বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১০ আশ্বিন ১৪৩৩
বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১০ আশ্বিন ১৪৩৩

ফরিদগঞ্জে কৃষি জমির মাটি কাটার প্রতিযোগিতা

এস. এম ইকবাল প্রকাশিত: রবিবার, ৪ জানুয়ারি, ২০২৬, ৮:৫৬ পিএম
ফরিদগঞ্জে কৃষি জমির মাটি কাটার প্রতিযোগিতা
ফরিদগঞ্জ উপজেলার গুপ্টি পশ্চিম, পাইকপাড়া উত্তর, সুবিদপুর পশ্চিম ইউনিয়নসহ বিভিন্ন এলাকায় ভেকু দিয়ে গভীর গর্ত করে চলছে মাটি কাটার মহোৎসব। এতে হারিয়ে যাচ্ছে উপজেলার শত শত বিঘা কৃষি জমি। নিয়মনীতির তোয়াক্কা না করে প্রশাসনের নজর ফাঁকি দিয়ে এভাবে মাটি কেটে জমির শ্রেণি পরিবর্তন করে মানচিত্র থেকে উধাও করে দিচ্ছে কৃষি জমি। এতে জমি ফসল উৎপাদনের উপযোগিতা হারানোর পাশাপাশি নষ্ট হচ্ছে রাস্তাঘাটও। এ নিয়ে স্থানীয়দের মাঝে ক্ষোভ থাকলেও প্রভাবশালীদের ভয়ে কেউ মুখ খুলতে সাহস পাচ্ছে না। যদিও কৃষি জমি রক্ষায় সরকারের কড়া নির্দেশ রয়েছে। এরপরও সেগুলো রক্ষা হচ্ছে না।
এলাকাবাসী সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার গুপ্টি পশ্চিম ইউনিয়নের ষোলদানা, পাইকপাড়া উত্তর ইউনিয়নের মধ্য শাশীয়ালী, জয়শ্রী ও আসৎকুয়ারী এবং সুবিদপুর পশ্চিম ইউনিয়নের আইটপাড়া ও বড়গাঁও এলাকাসহ উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় মাটি কাটার হিড়িক চলছে। সংশ্লিষ্টরা ভেকু দিয়ে অপরিকল্পিতভাবে গভীর গর্ত করে কৃষিজমির মাটি কেটে নিয়ে যাচ্ছে। এতে ফসলি জমি চিরতরে হারিয়ে যাচ্ছে। এভাবে গভীর গর্ত করায় পাশের কৃষি জমিও ভেঙে পড়ছে। এছাড়া মাটি ব্যবসায়ীদের থাবা থেকে বাদ যাচ্ছে না খাস জমি, খালও। এসব মাটি বিক্রি করা হচ্ছে ইটভাটাসহ বিভিন্ন এলাকায়। এভাবে কৃষি জমি নষ্ট করায় উপজেলায় ফসল উৎপাদন কমে যাচ্ছে।
সরকারি গেজেটে প্রকাশিত মাটির ব্যবহার নিয়ন্ত্রণ ও হ্রাসকরণ ২০১৩ সালের ৫৯নং আইনের ৫ ধারা অনুযায়ী, ‘কোনও ব্যক্তি ইট প্রস্তুত করার উদ্দেশ্যে কৃষিজমি হতে মাটি কাটা বা সংগ্রহ করে ইটের কাচাঁমাল হিসাবে ব্যবহার করতে পারবে না। যদি কোন ব্যক্তি আইনের এই ধারা লঙ্ঘন করেন তাহলে তিনি অনধিক ২ বৎসরের কারাদণ্ড বা দুই লক্ষ টাকা অর্থদণ্ড অথবা উভয়দণ্ডে দণ্ডিত হইবেন।’
অন্যদিকে ‘স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর নির্মিত গ্রামীণ সড়ক ব্যবহার করিয়া কোনও ব্যক্তি ভারি যানবাহন দ্বারা ইট বা ইটের কাঁচামাল পরিবহণ করিতে পারিবেন না। যদি কোনও ব্যক্তি আইনের এই ধারা লঙ্ঘন করেন তা হইলে তিনি এক লাখ টাকা অর্থদণ্ডে দণ্ডিত হইবেন।’ এমন আইন থাকার পরও ভূমিদস্যুরা আইনের তোয়াক্কা না করে প্রকাশ্যে অবৈধভাবে মাটি কাটার কাজ চালিয়ে যাচ্ছে।
স্থানীয় শিক্ষার্থীরা জানান, রাতে অবৈধভাবে মাটি পরিবহণের ট্রাক ও ড্রাম ট্রাক চলাচলের শব্দে আমরা ঠিকমতো পড়ালেখা ও ঘুমাতে পারি না। দিনের বেলায়ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে যাওয়া-আসার সময় জামাকাপড় নষ্ট হয়ে যায়। কৃষিজমি রক্ষায় সংশ্লিষ্ট প্রশাসনকে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন।
উপজেলা কৃষি অফিসার কৃষিবিদ রাফিউল ইসলাম বলেন, উপজেলায় ১৩ হাজার ১’শ হেক্টর আবাদি কৃষি রয়েছে, কৃষি জমির ৮ থেকে ১২ ইঞ্চি পরিমাণ থাকে টপ সয়েল। টপ সয়েল কেটে ফেলার কারণে জমি অনূর্বর হয়ে পড়ছে।
উপজেলা নির্বাহী অফিসার সেটু কুমার বড়ুয়া বলেন, ইতিপূর্বে আমরা কয়েক জায়গায় অবৈধভাবে মাটি কাটার অপরাধে জরিমানা করেছি এবং যেখানেই সংবাদ পাই তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নিচ্ছি।

মতলব দক্ষিণে অগ্নিকান্ডস্থল পরিদর্শন করলেন চেয়ারম্যান প্রার্থী সুলতান কাজী

মোজাম্মেল প্রধান হাসিব প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৯:২১ পিএম
মতলব দক্ষিণে অগ্নিকান্ডস্থল পরিদর্শন করলেন চেয়ারম্যান প্রার্থী সুলতান কাজী
মতলব দক্ষিণ উপজেলার মাছুয়াখাল জমাদার বাড়িতে ঘটে যাওয়া ভয়াবহ অগ্নিকান্ডস্থল পরিদর্শন করেছেন ৩নং খাদেরগাঁও ইউনিয়ন বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম আহবায়ক ও চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী মো. সুলতান কাজী।
বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) বিকেল ৪টায় দলীয় নেতাকর্মী ও ইউনিয়নের গন্যমান্য ব্যক্তিদের নিয়ে পরিদর্শনে যান তিনি। এসময় তিনি আগুনে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর খোঁজখবর নেন এবং ভুক্তভোগীদের সান্ত্বনার পাশাপাশি মানবিক সহায়তা হিসেবে নগদ অর্থ প্রদান করেন। এসময় তিনি ক্ষতিগ্রস্তদের প্রতি গভীর সমবেদনা জানান।
খাদেরগাঁও ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী মো. সুলতান কাজী বলেন, দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের পাশে থাকা আমাদের নৈতিক দায়িত্ব। ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর পুনর্বাসনে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আমাদেরও সমন্বয় করা উচিত। যে কোনো দুর্যোগে খাদেরগাঁও ইউনিয়নবাসীর পাশে থাকার জন্য আমি প্রস্তুত আছি।
পরিদর্শনকালে জেলা বিএনপির সদস্য ও মতলব দক্ষিণ উপজেলা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক মিজানুর রহমান সরকার, খাদেরগাঁও ইউনিয়ন যুবদলের আহবায়ক ও ইউপি সদস্য শহীদ মিয়াজী, খাদেরগাঁও ইউনিয়ন যুবদলের সদস্য সচিব মিঞা মো. ফারুক, উপজেলা ছাত্রদলের সদস্য সচিব সোহেল রানা, বিএনপি নেতা তাজুল ইসলাম, ইউনিয়ন যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ক সাখাওয়াত হোসেন সুমন, মো. সুমন মোল্লা, যুবদল নেতা রুবেল কাজী, কামাল প্রধান, মিজান কাজী, ছাত্রদল নেতা রাশেদ কাজী, সমাজসেবক আলি আক্কাস মিয়াজীসহ এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ ও দলীয় নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।
উল্লেখ্য, গত বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর) সকালে সংঘটিত অগ্নিকাণ্ডে ৫টি বসতঘর ও ৫টি রান্নাঘর, স্বর্ণালাংকার, নগদ অর্থ  পুড়ে যায়, এতে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে পরিবারগুলোর। বসতঘর পুড়ে যাওয়ার পর খোলা আকাশের নিচেই মানবেতর জীবনযাপন করছে ভুক্তভোগী পরিবারগুলো।