সোমবার, ২৬ অক্টোবর ২০২৬, ১২ কার্তিক ১৪৩৩
সোমবার, ২৬ অক্টোবর ২০২৬, ১২ কার্তিক ১৪৩৩

কচুয়ায় জান্নাত ওয়েল ফেয়ার ট্রাস্টের আয়োজনে ১ হাজার অসহায় পরিবারের মাঝে ঈদ উপহার ও নগদ অর্থ বিতরণ

ইসমাইল হোসেন বিপ্লব, কচুয়া প্রকাশিত: বুধবার, ১৮ মার্চ, ২০২৬, ৮:২৮ পিএম
কচুয়ায় জান্নাত ওয়েল ফেয়ার ট্রাস্টের আয়োজনে ১ হাজার অসহায় পরিবারের মাঝে ঈদ উপহার ও নগদ অর্থ বিতরণ

কচুয়ায় জান্নাত ওয়েল ফেয়ার ট্রাস্টেও উদ্যোগে ঈদ উপহার ও নগদ অর্থ বিতরণ করছেন অতিথিবৃন্দ।

পবিত্র ঈদুল ফিতর উপলক্ষ্যে কচুয়ায় জান্নাত ওয়েল ফেয়ার ট্রাস্টের আয়োজনে জান্নাত হোমস সিইও বিশিষ্ট ব্যবসায়ী ও প্রবাসী মামুন মিয়াজির উদ্যোগে এক হাজার অসহায়, গরিব দুঃখী মানুষের মাঝে ঈদ সামগ্রী ও নগদ অর্থ বিতরণ করা হয়েছে। বুধবার সকালে উপজেলা বুরগী গ্রামে ট্রাস্টের সভাপতি সেলিম মিয়াজী প্রধান অতিথি হিসেবে ঈদ উপহার ও নগদ অর্থ বিতরণ করা হয়।

অনুষ্ঠানে সংক্ষিপ্ত আলোচনায় বক্তব্য রাখেন, উপজেলা বিএনপির সহ-সভাপতি মোঃ আব্দুল আজিজ মাস্টার, সদস্য শহিদুল্লাহ মিয়াজী, ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মোঃ আবু আব্দুল্লাহ নয়ন, কচুয়া প্রেসক্লাবের সভাপতি আতাউল করিম, ইউনিয়ন যুবদলের সাংগঠনিক সম্পাদক মোঃ কবির হোসেন প্রমুখ।

অনুষ্ঠানের সার্বিকভাবে সহযোগিতা করেন, জাতীয়তাবাদী প্রবাসী ফোরামের নেতা বোরহান মির্জা,উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সিনিয়র সহ-সভাপতি মোঃ কাউছার হোসেন, সমাজসেবক ফয়েজ আহমেদ, সবুজ আহমেদ ও আবুল কালাম রিপন।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বুরগী গ্রামে বিশিষ্ট ব্যবসায়ী ও সমাজসেবক প্রবাসী মামুন মিয়াজির উদ্যোগে প্রতিবছরে নিয়মিতভাবে এই মানবিক কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছেন। প্রতি বছর ঈদের আগে তারা গ্রামের অসচ্ছল ও দরিদ্র পরিবারগুলোর জন্য খাদ্যসামগ্রী ও প্রয়োজনীয় উপহার সংগ্রহ করে বিতরণ করেন। প্রবাসী মামুন মিয়াজীর মূল উদ্দেশ্য হচ্ছে, গ্রামের কোনো পরিবার যেন ঈদের আনন্দ থেকে বঞ্চিত না থাকে। উপহার পেয়ে স্থানীয় অসহায় মানুষদের মধ্যে আনন্দ ও স্বস্তি দেখা গেছে।

Model Hospital

প্রবাসী মামুন মিয়াজি বলেন, ঈদের আনন্দ সবার সঙ্গে ভাগাভাগি করাই তার মূল লক্ষ্য। সমাজের অসহায় ও সুবিধাবঞ্চিত মানুষের পাশে দাঁড়ানোকে তিনি দায়িত্ব হিসেবে দেখেন। নিজের সামর্থ্য অনুযায়ী নিয়মিত মানুষের পাশে থাকার চেষ্টা করেন বলেও জানান তিনি।

তিনি আরও বলেন, সরকারের পাশাপাশি সমাজের অন্যান্য সচ্ছল মানুষদেরও এগিয়ে আসা প্রয়োজন। সবাই একসঙ্গে কাজ করলে এলাকার দারিদ্র্য অনেকটাই কমানো সম্ভব হবে।

ভবিষ্যতেও এ ধরনের কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার ইচ্ছা প্রকাশ করে মামুন মিয়াজী বলেন, মানুষের সেবা করার মানসিকতা থেকেই তিনি কাজ করে যাচ্ছেন এবং গোহট উত্তর ইউনিয়নের মানুষের মুখে হাসি ফোটানোই তার লক্ষ্য।
স্থানীয়রা জানান, দীর্ঘদিন ধরে মামুন মিয়াজী বিভিন্ন সামাজিক ও মানবিক কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্ত রয়েছেন। তার এসব উদ্যোগ এলাকায় ইতিবাচক প্রভাব ফেলছে।

 

চাঁদপুরে আটক নিষিদ্ধ ছাত্রলীগ নেতাকে ছাড়িয়ে নিলেন ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক 

নিজস্ব প্রতিনিধি প্রকাশিত: সোমবার, ২৬ অক্টোবর, ২০২৬, ১০:৩৫ এম
চাঁদপুরে আটক নিষিদ্ধ ছাত্রলীগ নেতাকে ছাড়িয়ে নিলেন ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক 

নিষিদ্ধ ছাত্রলীগ নেতা তামজিদ মৃধা

চাঁদপুরের মতলব দক্ষিণে পুলিশের অভিযানে আটক হওয়া নিষিদ্ধঘোষিত ইউনিয়ন ছাত্রলীগের সভাপতিকে ছাড়িয়ে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আবুল কালাম আজাদসহ ইউনিয়ন বিএনপি ও যুবদলের কয়েকজন নেতা-কর্মীর বিরুদ্ধে। এঘটনায় সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমসহ এলাকাজুড়ে ব্যাপক সমালোচনার ঝড় বইছে।
শনিবার (২৪ অক্টোবর) রাত ৯টার দিকে মতলব দক্ষিণ উপজেলার নায়েরগাঁও দক্ষিণ ইউনিয়নের আশ্বিনপুর মোড় এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
ছাড়িয়ে নেওয়া নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের ওই নেতার নাম তামজিদ হাসান মৃধা (৩২)। তিনি মতলব দক্ষিণ উপজেলার নায়েরগাঁও দক্ষিণ ইউনিয়ন ছাত্রলীগের সভাপতি। তামজিদ মৃধা ওই ইউনিয়নের আশ্বিনপুর গ্রামের মৃত আবদুল আউয়াল বাচ্চু মৃধার ছেলে। তার দুই ভাই বিএনপির রাজনীতির সাথে জরিত। এক ভাই তোফায়েল মৃধা উপজেলা যুবদলের সদস্য এবং আরেক ভাই আলম মৃধা ইউনিয়ন বিএনপির প্রচার সম্পাদক।
তামজিদ মৃধার বিরুদ্ধে মতলব দক্ষিণ থানায় ২০২৬ সালের ২০ সেপ্টেম্বর সন্ত্রাসবিরোধী আইনে মামলা রয়েছে।
​স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত ২৪ অক্টোবর রাত ৯টার দিকে মতলব দক্ষিণ উপজেলার নায়েরগাঁও দক্ষিণ ইউনিয়নের আশ্বিনপুর মাদ্রাসার সামনে থেকে নিষিদ্ধ ঘোষিত সংগঠন বাংলাদেশ ছাত্রলীগের নায়েরগাঁও দক্ষিণ ইউনিয়ন শাখার সভাপতি তামজিদ হাসান মৃধাকে আটক করে পুলিশ। খবর পেয়ে ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আবুল কালাম আজাদ, ইউনিয়ন যুবদলের সাধারণ সম্পাদক শরীফ পাটোয়ারী, উপজেলা যুবদলের সদস্য এবং আটক তামজিদ মৃধার বড় ভাই তোফায়েল মৃধা, আরেক ভাই ইউনিয়ন বিএনপির প্রচার সম্পাদক আলম মৃধাসহ কয়েকজন ঘটনাস্থলে উপস্থিত হন। একপর্যায়ে তাঁরা পুলিশকে চাপ দিয়ে আটক ছাত্রলীগ সভাপতিকে ছাড়িয়ে নিয়ে যান। এ ঘটনাটি প্রকাশ্যে আসার পর স্থানীয় বিএনপি নেতাকর্মীসহ এলাকাবাসীর মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও সমালোচনার ঝড় বইছে।
​নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক বিএনপির নেতাকর্মী ও এলাকাবাসী জানান, আটক তামজিদ মৃধার কাছ থেকে মাদক উদ্ধার করা হলেও সবকিছু জেনে শুনে মোটা অঙ্কের টাকার বিনিময়ে তাঁকে ছাড়িয়ে নেন বিএনপি নেতা আবুল কালাম আজাদ। এর ফলে দলের ভাবমূর্তি মারাত্মকভাবে ক্ষুণ্ন হচ্ছে বলে অভিযোগ করেন তারা। এলাকাবাসীর দাবি, গত ৫ আগস্টের পর থেকে এই বিএনপি নেতা সরকারি গাছ বিক্রি, সরকারি চাল আত্মসাৎসহ নানা ধরনের অনিয়ম ও অনৈতিক কর্মকাণ্ডের সাথে জড়িয়ে পড়েছেন। মতলব দক্ষিণ উপজেলা বিএনপির সভাপতি, সাধারণ সম্পাদকসহ জ্যেষ্ঠ নেতৃবৃন্দের কাছে বিষয়টি নিরপেক্ষ তদন্ত করে অবিলম্বে আবুল কালাম আজাদসহ তার সহযোগীদের দল থেকে বহিষ্কারের জোর দাবি জানান তারা।
​ঘটনার বিষয়ে জানতে চাইলে মতলব দক্ষিণ থানা এসআই দেলোয়ার হোসেন জানায়, অভিযান চালানোর সময় তানজিদ মৃধাকে আটক করা হয়েছিল। পরবর্তীতে ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আবুল কালাম আজাদ এসে তাঁকে নিয়ে যান। তবে তাৎক্ষণিক তামজিদ মৃধা যে ইউনিয়ন ছাত্রলীগের সভাপতি আমরা তা শনাক্ত করতে পারেনি। পরে বিষয়টি জানা গেছে সে ছাত্রলীগ নেতা।
​অভিযোগের বিষয়ে ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আবুল কালাম আজাদ বলেন, তামজিদ মৃধাকে ছাড়িয়ে নেওয়ার সময় আমি ছিলাম না। তার ভাই তোফায়েল মৃধা ও আলম মৃধা তাকে পুলিশের কাছ থেকে ছাড়িয়ে নিয়েছে। আমি পরে গিয়ে জানতে পেরেছি পুলিশ তাকে ছেড়ে দিয়েছে।