শুক্রবার, ২৩ অক্টোবর ২০২৬, ৯ কার্তিক ১৪৩৩
শুক্রবার, ২৩ অক্টোবর ২০২৬, ৯ কার্তিক ১৪৩৩

হাসান মিয়াজী হাজীগঞ্জ পৌর ‘প্রশাসক’ হলে উপকৃত হবে পৌরবাসী

নিজস্ব প্রতিনিধি প্রকাশিত: বুধবার, ১৮ মার্চ, ২০২৬, ১২:৪৫ এম
হাসান মিয়াজী হাজীগঞ্জ পৌর ‘প্রশাসক’ হলে উপকৃত হবে পৌরবাসী

দেশের ১১টি সিটি কর্পোরেশন ও ৪২টি জেলা পরিষদে ‘প্রশাসক’ নিয়োগ দিয়েছে সরকার। প্রশাসনিক ও উন্নয়নের কার্যক্রমে গতি আনতে সরকার দলীয় নেতাদের সিটি কর্পোরেশনে ও জেলা পরিষদে ৫৩ জন প্রশাসককে নিয়োগ দেওয়া হয়। প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, পরবর্তী আদেশ না দেওয়া পর্যন্ত তাঁরা প্রশাসকের দায়িত্ব পালন করবেন।

এদিকে সিটি কর্পোরেশন ও জেলা পরিষদে ‘প্রশাসক’ নিয়োগ পর গুঞ্জন উঠেছে দেশের সকল পৌরসভায় প্রশাসক নিয়োগ করবে সরকার। এমন গুঞ্জনে আলোচনা চলছে বিএনপির নেতাকর্মী ও সমর্থকদের মাঝে। তাদের দাবী, র্দুদিনে দলের ত্যাগী নেতাকে মূল্যায়ন সামাজিক ও রাজনৈতিক অবস্থান বিবেচনায় যেন প্রশাসক নিয়োগ দেওয়া হয়।

এ ক্ষেত্রে উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহবায়ক ও সাবেক সহ-সভাপতি, রাজনেতিক প্রতিহিংসার শিকার, কারা-নির্যাতিত, আর্থিক ও সামাজিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত, বিশিষ্ট ব্যবসায়ী, শিক্ষানুরাগী, সমাজসেবক ও রাজনীতিবীদ মোহাম্মদ হাসান মিয়াজীকে হাজীগঞ্জ পৌরসভার প্রশাসক হিসেবে দেখতে চায় দলীয় নেতাকর্মী ও পৌরবাসী।

কথা হয়, পৌরসভার ওয়ার্ড পর্যায়ে বিএনপির একাধীক কর্মী ও সমর্থকের সাথে। তারা বলেন, আওয়ামী সরকারের খামখেয়ালীপনা ও গত ১৮ মাস উন্নয়ন বঞ্চিত হাজীগঞ্জ পৌরসভা। তাই, পৌরসভার উন্নয়ন ত্বরান্বিত করতে প্রশাসক হিসেবে হাসান মিয়াজীকে দেখতে চাই। এ ব্যাপারে প্রধানমন্ত্রীর কাছে আমরা জোর দাবি জানাই।

Model Hospital

এছাড়া দলের বিভিন্ন পদে থাকা দায়িত্বশীল কয়েকজন নেতার সাথে কথা হলে তারা জানান, আওয়ামী সরকারের পতনের পর প্রায় ডজনখানেক নেতা ও তাদের সমর্থকরা হাজীগঞ্জ পৌরসভার মেয়র পদে সম্ভাব্য প্রার্থী হিসেবে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যাম ও পৌরসভার বিভিন্ন স্থানে ব্যানার, পেষ্টুন সাঁটিয়ে তাদের প্রার্থীতার জানান দিয়েছেন।

তারা বলেন, সম্ভাব্য প্রার্থীদের মধ্যে কয়েকজন র্দুদিনে অবদান রেখেছেন। মামলা-হামলার শিকার এবং আর্থিক ও সামাজিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। তবে রাজনৈতিক ক্ষেত্রে অবদান থাকলেও পৌরসভার মেয়র বা প্রশাসক হিসেবে আমরা পারিবারিক, সামাজিক, আর্থিক, রাজনৈতিক ও মানবিক গুনাবলী সম্পন্ন একজনকে নেতাকে দেখতে চাই। এ ক্ষেত্রে কারা-নির্যাতিত বিএনপি নেতা মোহাম্মদ হাসান মিয়াজী এগিয়ে রয়েছেন বলে তারা জানান।

প্রসঙ্গত, হাসান মিয়াজী হাজীগঞ্জ পৌরসভার ৬নং ওয়ার্ডের বাসিন্দা। তিনি একাধারে ব্যবসায়ী, শিক্ষানুরাগী, সমাজসেবক ও রাজনীতিবীদ। সর্বোপরি তিনি মানবিক গুণাবলির বৈশিষ্ট্যের অধিকারি একজন মানুষ। ১৯৯৩ সালে জগন্নাথ বিশ^বিদ্যালয়ে পড়ার সময় তিনি বিএনপির রাজনীতিতে জড়িয়ে পড়েন। পাশাপাশি নিজ উদ্যোগে ব্যবসায়ীক কার্যক্রম শুরু করেন। সেই থেকে ব্যবসার মাধ্যমে তিনি দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নে অগ্রণী ভূমিকা পালন করছেন।

তাঁর প্রতিষ্ঠানের অধীনে বহু মানুষের কর্মসংস্থানের সুযোগে হয়েছে। তিনি তাঁর আয়ের সিংহভাগ মানবহিতৈষী কাজে ব্যয় করেন। এর মধ্যে তিনি তাঁর ব্যক্তি উদ্যোগে ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে অস্বচ্ছল ও দরিদ্র পরিবার’সহ বিএনপির দলীয় অসহায় নেতাকর্মীদের আর্থিক সহযোগিতা, বসতঘর ও রাস্তা-ঘাট নির্মাণ, ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানে (মসজিদ, মাদ্রাসা ও মন্দির) ও ধর্মীয় কাজে আর্থিক সহযোগিতা করেছেন এবং এখন পর্যন্ত তিনি এসব মানুষের পাশে আছেন।

মোহাম্মদ হাসান মিয়াজীর প্রশংসনীয় সামাজিক, মানবিক ও রাজনৈতিক কাজের কারণে তিনি কিছু সংখ্যক আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীর চক্ষুশূল হয়ে পড়েন। ২০২৪ সালে বিএনপির অবরোধ চলাকালীন সময়ে তিনি ঢাকা থেকে নিজ বাড়িতে আসেন এবং দলীয় কর্মসূচী বাস্তবায়নে নেতাকর্মীদের সাথে আলোচনা করার সময় তৎকালীন হাজীগঞ্জ থানার অফিসার ইনর্চাজ (ওসি) মোহাম্মদ আব্দুর রশিদের নেতৃত্বে তাকে আটক করে থানায় নিয়ে আসা হয়।

ওই সময়ে রাজনৈতিক মামলায় গ্রেফতার না দেখিয়ে আওয়ামী লীগের নেতাদের প্ররোচনায় তাকে ডাবল মার্ডার মামলার আসামি করে আদালতে সোপর্দ করা হয়। অথচ হত্যাকাণ্ডের শিকার বৃদ্ধ উত্তম চন্দ্র বর্মণ ও তার স্ত্রী কাজলী রানী বর্মণ হত্যা মামলার এজাহারে হাসান মিয়াজীর নাম ছিলো না। তারপরও রাজনৈতিক প্রতিহিংসার বশবর্তী হয়ে আওয়ামী লীগ নেতাদের কথায় তাকে এই ডাবল মার্ডার মামলা’সহ একাধিক মামলার আসামি করা হয়।

এই মামলায় তিনি দীর্ঘদিন জেল খেটেছেন। পরবর্তীতে তিনি উচ্চ আদালত থেকে জামিনে বের হয়ে আসেন। অথচ চুরি সংক্রান্ত ঘটনায় এ হত্যাকাণ্ডটি সংঘটিত হয়েছে বলে তদন্ত রিপোর্টে প্রতিয়মান হয় এবং পরবর্তীতে সরকার পতনের পর নিরপেক্ষ তদন্তে তিনি ওই মামলায় বেকসুর খালাস পান।

সবশেষ শেখ হাসিনা সরকারের বিরুদ্ধে ২০২৪ সালে বৈষম্য বিরোধী ছাত্র-জনতার আন্দোলন চলাকালীন সময়ে রাজধানীর রামপুরা থানায় বিশেষ ক্ষমতা আইনে দায়েরকৃত একটি মামলায় (নং-১৯(৭)২৪) হাসান মিয়াজীকে গ্রেফতার করে কাশিমপুর কারাগারে পাঠানো হয়। ওই মামলার আসামি ছিলেন, বিএনপির কেন্দ্রিয় নেতা আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী, সুলতান সালাউদ্দিন টুকু ও নিপুন রায় চৌধুরীসহ আরো অনেকে।

ওই মামলাও তিনি উচ্চ আদালতের মাধ্যমে বিএনপির কেন্দ্রিয় নেতাদের সাথে জামিনে বের হয়ে আসেন। এর আগে ২০১৩ সালে বিশেষ ক্ষমতা আইনে হাজীগঞ্জ থানায় একটি দায়েরকৃত মামলায় (নং-২৩) তাকে আসামি করা হয়। আর এভাবেই তিনি একেরপর এক মামলার আসামি হয়ে ব্যবসায়ীক ও সামাজিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন।

তাই, বিএনপির চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের কাছে দলীয় নেতাকর্মীদের দাবি, ত্যাগি ও দুর্দিনে নেতাকর্মী’সহ অসহায় মানুষের পাশে থাকা মোহাম্মদ হাসান মিয়াজীকে যেনো হাজীগঞ্জ পৌরসভার প্রশাসক পদে নিয়োগ দেওয়া হয়।

উৎপাদনই বদলাবে বাংলাদেশ: দক্ষতা বৃদ্ধিতে চাঁদপুরে ব্যবসায়ী সম্মেলন

নিজস্ব প্রতিনিধি প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৩ অক্টোবর, ২০২৬, ১০:২৭ পিএম
উৎপাদনই বদলাবে বাংলাদেশ: দক্ষতা বৃদ্ধিতে চাঁদপুরে ব্যবসায়ী সম্মেলন

চাঁদপুরে ‘টাকা মাত্র ১০ হাজার, খুলবে ব্যবসার দ্বার’ এই স্লোগানে অনুষ্ঠিত হয়েছে ব্যবসায়ী সম্মেলন। সম্মেলনে দেশের অর্থনৈতিক অগ্রগতি তরান্বিত করতে নতুন উদ্যোক্তা তৈরি, সৎ-আদর্শ ব্যবসায়ী গড়ে তোলা এবং উৎপাদনমুখী শিল্পপ্রতিষ্ঠান প্রতিষ্ঠার ওপর জোর দিয়েছেন বক্তারা।

শুক্রবার (২৩ অক্টোবর) সকালে চাঁদপুর শহরের চেয়ারম্যানঘাট এলাকার ইউরেশিয়া কনভেনশন হলে ইন্ডাস্ট্রিয়ালিস্টস অ্যান্ড বিজনেসমেন ওয়েলফেয়ার ফাউন্ডেশন (আইবিডাব্লিউএফ) চাঁদপুর জেলা শাখা এ সম্মেলনের আয়োজন করে।

সম্মেলনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে সংগঠনটির কেন্দ্রীয় সভাপতি মুহাম্মদ শহিদুল ইসলাম বলেন, ‘২০৫০ সালের বিশ্ব শিল্পবিপ্লবের সঙ্গে তাল মেলাতে হলে আমাদের উৎপাদনে যেতে হবে। শিল্পপ্রতিষ্ঠান গড়ে তোলার কোনো বিকল্প নেই।’

তিনি আরও বলেন, ‘বাংলাদেশ বাণিজ্যিকভাবে সম্ভাবনাময় দেশ। ১৮ কোটি মানুষের বিশাল বাজার থাকায় দেশি-বিদেশি বিনিয়োগকারীদের কাছে বাংলাদেশের গুরুত্ব রয়েছে। এ সম্ভাবনাকে কাজে লাগাতে ব্যবসায়ীদের উৎপাদনমুখী হতে হবে।’

Model Hospital

চীনসহ বিভিন্ন উৎপাদনকারী দেশ সফরের অভিজ্ঞতা তুলে ধরে তিনি বলেন, ‘উৎপাদনই এসব দেশের অর্থনৈতিক পরিবর্তনের অন্যতম প্রধান শক্তি।

তিনি আরও বলেন, সম্পদ অর্জন করতে হবে, তবে তা অবশ্যই সৎ পথে। সংগঠনের সদস্য হওয়ার ক্ষেত্রে ব্যক্তি বা ধর্মীয় পরিচয়ে কোনো বাধা নেই, তবে সততা থাকতে হবে। সঠিক পরিকল্পনা, সততা, সাহস, দক্ষতা ও কঠোর পরিশ্রমের মাধ্যমে চাঁদপুরেও বড় শিল্পোদ্যোক্তা তৈরি করা সম্ভব।’

সম্মেলনে অংশ নেওয়া পাঁচ শতাধিক ব্যবসায়ীর মধ্যে মাত্র ১৬ জন উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে যুক্ত রয়েছেন উল্লেখ করে তিনি বলেন, এই উদ্যোক্তারা চাঁদপুরে শিল্পায়নের সম্ভাবনা জাগিয়ে তুলেছেন। মাত্র তিনটি মেশিন দিয়ে উৎপাদন শুরু করে তিন বছরের মধ্যে একটি প্রতিষ্ঠানকে অর্ধশতাধিক মেশিনে বিভিন্ন পণ্য উৎপাদন করতে দেখেছেন বলেও নিজের অভিজ্ঞতা তুলে ধরেন তিনি। তার মতে, এ ধরনের সাফল্য নতুন উদ্যোক্তাদের অনুপ্রাণিত করতে পারে।

আইবিডাব্লিউএফের চাঁদপুর জেলা শাখার সভাপতি অধ্যাপক শাহ্ আলমের সভাপতিত্বে সম্মেলনে বিশেষ অতিথির বক্তব্য দেন সংগঠনটির কেন্দ্রীয় অর্থ সম্পাদক হুমায়ুন কবির পাটওয়ারী, কুমিল্লা আঞ্চলিক সভাপতি কাজী নজরুল ইসলাম খাদেম এবং জেলা শাখার উপদেষ্টা অধ্যক্ষ মো. হারুন অর রশিদ উসমানী।

জেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক রেজাউল করিমের সঞ্চালনায় শুভেচ্ছা বক্তব্য দেন সহসভাপতি মোজাম্মেল হক পরান ও বাদশা ফয়সাল।

ব্যবসায়ীদের মধ্যে বক্তব্য দেন মাওলানা আবু জাফর সিদ্দিক, শাখাওয়াত হোসেন, আবুবকর সিদ্দিক, হাফেজ তাজবীর ও সাইফুল ইসলাম সবুজ প্রমুখ।

বক্তারা নিজেদের ব্যবসায়িক অভিজ্ঞতা ও সাফল্যের গল্প তুলে ধরে সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গঠনে ব্যবসায়ীদের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকার কথা বলেন। পাশাপাশি নতুন উদ্যোক্তা তৈরি, ব্যবসায়ীদের ঐক্যবদ্ধ করা এবং সততা ও আদর্শের ভিত্তিতে ব্যবসা পরিচালনার আহ্বান জানান।