রবিবার, ২৫ অক্টোবর ২০২৬, ১১ কার্তিক ১৪৩৩
রবিবার, ২৫ অক্টোবর ২০২৬, ১১ কার্তিক ১৪৩৩

শাহরাস্তিতে যুবদল নেতার ওপর হামলা

নিজস্ব প্রতিনিধি প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ৫ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, ৯:১৫ পিএম
শাহরাস্তিতে যুবদল নেতার ওপর হামলা

শাহরাস্তি উপজেলায় শবে বরাতের রাতে দুর্বৃত্তের অতর্কিত হামলায় যুবদল নেতা মোঃ ফারুক হোসেন গুরুতর জখম হয়েছেন। এ ঘটনায় শাহরাস্তি থানায় একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে।

এজাহার সূত্রে জানা যায়, গত ৩ ফেব্রুয়ারি মঙ্গলবার রাত আনুমানিক ১০টার দিকে শাহরাস্তি উপজেলার রায়শ্রী উত্তর ইউনিয়নের দেহেলা পূর্বপাড়া জামে মসজিদের সামনে এ হামলার ঘটনা ঘটে। শবে বরাতের নামাজ আদায় শেষে মসজিদ থেকে বের হওয়ার সময় পূর্ব পরিকল্পিতভাবে একদল ব্যক্তি দেশীয় অস্ত্র ও লোহার রড নিয়ে যুবদল নেতা মোঃ ফারুক হোসেনের ওপর হামলা চালায়।

হামলায় ফারুক হোসেনসহ অন্তত পাঁচজন গুরুতর আহত হন। ফারুক হোসেনের ডাক-চিৎকারে স্থানীয়রা এগিয়ে এলে হামলাকারীরা মোঃ খোকনকে মারধর করে মাথা ফাটিয়ে দেয়। আহতদের মধ্যে তামজিদ হোসেনের নামও জানা গেছে। পরে আহতদের শাহরাস্তি সরকারি হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হয়।

ঘটনার খবর পেয়ে পুলিশ, সেনাবাহিনী ও উপজেলা প্রশাসন (এসি ল্যান্ড)-এর নেতৃত্বে যৌথভাবে ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। অভিযানের সময় ঘটনাস্থল থেকে হামলাকারীদের ব্যবহৃত দুটি হোন্ডা মোটরসাইকেল জব্দ করা হয়। জব্দকৃত মোটরসাইকেল দুটি বর্তমানে শাহরাস্তি থানা পুলিশের হেফাজতে রয়েছে।এ ঘটনায় মোঃ ফারুক হোসেন বাদী হয়ে ২৪ জনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাতনামা আরও প্রায় ৩০০ জনকে আসামি করে শাহরাস্তি থানায় মামলা দায়ের করেছেন।

Model Hospital

ঘটনার বিষয়ে মোঃ ফারুক হোসেন বলেন, দেহেলা গ্রাম একটি শান্তিপ্রিয় জনপদ। হঠাৎ করে এমন হামলার ঘটনায় তিনি বিস্মিত ও মর্মাহত। তিনি হামলায় জড়িতদের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক বিচার দাবি করেন।

এদিকে শাহরাস্তি উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক সেলিম পাটোয়ারী লিটন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রতিক্রিয়া জানিয়ে বলেন, শবে বরাতের পবিত্র রাতে যুবদল নেতা ফারুক হোসেনের ওপর হামলার ঘটনায় তিনি দুঃখ প্রকাশ করছেন। তিনি জানান, ঘটনার সময় তিনি কুমিল্লায় নিজ বাসায় অবস্থান করছিলেন এবং পরে মামলার বিষয়টি জানতে পারেন।

তিনি আরও বলেন, ঘটনাস্থলে পুলিশ, উপজেলা প্রশাসন ও সেনাবাহিনী দ্রুত উপস্থিত হয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনায় তিনি সংশ্লিষ্ট সবাইকে ধন্যবাদ জানান। দেহেলা গ্রামের বিষয়টি প্রশাসন ও গ্রামবাসীর সঙ্গে আলোচনার মাধ্যমে সমাধান হওয়া উচিত বলে তিনি মনে করেন। ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনা এড়াতে সবাইকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানান তিনি।

একই সঙ্গে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে একে অপরের বিরুদ্ধে উসকানিমূলক লেখালেখি করে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি না করার এবং যারা ঘটনায় জড়িত নন, তাদের যেন হয়রানি না করা হয় সে বিষয়ে অনুরোধ জানান তিনি।

শাহরাস্তি মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ ওসি মীর মাহবুবুর রহমান জানান,পরিস্থিতি শান্ত রয়েছে। আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণ করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

১২৯ বছরের জীবনের অবসান! মতলবের প্রবীণ বারেক বেপারীর বিদায়, বয়স নিয়ে চাঞ্চল্য

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: রবিবার, ২৫ অক্টোবর, ২০২৬, ১১:১৬ পিএম
১২৯ বছরের জীবনের অবসান! মতলবের প্রবীণ বারেক বেপারীর বিদায়, বয়স নিয়ে চাঞ্চল্য

দীর্ঘ ১২৯ বছরের জীবনের অবসান। পৃথিবীর আলো-বাতাসে এক শতাব্দীরও বেশি সময় কাটিয়ে না ফেরার দেশে চলে গেলেন চাঁদপুরের মতলব উত্তর উপজেলার মুদাফর গ্রামের প্রবীণ ব্যক্তি বারেক বেপারী। স্থানীয়দের দাবি, মৃত্যুকালে তাঁর বয়স হয়েছিল ১২৯ বছর। তাঁর দীর্ঘায়ু নিয়ে এলাকায় রয়েছে নানা আলোচনা ও কৌতূহল।

রোববার (২৫ অক্টোবর) সকাল সাড়ে ৯টার দিকে রাজধানীতে মেয়ের বাসায় শেষনিশ্বাস ত্যাগ করেন তিনি। তাঁর মৃত্যুর খবরে পরিবার, স্বজন ও এলাকাবাসীর মধ্যে শোকের ছায়া নেমে এসেছে।

বারেক বেপারী মতলব উত্তর উপজেলার মোহনপুর ইউনিয়নের মুদাফর গ্রামের মৃত লতিফ বেপারীর ছেলে। মৃত্যুকালে তিনি দুই ছেলে, দুই মেয়েসহ অসংখ্য আত্মীয়স্বজন ও গুণগ্রাহী রেখে গেছেন।

রোববার বাদ আসর মুদাফর ঈদগাহ মাঠে তাঁর জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। পরে স্থানীয় কবরস্থানে তাঁকে দাফন করা হয়। জানাজায় ইমামতি করেন তাঁর দৌহিত্র হাফেজ মো. হাফিজ উদ্দিন।

Model Hospital

১২৯ বছরের জীবন, স্থানীয়দের মুখে দীর্ঘায়ুর গল্প

স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, বারেক বেপারী প্রায় ১২৯ বছর বয়স পর্যন্ত বেঁচে ছিলেন। তাঁদের দাবি, এত দীর্ঘ জীবন পাওয়ায় তিনি ছিলেন বিশ্বের সবচেয়ে বয়স্ক ব্যক্তিদের একজন। তবে তাঁর বয়সের পক্ষে আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত ও যাচাইকৃত কোনো নথির তথ্য পাওয়া যায়নি। ফলে ১২৯ বছর বয়সের বিষয়টি স্থানীয়দের দাবি হিসেবেই বিবেচিত হচ্ছে।

মানবজীবনে শতবর্ষ পেরিয়ে বেঁচে থাকা অত্যন্ত বিরল ঘটনা। গিনেস ওয়ার্ল্ড রেকর্ডসের তথ্য অনুযায়ী, ফ্রান্সের জ্যাঁ লুইস কালমঁ ১২২ বছর ১৬৪ দিন বেঁচে ছিলেন, যা কোনো মানুষের সর্বোচ্চ যাচাইকৃত আয়ু হিসেবে স্বীকৃত।

বারেক বেপারীর জীবনও স্থানীয়দের কাছে দীর্ঘায়ুর এক বিস্ময়কর গল্প হয়ে থাকবে। এক শতাব্দীরও বেশি সময়ের জীবনের অবসান ঘটিয়ে তিনি চলে গেলেন চিরবিদায়ের পথে। রেখে গেলেন অসংখ্য স্মৃতি, স্বজনদের ভালোবাসা আর দীর্ঘ জীবনের নানা গল্প।

দীর্ঘ জীবনের পথচলা থেমে গেল, কিন্তু স্মৃতিতে বেঁচে থাকবেন বারেক বেপারী।

তাঁর মৃত্যুতে শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানিয়েছেন স্বজন ও এলাকাবাসী। মহান আল্লাহ তাঁকে ক্ষমা করুন, তাঁর কবরকে প্রশস্ত করুন এবং জান্নাতুল ফেরদৌস নসিব করুন। আমিন।