আমাদের পবিত্র কোরআন পুরো একটি জীবন বিধান : অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক এরশাদ উদ্দিন
নিজস্ব প্রতিনিধি প্রকাশিত: সোমবার, ৯ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, ৮:১৬ পিএম
চাঁদপুর আহমাদিয়া ফাজিল (ডিগ্রী) মাদরাসার ক্রীড়া প্রতিযোগিতা ও পুরষ্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখছেন অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক মোঃ এরশাদ উদ্দিন।
চাঁদপুর আহমাদিয়া ফাজিল (ডিগ্রী) মাদরাসার বার্ষিক ক্রীড়া প্রতিযোগিতা ও পুরষ্কার বিতরণী অনুষ্ঠিত হয়েছে। সোমবার (৯ ফেব্রুয়ারি) সকাল ১১টায় মাদ্রাসার মিলনায়তনে এই আয়োজন করা হয়। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন চাঁদপুরের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক মোঃ এরশাদ উদ্দিন।
চাঁদপুর আহমাদিয়া ফাজিল (ডিগ্রী) মাদ্রাসা অধ্যক্ষ মাসুম বিল্লাল মজুমদাররে সভাপতিত্বে বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন জেলা শিক্ষা অফিসার মোঃ রুহুল্লাহ, চাঁদপুর প্রেসক্লাবের সভাপতি সোহেল রুশদী, চাঁদপুর জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট নাহিদ ইকবাল, চাঁদপুর প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক এম লতিফ, সহকারী অধ্যাপক মো : ইকবাল হোসেন পাটওয়ারী।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক মোঃ এরশাদ উদ্দিন বলেন, শিক্ষার্থীদের শারীরিক ও মানসিক বিকাশে জন্য লেখাপড়ার পাশাপাশি ক্রীড়া ও সাহিত্য-সংস্কৃতি চর্চা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। এই মাদ্রাসায় এসে এই ধরনের আয়োজন দেখে আমার ভালো লেগেছে। আমি চাইব পড়াশুনার পাশাপাশি আপনারা এমন সাহিত্য-সংস্কৃতি কর্মকাণ্ড অব্যাহত রাখবেন। সামনে শিক্ষার্থীদের পরীক্ষা রয়েছে। তাই প্রয়োজনে তাদের অতিরিক্ত ক্লাশ করাবেন। যাতে করে ছাত্র-ছাত্রীরা ভাল ফলাফল করতে পারে।
তিনি শিক্ষার্থীদের উদ্দেশ্যে বলেন, আমাদের পবিত্র কোরআন পুরো একটি জীবন বিধান। তাই পবিত্র এ গ্ৰন্থ থেকে আমরা সুন্দর জীবন গড়ার সকল কিছু গ্রহণ করতে পারি। কোরআন হাদিস শুধুমাত্র মুখস্ত পড়লেই চলবে না, ভালো করে বুঝা এবং ধারণ করার চেষ্টা করবে। ধর্মীয় গ্রন্থের পড়াগুলো নিয়ে সম্ভব হলে গবেষণা করার চেষ্টা করবে। তবেই তোমরা দুনিয়া এবং আখেরাতে এর সুফল পাবে।
চাঁদপুর আহমাদিয়া ফাজিল (ডিগ্রী) মাদরাসার ক্রীড়া প্রতিযোগিতার বিজয়ীদের হাতে পুরস্কার তুলে দেন অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক মোঃ এরশাদ উদ্দিন।
অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক শিক্ষকদের উদ্দেশ্যে বলেন, বার্ষিক ক্রীড়া প্রতিযোগিতার এই একটি দিনের জন্য শিক্ষার্থী সারা বছর ধরে অধীর আগ্রহ অপেক্ষায় থাকে। এই দিনটিকে তারা উৎসবের সাথে উপভোগ করবে বলে। কিন্তু পরিতাপের বিষয় হচ্ছে চাঁদপুর শহরে অনেক শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে খেলাধুলার কোন মাঠ নেই। এখানে এসেও আমি সেটি দেখতে পেলাম।অথচ এই প্রতিষ্ঠানটির সুন্দর অবকাঠামো শিক্ষার্থী এবং সুদক্ষ শিক্ষক পরিষদ রয়েছে। তিনি বলেন, আগামীতে অন্য কোন মাঠে উন্মুক্ত পরিবেশে এই ধরনের আয়োজন করার জন্য আপনারা চেষ্টা করবেন। প্রয়োজনে সেটি দিনব্যাপী চাঁদপুর শহরের হাসান আলী স্কুল মাঠ এবং চাঁদপুর আউটার স্টেডিয়ামে হতে পারে। আমরা চাই কোমলমতি শিক্ষার্থীরা বছরের এই ক্রীড়া অনুষ্ঠানের দিনটিতে ভবনবন্দী না হয়ে খোলা আকাশের নিচে, উন্মুক্ত পরিবেশে খেলা এবং পুরস্কার বিতরণ উদযাপন একই সাথে হোক ।
বিশেষ অতিথির বক্তব্যে জেলা শিক্ষা অফিসার মোহাম্মদ রুহুল্লাহ বলেন, বেশির ভাগ মাদরাসাতেই খেলাধুলার চর্চা নেই। বার্ষিক ক্রীড়াও হয় কম। তবে এই ঐতিহ্যবাহী মাদরাসা এর ধারাবাহিকতা ধরে রেখেছে ক্রীড়ানুষ্ঠান করে। এছাড়া এই প্রতিষ্ঠানের অনেক শিক্ষার্থী দ্বিনী ও সাধারণ শিক্ষা গ্রহন করে বেশ সুনাম করেছে। তিনি শিক্ষার্থীদের বলেন, মানুষের মতো মানুষ হতে হবে। একাডেমিক পড়াশুনা, খেলাধুলাসহ সকল বিষয়ে তোমাদের পারদর্শী হতে হবে।
চাঁদপুর প্রেসক্লাবের সভাপতি সোহেল রুশদী বলেন, আমাদের সন্তানদের ভালো শিক্ষার্থী হিসেবে গড়ে তোলার পাশাপাশি ভালো মানুষ হিসেবে গড়ে তুলতে হবে। একটি উন্নত-সমৃদ্ধ এবং মানবিক সমাজ তথা, পৃথিবী গড়ে তোলার জন্য ভালো মানুষের খুব প্রয়োজন। পুঁথিগত বিদ্যার পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের ক্রীড়া, সাহিত্য-সংস্কৃতি এবং প্রযুক্তিগত শিক্ষায় শিক্ষিত করে তুলতে হবে। না হয় প্রতিযোগিতার বিশ্বে তারা পিছিয়ে পড়বে।
তিনি আরো বলেন, এই মাদ্রাসাটি চাঁদপুর শহরের প্রাণকেন্দ্রে অবস্থিত। শিক্ষকদের চমৎকার দায়িত্বশীল নেতৃত্বে এই মাদ্রাসাটি দীর্ঘকাল ধরে শিক্ষা ক্ষেত্রে গৌরব ধরে রেখেছে। আমরা আশা করব আগামীতেও এই ধারাবাহিকতা অব্যাহত থাকবে। আজকে তাদের চমৎকার আয়োজন দেখে আমরা আনন্দিত হয়েছি। আগামীতে তাদের যেকোনো প্রয়োজনে চাঁদপুর প্রেসক্লাব তথা সাংবাদিক সমাজ পাশে থাকবে।
এর আগে দিন কয়েক ধরে উৎসবমুখর পরিবেশে বিভিন্ন ইভেন্টে ক্রীড়া প্রতিযোগিতা ও ধর্মীয় সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান সম্পন্ন করা হয়। শিক্ষার্থীদের প্রাণবন্ত উপস্থিতিতে দিন ব্যাপী এই আয়োজন উৎসবে পরিণত হয়। আহমাদিয়া ফাজিল (ডিগ্রী) মাদরাসার সহকারী অধ্যাপক মাওলানা আব্দুল হামিদের পরিচালনায় ক্রীড়া প্রতিযোগিতা ও পুরস্কার বিতরণ অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য রখেন মাদরাসার উপাধ্যক্ষ মাওলানা মিজানুর রহমান, সহকারী অধ্যাপক জহিরুল ইসলাম প্রমুখ । পরে প্রধান অতিথি, বিশেষ অথিথিগন শিক্ষার্থীদের হাতে পুরস্কার তুলে দেন।
নিজস্ব প্রতিনিধি প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৩ অক্টোবর, ২০২৬, ১০:২৭ পিএম
চাঁদপুরে ‘টাকা মাত্র ১০ হাজার, খুলবে ব্যবসার দ্বার’ এই স্লোগানে অনুষ্ঠিত হয়েছে ব্যবসায়ী সম্মেলন। সম্মেলনে দেশের অর্থনৈতিক অগ্রগতি তরান্বিত করতে নতুন উদ্যোক্তা তৈরি, সৎ-আদর্শ ব্যবসায়ী গড়ে তোলা এবং উৎপাদনমুখী শিল্পপ্রতিষ্ঠান প্রতিষ্ঠার ওপর জোর দিয়েছেন বক্তারা।
শুক্রবার (২৩ অক্টোবর) সকালে চাঁদপুর শহরের চেয়ারম্যানঘাট এলাকার ইউরেশিয়া কনভেনশন হলে ইন্ডাস্ট্রিয়ালিস্টস অ্যান্ড বিজনেসমেন ওয়েলফেয়ার ফাউন্ডেশন (আইবিডাব্লিউএফ) চাঁদপুর জেলা শাখা এ সম্মেলনের আয়োজন করে।
সম্মেলনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে সংগঠনটির কেন্দ্রীয় সভাপতি মুহাম্মদ শহিদুল ইসলাম বলেন, ‘২০৫০ সালের বিশ্ব শিল্পবিপ্লবের সঙ্গে তাল মেলাতে হলে আমাদের উৎপাদনে যেতে হবে। শিল্পপ্রতিষ্ঠান গড়ে তোলার কোনো বিকল্প নেই।’
তিনি আরও বলেন, ‘বাংলাদেশ বাণিজ্যিকভাবে সম্ভাবনাময় দেশ। ১৮ কোটি মানুষের বিশাল বাজার থাকায় দেশি-বিদেশি বিনিয়োগকারীদের কাছে বাংলাদেশের গুরুত্ব রয়েছে। এ সম্ভাবনাকে কাজে লাগাতে ব্যবসায়ীদের উৎপাদনমুখী হতে হবে।’
চীনসহ বিভিন্ন উৎপাদনকারী দেশ সফরের অভিজ্ঞতা তুলে ধরে তিনি বলেন, ‘উৎপাদনই এসব দেশের অর্থনৈতিক পরিবর্তনের অন্যতম প্রধান শক্তি।
তিনি আরও বলেন, সম্পদ অর্জন করতে হবে, তবে তা অবশ্যই সৎ পথে। সংগঠনের সদস্য হওয়ার ক্ষেত্রে ব্যক্তি বা ধর্মীয় পরিচয়ে কোনো বাধা নেই, তবে সততা থাকতে হবে। সঠিক পরিকল্পনা, সততা, সাহস, দক্ষতা ও কঠোর পরিশ্রমের মাধ্যমে চাঁদপুরেও বড় শিল্পোদ্যোক্তা তৈরি করা সম্ভব।’
সম্মেলনে অংশ নেওয়া পাঁচ শতাধিক ব্যবসায়ীর মধ্যে মাত্র ১৬ জন উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে যুক্ত রয়েছেন উল্লেখ করে তিনি বলেন, এই উদ্যোক্তারা চাঁদপুরে শিল্পায়নের সম্ভাবনা জাগিয়ে তুলেছেন। মাত্র তিনটি মেশিন দিয়ে উৎপাদন শুরু করে তিন বছরের মধ্যে একটি প্রতিষ্ঠানকে অর্ধশতাধিক মেশিনে বিভিন্ন পণ্য উৎপাদন করতে দেখেছেন বলেও নিজের অভিজ্ঞতা তুলে ধরেন তিনি। তার মতে, এ ধরনের সাফল্য নতুন উদ্যোক্তাদের অনুপ্রাণিত করতে পারে।
আইবিডাব্লিউএফের চাঁদপুর জেলা শাখার সভাপতি অধ্যাপক শাহ্ আলমের সভাপতিত্বে সম্মেলনে বিশেষ অতিথির বক্তব্য দেন সংগঠনটির কেন্দ্রীয় অর্থ সম্পাদক হুমায়ুন কবির পাটওয়ারী, কুমিল্লা আঞ্চলিক সভাপতি কাজী নজরুল ইসলাম খাদেম এবং জেলা শাখার উপদেষ্টা অধ্যক্ষ মো. হারুন অর রশিদ উসমানী।
জেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক রেজাউল করিমের সঞ্চালনায় শুভেচ্ছা বক্তব্য দেন সহসভাপতি মোজাম্মেল হক পরান ও বাদশা ফয়সাল।
ব্যবসায়ীদের মধ্যে বক্তব্য দেন মাওলানা আবু জাফর সিদ্দিক, শাখাওয়াত হোসেন, আবুবকর সিদ্দিক, হাফেজ তাজবীর ও সাইফুল ইসলাম সবুজ প্রমুখ।
বক্তারা নিজেদের ব্যবসায়িক অভিজ্ঞতা ও সাফল্যের গল্প তুলে ধরে সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গঠনে ব্যবসায়ীদের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকার কথা বলেন। পাশাপাশি নতুন উদ্যোক্তা তৈরি, ব্যবসায়ীদের ঐক্যবদ্ধ করা এবং সততা ও আদর্শের ভিত্তিতে ব্যবসা পরিচালনার আহ্বান জানান।