি বের করা হয়।

চাঁদপুরে যথাযোগ্য মর্যাদায় আন্তর্জাতিক অভিবাসী দিবস ও জাতীয় প্রবাসী দিবস পালিত হয়েছে। এ উপলক্ষে চাঁদপুর জেলা প্রশাসন, জেলা কর্মসংস্থান ও জনশক্তি কার্যালয়, কারিগরি প্রশিক্ষণ কেন্দ্র, প্রবাসী কল্যাণ সেন্টার, প্রবাসী কল্যাণ ব্যাংক ও সিসিডিএ’ চাঁদপুরের যৌথ উদ্যোগে দিনব্যাপী নানা কর্মসূচির আয়োজন করা হয়।

বৃহস্পতিবার (১৮ ডিসেম্বর) সকাল ১০টায় হাসান আলী হাই স্কুল মাঠ থেকে একটি বর্ণাঢ্য র‌্যালি বের করা হয়। র‌্যালিটি শহরের বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ শেষে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার প্রাঙ্গণে গিয়ে শেষ হয়। পরে সেখানে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়।

আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখেন চাঁদপুরের জেলা প্রশাসক (ডিসি) মোহাম্মদ নাজমুল ইসলাম সরকার।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে জেলা প্রশাসক বলেন, প্রবাসীরা শুধু বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনই করছেন না, তারা দেশের অর্থনীতি ও উন্নয়নের অগ্রযাত্রায় নীরব সৈনিক হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখে চলেছেন। প্রবাসীদের পাঠানো রেমিট্যান্স জাতীয় অর্থনীতিকে শক্ত ভিতের ওপর দাঁড় করিয়েছে এবং দেশের সামগ্রিক উন্নয়নকে বেগবান করছে।

Model Hospital

তিনি বলেন, বর্তমান সরকার প্রবাসীদের নিরাপদ, বৈধ ও মর্যাদাপূর্ণ কর্মসংস্থান নিশ্চিত করতে আন্তরিকভাবে কাজ করছে। বিদেশগামী কর্মীদের দক্ষতা বৃদ্ধি, ভাষা জ্ঞান উন্নয়ন ও সচেতনতা তৈরির মাধ্যমে আন্তর্জাতিক শ্রমবাজারে বাংলাদেশের অবস্থান আরও সুদৃঢ় করা সম্ভব। দক্ষ জনশক্তিই পারে বিদেশে দেশের ভাবমূর্তি উজ্জ্বল করতে এবং প্রতারণা ও হয়রানির ঝুঁকি কমাতে।

জেলা প্রশাসক আরও বলেন, প্রবাসী কল্যাণ ব্যাংক, কারিগরি প্রশিক্ষণ কেন্দ্র ও সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোর সমন্বিত উদ্যোগের মাধ্যমে অভিবাসন ব্যবস্থাপনাকে আরও জনবান্ধব ও কার্যকর করা হবে। প্রবাসী ও তাদের পরিবার যেন যেকোনো সমস্যা বা সংকটে দ্রুত সহায়তা পায়, সে লক্ষ্যে জেলা প্রশাসন সর্বদা সচেষ্ট থাকবে।

তিনি বলেন, প্রবাসীদের অধিকার রক্ষা, আইনগত সহায়তা নিশ্চিতকরণ এবং সামাজিক সুরক্ষা জোরদারে জেলা প্রশাসন সবসময় পাশে রয়েছে। প্রবাসীরা দেশের গর্ব—তাদের সম্মান ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করাই আমাদের অঙ্গীকার।

অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) মো. এরশাদ উদ্দিনের সভাপতিত্বে ও জেলা কর্মসংস্থান ও জনশক্তি অফিসের সহকারী পরিচালক মোহাম্মদ সফিকুর রহমান এবং
প্রবাসী কল্যাণ ব্যাংকের সিনিয়র অফিসার সাদিয়া শামীমের সঞ্চালনায় বক্তব্য রাখেন সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এস এম এন জামিউল হিকমা,অতিরিক্ত পুলিশ সুপার চাঁদপুর সদর সার্কেল খায়রুল কবির, সিসিডিএ’র চাঁদপুর জেলা সমন্বয়কারী মো. নাজমুল আহসান, রেমিট্যান্স যোদ্ধা জামাল হোসেন মোল্লা, শাহজালাল মোল্লা।

দিবসটি উপলক্ষে আয়োজিত অভিবাসী মেলায় ৫টি স্টল স্থাপন করা হয়। এতে সেন্টার ফর কমিউনিটি ডেভেলপমেন্ট অ্যাসিস্ট্যান্ট সিসিডিএ, প্রবাসী কল্যাণ ব্যাংক, কারিগরি প্রশিক্ষণ কেন্দ্র, প্রবাসী কল্যাণ সেন্টার, জনশক্তি কর্মসংস্থান সেন্টার ও প্রশিক্ষণ ব্যুরো অংশগ্রহণ করে।

আলোচনা সভা শেষে জেলা প্রশাসক (ডিসি) মোহাম্মদ নাজমুল ইসলাম সরকার ও অন্যান্য অতিথিবৃন্দ মেলার স্টলসমূহ পরিদর্শন করেন।

দিবসটি উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে সর্বোচ্চ রেমিটেন্স প্রেরণকারী প্রবাসী ও তাঁদের পরিবারকে সম্মাননা প্রদান করা হয়। পাশাপাশি প্রবাসী কর্মীদের মেধাবী সন্তানদের মাঝে শিক্ষাবৃত্তির চেক বিতরণ করা হয়। এছাড়া প্রবাসী কর্মীদের প্রতিবন্ধী সন্তানদের জন্য প্রতিবন্ধী ভাতার চেক এবং অভিবাসন প্রত্যাশীদের মাঝে ঋণের চেক বিতরণ করা হয়েছে।

এ সময় বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তা-কর্মচারী, বিদেশে গমনেচ্ছুক নারী-পুরুষসহ নানা শ্রেণি-পেশার মানুষ উপস্থিত ছিলেন।

১২৯ বছরের জীবনের অবসান! মতলবের প্রবীণ বারেক বেপারীর বিদায়, বয়স নিয়ে চাঞ্চল্য

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: রবিবার, ২৫ অক্টোবর, ২০২৬, ১১:১৬ পিএম
১২৯ বছরের জীবনের অবসান! মতলবের প্রবীণ বারেক বেপারীর বিদায়, বয়স নিয়ে চাঞ্চল্য

দীর্ঘ ১২৯ বছরের জীবনের অবসান। পৃথিবীর আলো-বাতাসে এক শতাব্দীরও বেশি সময় কাটিয়ে না ফেরার দেশে চলে গেলেন চাঁদপুরের মতলব উত্তর উপজেলার মুদাফর গ্রামের প্রবীণ ব্যক্তি বারেক বেপারী। স্থানীয়দের দাবি, মৃত্যুকালে তাঁর বয়স হয়েছিল ১২৯ বছর। তাঁর দীর্ঘায়ু নিয়ে এলাকায় রয়েছে নানা আলোচনা ও কৌতূহল।

রোববার (২৫ অক্টোবর) সকাল সাড়ে ৯টার দিকে রাজধানীতে মেয়ের বাসায় শেষনিশ্বাস ত্যাগ করেন তিনি। তাঁর মৃত্যুর খবরে পরিবার, স্বজন ও এলাকাবাসীর মধ্যে শোকের ছায়া নেমে এসেছে।

বারেক বেপারী মতলব উত্তর উপজেলার মোহনপুর ইউনিয়নের মুদাফর গ্রামের মৃত লতিফ বেপারীর ছেলে। মৃত্যুকালে তিনি দুই ছেলে, দুই মেয়েসহ অসংখ্য আত্মীয়স্বজন ও গুণগ্রাহী রেখে গেছেন।

রোববার বাদ আসর মুদাফর ঈদগাহ মাঠে তাঁর জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। পরে স্থানীয় কবরস্থানে তাঁকে দাফন করা হয়। জানাজায় ইমামতি করেন তাঁর দৌহিত্র হাফেজ মো. হাফিজ উদ্দিন।

Model Hospital

১২৯ বছরের জীবন, স্থানীয়দের মুখে দীর্ঘায়ুর গল্প

স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, বারেক বেপারী প্রায় ১২৯ বছর বয়স পর্যন্ত বেঁচে ছিলেন। তাঁদের দাবি, এত দীর্ঘ জীবন পাওয়ায় তিনি ছিলেন বিশ্বের সবচেয়ে বয়স্ক ব্যক্তিদের একজন। তবে তাঁর বয়সের পক্ষে আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত ও যাচাইকৃত কোনো নথির তথ্য পাওয়া যায়নি। ফলে ১২৯ বছর বয়সের বিষয়টি স্থানীয়দের দাবি হিসেবেই বিবেচিত হচ্ছে।

মানবজীবনে শতবর্ষ পেরিয়ে বেঁচে থাকা অত্যন্ত বিরল ঘটনা। গিনেস ওয়ার্ল্ড রেকর্ডসের তথ্য অনুযায়ী, ফ্রান্সের জ্যাঁ লুইস কালমঁ ১২২ বছর ১৬৪ দিন বেঁচে ছিলেন, যা কোনো মানুষের সর্বোচ্চ যাচাইকৃত আয়ু হিসেবে স্বীকৃত।

বারেক বেপারীর জীবনও স্থানীয়দের কাছে দীর্ঘায়ুর এক বিস্ময়কর গল্প হয়ে থাকবে। এক শতাব্দীরও বেশি সময়ের জীবনের অবসান ঘটিয়ে তিনি চলে গেলেন চিরবিদায়ের পথে। রেখে গেলেন অসংখ্য স্মৃতি, স্বজনদের ভালোবাসা আর দীর্ঘ জীবনের নানা গল্প।

দীর্ঘ জীবনের পথচলা থেমে গেল, কিন্তু স্মৃতিতে বেঁচে থাকবেন বারেক বেপারী।

তাঁর মৃত্যুতে শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানিয়েছেন স্বজন ও এলাকাবাসী। মহান আল্লাহ তাঁকে ক্ষমা করুন, তাঁর কবরকে প্রশস্ত করুন এবং জান্নাতুল ফেরদৌস নসিব করুন। আমিন।